দিনযাপন | ০৯০৮২০১৫

আমার সিনেমা দেখার একরকম একটা দল দাঁড়িয়ে গেছে, যারা প্রতি মাসেই অন্তত দুইটা কই তিনটা করে সিনেমা দেখি … হাতে টাকা থাকুক আর না থাকুক … উইকেন্ড মুভি ম্যানিয়া নাম দেয়া যাইতে পারে দলটার … তিন্নি আপু যখন চাকরি করতো, তখন সিনেমা দেখা হইতো সাধারণত শুক্রবার … আর তখন তার ইনকাম ছিলো বলে প্রতি সপ্তাহেই সিনেপ্লেক্স-এর কোনো না কোনো সিনেমা দেখতে তার কোনো সমস্যা ছিলো না … আমিও ‘মাসে ১০০০ টাকা তিন/ চারটা  সিনেমার পেছনে খরচ করাই যায়’ চিন্তায় উদ্বুদ্ধ হয়ে কোনো ফিক্সড ইনকাম না থাকা সত্ত্বেও সিনেমা দেখার কথা শুনলেই বিনা বাক্যব্যয়ে রাজি হয়ে যাই …

তো, তিন্নি আপু, অনিম, জায়েদ, আমি, তিন্নি আপুর ছোটো ভাই অমি, অমির এক-দুইটা ফ্রেন্ড … মোটামুটি আমাদের এই একটা দল একসাথে সিনেমা দেখতে যাই …

আজকেও 11825734_1033869106625851_7885833508667365689_nগেছি … ‘অ্যান্ট ম্যান’ দেখতে … আজকে দলের সদস্য সংখ্যা চার জন হওয়ার কথা থাকলেও শেষমেষ দেখলাম তিনজন – তিন্নি আপু, অনিম আর আমি … জায়েদ আসার কথা, কিন্তু সে শনি-রবি সংক্রান্ত কোনো একটা ভুল ভাবাভাবিতে মিস করেছে … আর আমাদের এই সিনেমা দেখার দলের একটা ট্রেন্ড দাঁড়িয়ে গেছে যে তিন্নি আপু কিংবা অমি যার হাতেই টিকিট থাকুক না কেন, সে দেরি করে আসবে আর আমরা সিনেমার প্রথম দশ-পনেরো মিনিট মিস করবো … আজকেও যথারীতি তাই হয়েছে … আজকে আবার তিন্নি আপু আর অনিম দুইজনই লেট …

তো যাই হোক, অ্যান্ট-ম্যান দেখে বেশ ভালো লাগলো … সিনেমাটা আসার পর এইটা নিয়ে সমালোচনাই বেশি শুনেছি, তাই মনে হচ্ছিলো যে আসলেই ক্যামন লাগবে কে জানে! … কিন্তু সত্যিকার অর্থে অনেক মজা পেলাম … ইন ফ্যাক্ট, মার্ভেল সিরিজের সব ক্যারেক্টার কিংবা অ্যাভেঞ্জারস সিরিজের সবগুলো সিনেমা সম্পর্কে ধারণা না থাকলে কিছু কিছু ডায়ালগের হিউমারগুলো ধরা কঠিন … আমি নিজেও অনেকগুলা বুঝতাম না, যদি অনিম-এর মতো মার্ভেল হিস্ট্রি স্টাডি করা কেউ সাথে না থাকতো …

সিনেমা শেষ করে বের হয়ে গ্রুপের দিকে গেলাম … গ্রুপে যাওয়ার পথে ল্যাব এইডের সামনে আবার নোবেল ভাইকে পেলাম চায়ের দোকানের সামনে … গ্রুপের দিকেই যাবে … তাই সাথে নিয়ে নিলাম … আমার বেশ মজা লাগলো ঘটনাটায় … এক সপ্তাহ আগেও নোবেল ভাই আমার প্রতিবেশী ছিলো, আর এখন বিষয়টা হইলো এমন যে তার বাড়ির এলাকা দিয়ে যাওয়ার পথে হঠাৎ তার সাথে দেখা … আমাদের রুটিনগুলো কীভাবে কীভাবে বদলে যায়!

