দিনযাপন | ১২০৮২০১৫

মিরপুর – নিকেতন- বনানী ১১- বাড্ডা- বনানী ১১ – কাঁটাবন- মিরপুর … না! এইটা বাসের রুট না, এইটা হচ্ছে আমার আজকের সারাদিনের চরকির মতো ঘোরাঘুরির সংক্ষিপ্ত সার! … ১০০০ টাকা খালি সিএনজি ভাড়ার পেছনেই খরচ হয়েছে! … আর সময় কতটা পরিমাণ কাজে আর কতটা পরিমাণ রাস্তায় সেটা না হয় না-ই বললাম!

গ্রুপের একটা কাজে নিকেতন যাওয়া হলো … একটা অফিসে … ট্রাজেডি পলাশবাড়ির পোস্টার ছাপানোর জন্য একটা কোম্পানি স্পন্সর করবে, সেটার বিলের কাগজ দিয়ে ওয়ার্ক অর্ডার আনতে … সিএনজিওয়ালা মিরপুর ১০ নম্বর, শ্যাওড়াপাড়া এলাকার জ্যাম অ্যাভয়েড করার জন্য কালশীর ভেতর দিয়ে বের হয়ে বারিধারা ডিওএইচএস-এর ভেতর দিয়ে গুলশান হয়ে যাওয়ার মহান সিদ্ধান্ত নেয়াতে আমি মিরপুর থেকে নিকেতন পৌঁছালাম মাত্র দুই ঘণ্টায় (!) … তারপর নিকেতনে কাজ শেষ হলো মাত্র পাঁচ মিনিটে … বের হয়ে বনানী ১১ যাবো বলে সিএনজি খুঁজতে গিয়ে দেখি ওই যেই সিএনজি দিয়ে এসেছি সে-ই রাস্তার মাথায় দাঁড়ানো … তাকে নিয়েই আবার বনানী ১১ গেলাম … ল্যাটিচুড লঙ্গিচুড-এর গ্যালারিতে … আমেরিকান সেন্টারে একটা ক্রিয়েটিভ রাইটিং সেশনে ইফফাত নাওয়াজের সাথে ভলান্টিয়ার হিসেবে যাবার কথা … প্ল্যান ছিলো যে আমি বনানী চলে যাবো, আর ইফফাত, শেহজাদ ভাই দুইজনই যাবে, সো ওদের সাথে একসাথে চলে যাবো … কালকেই আইরিন আপুর সাথে সেরকমই প্ল্যান হয়েছে, তাই আমিও আর সকাল সকাল কারো সাথে যোগাযোগ করিনি … বনানী ১১ তে গিয়ে পৌঁছে গেলাম সোয়া ১টার দিকে … শেহজাদ ভাই তখনো গ্যালারিতে যায়নাই, ফোন দিয়ে জানলাম যে উনি যাবে না আমেরিকান সেন্টারে … ইফফাত-কে ফোন দিলাম, জানলাম যে তার একটা কোথাও একটা জরুরি মিটিং আছে, ওইটা শেষ করে উনি সরাসরি আমেরিকান সেন্টারে চলে যাবেন … উনি ভেবেছেন আমার হয়তো আইরিন আপু’র সাথে যোগাযোগ হয়েছে, আমি চেঞ্জ অভ প্ল্যানটা জানি … আর আমি তো ধরেই নিয়েছি কালকে যা কথা হয়েছে প্ল্যান সেটাই আছে … আমারই বোকামির পরিমাণ বেশি, তাই এই ঘটনায় কোনো পক্ষের ওপরই রাগ করা যুক্তিযুক্ত মনে হলো না … নিজেকে ছাগলের তিন নম্বর বাচ্চা ধরে নিয়ে একটা ‘ব্যাপার না’ টাইপ মনোভাব তৈরি করার চেষ্টা করলাম … এদিকে শেহজাদ ভাই গ্যালারিতে আসবে ভেবে আমি গ্যালারির ওপরের ৮ তলায় জর্জেস ক্যাফেতে বসে অলরেডি একটা আর্নল্ড পামার অর্ডার দিয়ে দিয়েছি! … কি আর করা, সেটা শেষ করে নিচে নেমে সময় কাটানোর জন্য কি করবো ভাবতে ভাবতে সোজা হাঁটতে শুরু করলাম … যেদিকে দু’চোখ যায় টাইপ অবস্থা আর কি! … এদিকে আর্নল্ড পামার খেয়ে মনে হলো যে ভেতরে একটা ক্ষুধা ক্ষুধা ভাব যে ছিলো, সেইটা দ্বিগুণ হয়ে গেছে … কিন্তু ওই সময় ভারী কিছু খেতেও ইচ্ছা করলো না … আর এত গরম, খালি ঠাণ্ডা খেতেই ইচ্ছা করে … যা আছে কপালে বলে কলাম্বাস ক্যাফেতে বসে একটা চকলেট কুকি আর ফ্রোজেন ক্যাফে মোকা দিয়ে লাঞ্চ সারলাম!

