দিনযাপন | ০৩০৮২০১৫

গতকালকে সন্ধ্যা সোয়া ছয়টার দিকে মিরপুর থেকে রওনা দিয়েছিলাম গ্রুপে যাবো বলে … নতুন ষাট ফুট রাস্তা দিয়ে সিএনজি ১৫/২০ মিনিটেই শ্যামলী শিশুমেলার মাথায় চলে গেলো … তারপর সেখান থেকে গ্রুপে পৌঁছালাম যখন, তখন বাজে রাত প্রায় সাড়ে ৯ টা! … অস্থির হয়ে গেলাম পুরাই … সময় কাটানোর জন্য রেডিওতে গান শুনছিলাম, সেটাও একসময় বিরক্ত লাগতে শুরু করলো … গান বন্ধ করে দিয়ে এমনেই বসে রইলাম আর হাঁসফাঁস করলাম … এর মধ্যে আমার সাথে ভাষার নতুন বাসার জন্য আমাদের পুরানো পর্দা আর ফুয়াদ আজকে শো-তে বাজাবে বলে ওর জন্য ভায়োলিন নিয়ে যাচ্ছি … সেকারণে সিএনজি থেকে নেমে যে হাঁটবো তারও উপায় নেই … যাই হোক, এতরকমের কাহিনী করে গ্রুপে গেলাম … আগে থেকেই একটা হালকা-পাতলা চিন্তা ছিলো যে নায়ীমীকে বলে ওর বাসায় থেকে যাবো কালকের রাতটা … এরকম করে গ্রুপে পৌঁছে পরে ওই ইচ্ছাটাই সিদ্ধান্ত হয়ে গেলো …

কালকে রাতে এত ক্লান্ত লাগছিলো, ঘুমিয়েও গেছি তাড়াতাড়ি … আর প্রচণ্ড ক্লান্তি ছিলো বলেই কি না জানি না, ঘুমটাও হয়েছে অনেক ভারী … ঘুমের মধ্যে বারবার জেগে উঠে কিছুক্ষণের জন্য ব্ল্যাংক হয়ে তারপর চিনেছি যে আমি নায়ীমীর ঘরে ঘুমাচ্ছি, কিন্তু সেইটুকু বাদ দিলে যেটুকু ঘুমিয়েছি সেটা বেশ আরাম করেই ঘুমিয়েছি …

আজকে বারোটার দিকে ঘুম থেকে উঠলেও একসাথে অনেকগুলা কাজ করেছি … বাংলামটর থেকে ধানমণ্ডি ৭ নম্বরে পার্লারে গেছি, সেখান থেকে ২৭ নম্বরে ব্যাংকে গেছি, তারপর আবার অনেক ইচ্ছা হলো দেখে কফি ওয়ার্ল্ডে বসে একা একাই আইসড মোকা আর ডোনাট খেয়েছি, সেখান থেকে নিউমার্কেট হয়ে শিল্পকলা গেছি …

বনমানুষ-এর শো ছিলো আজকে … অনেকদিন পর নাটকটার শো হলো … শেষ শো হয়েছিলো মনে হয় গত অক্টোবরে, সিরাজগঞ্জে … অনেক শরীর খারাপ ছিলো … তবুও শেষমুহুর্তের সিদ্ধান্তে বের হয়ে চলে গিয়েছিলাম দলের সাথে … ওই ট্যুরটা অনেক উপকারী আর দরকারী ছিলো আমার জন্য … অন্তত সে সময়ের সাপেক্ষে … যাই হোক, বনমানুষ আমার অনেক পছন্দের নাটক … তাই এটার শো হলেই ভালো লাগে …

গতকালকে বন্ধু দিবস ছিলো। কালকে দিনযাপন লিখলে হয়তো বন্ধু দিবস নিয়ে একগাদা জ্ঞানগর্ভ কথাবার্তা লিখে ফেলতাম … আজকে আর লিখতে ইচ্ছে করছে না … আগামী বছরের বন্ধু দিবসে লিখবো হয়তো … কিংবা কোনো সময় আবার বন্ধুত্ব বিষয়ক কোনো প্রসঙ্গ এলে লিখে ফেলবো না হয় …

আজকে ফেরার সময় ঝুমা আর রবিনের সাথে আসলাম … ওরাও মিরপুরেই থাকে, রূপনগর আবাসিক এলাকায় … আরেকদিন এসেছিলাম পারুর সাথে, ও থাকে কাজিপাড়া … আজকে আবার ঝুমা ভাড়াও দিয়ে দিলো … আমি ভাবছিলাম যে শেয়ার করেই যাচ্ছি, নিজে বেশিটা দিয়ে দেবো … আর ওরা নিজে থেকে কিছু না বললে পুরোটাই না হয় দিয়ে দেবো … একা হলেও তো আসতামই … ওরা নিজেরাই দেখি নামার সময় পুরোটা ভাড়াই দিয়ে দিলো … কি লজ্জার হলো বিষয়টা! …তবে, মিরপুরে একা একা প্রতিদিন যাওয়া-আসা করাটা আসলেই বোরিং … আগে তাও হঠাৎ হঠাৎ আসতাম, যেতাম … আর এখন এটাই রুটিন … তবে, এটাও ঠিক যে টাকা-পয়সার স্বার্থেই চাইলেই প্রতিদিন সিএনজি চড়ার বিলাসিতা করা যাবে না … আর বাসগুলোও যেহেতু ভালো না, সেহেতু আমি পারতপক্ষে বাসেও উঠবো না … সুতরাং, মিরপুর থেকে লঙ ডিস্টেন্স-এর যাওয়া আসা এখন কেবলই প্রয়োজন সাপেক্ষে হবে …

সবাই সাজেশন দিচ্ছে স্কুটি কিনে ফেলতে … আমিও সেটাই ভাবছি … কিন্তু সেটা তো চাইলেই এখনই হবে না … টাকা-পয়সা যোগাড় করার ব্যাপার আছে … ভাবতেসি সামনে কোরবানি ঈদের সময় একটা সাইকেল কিনবো … তারপর সেটা চালিয়ে আগে ধাতস্থ হবো … এরপর স্কুটির চিন্তা করা যাবে …

যাই হোক, আজকে ব্যাপক ক্লান্ত … সকাল সকাল উঠে আবার বিবিসি’র কাজ শেষ করতে হবে … অতএব, ঘুমাতে যাই …

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s