দিনযাপন | ১৫০৮২০১৫

২০০৮-২০০৯ এই সময়টাতে প্রায়ই আমি অনেক দুঃস্বপ্ন দেখতাম আর মাঝে মাঝেই ঘুমের মধ্যে আমাকে বোবায় ধরতো … মানে স্লিপ প্যারালাইজ হতো আর কি! … যেমন, প্রায়ই স্বপ্ন দেখতাম যে আমি অনেক ওপর থেকে পড়ে যাচ্ছি … চিৎকার করতে চাইছি, কিন্তু গলা দিয়ে শব্দই বের হচ্ছে না … অনেক চেষ্টা করছি চিৎকার করার, কিন্তু পারছি না … এক পর্যায়ে অল্প একটু শব্দ করতে পারছি … তারপর হঠাৎ ঘুম ভেঙ্গে আবিষ্কার করতাম যে আমি সত্যি সত্যিই মুখে শব্দ করছি, কিন্তু সেটা ক্যামন গোঙ্গানির মতো শোনাচ্ছে … ব্যাপারটা বুঝে যাওয়ার সাথে সাথে অটোমেটিক্যালি ঘুম পুরোপুরিই ভেঙ্গে যেতো আর আমি চোখ মেলে শূন্য দৃষ্টিতে তাকিয়ে থেকে জোরে জোরে শ্বাস নিতাম …

প্রচলিত ভাষায় এটাকে বোবায় ধরা বলে … গতকালকে রাতে বহু বছর পরে আবারো আমার এই বোবায় ধরার অভিজ্ঞতা হলো … স্বপ্নে টুকরা টুকরা অনেক কিছুই দেখছিলাম, সেগুলো খুব স্পষ্ট কিছুই মনে নেই… তো এক পর্যায়ে দেখলাম যে আমি আর অমিত ঘরে বসে কি একটা বিষয় নিয়ে কথা বলছি, এমন সময় জানালা দিয়ে না কোথা থেকে শিল-টাইপের একটা পাথর গড়িয়ে এসে ঘরে পড়লো … তারপর এরকম একটা একটা করে পাথর ঘরের মধ্যে আসতেই থাকলো … পাথরগুলো ওভাবে গড়াচ্ছে দেখে ভয় পেয়ে আমি আর অমিত ব্যাপারটা মা আর আব্বুকে জানানোর জন্য তাদের ঘরের দিকে যেতে গিয়ে দেখি পাথরগুলো আমাদের ফলো করে গড়াতে শুরু করেছে … আমরা যেদিকে যাই, পাথরগুলাও সেদিকে যায় … আর কেমন একটা ঘড়ঘড় আওয়াজ করে পাথরগুলা গড়াচ্ছে, মনে হচ্ছে যেন গজরাচ্ছে … ভয়ের চোটে আমার কথা বন্ধ হয়ে গ্যালো, গলা বুজে আসলো … আমি চেষ্টা করছিলাম বলার জন্য যে ‘ আরো বড় বড় পাথর আসতেসে’ … কিন্তু কিছুতেই বলতে পারছি না … এক পর্যায়ে গলা দিয়ে কিছুটা শব্দ বের হলো … তখন বলতে থাকলাম যে আরো বড় পাথর আসতেসে … হঠাৎ ঘুম ভেঙ্গে গ্যালো আর টের পেলাম যে আমি প্রায় গোঙ্গানির মতো করে সত্যি সত্যি মুখে বলছি যে ‘আরো বড় পাথর আসতেসে’ … যখন পুরোপুরি ঘুম ভেঙ্গে গ্যালো, তখন ক্যামন জানি ভয় ভয় লাগতে শুরু করলো … প্রচণ্ডরকমের একটা ভূতের ভয় টাইপের ভয়! …

