দিনযাপন | ১৪০৮২০১৫

সকালবেলা কইন্যা’র শো-এর ছবি দিয়ে ওয়ার্ডপ্রেস থেকে একটা ব্লগপোস্ট ছাড়লাম, আর বাসায় এসে দেখি একদিনে আমার ব্লগ পোস্টে ১২৫ ভিউ ! আহারে! প্রতিদিন দিনযাপন পোস্ট করার সাথে সাথে যদি ১০/১২ ভিউ’র জায়গায় এরকম ১২৫ ভিউ হতো! …

কালকে এত ক্লান্ত হয়ে গিয়েছিলাম, আর এতই শরীর খারাপ লাগছিলো যে বাসায় এসে গোসল করে খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েছি … দিনযাপন লিখবো বলে ল্যাপটপ নিয়ে বসার কোনোরকম শক্তিই ছিলো না … পায়ে পানি এসে ফুলে ঢোল হয়ে ছিলো, আর সেটার সাথে সাথে কোমর ব্যথাও শুরু হয়ে গেলো … শিল্পকলা থেকেই মনে হচ্ছিলো যে কখন বাসায় যাবো আর বিছানায় ফ্ল্যাট হয়ে শুয়ে পড়বো …

যাই হোক … কালকে তো শো ছিলো বলে বাসা থেকে বের হয়ে একেবারে শিল্পকলাতেই চলে গেছি … এমনিতেই তো আমি সাধারণত জেনারেল কলের আগেই যাই, সেট লাগানোর কাজে কোনো হেল্প-টেল্প লাগলে করি, কালকে আর ইচ্ছা করেই তাড়াতাড়ি বাসা থেকে রওনা দিলাম … কারণ দিনের কোন সময় রাস্তার ক্যামন অবস্থা থাকে তা তো এখনো জানি না … প্রথমে ভেবেছিলাম যে সকাল সকাল অমিতের সাথে বের হয়ে বাসে করে ধানমণ্ডি যাবো … কিন্তু বৃষ্টি শুরু হলো দেখে বাস প্রজেক্ট বাদ দিলাম … যেই না বাস! এমনিতেই উঠি না, আবার বৃষ্টির মধ্যে ! … এর চেয়ে সিএনজি-ই ভালো …

আজকের দিনের কথা বলি … আজকে সারাদিনই ল্যাটিচুড লঙ্গিচুড-এর গ্যালারিতেই কেটেছে … কমিক ক্যারেক্টার ড্রয়িং- এর ওপর একটা ওয়ার্কশপ ছিলো … মাইটি পাঞ্চ নামের একটা কমিক স্টুডিও’র কো-অর্ডিনেশনে … অমিতের ক্লাসমেট শামীমের মাধ্যমে মাইটি পাঞ্চ-এর কিছু কিছু কাজের সাথে আগে থেকেই পরিচয় ছিলো … ধারণা ছিলো ওয়ার্কশপটা ইন্টেরেস্টিং হবে অনেক … কিন্তু যতটা ইন্টেরেস্টিং হবে ভেবেছিলাম, ততটা হয়নি মোটেই … বাচ্চাদের সাথে ইন্টারঅ্যাকশনের জায়গাতেই ঘাটতি ছিলো … এইটা খুব সম্ভবত এদের প্রথম এইধরনের কোনো সেশন কন্ডাক্ট করা … ফলে উনাদের মধ্যেই ক্যামন একটা টেনশন টেনশন ব্যাপার ছিলো বলে মনে হলো … কখন কি বলবে না বলবে সেটাও দেখলাম ল্যাপটপে টাইপ করে নিয়ে এসেছে … দুইটা সেশন হলো, দুই সেশনেই সেই কথাগুলোই একদম একরকমভাবেই বলে গ্যালো … বাচ্চাকাচ্চা কি ফর্মাল প্রেজেন্টেশন টাইপ কথাবার্তা মনোযোগ দিয়ে শুনে? ওদের সাথে যে ওয়ান টু ওয়ান ইন্টারঅ্যাকশন হওয়া উচিৎ সেইটাই ওদের মধ্যে তেমন দেখলাম না … ভাল্লাগলো না … বাচ্চাদের জন্য যারা কাজ করে তারা কথাবার্তায়, আচার-আচরণে এরকম কাঠখোট্টা টাইপ হলে ক্যামন জানি লাগে! … আমার কাছে মনেই হয় যে বাচ্চাদের সাথে কাজ করে যারা, তারা নিজেদের ভেতরেও একটা বাচ্চামি থাকাটা সেই কাজকে ৮০ ভাগ সহজ করে দেয় …

