দিনযাপন | ০৭০৮২০১৫

আবারো আমাকে উইথড্রয়াল সিম্পটমে পেয়েছে … গত দুই দিন যাবৎ এই উইথড্রয়াল মুড নিয়েই চলছি … হয়তো একটা কিছু করবো বলে ভেবেছিলাম আগে থেকেই, কিন্তু সেটাও করছি না …

যেমন, গত কয়দিন ধরেই আমার কাঠমিস্ত্রিকে ফোন করার কথা … কিন্তু সারাদিন পার হয়ে যায়, আমি ফোন করি না … দিনশেষে বলি, থাক, আজকের দিনটা তো চলেই গ্যালো, কালকে করবো … তারপর আজকে সাইকোলজি ডিপার্টমেন্ট-এর ৫০ বছর পূর্তি অনুষ্ঠান ছিলো … মোটামুটি প্ল্যান হয়েছিলো যে এই সুবাদে ইউনিভার্সিটিতে যাবো, অনেকের সাথে দেখা হবে, ভালো একটা গেট টুগেদার হবে … আজকে সকাল থেকে যাওয়ার কোনো আগ্রহই কাজ করলো না … ১০ তারিখে একটা জায়গায় একটা প্রোপোজাল পাঠানোর কথা … অনেকদিন ধরে কাজটার ব্যাপারে কথা হচ্ছে, বনে- বাদাড়ে ঘুরে ঘুরে ছবি তোলার কাজ … এতদিন ধরে কাজটা নিয়ে ইন্টেরেস্টেড ছিলাম, আর এখন আমার প্রোপোজালই পাঠাতে ইচ্ছা করছে না … আপাতত কিছুই করতে ভালো লাগছে না আমার … নট আ সিঙ্গেল থিং …

ক্যামন জানি পোতায় যাওয়া মুড়ির মতো হয়ে আছি … সেই সাথে পিরিয়ড হয়েছে … এর মধ্যে আবার পিরিয়ড হলে ব্লিডিং কমার জন্য যেই ওষুধটা খাই সেটা নাই … এই এলাকায় কোথাও পাওয়া যায় কি না জানি না … ৬ নম্বরের দিকে পপুলার আছে, সেখানে গেলে হয়তো পেতাম, কিন্তু সেই পর্যন্ত যাওয়ার জন্য তো ইচ্ছাটাই কাজ করে না … ঝিমাতে ঝিমাতেই তো সারাদিন পার করে দিচ্ছি … এই এলাকায় তো ল্যাব এইড নাই … আর ধানমণ্ডি যাবো তাও সেই পরশু দিন … এর মধ্যে ব্লিডিং এমনিতেও কমে যাবে … কালকের দিনটার জন্যই টেনশন … কালকে সারাদিন একটা কাজে বনানী থাকবো … ব্লিডিং বেশি হলে ক্যামনে কি করবো কে জানে! …

যাই হোক, এইরকম ঝিমানি মুডের মধ্যেও আজকে আমি বিকালবেলা বের হয়ে বনানীতে যাত্রায় গেছি, ঈ-তে ঈগল প্রোগ্রামে … কিন্তু আমার বের হতেও দেরি হলো, আর ওরাও আজকে বৃষ্টি আসবে মনে করে তাড়াতাড়ি পাপেট শো করে ফেললো … তাই আমি যেতে যেতেই পাপেট শো শেষ … পরে বসে বসে আলামিন ভাই, শাওন ভাইদের সাথে আড্ডাবাজিই করলাম কতক্ষণ … চিন্তা ছিলো যে আজকে গ্রুপের দিকে যাবো যাত্রা থেকে … সবাই তো ওইদিকেই যাবে … কিন্তু ব্লিডিং-এর কি অবস্থা হয় চিন্তা করে আর গেলাম না … শুক্লাদি গাড়িতে করে আসবে দেখে তার গাড়িতে লিফট নিয়ে বাসায় চলে আসলাম … শুক্লাদি বাসায় যেতে বলেছিলো, কিন্তু শরীরের কথা চিন্তা করে আজকে আর গেলাম না …

তো, যাই হোক, যাত্রার এই অ-আ-ক-খ প্রোগ্রামটা বেশ ইন্টেরেস্টিং … বাচ্চাদের জন্য একটা ক্রিয়েটিভিটি প্রোগ্রাম … প্রতি মাসের প্রথম শুক্রবার হয় … অজগর, আম, ইঁদুর পার করে আজকে হলো ঈগল … সামনের মাসে হবে উদবিড়াল … এইখানে বাচ্চারা সারাদিন ধরে ছবি আঁকে, বিভিন্ন রকমের পাপেট বানায়, পাপেট শো হয় … ছবি আঁকা-আঁকির একটা খুবই মজার প্রোগ্রাম … আর বাচ্চাদের নিয়ে কিংবা বাচ্চাদের সাথে কাজ করা সবসময়ই অনেক মজার … যেমন, আজকে চিনি না জানি না এক পিচ্চি ওইখানে আমাকে পেয়ে বেশ নিষ্ঠার সাথে কাঁচি দিয়ে কিভাবে কাগজ কাটতে হয় তা শিখাইলো! … তার কথা শুনি না দেখে আমাকে বকাও দিলো … আজকে আমার সকাল সকাল যাওয়ার ইচ্ছা হইসিলো একবার, কিন্তু তারপর আবার আলসেমি করতে করতে বের হইলাম সাড়ে তিনটায় … আগামী মাসের সেশনটায় কাজ করা যায় কি না সে ব্যাপারে আলামিন ভাইয়ের সাথে কথা বলবো ভাবছি …