এর মধ্যে আরেক কাহিনী! … একই ঘরের মধ্যে একদিকে তোশক পেতে আমি ঘুমাই, আরেকদিকে আরেকটা তোশক পেতে মা ঘুমায় … তো, দুইটা তোশক মিলে একটা সমকোণ তৈরি করে, আর কোণায় একটা চেয়ারে কিছু কাপড় ছোটোখাটো কাপড় রাখা হয় যেগুলো ফ্যানের বাতাসে সারারাতে শুকিয়ে যায় … তো, কালকেও সেরকম কিছু কাপড় রাখা ছিলো … আমি ভয় ভয় করছে দেখে চোখ মেলে তাকিয়ে থাকতে থাকতে ওই কাপড়গুলোর দিকে তাকিয়ে ভাবছিলাম যে এখন যদি ঘরের ভেতর কিছু একটা থাকে, আর এখানকার কাপড়গুলোর কোনোটা ফেলে দেয় ? … কিছুক্ষণের মধ্যেই বাতাসে ধাক্কায় চেয়ারের ওপরে রাখা কাপড়গুলোর একটা পড়ে গ্যালো … এরপর কি আর ঘুমানো যায়? … প্রচণ্ড হিসু  পেয়েছে, তাও উঠছি না … ঘরের মধ্যে যদি সত্যি সত্যিই কিছু থাকে তাহলে? … শুয়ে শুয়ে ঘুম কাটানোর উদ্দেশ্যে মোবাইল ঘাঁটতে শুরু করলাম … এর মধ্যে একবার চোখ লেগে গ্যালো … চোখ মেলে দেখি যেই কাপড়টা মাটিতে পড়ে ছিলো সেটা আবার চেয়ারে উঠিয়ে রাখা! … যুক্তি দিয়ে নিজেকে বোঝানোর চেষ্টা করলাম যে নিশ্চয়ই এর মধ্যে মা’র ঘুম ভেঙ্গে গিয়েছিলো, আর তখন সে কাপড়টাকে মাটিতে পড়ে থাকতে দেখে তুলে রেখেছে! … তারপরও খুঁতখুঁতানি গ্যালো না … ভাবতে লাগলাম যে ঘুমের মধ্যে কি কেউ একটা কাপড় তুলে এভাবে এত সুন্দর করে আবার গুছায় রাখবে? … এইসব ভাবতে ভাবতে জোর করে জেগে থাকলাম ফজরের আযান দেয়া পর্যন্ত … ফজরের আযানের পড় যখন সামান্য একটু দিনের আলো ফুটলো, তখন উঠে বাথরুমে গিয়ে তারপর এসে সকাল ১১টা পর্যন্ত ঘুমালাম …

রাতের বেলা ঘরের ভেতর কেউ হাঁটছে এই ভয়টা আমার অনেকদিনের … আমি সাধারণত একা ঘুমালে লাইট জ্বালিয়ে ঘুমাই, কারণ অন্ধকার ঘর হলেই কেউ ঘরে আসতে পারে এরকম মনে হয় আমার … এখানে আসার পর খাট সেট হয়নাই দেখে এখন মা আর আমি বড় ঘরটাতেই তোশক পেতে রাতের বেলা ঘুমাই … অনেক আলো দেখে একটা ৪০ ওয়াটের বাল্ব কাপড় দিয়ে ঢেকে ডিফিউজ করে জ্বালিয়ে রাখি … যাই হোক, ভয়টা কিভাবে শুরু হলো সেই গল্পটা বলি … অনেকবছর আগে টিয়াম একবার রাতের বেলা একটা কাগজে কিছু একটা লিখে ( সেটা কি কোনো দোয়া ছিলো, নাকি কোনো একটা লিখিত আবেদন ছিলো সেটা আমার মনে নাই) ঘরের ওয়ারড্রোবের ওপর রেখে দিয়েছিলো। উদ্দেশ্য ছিলো যে রাতের বেলা একজন জ্বিন বা এরকম কেউ একজন এসে ওইটা নিয়ে যাবে … আমাকে এসব কেউ বলে নাই, কিন্তু টিয়াম-লালামের কথাবার্তা থেকে ওগুলা আমি জেনেছিলাম … আমার অনেক ভয় ভয় লাগছিলো, আবার অনেক কৌতূহলও লাগছিলো যে সত্যি সত্যিই কি এরকম কিছু হবে? আমি আর টিয়াম শুয়েছিলাম ওই ঘরটায় … আমি সারারাত জেগে থাকবো প্ল্যান করলেও এক পর্যায়ে মনে হয় ঘুমিয়ে পড়েছিলাম … অনেক রাতে হঠাৎ আমার ঘুম ভাঙলো … তখন আমার মনে হলো যে ঘরের মধ্যে ক্যামন ফিসফিস টাইপের শব্দ হচ্ছে আর অনেক লম্বা একটা ছায়া ঘরের মধ্যে আছে … আসলেই সেটা কিসের শব্দ ছিলো, আদৌ কেউ ঘরে এসেছিলো কি না আমি জানি না … কিন্তু আমি অনেক ভয় পেয়ে চোখ বন্ধ করে গুটিসুটি মেরে শুয়ে থাকতে থাকতে আবার ঘুমিয়ে গিয়েছিলাম … কিন্তু এরপর থেকে অন্ধকার ঘরে ঘুমালেই আমার ভয় লাগতো যে আবার যদি ওরকম ছায়া দেখি! …

