দিনযাপন | ২৫০৮২০১৫

২৫ আগস্ট, ২০১৪ বিভিন্ন কারণে একটা সিগনিফিকেন্ট দিন … আজকের দিনযাপনে এই দিনের ঘটনাবলী সম্পর্কে অনেককিছু লেখা হবে …

গতবছর এইদিনে পাঠশালার ফিল্ম ডিপার্টমেন্ট-এর ফিল্ম মেকিং কোর্সের সার্টিফিকেট গিভিং সেরেমনি ছিলো … আমার সার্টিফিকেট পাওয়ার ইতিহাসটা একটু সিনেমাটিক … সিনেমায় যেরকম দেখায় যে প্রটাগনিস্ট টাকার অভাবে সার্টিফিকেট পাবে না এরকম একটা সিচুয়েশন দাঁড়ায়, তারপর শেষ মুহুর্তে রক্ত বেঁচে হলেও সে টাকা জোগাড় করে আনে আর সবার নাম ঘোষণা করে দিয়ে প্রফেসর নেমে যাবার আগ মুহুর্তে সেই প্রটাগনিস্ট দৌড়াতে দৌড়াতে এসে হাজির হয় আর বলে, ‘ স্যার, এই যে টাকা … আমার সার্টিফিকেটটা এখন পাবো তো?’ … আমাকে রক্ত বেঁচে টাকা দিতে হয়নি … কিন্তু সার্টিফিকেট পাবার ঘটনাটা টাকা সংক্রান্তই …

কোর্সটায় ভর্তি হয়েছিলাম একেবারেই হুট করে … শুনেছি মুগ্ধ, রূপা ওরা কোর্সটা করবে, আমিও উৎসাহী হয়ে পরদিন ভর্তি হয়ে আসছি … ফলে যেদিন ভর্তি হয়েছি সেদিন ১০ হাজার টাকা কোর্স ফি-এর মাত্র ৩ হাজার টাকা দিতে পেরেছি … কথা ছিলো যে এর পরের দুই মাসের মধ্যে বাকি ৭ হাজার টাকা দিয়ে দেবো … আমিও ভাবলাম যে ৭ হাজার টাকাই তো, দুইমাসে ভেঙ্গে ভেঙ্গে দিয়ে দিতে পারবো … সেটা আর সম্ভব হলো না, কারণ এর মধ্যেই প্রথমত আমার ল্যাপটপের হার্ডডিস্কের কেবল পুড়ে গিয়ে সেটা ঠিক করা বাবদ নূর ভাইয়ের কাছে ৮০০০টাকা পাওনা হলো আর দ্বিতীয়ত আমি সোহেলের জন্য টাকা খরচের দুষ্টচক্রে পড়ে গেলাম আর মাসের বেতনের ১৭,৫০০ টাকার একটা বড় অংশ কিভাবে কিভাবে সোহেলের খাতেই খরচ হয়ে যেতে থাকলো … ওর আইফোন, ব্যাগ, স্যাণ্ডেল, শার্ট-প্যান্ট, ঘড়ি, বুয়ার টাকা, নেট-এর বিল, খাওয়া- দাওয়া ইত্যাদি ইত্যাদি … চোখের নিমিষেই টাকা শেষ! নিজের জন্য খরচের খাত বলতে খালি রিকশা ভাড়া! … যাই হোক, এই করতে করতে ফিল্ম মেকিং কোর্স শেষ করে বের হয়ে গেলাম … সেটা জুন মাসের ঘটনা … এর পর চাকরিও ছেড়ে দিলাম … ফলে পাঠশালা ফিল্ম ডিপার্টমেন্ট থেকে কয়েকদিন পর পরই ফোন দেয়, আর আমি বলি আজকে না কালকে, কালকে না পরশু ইত্যাদি ইত্যাদি …এর মধ্যে নূর ভাইও ডেস্পারেটলি টাকা চেয়েই যাচ্ছে, কারণ তার টাকাটাও দিতে পারছি না … এখন কার টাকাটা দিবো, কারটা দিবো না টাইপ একটা অবস্থা দাঁড়ায় গ্যালো …