আজকে ঘুরতে ঘুরতে আড্ডা দিতে দিতে বেশ কয়েকটা ছবি তুলেছিলাম … আলাদা আলাদা করে ইন্সটাগ্রামে দিতে ইচ্ছে করছে না … ফেসবুকেও এমনি এমনি দিয়ে লাভ নাই … এখানেই রেফারেন্স হিসেবে পোস্ট করে রাখি না হয় … [ আর তাছাড়া, ছবি থাকলে তো আবার দিনযাপনের কাটতি বাড়ে … হে হে হে … ]

  কিন্তু, দিনশেষে এটা ভেবেই দীর্ঘশ্বাস ফেলি যে গ্রুপে যাওয়াটাই এখন কত কঠিন হয়ে গ্যালো … কালকে নাকি লেক শোর-এ ইভেন্ট-এর শো হয়েছে … বনমানুষের শো-এর পর আর গ্রুপেও যাইনাই, তাই জানিও না … অন্য সময় তো কাজ থাকুক আর না থাকুক, টুকটাক হেল্প-এর জন্য হলেও গ্রুপের ইভেন্টগুলোতে সাথে যেতাম … আর এখন! …

প্রাচ্যনাট-এ শেষ পর্যন্ত আমিও চোখের আড়াল তো মনের আড়াল হয়ে যাই কি না তাই ভাবছি … সবাই এখন কিছু হলেই বলবে, আমি তো ভাবলাম তুমি মিরপুর থেকে ক্যামনে আসবা, কি করবা সেইজন্য তোমাকে বলিনাই … কিংবা, যারা নিয়মিত গ্রুপে আসে, তারাই সবচেয়ে আগে মনে আসে … কিংবা, তুমি গ্রুপে আসবা না, আর তোমার কাছে কি ফোন করে খবর পাঠাতে হবে নাকি? ভিআইপি হইসো? … ইত্যাদি ইত্যাদি … প্রতিদিন সন্ধ্যা হলেই এখন বসে বসে চিন্তা করি, গ্রুপে কারা কারা গেছে? রানা, ফুয়াদ, গোপী, নায়ীমী … আর কারা? … কি হইতেসে গ্রুপে? … আজকে কে কাকে পচাচ্ছে? … এক সপ্তাহ আগেও আমিও এই মজাটার অংশ ছিলাম, বাসা- বাড়ি কতদূর সেটা নিয়ে চিন্তা ছিলো না … উল্টা সবার চাইতে কাছেই থাকতাম … আর এখন কতদূর! … বাসে উঠে রওনা দিলে অন্তত দুই ঘণ্টা করে লাগবে খালি যাওয়া আর আসায়!… সিএনজি -তে উঠলেও তাই … স্কুটি কিনলেও তাই … সপ্তাহে একদিন দুইদিন সেইটা সহ্য হয়, কিন্তু প্রতিদিন? … অন্তত আমার পক্ষে না! … অন্তত এখনো না! …

মাত্র ৪ দিন টানা গ্রুপে যাই না … তাতেই আমার এত খারাপ লাগছে … কি জানি! আস্তে আস্তে হয়তো এইটাও সয়ে যাবে! … মানুষের চামড়ার এই এক গুণ, সব সয়ে যায় … সব … সময়ের সাথে সাথে সব সয়ে যায় …

যাই হোক, আজকে সারাদিনে আমাদের বাসায় অনেকগুলা কাজ হয়েছে … সকাল সকাল স্টিলের আলমারি আর ওয়্যারড্রোবগুলা দিয়ে গেছে … ভার্নিশ-এর মিস্ত্রি এসেছে … সন্ধ্যায় ইলেক্ট্রিশিয়ান এসে টিউব লাইট লাগিয়ে দিয়ে গেছে … আমি সন্ধ্যায় বাসায় ফিরে একটা আলমারিতে আমার আর মা’র মোটামুটি সব শাড়ি গুছিয়ে ফেলেছি … আরেকটা ওয়্যারড্রোবে একটু পরে শীতের কাপড়ও অনেকগুলা গুছায় ফেলবো … এক ধাক্কায় অনেকগুলা ব্যাগ আর প্লাস্টিক বক্স খালি হয়ে গ্যালো … ঘরের জায়গাও একটু বাড়লো …

কালকে সোফাসেট ভার্নিশ হয়ে গ্যালে নতুন গদি আর কুশনগুলা বের করে সেট করে ফেলা যাবে … তাতে আরও তিনটা বড় বড় বস্তা কমবে … একটা বইয়ের আলমারি আছে, ওইটা ভার্নিশ হয়ে গেলে ওইখানে অন্তত তিন-চার কার্টন বই রাখা যাবে … কাচের জিনিসপত্র আর ক্রোকারিজ রাখার আলমারিটা ভার্নিশ হয়ে গেলেও একসাথে অনেকগুলা বালতি খালি হয়ে যাবে … আর বাকি থাকবে পর্দার বড় একটা ব্যাগ … ঘরদোর মোটামুটি দেখার মতো অবস্থায় আসলে তারপর পর্দা ঝুলাতে হবে …

উফ! এত রকমের কাজ করে আমি অনেক টায়ার্ড … কালকে আবার সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠে দৌড়াতে হবে বনানী … আজকের মতো দিনযাপন এখানেই শেষ …

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s