দিনযাপন | ১৬০৮২০১৫

আজকে একটা বস্তা নাড়া দিয়ে পুরানো অনেকগুলা চিঠি পেয়েছি … সঙ্গীতার চিঠি, শম্পা আপুর কাছে লেখা চিঠি, লিপনের চিরকুট, সিতওয়াতের একটা চিঠি – এইরকম অনেক কিছু… ক্লাস এইটে পড়ার সময়টুকু শম্পা আপুর সাথে আমার রেগুলার চিঠি লেখালেখি হতো … বিশাল বিশাল চিঠি লিখতাম একজন আরেকজনকে … পরে যখন শম্পা আপুর সাথে সম্পর্ক খারাপ হয়ে গ্যালো, তখন ক্লাস নাইন-টেন এর দিকে চিঠি লেখালেখি শুরু হলো সঙ্গীতার সাথে … চিঠিগুলো পড়তে শুরু করলে কত ভুলে যাওয়া স্মৃতি যে আবার মাথায় নাড়াচাড়া দিয়ে উঠবে! …

যেমন, লিপন কোনো একসময় আমার কোনো একটা নোটবুকের পাতায় লিখেছিলো ‘ প্রজ্ঞা, তোমার সাথে আমার জীবনেও affair হবে না, it’s obvious’ … ২০০৫ সালের ২২ জুলাই তারিখ দিয়ে নাম স্বাক্ষর করা ছিলো ওর …  আবার যেসময় ও সালমানকে নিয়ে আমাকে পেইন দেয়া শুরু করেছিলো, তখনকার কোনো একদিন লিখেছিলো ‘ সালমান প্রজ্ঞার best friend and future he will b your husband … সালমান প্রজ্ঞার স্বামী, বাচ্চার বাপ … প্রজ্ঞা, একটা উপদেশ, ভবিষ্যতে কোনো ছেলেকে বিয়ে করে জীবন নষ্ট করো না। ‘ …

সালমানকে নিয়ে লেখা কথাগুলো পড়ে আমি খুব হাসলাম আজকে … ওই সময় তো মাত্র ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষা দিয়েছি, তখনই একটা ছেলের জীবন-যাপন-সম্পর্ক-প্রেম এইসব নিয়ে কত ইগো! … লিপনের সাথে পরিচয় হওয়ারও অনেক আগে থেকে সালমানের সাথে আমার বন্ধুত্ব ছিলো … রড্রিগেজ স্যারের বাসায় আমরা ইংরেজি পড়তে যেতাম, সেখানে সালমানও যেতো, সেই সূত্রে পরিচয় আর বন্ধুত্ব … লিপন খুব সম্ভবত সালমানের কাছ থেকেই আমার নাম্বার পেয়েছিলো, আর ‘ঘটনাচক্রে পরিচয়’ -এর নাটক সাজিয়েছিলো … তো, একসময় আমি যখন লিপনের যাবতীয় কনফিউশন এবং কনফিউজিং কথাবার্তা আর আচরণে খুব বিরক্ত ছিলাম, তখন আমিও জিদের বশে নাটক সাজিয়েছিলাম যে আমার অনেক আগে থেকে সালমানকে পছন্দ ছিলো ইত্যাদি ইত্যাদি … ওইসব কথাবার্তার পর থেকে লিপন সুযোগ পেলেই আমাকে সালমানের রেফারেন্স দিয়ে এই জাতীয় কথা বলতো … একসময় ব্যাপারটা খুবই পেইনফুল হয়ে দাঁড়ালো … মনে হলো যে খাল কেটে কুমির তো এনেছিই, নিজের পায়ে ভুল করে কুড়ালটাও বসিয়ে দিয়েছি …