১৩ তারিখে কইন্যা’র শো আছে … আমার সবচেয়ে পছন্দের নাটকের শো … কইন্যা নাটকটা আগাগোড়াই একটা ইল্যুশন … কি কাহিনীতে, কি অভিনয়ে, কি ডিজাইনে … প্রাচ্যনাটের প্রথম নাটক দেখেছি কইন্যা … মহিলা সমিতিতে শো হয়েছিলো সেটার … স্কুলিং-এ ভর্তি হবো এরকম একটা সিদ্ধান্ত নেয়ার প্রক্রিয়া চলছিলো … স্বপ্ন আর আমি তখন খুব বন্ধু … ও আর আমি একসাথে ঘুরি, ফিরি, সবখানে যাই … প্রাচ্যনাটের স্কুলিং করবো সেইটাও ওর উৎসাহেই মাথায় চিন্তা-ভাবনা আসা … তো যাই হোক, তখন স্বপ্ন’র বাবা অসুস্থ … কইন্যার ওই শো-টা স্বপ্নের বাবার জন্য ডেডিকেট করা হয়েছিলো … স্বপ্নের সাথে সাথেই সে কারণে আমারও যাওয়া … ওই শো দেখে ডায়ালগ কিছুই বুঝি নাই … কিন্তু নাটকের ডিজাইনের ইল্যুশন দেখে ফিদা হয়ে গিয়েছিলাম … স্পেশালি বহুরূপী একটা দৃশ্যে পুকুরের অনেক গভীরে একটা বাক্সের ভেতরে ভোমরার বর্ণণা দেয়, ওই দৃশ্যটা … আর যারা অভিনয় করছিলো সবাইকে মনে হচ্ছিলো লারজার দ্যান লাইফ … এর পর যখন গ্রুপে ঢুকেছি, তখন একটা দুইটা শো দেখার পর যখন কথাগুলোও বুঝতে শুরু করেছি, রিহার্সালের সময় বসে বসে পাভেল ভাই, রাহুল দা’দের মুখে ভেতরের ফিলোসফিগুলো শুনেছি, তখন মনে হয়েছে কইন্যা নাটকটা আসলে আগাগোড়াই ইল্যুশন … শুরুটাই কি সুন্দর! … কান্দইন না! কান্দইন না! ইটা একটা উৎসব! … আমারে ফায়বায় তুমরা জোড়া শিমুলর আগাত … আমারে ফায়বায় হইরলুটি ফইক্কার লেঙ্গুরত … আমারে দেখবায় গোপাট গরুর ক্ষুরর লগ উড়া ধুইল্লত … চোদ্দ বসরর কারো নাকত জমা ঘামো … আমারে হুইন্নো বাচ্চার কোমরর লগ বাধা ঘইন্টার আওয়াজো … ক্যামন একটা মায়া! … কথাগুলো ভিজ্যুয়ালাইজ করতে গেলেই তো নিজের মধ্যেই ক্যামন একটা ঘোর চলে আসে! …

তবে, আরেকটা কারণে এখন থেকে কইন্যা’র শো আরেকরকমের ঘোর নিয়ে দেখবো আমি … জানি না, সেটার ইফেক্টটা ক্যামন হবে … অনেক ভুলে থাকা বিষয় সেই ঘোর আমার স্যামন নিয়ে আসবে সেগুলোকে … অনেক চিন্তা, অনেক কথা, অনেক মনোলগ … অনেক কিছু …

আজকে সকাল থেকেই কোনো নির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই আমার মন খারাপ হয়ে আছে … যখন তখন কান্না পাচ্ছে … ভালো লাগছে না কিছু …

কালকে সারাদিনে কিছু জরুরি কাজ শেষ করবো বলে ভাবছি … যেমন, আমার কাজ করা টেবিলটা সেট করতে হবে … মাটিতে তোশকের ওপর বসে কাজ করতে গেলে হাত-পা-কোমর সব ব্যথা হয়ে যায় … আর টেবিলটা সেট করলে কিছু ডাইরি, ডিকশনারি,বই-পত্র এগুলাও গুছানো যাবে … বাসার গ্যারেজে ভার্নিশের কাজ যে শুরু করসে, সেটা কতদিন লাগাবে কে জানে! রিপেয়ারের কাজ আছে বেশ কিছু, সেগুলো আগে করবে তারপর ভার্নিশ … এই সপ্তাহ পুরোটাই মনে হয় লেগে যাবে … সোফাগুলো ভার্নিশ না হয়ে আসলে গদি আর কুশন-এর বস্তাও খালি করা যাচ্ছে না … আবার খাট না হলে আব্বুদের ঘর গুছিয়ে পর্দাও লাগানো যাচ্ছে না, তাই পর্দার বস্তাও খালি হচ্ছে না … বইয়ের ঘর বানাবো যে ঘরটাকে, সেই ঘরে এসব যাবতীয় বস্তা ঠাসাঠাসি করে রাখা … ফলে গাদা গাদা বইয়ের বস্তা আর কার্টনও খালি করা যাচ্ছে না …

কতদিনে যে ঘর গুছিয়ে শেষ করতে পারবো আমরা! … সবাইকে খালি বলছি ঘরটা গুছালে অনেক সুন্দর হবে দেখতে, অথচ সেটা করাই হচ্ছে না! … মনে হচ্ছে একটা গুদামঘরের মধ্যে আমরা সবাই এসে উঠেছি, আর কোনোরকমে থাকা খাওয়ার জায়গা করে নিয়েছি! …

আজকে আর লেখার কিছু নাই … অতএব দিনযাপন এখানেই শেষ …

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s