এর মধ্যে ২৫ আগস্ট ফিল্ম কোর্সের সার্টিফিকেট দিবে, সেই দিন-তারিখ ঠিক হলো … ২৫ তারিখ সকালবেলাও আমি জানি না আমি কি করবো … ফিল্ম ডিপার্টমেন্টে দেয়ার জন্য মা আমাকে ৭ হাজার টাকা দিয়েছিলো … ‘ টাকার জন্য সার্টিফিকেট পাবা না, এইটা তো হতে পারে না’ টাইপের চিরকুট লিখে টাকাটা দিয়েছিলো … আর তার মধ্যেই সোহেলের ফোন হারিয়েছে, এবং যথারীতি তার নতুন ফোন কিনতে হবে বলে আমার কাছে টাকাও চেয়ে ফেলেছে … আমি আবার কথায় কথায় তাকে ‘ আপাতত একটা কম দামী ফোন কিনে চালাও, পরে না হয় ভালো ফোন কিনো’ টাইপ একটা বুদ্ধি দিয়েছিলাম দেখে সে ‘ এইসব ত্যাড়া মার্কা কথা অসহ্য লাগে … হ্যাঁ! আমি তো অনেক বড়লোক, তাই দামী জিনিস ছাড়া চলতে পারি না, সেজন্যই তো দামী ফোন কিনতে চাই’ টাইপ খোঁচা দেয়া কথাবার্তা বলে অস্থির করে ফেলেছে … আমি খুব কনফিউজড ছিলাম কি করবো … এখন যদি সোহেল যে কোনো মুহুর্তে বলে ‘ফোন কিনবো, টাকা দাও’, আর আমি যদি বলি টাকা নাই, তাহলে সে যেসব আচরণ করবে আর যেসব কথাবার্তা বলবে সেগুলো চিন্তা করেই মনে হচ্ছিলো যে টাকাটা রেখে দেই! … সার্টিফিকেট না হয় না-ই পেলাম … তো যাই হোক, তখন ইউপিএল -এর প্রজেক্ট-এর কাজ করছিলাম, তাই প্রতিদিনই ওদের অফিসে যেতাম … সেদিনও গেলাম … অফিসে গিয়ে কি মনে করে জিকো ভাইয়ের সাথে যোগাযোগ করলাম … জিকো ভাই এর সাথে ওর সাথে কথা বলে জানালো যে আমি যদি বিকাল ৪টার মধ্যে টাকা দিতে পারি তাহলে সার্টিফিকেট পাবো, নয়তো পাবো না … দুপুর আড়াইটা সময় হুট করে সিদ্ধান্ত নিলাম যে আমি টাকাটা পাঠশালাতেই জমা দেবো … এদিকে অফিস থেকে বের হতে হতে আমার ৫টা বাজবে … মুগ্ধকে ফোন করে বললাম যে ওর কাছে ৭ হাজার টাকা আছে কি না, থাকলে দিয়ে দিক, আমি সন্ধ্যায় দিয়ে দেবো … ও বললো নাই … তখন ওকে ওই ৭ হাজার টাকা বিকাশ করলাম … ও আমার পক্ষে জমা দিলো … আমি ৫টা সময় বের হয়ে ছায়ানট গিয়ে প্রোগ্রাম অ্যাটেন্ড করলাম, সার্টিফিকেট পেলাম! …

সিনেমাটিক এনাফ, ইজন্ট ইট?

