দিনযাপন | ০৫০৮২০১৫

পূবদিকের জানালার দিকে মুখ করে ঘুমাই, আর ভোরের আলো ফুটতে না ফুটতেই ঘুম ভেঙ্গে যায় … এত আলো ! ঘুমানোর কোনো উপায় থাকেনা … জোর করে শুয়ে থাকি … তবুও ঘুম পোক্ত হয় না … সূর্য যেন চোখ লক্ষ্য করেই পূর্ব আকাশ ধরে উপরে উঠতে থাকে …

আর্লি রাইজার হয়ে যাবো কি না ভাবছি … ঘড়ির অ্যালার্ম দেয়া থাকে সকাল সাড়ে ৮টায়, আর বিছানা ছেড়ে উঠতে উঠতে ১০টা বাজাই … এর চেয়ে ভোরবেলা সাড়ে ৫টা নাগাদ যখন সকালের প্রথম আলোয় ঘুম ভাঙ্গে, তখন থেকে উঠবার প্রক্রিয়া শুরু করলে ৮টা নাগাদ উঠে পড়বো নিশ্চয়ই …

আজকে দিনের বেলাটা বাসাতেই একা একা কাটালাম … মা আর আব্বু গ্যালো সেই হাতিরপুল, লাইট কিনবে বলে … আমি ভাবলাম রবার্ট অ্যাডামস -এর বইটা নিয়ে বসি, ট্রান্সলেশনের কাজটা একটু আগাই … কিন্তু সেটা ইচ্ছা করলো না … উল্টা সিনেমা দেখতে বসলাম … অ্যাডাম স্যান্ডলার-এর সিনেমা; নাম ‘পিক্সেল’ … খুব আহামরি সিনেমা না … অ্যাডাম স্যান্ডলারের সিনেমা সচরাচর যেরকম হয় আর কি! … যাই হোক, সিনেমা দেখতে দেখতে অনেকটা সময় পার করা গ্যালো … তারপর কতক্ষণ কাপড়চোপড় গুছালাম ওয়্যারড্রোবে … এই করতে করতে মোটামুটি আড়াইটা বাজায় দেয়া গ্যালো … ৩টার দিকে ফিরলো মা’রা … তখন আবার খেয়ে দেয়ে আমি বের হলাম … উদ্দেশ্য – বনানী যাবো …

ল্যাটিচুড লঙ্গিচুড ৬ চলছে বনানীতে। এবারের আয়োজনটা দেখলাম বেশ ভিন্ন … প্রায় তিন/চার মাস ধরে টুকরো টুকরো করে বিভিন্ন এক্সিবিশন হবে … বক্স ক্যামেরায় তোলা ছবির ওপর একটা এক্সিবিশন চলছিলো গত কয়েকদিন … বাসা পাল্টানোর দৌড়াদৌড়িতে প্রথম থেকে এক্সিবিশনগুলো দেখতে পারিনি … আজকে সেজন্য তিন্নি আপুর সাথে প্ল্যান করে ওইদিকে গেলাম … এক্সিবিশন দেখে তারপর তিন্নি আপুর সাথে আড্ডা দিতে দিতে কফি খাবো এইরকম প্ল্যান আর কি! তো এক্সিবিশন দেখতে গিয়ে শেহজাদ ভাইয়ের সাথে দেখা হয়ে গ্যালো, উনি আবার ৮ তারিখে একটা ক্রিয়েটিভ রাইটিং-এর ওয়ার্কশপ আছে সেটার কথা বললেন … তিন্নি আপু আর আমি এক্সিবিশন দেখে বের হয়ে কতক্ষণ উইন্ডো শপিং করে পরে একটা কফি শপে গিয়ে বসলাম। কলাম্বাস কফি ; বিশেষত্ব হচ্ছে এরা ক্রিমসন কাপ কফি সার্ভ করে, তাও আবার ক্লায়েন্টের নাম লিখে … কফিও ভালো লাগলো … আমার যে খুব ‘আহা উহু’ লেভেলের কফি প্রীতি তা না, কফি বলতে আমি কোল্ড কফিই খাই … তাও মোকা নয়তো লাত্তে … বাকিগুলা খুব একটা ভালো লাগে না … অবশ্য একটা সময় তো এমনও ছিলো যে কফির গন্ধই সহ্য করতে পারতাম না … এমনকি কফি বানিয়ে সেই চামচ দিয়ে যদি ভুল করে কেউ আমার চা কিংবা দুধ নেড়ে ফেলতো, সেটাও আমি খেতাম না … আর সেই আমিই এখন মিরপুরে এসে দুঃখ করি যে এইখানে একটা কফি শপ নাই কেন! …

কফি খাওয়া পর্যন্তই আমাদের পরিকল্পনা ছিলো, কিন্তু সেটা আবার একটু এক্সটেন্ড হলো … কফি খেতে বসে আমরা আবিষ্কার করলাম যে উল্টো দিকেই হচ্ছে চমন ভাই আর জেসি আপুর রেস্টুরেন্ট ‘আলকেমি’ … তিন্নি আপু চমন ভাই আর জেসি আপু দু’জনের সাথেই যোগাযোগ করে জানতে পারলো যে জেসি আপু ওই সময় থেকে আধা ঘণ্টা নাগাদ রেস্টুরেন্টে থাকবে … ওখানে গিয়ে বেশ আড্ডা হলো তিনজন মিলে … প্রথম গিয়েছি, তাই আমাদের দাবি ছিলো যে আমাদের ফ্রি খাওয়াতে হবে … তো জেসি আপুও তাই সই বলে আমাদের স্যুপ, পাস্তা, চিকেন উইং খাওয়ালো … খাবার এবং খাবারের পরিবেশন দুইটাই ভালো … জায়গাটাও বেশ সুন্দর … রাতে গিয়েছি বলে ৭ তলা থেকে সামনের ফাঁকা ভিউটা ঠিক বুঝিনাই … একদিন দিনের বেলা গেলে বোঝা যাবে … আমি আর তিন্নি আপু অলরেডিই সেই প্ল্যান করে ফেলছিলাম …

ভাবছি যে মিরপুর থেকে বনানী রিকশায় কিভাবে কতদূর যাওয়া যায় সেই পথটা বের করতে হবে … এমনিতে মিরপুর থেকে বনানী যাওয়া তো বেশ আরামদায়ক … ক্যান্টনমেন্ট দিয়ে গেলে জ্যাম পাওয়ার ভয় নাই … কিন্তু রিকশায় যাবার পথ বের করা গেলে যাওয়া-আসা আরো আরামদায়ক হবে … আগে ধানমন্ডি থেকে বনানি-গুলশান এসব জায়গায় যাওয়ার কথা শুনলে ভয় পাইতাম, আর এখন মিরপুর থেকে ধানমন্ডি এলাকায় যাওয়ার কথা মনে হলে ভয় পাই … কি অদ্ভুত জীবন! …

যাই হোক, ঘুমের সময় হয়ে গ্যালো … এখন ঘুমাতে যাই …

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s