সানিডেলে আড়াই বছর চাকরি করতে গিয়ে আমার ভালো খাতির হয়েছে বাচ্চাদের সাথেই, কলিগদের সাথে না … আমি যেকোনোভাবেই বাচ্চাকাচ্চাদের সাথে ব্লেন্ডেড হয়ে যেতে পারতাম, কিন্তু কলিগ কিংবা অফিসের যারা ছিলেন তাদের সাথে ইন্টারঅ্যাক্ট করতে হলে আমি খুবই অস্বস্তিবোধ করতাম … মিতু আপা আমাকে প্রায়ই অফিসে ডেকে পাঠিয়ে বলতো, ‘ প্রজ্ঞা, তুমি বাচ্চাদের সাথে অনেক ফ্রেন্ডলি, এইটা অবশ্যই ভালো … কিন্তু তোমাকে এটাও মনে রাখতে হবে যে তুমি টিচার, আর ওরা স্টুডেন্ট’ … হ্যাঁ, এইটা আমার মনে না থাকার কিছু ছিলো না … কিন্তু তাই বলেই তো বিষয়টা এমন না যে আমি খুব কাঠখোট্টা টাইপের ভাবসাব নিয়ে চলবো! … আমি ফান লাভিং, হইহই রইরই করতে পছন্দ করি এবং সেটাই করতাম … টিচার হিসেবে আমি অবশ্যই তাদেরকে নতুন কিছু শেখাতে ক্লাসে যেতাম, কিন্তু সেইটা যতটা না ‘ আমি বলছি, তোমরা শুনো’ ছিলো, তার চাইতে বেশি আমি চেষ্টা করতাম যে এটা ‘চলো, এই বিষয়টা নিয়ে তোমরা যা জানো, আমি যা জানি সেইটা আলোচনা করি’ … বাচ্চারা তাদের বয়সসুলভ অস্থিরতার কারণে একসাথে সবাই মিলে উত্তর দেয়ার জন্য হাত তুলতো, কেউ কথা বলে শেষ করার আগেই আরেকজন দাঁড়ায় কথা বলতে শুরু করতো … আবার অনেকের কাছেই এই মেথড ভালো লাগতো না বলে তারা নিজেদের যত গল্পগুজব সব আমার ক্লাসে বসে বসে করতো … ওদের মেথড ছিলো বাসায় গিয়ে বইয়ের লাইন বাই লাইন মুখস্ত করবে, সো ক্লাসে কি বোঝানো হলো দ্যাট ডাজ নট ম্যাটার … আবার কেউ কেউ জানতো যে ক্লাসে যা লেখানো হয়েছে সেটা তাদের মা কারো খাতা থেকে ফটোকপি করিয়ে নেবে, সুতরাং তাদের লেখা শেষ করারও গরজ ছিলো না, বই নিয়ে ক্লাসে যাওয়ারও না! … সানিডেলের বেশিরভাগ টিচারের মেথড ছিলো যে টাইটের ওপর রাখতে হবে বাচ্চাকাচ্চাকে … আর আমার মেথড ছিলো যে সব স্ক্রু তো আর সমান টাইট দিয়ে কাজ হয় না! … দেয়ালের গভীরতা বুঝে টাইট দেয়া লাগে! … এইসব বাচ্চাকাচ্চা হচ্ছে ইন্সট্রুমেন্ট-এর মতো … বেশি টাইট করতে গেলে তাঁরটাই ছিঁড়বে, কাজের কাজ কিছু হবে না! …

