দিনযাপন | ২২০৮২০১৫

ঘরজুড়ে সিলিকন গ্লু-এর গন্ধে ক্যামন দম বন্ধ হয়ে আসছে … বারান্দায় আমার মহান এক্সপেরিমেন্টাল কাচের জানালায় সিলিকন গ্লু দিয়ে পানি আর বাতাস ঢুকবার যাবতীয় পথ বন্ধ করা হয়েছে আজকে … এদিকে আবার গ্লাস খোলারও উপায় নেই, কারণ তাহলে কাঠের বিড-এর গায়ে যে গ্লু লাগানো হয়েছে সেটা চাপ খাবে … ফলে ঘর তো একদিকে গুমোট হয়েই আছে, তার সাথে যোগ হয়েছে এই গ্লু-এর গন্ধ … সারারাত ঘুমাবো ক্যামনে কে জানে!

যাই হোক, আজকে সারাদিন এলএলসিক্স-এ ক্রিয়েটিভ রাইটিং ওয়ার্কশপ নিয়েই ব্যস্ত ছিলাম … সন্ধ্যায় সেখান থেকে কাঁটাবন … তারপর সেখান থেকে বাসা পৌঁছাতে পৌঁছাতে রাত প্রায় পৌনে বারোটা … প্রচণ্ড ক্লান্ত, কিন্তু ঘুম আসছে না আজকে … আই মিন, ইউজুয়াল ঘুম ঘুম ভাব ঠিকই আছে, কিন্তু একেবারে ঘুমে ঢলে পড়ে যাচ্ছি, চোখ খুলেই রাখতে পারছি না এরকম না …

আজকের ওয়ার্কশপটা বেসিক্যালি ছিলো নিজের কথা নিয়ে … মনোলগ নিয়ে … গতদিনের ওয়ার্কশপের সেশনটা যেমন ইন্টেন্স ছিলো, আজকে সেরকম ছিলো না … এমনিতে তো পার্টিসিপেন্ট অনেক কম ছিলো, তারমধ্যে যারা ছিলো তাদের দুইজন ইংরেজিতে সাবলীল না হওয়া সত্ত্বেও ক্রমাগতই ইংরেজিতে লিখে গ্যালো … একজন ছিলো ভারতীয়, যে হিন্দি আর ইংরেজি ছাড়া আর কোনো ভাষা বোঝে না … ফলে ভাষাগত বোঝাপড়ার একটা ক্যাঁচাল দাঁড়িয়ে গ্যালো … যাই হোক, এরমধ্যেও আমি আমার মতো করে লেখালেখি করে গেছি … মনোলগটার ব্যাপারে আমার আগ্রহ বেশি ছিলো, কারণ অলরেডি মাথার ভেতরে এক্টা-দুইটা মনোলগ ঘুরছিলো আগে থেকেই … তো, ভাবছিলাম যে এখানে ওয়ার্কশপের উছিলায় সেগুলোর কোনোটা নিয়ে কাজ করা যাবে …

এবং করেছিও তাই … ৫ অক্টোবর নিয়ে আমার মাথায় অনেকদিন থেকেই কিছু কথা ঘুরঘুর করছে, কিন্তু প্রথম দুই-তিন লাইন এর পর আর কিছুতেই লেখা আগায় না … সেই লেখা না আগানোর ব্যাপারটা নিয়েই আমি আজকে একটা মনোলগ লিখে ফেললাম … এবং সেই সূত্রে এই প্রথম আসলে ওই ঘটনাটা নিয়ে একদম ভরা মজলিশে কিছু বলা … ওখানে আজকে যারা ছিলো, তারা প্রত্যেকেই ( ওয়েল, সেই বাংলা না বোঝা ভারতীয় ছাড়া) বুঝেছে যে ঘটনাটা কি ঘটেছে … একটা লেখা দিয়েই নিজের প্রতি মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি আর আচরনভঙ্গি কিভাবে পাল্টে ফেলা যায় ! লেখাটা পড়ে শেষ করার পর মুহুর্তের জন্য ঘরে একটা পিন ড্রপ সাইলেন্স ছিলো, আর ওই মুহুর্তে আমি যেন সবার চোখের দিকে তাকিয়ে পড়ে ফেলতে পারছিলাম তাদের ইনস্ট্যান্ট রিঅ্যাকশন কি হতে পারে … ইফফাত, সাদ, শেহজাদ ভাই, আইরিন আপু … কিংবা আজকে পরিচয় হওয়া রুমানা … কিংবা শুভ আর অপু নামের ওই দুইজন পারটিসিপেন্ট … কিংবা ইভেন সেই বাংলা না বোঝা ভারতীয় …