যাই হোক, সালমান এখন তার জীবন নিয়ে ব্যস্ত, আমিও আমার জীবন নিয়ে ব্যস্ত … রড্রিগেজ স্যারের বাসায় যখন পড়তাম, তখন থেকেই যেই মৌরি’র কথা শুনতাম, স্বেই মৌরির সাথেই বিয়ে হয়েছে সালমানের … এমনিতে সালমানের সাথে ফেসবুকে হাই-হ্যালো টাইপ যোগাযোগ ছিলো, গতবছর হঠাৎ করে একদিন ফোন-টোন দিয়ে দেখা-সাক্ষাতের কথা বললো … লাইভ কিচেনে মৌরি, অর্চি আর আরেকজনসহ এক সন্ধ্যায় আড্ডাবাজিও হলো … বেশ অবাক হয়েছিলাম আমি … কারণ, এই লিপনের সাথে আমার শেষ যে এনকাউন্টার হয়েছিলো, যেখানে ও ইমন আর সালমানকে নিয়ে বেশ মাস্তানি ভাবসাব নিয়ে হাকিম চত্বরে বসে তার কাছে লেখা একটা চিঠির লাইন বাই লাইন ধরে ধরে জবাবদিহি করিয়েছিলো, সেদিন থেকে লিপনের প্রতি ঘৃণা আর ইমন আর সালমানের ওপর আমার প্রচণ্ড রাগ তৈরি হয়েছিলো… ইমন আর সালমানকে আমার সেদিন লিপনের মেরুদণ্ডহীন দুই বন্ধু ছাড়া আর কিছু মনে হয় নাই … এরপর থেকে লিপনের সাথে আমি কোনো যোগাযোগ রাখি নাই, কিন্তু ইমন আর সালমান বুয়েটে পড়তো বিধায় বিভিন্নসূত্রে তাদের সাথে দেখা-সাক্ষাত, হাই- হ্যালো হয়েই যেতো … পরে ওদের সাথে ফেসবুকেও কানেকশন হলো … কিন্তু, এখনো এত বছরে একবারও ওইদিনের ওই ঘটনা নিয়ে সালমান কিংবা ইমন কেউই দুঃখিত হবার অ্যাপ্রোচ নিয়ে আমার সাথে কথা বলেনি, আমিও কখনো ওই ঘটনার কোনো রেফারেন্স নিজে থেকে টানিনি … হয়তো ওদের মনেই নাই যে হাকিম চত্বরে তাদের ‘গুরুতুল্য’ বন্ধুর সঙ্গী হয়ে গিয়ে তারা তাদের বন্ধুকে যা-তা বলার জন্য সাপোর্ট করে যাচ্ছিলো, আর তাদের ওই বন্ধু যখন বলে এসেছিলো যে আমার চিন্তা-ভাবনা-আচার-আচরণ-চলাফেরা ‘বেশ্যা’র মতো, তখনও ওরা বেশ বিনোদিত হয়ে চুপচাপ বসে ছিলো …

যাই হোক, সালমানকে নিয়ে লিপনের ওই প্রচণ্ডরকমের কমপ্লেক্স-এর কথা মনে করিয়ে দিলো হঠাৎ পাওয়া চিরকূটটা … আর অনেক অনেক হাসি পেলো এটা ভেবে যে আমরা যে হুটহাট ভবিষ্যতে কি হবে না হবে সেটা নিয়ে স্টেটমেন্ট দিয়ে দেই, সেগুলো আসলে কত অযৌক্তিক আর অমূলক হয়! … তারপর এরকম ১০/ ১২ বছর পরে এসে সেগুলো নিয়ে কত হাসি পায়! …

এই যে সঙ্গীতা আর শম্পা আপুর সাথে চিঠি লেখালেখি’র কথা বলছিলাম, ওই চিঠিগুলা যদি এখন পড়তে বসি, তাহলে অনেককিছু পড়েই হাসতে হাসতে গড়াগড়ি দেবো এই ভেবে যে ‘ হায় হায়! আমি এইগুলাও ভাবতাম আগে!’ …

আজকে সারাদিন ক্যামন জানি মাথা ব্যথা হয়ে ছিলো … এখনো মাথা ব্যথা করছে ইনফ্যাক্ট … আজকে তাড়াতাড়ি শুয়ে পড়াটা জরুরি, কারণ সকাল সকাল উঠে বিবিসি’র একটা কাজ শেষ করতে হবে, তারপর টিয়ামের বাসায় যেতে হবে, তারপর সেখান থেকে বনানী যাবো, রাতে ফিরে এসে আবারো বিবিসি’র একটা কাজ নিয়ে বসবো … সন্ধ্যায় গ্রুপে গিয়েছিলাম … ট্রাজেডি পলাশবাড়ির ব্রশিয়ার বের হবে, সেটার বেশ কিছু কাজ করতে হচ্ছে … পাভেল ভাই আসলো না দেখে একটা কাজ একটু ঝুলেই রইলো … তবে, কিছু কাজ আবার এগিয়েও রেখে আসতে পেরেছি …কিন্তু গ্রুপে যাওয়া আসাতেই যে একটা ক্লান্তি কাজ করে, সেটা থেকে তো আর মুক্তি পাওয়া যাবে না! … সুতরাং, স্বেই ক্লান্তি দূর করার জন্য আপাতত ঘুমানোটাই কর্তব্য …

অতএব, দিনযাপন এখানেই শেষ করে ঘুমাতে যাই …

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s