যাই হোক, অনেক জ্ঞানগর্ভ কথাবার্তা লিখে ফেলছি! … বরং, একটা ছবি দেই … দুইদিন যাবৎ ছবিটা নিয়ে লিখতে চাচ্ছি, কিন্তু প্রসঙ্গই আসছে না …

262918_10150751734010655_7257662_n

 এই ছবিটা প্রতীক ভাই তুলেছিলো … ২০১১ সালে তোলা … অগস্ট মাসেরই কোনো একটা দিনে … আমার অনেক প্রিয় একটা ছবি এটা … প্রতীক ভাই তার কোনো একটা অ্যাসাইনমেন্ট-এর জন্য আমার ছবি তুলতে চেয়েছিলো … ঘরের ভেতরে পোর্ট্রেট তোলার কথা … কিন্তু সে বাসায় গিয়ে দেখলো যে আমাদের ঘরের ইন্টেরিওর তার সিরিজের জন্য অ্যাপ্রোপ্রিয়েট না … তার ফাঁকা দেয়াল লাগবে, ঘরের ভেতর স্পেস লাগবে … আর আমাদের একেকটা ঘর হচ্ছে জিনিসপত্রে ঠাসা … পরে নিচে গিয়ে এমনিই এই ছবিটা তুলেছিলো … এইটা তার অ্যাসাইনমেন্ট-এ কোনো কাজে লাগে নাই … ছবিটার নাম দিয়েছিলো সে ‘প্রজ্ঞার দুপুর’ …

এই ছবিটা আমার প্রিয় কারণ আমার ছবি নিয়ে আমি খুব কম সময়ই সন্তুষ্ট হই … খুঁজে পেতে অন্যে তুলে দিসে আর আমার ভালো লাগসে এরকম হাতে গোনা কয়েকটা মাত্র ছবি হয়তো আমি বের করতে পারবো … অনেকেই যেরকম ক্যামেরা সামনে সোজা হয়ে, বাঁকা হয়ে যেমনে খুশি তেমনে দাঁড়ালেই ছবি তুললে দেখতে ভালো লাগে, আমার ক্ষেত্রে সেটা হয়ই না … এই ছবিটার কম্পোজিশন, আমার চেহারা-সুরত সব মিলায় এইটার মধ্যে খুঁতখুঁতানির অবকাশ নাই … ফলে, এই ছবিটা আমার ভাল্লাগে …

আর অনেক অনেক বছর পরে এই ছবি নিয়ে মজা হবে … যারা দেখবে তারা ভাববে যে আমি আমার বাসার দরজার সামনে বসে আছি … অথচ আমার বাসা এই বিল্ডিং-এর পাশের বিল্ডিং-এ … চারতলায় … রোদ আর ছায়ার কম্পোজিশনের জন্য আমার এখানে বসা …

দুই দিন আগে টাইমহপ-এর কল্যাণে এই ছবি পেলাম … মনে হলো যে এইটাকে কেবলমাত্র ফেসবুকে না রেখে ব্লগেও আর্কাইভ করে রাখি …

কালকে একটা ওয়ার্কশপ হবার কথা, সেটা হচ্ছে না … ফলে দিনের বেলাটা যতটা ব্যস্ত থাকবো ভাবছিলাম, ততটাই ফ্রি হয়ে গেলাম … কিন্তু ক্লান্তি আমাকে মোটেই অবসর দেয়নাই … আজকেও আমার ঘুম ঘুম লাগছে অলরেডি, কারণ ঘুম থেকে তো অনেক সকাল সকাল উঠেছি …

দিনযাপন এখানেই শেষ আজকে …

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s