আজকে বাসায় ফিরে গোসলে ঢুকে শাওয়ারের নিচে দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে হঠাৎ খেয়াল হলো যে গতবছর এরকম অগাস্টেরই কোনো একদিন আমি যখন শাহরিয়া আপুর বাসায় ড্রাঙ্ক হয়ে প্রচণ্ডরকম কান্নাকাটি করেছিলাম আর সোহেলের সাথে ঘটমান যাবতীয় ঘটনাগুলো বলে যাচ্ছিলাম, সেদিন তো ওইখানে সাদ আর ইফফাত-ও ছিলো! … আমি সেদিন প্রচণ্ডরকমের মাতাল থাকা সত্ত্বেও আমার ব্রেইন বারবার আমাকে সিগন্যাল দিচ্ছিলো যে আর যাই-ই হোক, নাম বলা যাবে না সবার সামনে … তাই যাকে নিয়ে এত কান্নাকাটি করেছি সে যে সোহেল, সে যে ওইখানকার অনেকেরই পরিচিত সেইটা একজন-দুইজন ছাড়া আর কেউ বুঝে নাই … কিন্তু আমি জানি না যে যারা পুরো বিষয়টাতে কেবল দর্শক ছিলো আর ‘ প্রজ্ঞার কি হয়েছে’ টাইপ প্রশ্ন করছিলো, তারা পরে এইটা নিয়ে কি আলোচনা করেছে, কিংবা মুগ্ধদের সাথেও তারা কেউ কখনো কোনো কথাবার্তায় গিয়েছে কি না, সেটাও জানি না … অবশ্য তাতে কি-ই বা যায় আসে ? কয়েকদিন পর যখন ওই ঘটনার স্মৃতিচারণের দিন আসবে, সেদিন তো দিনযাপনে আমি নিজেই সব লিখে দিবো … তখন যে জানে সেও দেখবে যে ‘ ওহ! সেই ঘটনার কথা লিখেছে’ … আবার যে জানে না সেও দেখবে যে ‘ ওহ! এরকম ঘটনা ঘটেছিলো!’ …

যাই হোক, আজকে ওই মনোলগটা লিখতে পেরে নিজেকে অনেক শক্তিশালী লাগছে … ক্যামন যেন রিলিভড মনে হচ্ছে … মনে হচ্ছে বুকের ওপর চেপে থাকা বড় বড় পাথরের স্তুপকে ক্রমাগত ঠেলতে ঠেলতে অবশেষে একটা ছোটো ছিদ্র বের করতে পেরেছি যেটা দিয়ে সামান্য হলেও শ্বাস নিতে পারছি! …

ফেসবুকের টাইমহপের কল্যাণে একটা ইন্টেরেস্টিং জিনিস খেয়াল করলাম … গত তিন বছর ধরে এই ২১ থেকে ২৩ অগস্ট-এর এর মধ্যে রিপিটেডলি কিছু মানুষের সাথে হ্যাং আউট হয়েছে … যেমন, ২০১২ থেকে ২০১৪ পর্যন্ত প্রতি বছরই ঠিক এরকমই সময়ে মিন্নিদের সাথে হ্যাং আউট হয়েছে … একবার গেলাম নিশাতের বাসায়, তারপরের বছর বসুন্ধরা সিটি … গতবছর অবশ্য জুলাইয়ের শেষের দিকে মিন্নিদের সাথে হ্যাং আউট হয়েছিলো … আবার একইভাবে একদিন আগে পরের ব্যবধানে এই ২২/২৩ আগস্টের দিকেই সিজার ভাইদের সাথেও হ্যাং আউট হয়েছে … ২০১৩-তে আমরা অনন্ত জলিলের ‘নিঃস্বার্থ ভালোবাসা – হোয়াট ইজ লাভ’ দেখতে গেলাম … সিজার ভাই, সাজিয়া আপু, ইথার, সাইমন ভাই, বিকি … আবার গতবছর এই দিনে আমরা লাইভ কিচেনে ‘বার্গার ডিনার’ -এ গিয়েছিলাম … সিজার ভাই, সাজিয়া আপু, তিন্নি আপু, ইথার, সাইমন ভাই …বছরের এই সময়টা মনে হচ্ছে বেশ হ্যাং আউট -এর মধ্য দিয়ে যায়! … এইবছরেও তো তাইলে ২২/২৩ তারিখের এই হ্যাং আউট লেগ্যাসি বজায় রাখা উচিৎ ছিলো! …

যাই হোক, আমার মনে হয় আজকে দিনযাপন লেখা শেষ করি সেটাই ভালো … সোহেল এবং সোহেলের সাথে রিলেটেড কেউ আজকের দিনযাপন পড়লে হয়তো অনেককিছুই বুঝে ফেলবে, কিংবা তাদের অনেকধরণের প্রতিক্রিয়া হবে … কেউ মুখ ফুটে বলবে, কেউ মনে মনে ভাববে যে আমি যখন আরও ডিটেইল, আর আরও ডিরেক্ট সোহেলের প্রসঙ্গে, কিংবা সোহেলের সাথে সম্পর্কিত মানুষজন সম্পর্কে কথাবার্তা বলবো, তখন তারা কিভাবে আত্মপক্ষ সমর্থন করবে … কিংবা … হোয়াটএভার … আমি কেন এসব নিয়ে বদারড হচ্ছি! … আমার কাজ দিনযাপন লেখা … একেবারে ফ্রি অ্যান্ড ফ্র্যাঙ্কভাবে মনের যত কথা খুলে বলা … তাতে যদি বাস্তবের কোনো চরিত্র এসেই যায়, বা কারো সাথে কোনো ঘটনার মিল খুঁজে পাওয়া যায় সেটা অবশ্যই কাকতালীয় নয়! … যে বা যারা যাই-ই করেছে সজ্ঞানে, সচেতনভাবেই করেছে, সুতরাং সেই প্রসঙ্গ যদি আমার লেখায় চলেই আসে, তাহলে তাদেরই বা বদারড হওয়াটা সাজে না! … তখন তো আমার মুখে এই প্রশ্ন আসবেই যে ‘করার সময় মনে ছিলো না? এখন লুকাইতে চাও কেন?’ …

যাই হোক … আজকের মতো শেষ করি … পৃথিবীর সকল প্রাণী সুখী হোক … এমনকি রাস্তায় যে দুইটা কুকুর এই রাত সাড়ে তিনটা সময় ঘেউ ঘেউ করছে, যেই মশাটা বার বার এসে আমার চারপাশে ঘুরঘুর করেছে – তারাও …

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s