দিনযাপন | ২৬০৮২০১৫

২৬ আগস্ট, ২০১৪ আরেকটি সিগ্নিফিকেন্ট দিন … কিন্তু সেই দিনের কাহিনী শুরু করার আগে ২৫ আগস্টের ঘটনার ইনস্ট্যান্ট রি-অ্যাকশনের কিছু কথোপকথনের অংশবিশেষ শেয়ার করি …

সেদিন রাতেই বাসায় গিয়ে সোহেলকে একটা মেইল করেছিলাম … তারই অংশবিশেষ … জাস্ট টু মেক ক্লিয়ার হোয়্যাট দ্য সিচুয়েশন ওয়াজ… কারণ পরবর্তী ঘটনা বোঝানোর স্পষ্টতার জন্য এই কথাগুলো এখানে থাকাটা জরুরি বলে মনে করছি…

… এতদিন পর্যন্ত একটা বিষয় নিয়ে আমি খুব সন্তুষ্টি বোধ করতাম – তুমি যাই করো, যাই ভাবো, যাই বলো, সবকিছুই প্রচণ্ড Honest ভাবে বলো। সেটা আমার সাথে কোনো বিষয়েই হোক, তোমার বন্ধুবান্ধব বিষয়েই হোক, ফ্যামিলি বিষয়েই হোক কিংবা তুমি আর যে সব মেয়ের সাথেই কথা বলো, চ্যাট করো, সেক্স করো সে ব্যাপারেই হোক… যাই হোক … এইটুকু অন্তত আমি নিশ্চিন্ত বোধ করতাম যে আর যাই হোক, তুমি তোমার দিক থেকে তো Honest !… 

… ইদানীং তুমি অনেক কিছুই লুকাও। এড়িয়ে যাওয়া এক জিনিস, কিন্তু লুকানো! আচ্ছা, আমার কাছে তোমার লুকানোর কি আছে? আমি তো তোমার প্রেমিকা না! আমি তোমার বউ ও না! তবু তুমি লুকাও। জানি না, ইন্সটাগ্রাম, ফেসবুক থেকে আমি বিতাড়িত, সেটাও হয়তো এই কারণেই যে কিছু জিনিস হাইড করে রাখছো! আমি কোনোভাবে এটাকে এড়িয়ে যাওয়া বলবো না!… 

… আজকে খুব অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে প্রথমবারের মতো অনুভব করলাম তুমি এখন মিথ্যাও বলো! … কেন, কি কারণে মনে হয়েছে আমাকে জিজ্ঞেস করো না, আমি কোনো উত্তর দেবো না … কিন্তু অনুভূতির তীব্রতাটা এত বেশি ছিলো যে আমি ইলেকট্রিক শক খাওয়ার মতো করে চমকে উঠেছিলাম। মনে হচ্ছিলো ওই মুহূর্তে আমি তোমার চোখের সামনে থেকে যদি অদৃশ্য হয়ে যেতে পারতাম তাহলে ভালো হতো …

তো, সোহেল বুঝলো যে আমি কুকার্স সেভেনে ওর ফোনালাপের প্রসঙ্গে কথা বলছি …

~ ” … আমার মন থেকে কেউ সহজে ওঠেনা, যে উঠে যায় তার সাথে আমি আর আগের মতো বিহেভ করতে পারি না। তুমি যেদিন পান্থপথ সিগন্যালে আমার সাথে সিনক্রিয়েট করসো, সেদিনই বুঝছি তোমার সাথে আমার কোনো মিল নাই … [ ঘটনা বিস্তারিত জানতে হলে ৫ জুলাই তারিখের দিনযাপন পড়তে হবে]

যাই হোক, দেন আসি আমার মিথ্যা কথা নিয়ে …আমি মিথ্যা বলসি কি না সেটা তুমি একদমই জানো না, কার সাথে কথা বলসি ফোনে তার কিছুই জানো না, আর না জেনে কেউ আমাকে কিছু বললে তার ওপর আমার আরও বেশি মেজাজ খারাপ হয়, আর আস্তে আস্তে তাকে আমি হেট করতে স্টার্ট করি … আমি তোমার সামনে ছিলাম, ইউ শুড আস্ক মি … যাই হোক, তোমার যা ভালো মনে হইসে বলসো … তোমার সাথে আমার কন্টাক্ট অফ হয়ে যাক সব থেকে বেটার, কারণ কেউ আমাকে মিথ্যাবাদী মনে করুক অর আমি কাউকে আস্তে আস্তে হেট করা শুরু করি এমন মানুষ আমি অন্তত আমার পাশে চাই না