যাই হোক, আজকে সারাদিন এই স্বপ্ন দেখা, বোবায় ধরা, ভয় পাওয়া এইগুলা নিয়েই ক্যামন একটা বিরক্তিবোধের মধ্যে ছিলাম … বিকালে কেয়া ফুপির বাসায় কিছুক্ষণ আড্ডা দিয়ে বনানীতে এল এল সিক্স-এর গ্যলারিতে গেলাম … ওখানে ঘাসফড়িঙ নামে আরমিন মুসা’র নতুন গানের দলের পারফরমেন্স ছিলো … ওইখানে দেখি যে ওই দলে মৈনাক দা আর সঞ্জয় গিটার বাজায়, দেবযানী আপু গান গায় … মৈনাক দা আর সঞ্জয় আছে বলে শরীফ ভাই আর প্রিমাও গ্যালো গান শুনতে … এই ঘাসফড়িঙ দলটা যে নিজেদের লেখা, সুর করা গান গায় তা না , বরং পরিচিত নতুন-পুরানো গানগুলোকেই নতুনভাবে কম্পোজ করে গায় …

সঞ্জয় তো আগে জলের গানে চন্দ্রভান বাজাতো … তো, এই সঞ্জয়ের সাথে আমার একটা গল্প আছে … এর কিছু আচরণের সূত্র ধরেই রাহুল দা, কনক দা-দের সাথে আমার দূরত্বের শুরু … নিজের অবস্থানকে জাস্টিফাই করার জন্য সে একরকমভাবে রাহুল দা-দের কাছে আমাকে প্রেজেন্ট করেছিলো, আর রাহুল দা-রাও আমার সাথে কোনোপ্রকার বাক্যালাপে না গিয়ে তার কথার ভিত্তিতে আর ‘সিয়িং ইজ বিলিভিং’ সূত্রে বিশ্বস্ত হয়ে আমাকেই উল্টা একঘরে করে ফেলেছিলো … তাদের কাছ থেকে অন্তত এই আচরণ আমি এক্সপেক্ট করি নাই … ফলে আমার অনেক রাগ হয়েছিলো, আর সেই রাগ আর কষ্ট থেকে আমি জলের গান, যাত্রা সবকিছুর থেকেই নিজেকে সরিয়ে নিয়েছিলাম … তাদের কাছে গল্পটা ছিলো এরকম যে আমি নাকি সঞ্জয়ের পিছে পিছে ঘুরতাম, আর তার কাছ থেকে পাত্তা পাইনি বলে দুঃখে-কষ্টে সরে গেছি … জেম-এর কাছে একদিন এইগুলা গল্প শুনে আমার হাসতে হাসতে অবস্থা খারাপ হয়ে গিয়েছিলো … কি ঘটনাকে কি বানিয়ে ফেলেছে সঞ্জয়! … আর সেটাও আবার সবাই কিভাবে বিশ্বাসও করেছে! …

যাই হোক, সঞ্জয়ের সাথে আসল গল্পটা আজকে বলবো না … কারণ সেইটা আরেকটা মহাকাব্য …

আজকে বরং এখানেই শেষ করি …

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s