দিনের এই অংশটুকু বিরক্তিকর গেলেও পরের অংশটুকু বেশ ভালো গিয়েছে … আমেরিকান সেন্টারের সেশনটা বেশ ইন্টেরেস্টিং ছিলো … বেশিরভাগ পারটিসিপেন্টই এসএসসি, এইচএসসি লেভেলের স্টুডেন্ট … তাদের চিন্তা-ভাবনার জায়গাগুলো অনেক থট প্রভোকিং ছিলো … য্যামন, ১৫- ১৮ বছর বয়সের মধ্যে যেই মেয়েগুলো ছিলো, তাদের প্রত্যেকেরই জীবনের একটা কমন উদ্দেশ্য দেখা গ্যালো ‘ বাবা-মা’র মুখে হাসি ফোটানো’ … নয়তো ‘ অন্যকে হ্যাপি করা, নিজের হ্যাপিনেস স্যাক্রিফাইস করে হলেও’ … আমার বেশ মজাই লাগছিলো ওদের কথাগুলো শুনতে…

তো, যাই হোক, ওই সেশনটার শেষে বিভিন্ন কথা প্রসঙ্গে আইরিন আপুর সাথে উনার আই ক্যান ফাউন্ডেশনের বিভিন্ন কাজের সাথে ইনভলভমেন্ট-এর ব্যাপারে কথা-বার্তা হচ্ছিলো … স্টোরি টেলিং, আইস ব্রেকিং সেশন এইসব কাজে আমি সাইকোলজি আর থিয়েটারকে কিভাবে ইন-কর্পোরেট করতে পারি, সেই বিষয়ে …আমেরিকান সেন্টার থেকে বনানী ১১ তে ল্যাটিচুড লঙ্গিচুড-এর গ্যালারিতে গিয়েছিলাম আইরিন আপু’র সাথে … ওখানেও কথায় কথায় ল্যাটিচুড লঙ্গিচুড-এর পারফরমেন্স সংক্রান্ত কিছু কাজে ইন-কর্পোরেটেড হবার কথা বলছিলো শেহজাদ ভাই … শুক্রবার ডিটেইল কথাবার্তা হবে বললো … এইগুলা কাজের কথা শুনতে শুনতে আস্তে আস্তে দুপুরের বিরক্তিটা বেশ কমলো …

আজকে ভেবেছিলাম রাতে নায়ীমী কিঙ্গাব ভাষা কারো সাথে থেকে যাবো … কিন্তু সারাদিনের দৌড়াদৌড়ি তো আছেই, সেইটার জন্য বিশ্রামের প্রয়োজনীয়তার সাথে সাথে আবার ল্যাপটপে কিছু কাজ করারও প্রয়োজন দেখা দিলো … সে কারণে বাসাতেই চলে আসলাম …

গত দুইদিনে এক ধাক্কায় বাসায় অনেকগুলা কাজ হয়ে গেছে … বলা যেতে পারে যে ঘর গোছানোর কাজ-কর্ম ৫% থেকে এক লাফে ৪০% হয়ে গেছে … সোফাসেট- টা ভার্নিশ হয়ে এসেছে, তাতে নতুন গদি আর কুশন বসেছে … আব্বুর ঘরে খাট বসেছে … পর্দা লাগানো হয়েছে … আমার বড় ঘরটার দুই জানালায়ও পর্দা লাগিয়েছি … দুই কার্টন ভর্তি বই গুছিয়েছি … তবে, বইগুলো এখন যেভাবে রেখেছি সেভাবে আদৌ কতটুকু থাকবে তা নিশ্চিত না … বইয়ের একটা বড় আলমারি ভার্নিশ হচ্ছে, ওইটা হয়ে গেলে অনেক বই-ই ওই শেলফে চলে যাবে বোধহয় … য্যামন, সাইকোলজির বইগুলো যেই কার্টনে আছে, ওইটা এখনো খুলিই নাই … ওই বইগুলো সব আলমারিতে দিয়ে দেবো … কারণ অদূর ভবিষ্যতে ওইগুলা কোনো কাজে লাগবে না … আর আমার একগাদা যে আনন্দমেলা আর অন্যান্য ম্যগাজিনের কালেকশন আছে, সেগুলাও ওই আলমারিতে দিয়ে দেবো ভাবছি …