দিনের শেষভাগের গল্প তো আরও সিনেমাটিক … এই গল্পের চরিত্র সোহেল … তার আগে, সেদিনই দুপুরবেলা সোহেল দুপুরে খাবে বলে ৬০০ টাকা নিলো … সেটাও তাকে ইনফ্যাক্ট বিকাশ করেই পাঠিয়েছিলাম … আমার কাছে টাকা ছিলো না …  নোবেল ভাইয়ের কাছে আমার ১২০০ টাকা ছিলো, ওইখান থেকে বিকাশ করালাম … রাতে সোহেলের ইচ্ছা হইলো সে নান্দু’স-এ ডিনার করবে … টাকা নাই বলার পর খাওয়ার প্ল্যান চেঞ্জ হলো না, খালি ভেন্যু চেঞ্জ হয়ে হলো কুকার্স সেভেন … ছায়ানটের প্রোগ্রাম শেষ করে বের হয়ে গেলাম সেখানে … সেখানে গিয়েই গল্পের শুরু … ওইখানে গিয়ে বসতে না বসতেই সোহেলের ফোন আসলো, সে ফোন নিয়ে বাইরে চলে গ্যালো … কথা শেষ করে এসে বসতে না বসতেই আবার ফোন … আমাকে ফোন নিয়ে উঠে যেতে যেতে খুব তাড়াহুড়া করে কিছু একটা বলেছিলো … আমি বুঝিনাই … শুনে মনে হয়েছিলো যে ‘শিপু কল দিচ্ছে’ কিংবা ‘সিঙ্গাপুর থেকে কল দিচ্ছে’ টাইপ একটা কিছু … প্রথমে মনে হয়েছিলো ‘শিপু কল দিচ্ছে’ বলেছে… তারপর মনে হলো যে একটু আগেই তো দেখে আসলাম যে শিপু, মানে মুগ্ধ’র ফোন বন্ধ, আর ও একটা দাওয়াতে গ্যালো … আমি যতটুকু সময়ে কুকার্স সেভেনে গিয়েছি তার মধ্যে ওর মোহাম্মদপুর পৌঁছে গিয়ে ফোনে চার্জ দেয়া সম্ভব ছিলো না … যাই হোক, তারপর ভাবলাম যে বোধহয় বলেছে ‘ সিঙ্গাপুর থেকে কল দিচ্ছে’ … সিঙ্গাপুরে ওর বোন থাকে, মাঝে মাঝেই রাতের দিকে ফোন দেয় … তো সোহেল বেশ কিছুক্ষণ কথাবার্তা বলে তারপর ভেতরে আসলো … টেবিলে এসে যখন বসছে তখনো অবশ্য কথা শেষ হয়নি … ও কথা শেষ করতে করতে কানে গ্যালো যে কাউকে বলছে, ‘ ওকে বাবা! আচ্ছা বাবা! বাই …’ … আসলে ও কার সাথে কথা বলছিলো আমি জানতাম না, কিন্তু আমার ধারণা হয়েছিলো যে নিশ্চয়ই কোনো মেয়ের সাথে নতুন প্রেম হয়েছে আর তার সাথেই এভাবে কথা বলছে! … আমার কাছে সাথে সাথেই মনে হলো যে ও তো আমাকে তাহলে মিথ্যা বলে গ্যাছে, কারণ আমি তো শুনেছি যে ও ‘শিপু’ অথবা ‘সিঙ্গাপুর’ জাতীয় একটা কিছু মেনশন করেছিলো … আর মুগ্ধই হোক বা সিঙ্গাপুরের বোন-ই হোক, তাদের সাথে তো সোহেল এইসব ‘ওকে বাবা! আচ্ছা বাবা’ টোনে কথা বলবে না! আর যাই হোক, মুখের ওপর এরকম মিথ্যা কথা বললে আমার একেবারেই সহ্য হয় না … সেদিনও হয়নি … আমার মাথায় ঠিক সেই মুহুর্তে একটা আগ্নেয়গিরির বিস্ফোরণ হয়েছিলো … আগের বেশ কয়েকদিন থেকেই যেই সন্দেহটা ছিলো যে ও নিশ্চয়ই নতুন কারো সাথে ইনভল্ভড, সেইটা ওইদিন ওই মুহুর্তের মধ্যে ক্যামন নিশ্চিত হয়ে গেলাম … আমি জানিও না ফোনটা কি সেই মেয়েই করেছিলো কি না … তবে, সেই মেয়ে করুক বা না করুক, যদি বা আমি ভুলভাবেও ঘটনাটা অ্যাজিউম করি, তারপরও আমার ওই নিশ্চিত হওয়ার ব্যাপারটা কিন্তু ভুল ছিলো না … সেইটা আমি কয়েকদিন পরেই প্রমাণ পেয়েছিলাম … তবে, সেই গল্পটা ওইদিনের জন্যই তোলা থাকুক …