আর তোমাকে রিকোয়েস্ট করি মোবাইলের টাকা দেয়া লাগবে তো না, ওয়াচটাও দেয়া লাগবে না, অর্ডার দিসো ওয়াচটা আসলে নেটে অ্যাড দিয়ে সেল করে দিও। তোমার কাছ থেকে আর কিছু নিলে আমি নিজেই নিজের কাছে ছোটো হয়ে যাবো। অন্তত আমাকে নিজের কাছে ছোটো করোনা প্লিজ … ” 

ওয়াচ বলতে সেই যে ১৬ হাজার টাকা দামের ঘড়ি … তার আপকামিং জন্মদিনের উপহার … যেটা সে আবদার করেছিলো সেই ফেব্রুয়ারি মাসে … আর জুলাই মাস আসতে আসতে ওইটা দাবি হয়ে গ্যালো … ‘ঘড়ি দিবি কি না বল’ টাইপের অবস্থা …

~ ” … আমি নিজেই এর মধ্যে অনেকবার সরে যেতে চাইসি, নট বিকজ আই অ্যাম ফিলিং হার্ট, বিকজ আই ডোন্ট ওয়ান্ট টু মেক থিংস ওয়ার্স এনিমোর … কিন্তু প্রতিবারই কোনো না কোনোভাবে সেটা হয়নাই …

এখন তুমি নিজেই বললা সরে যেতে … ভালো! …  “

~ ” … যারা বেশি বুঝে তাদের কপালে সুখ কম থাকে। এনিওয়েজ, বাই …

~ ” … হুম … আমি বেশি বুঝি … ভালো, বাই …

এইটুকু কথাবার্তা রাতের … তারপর আর কথাবার্তা হয়নাই … আমিও সকাল বেলা মেজাজ খারাপ, মন খারাপ টাইপের যাবতীয় নেগেটিভ ইমোশন নিয়ে অফিসে গেলাম … এর মধ্যে সকাল বেলা ঘুম থেকে উঠেই সে রিপ্লাই দিলো …

~ ” … দেখসো! তোমার নিজের মুখের কথার ঠিক নাই! … আর এখন তুমি নিজেই চলে গ্যাছো! … এখন বলবা সব আমার দোষ … ভালো …

মেজাজ তো এমনিই খারাপ, তার ওপর এই কথা শুনে আরও খারাপ হয়ে গ্যালো …

~ ” … তুমিই বললা সরে যাও! আমার যদি সত্যি সত্যি নিজের থেকে সরে যাওয়ার ইচ্ছা থাকতো তাহলে তো অনেক আগেই সেটা করতাম … 

আমার মতো মেয়েকে পাশে চাওনা সেটা তুমিই বলসো … তাই আমিও অনেক কষ্ট নিয়েই বলসি যে তুমি যেহেতু চাও, তাইলে সরেই যাবো …

~ ” … কিছু হলে অটোমেটিকই হবে, আর না হলে হাজার ট্রাই করেও হবে না … কমপ্লিকেটেড রিলেশনশিপ আমি বুঝি না, আর যখন বুঝিনা তখন আমি সেটা থেকে সরে যাই … 

আর একটা কথা বলে রাখি, বিশ্বাস করা না করা টোট্যালি তোমার ব্যাপার, আমি তোমার সাথে পরিচয় হওয়ার পর এখনো কারও সাথে সেক্স করিনাই। যদি করিও তুমি জীবনেও বুঝতে পারবানা যদি আমি না বলি …

এই ‘ যদি করিও তুমি জীবনেও বুঝতে পারবানা যদি আমি না বলি’ কথাটার মাজেজা কি হতে পারে? … এরকম কথা বললে এর আগের লাইনটা কে বিশ্বাস করবে? …

~  ” … আমি এমনিতেই অনেক আদরের ন্যাওটা, সেটা প্রেম-ভালোবাসার সাথে কোনো সম্পর্ক নাই … আমি সবসময় হাসি-খুশি থাকতে চাই, সবার সাথে মিলেমিশে থাকতে চাই … 