কিন্তু, কথা হচ্ছে যে … এই যে প্রতিদিন রাত ১২টা বাজলেই এখন আমার দুই চোখের পাতা এক হয়ে যেতে চায়, আর আমিও জোর করে ঘুম আটকে রেখে দিনযাপন লিখি, এই রুটিনের ক্যামনে কি হতে পারে? … অবশ্য, এটার একটা বড় কারণ হচ্ছে যে এখন আমি প্রতিদিন সাড়ে ৭টা থেকে ৮টার মধ্যে জেগে যাই, আর মোটামুটি সাড়ে ৮টা নাগাদ রোদের তাপ আর তীব্রতা সহ্য করতে না পেরে বিছানা থেকে উঠে যাই … আর্লি টু বেড, আর্লি টু রাইজের ভালোই অভ্যাস ফিরছে আমার! …

কালকে মঙ্গলবার বলে একে তো ধানমন্ডির রাস্তা মোটামুটি খালি ছিলো, আর এমনিতেও এদিকেও আজকে তেমন জ্যাম ছিলো না … ফলে কালকে মিরপুর থেকে গ্রুপে গেছি এক ঘণ্টার কম সময়ে, ফিরেছিও তাই … আর না হলে তো অ্যাভারেজ দেড় থেকে দুই ঘণ্টা লাগেই … আজকেও যেমন রাতে ফেরার সময় একটু দেড়ি করে মোটামুটি সাড়ে ১১টার দিকে কাঁটাবন থেকে রওনা দিলাম, আর বাসায় পৌঁছে গেলাম ১৫ মিনিটের মধ্যেই! অমিত বলছিলো যে ও যেই কয়েকদিন বাসে চড়ে মিরপুরে যাওয়া-আসা করেছে, ওর কমসে কম আড়াই ঘণ্টা লেগেছে যেতে আবার আসতে … গত পরশুদিন আফসান আর পারু মিলে আমাকে বাস সম্পর্কে ব্যাপক জ্ঞান দিচ্ছিলো … বাসে চড়লে কি ফায়দা ইত্যাদি ইত্যাদি … আমার একটাই কথা, বাসে চড়ে যদি আমাকে আড়াই-তিন ঘণ্টা গরমে সিদ্ধ হয়ে গন্তব্যে পৌঁছতে হয়, আর তারপর আমার আর কিছুই করার শক্তি বা মেজাজ না থাকে, তাহলে আমি শুধুমাত্র কয়েকটা টাকা বাঁচানোর খাতিরে নিজের শরীর আর মনের ওপর দিয়ে এই পেইন নিবো কেন? … যদি এমন হইতো যে বাসগুলো হচ্ছে গেট লক, আর যে কয়টা সিট সেই কয়টাই প্যাসেঞ্জার নেয়া হয় আর বাসে চড়লে রাস্তার জ্যাম-এ আটকায় থাকতে হয় না, তাহলে আমি নিশ্চয়ই সিএনজি না নিয়ে বাসেই চড়তাম … কিন্তু সেরকম বাস সার্ভিস যেহেতু আমাদের দেশে শুধুই কল্পনার যোগ্য, তাই আমার বাসে চড়ারও এখনো পর্যন্ত কোনো উৎসাহ তৈরি হয়নি … চার/পাঁচ বছর আগেও প্রচুর বাসে চড়সি … কিন্তু তখন রাস্তায় এরকম কুত্তা মার্কা জ্যামও থাকতো না, আর বাসের ভেতর গরমে সিদ্ধও হতাম না তেমন … সেগুলো সবই এখন অতীত … বাসে চড়ে তো আগে মিরপুরেও এসেছি … তখন লাগতো আধাঘণ্টা, আর এখন লাগে আড়াই ঘণ্টা! …

আজকে অনেক ঘুম পাচ্ছে … বেশ ক্লান্ত … আর কিছু লিখতে ইচ্ছা করছে না … কালকে আবার সকাল সকাল উঠে বের হয়ে যাবো … কইন্যা’র শো কালকে … দুপুর বেলা রওনা দিয়ে সময়মতো পৌঁছতে না পারার পেইন না নিয়ে বরং সকাল সকাল ওই এলাকায় গিয়ে ঘুরি-ফিরি তাও ভালো …

যাই হোক, দিনযাপন শেষ করছি আজকের মতো .…

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s