যাই হোক, ওই সময় যখনি মনে হলো যে ওর ঘটনাটা এরকম, আর ও এখন আরেকজনের সাথে ইনভল্ভড সেটাও আমি নিশ্চিত, তখন আমার আর এক মুহুর্তের জন্য ওখানে বসে থাকতে ইচ্ছে হচ্ছিলো না … কেমন জানি একটা থমকে গেছিলাম ভেতরে … ক্যামন যেন ভোঁ ভোঁ করছিলো সবকিছু … খালি মনে হচ্ছিলো যে ও কোনো একজনের সাথে ফোনে কথা বলে, ফেসবুকে চ্যাট করে এইটুকু পর্যন্ত আমি নিশ্চিত ছিলাম কিন্তু তাই বলে এতদূর গড়িয়েছে ব্যাপার স্যাপার, আর সেটাও আবার আমি থাকা অবস্থাতেই প্যারালালভাবেই চলছে! …

হ্যাঁ, এটা ঠিক যে আমি তার তথাকথিত প্রেমিকা ছিলাম না কিংবা আমাদের সম্পর্কটাও প্রেম ছিলো না … কিন্তু যেটুকুই অ্যাটাচমেন্ট ছিলো সেটাও কম ছিলো না … আর তার এক্সপেকটেশন সে যা যা প্রকাশ করতো সেগুলো একজন প্রেমিকের পারস্পেক্টিভ থেকেই ছিলো, কিন্তু সেটা তাকে বললে সে সরাসরি অস্বীকার করতো … আমাদের নাকি কোনো অ্যাটাচমেন্ট-ই নাই … অথচ সেই আমার কাছেই সে ‘বিপদে পড়ে’ টাকা চায়, তার এটা-সেটা পছন্দ হলে শখ করে, আবদার করে (!) … সিনেমা দেখতে যায়, খেতে যায় … এমনকি মাঝে মাঝেই রাতে একসাথে থাকে …

যাই হোক, এরপর, ওইদিন রাত থেকেই এইগুলা নিয়ে তার সাথে আমার অনেকগুলা মেইল চালাচালি হয়েছে, কথাবার্তা হয়েছে … সেগুলো যেহেতু ২৬ আগস্টের ঘটনা, তাই সেগুলো নিয়ে আগামীকাল কথা বলবো …

আজকে দিনযাপনে আর কি লিখবো? … ওহ! এইটুকু লিখতে পারি যে আজকে আমি মিরপুর থেকে রিকশা করে কাঁটাবন গেছি … প্রথমে ইন্দিরা রোডের মাথায় মাঠটার কোণা পর্যন্ত এক রিকশায়, তারপর সেখান থেকে আরেক রিকশায় কাঁটাবন … মোট খরচ হলো ১৪০ টাকা … সিএনজি-তে গেলে লাগে ২৫০ টাকা … ফলে, ১০০টাকা সেভ … দেড় ঘণ্টার মতো লাগলো টোটাল, কিন্তু কোথাও আসলে থেমে থাকিনি … ভেতরে অলি-গলি দিয়ে রিকশা চলেছে, ফলে মেইন রোডের অনেকটুকু রাস্তাই জ্যামের হাত থেকে বাঁচা গেছে … মাঝখানে ইন্দিরা রোডে নেমে যখন রিকশা খুঁজছি তখন রিখতা আপার সাথে দেখা হয়ে গ্যালো … উনি সানিডেল স্কুলে কলিগ ছিলেন, এখন এক্সেল অ্যাকাডেমিতে আছেন … উনার সাথে প্রায় মিনিট দশেক রাস্তায় দাঁড়ায় গল্প হলো …

আর কি? … এই তো! … যা লিখেছি, আজকের জন্য এটাই তো যথেষ্ট! … কালকের গল্প তো আরও খুল্লাম খুল্লা হবে … অতএব, আজকে অফ যাই …

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s