আমি তোমার সাথে শেয়ারিং, কেয়ারিং-এর কথা কিন্তু এসব জায়গা থেকেই বলি … প্রেম-ভালোবাসার জায়গা থেকে না … বলি না যে আমার সাথে প্রেম করো! …

যাই হোক, তারপর একটা দুইটা কথায় দফা রফা হইলো যে আপাতত কন্টাক্ট অফ হচ্ছে না … আর সাথে সাথেই তার সব কথার শেষ কথা …

~ ” … তোমার কাছে কি ৫০০ টাকা হবে দেয়ার মতো?…

আমি চাইলেই তাকে পাল্টা রিপ্লাই দিতে পারতাম যে  “এই না বললা আমার কাছে আর কিছু চাইলে নিজের কাছে নিজে ছোটো হয়ে যাবা? তোমার মুখের কথার কি হলো এখন? ”  … সেটা না দিয়ে ভদ্রভাবে ( ভিজুয়ালাইজ করতে হবে যে ঠোঁট কামড়ে, দাঁতে দাঁত চেপে রাগ নিয়ন্ত্রণ করছি) বললাম যে টাকা নাই, দিতে পারবো না ইত্যাদি ইত্যাদি …

এবার আসল ঘটনায় আসি … ঘটনাচক্রে সেদিনই শাহ্‌রিয়া আপুর বাসায় আমাদের পাঠশালা ফটোগ্রাফি ডিপার্টমেন্ট-এর সবার দাওয়াত পড়লো … দাওয়াত মানে ফেয়ারওয়েল ডিনার … শাহ্‌রিয়া আপু একটা স্কলারশিপ নিয়ে ফটোগ্রাফির ওপর একটা কোর্সে পড়তে ৬ মাসের জন্য লন্ডন যাবে, তার আগে একটা ফেয়ারওয়েল গেট-টুগেদার … এখন, শাহ্‌রিয়া আপুর বাসায় যাওয়া মানে মদ খাওয়াও অবধারিত … উনার হাজবেন্ড শিল্পপতি … আর রিডিং রুমের কেবিনেট ভর্তি থাকে দেশি-বিদেশি সব দামী আর রেয়ার লিকারের বোতলে … ফলে, শাহ্‌রিয়া আপুর বাসায় পার্টি হবে, আর মদ খাওয়া হবে না এইটা কখনোই হয় না … এদিকে মজার ব্যাপার হচ্ছে যে সোহেলের সাথে থাকতে গিয়ে তাকে একপ্রকার প্রমিজ করতে হয়েছিলো যে আমি আর মদ-টদ এসব খাবো না … তো, সেই প্রমিজের পর সামহাও আর মদ খাওয়াও হয়নি, এমনকি মদ খাওয়ার মতো কোনো আয়োজনেও যাওয়া হয়নি … এখন, ওইদিন তো আমার পা থেকে মাথা পর্যন্ত মেজাজ খারাপ হয়ে রক্ত টগবগ করে ফুটতেসে … সারাদিন পিসসড অফ অবস্থায় অফিস করেছি, গ্রুপে গেছি, ট্রাজেডি পলাশবাড়ির রিহার্সাল করেছি, তারপর সেখান থেকে শাহ্‌রিয়া আপুর বাসায় গেছি … সারাদিনই আমার মাথার মধ্যে এই চিন্তা ঘুরপাক খেয়েছে যে আমি সোহেলের কাছে ইমোশনালি কত জিম্মি হয়ে গেছি! সে ডিমান্ড করে আমি বিভিন্নভাবে তার কাছে ইমোশনালি সাবমিটেড থাকবো, আবার সেটার এক ছটাক মূল্যও তার কাছে থাকবে না … এখন আবার সে সন্দেহাতীতভাবে আরেকজন মেয়ের সাথে ইনভল্ভড, তারপরও সে ডিমান্ড করেই যাচ্ছে যে আমি তার ইচ্ছার দাসানুদাস হয়ে চলবো! …

এইসব ভাবতে ভাবতে মেজাজ খিঁচেই থাকলো সারাদিন … শাহ্‌রিয়া আপুর বাসায় গিয়ে ‘ঝ্যাঁটা মারি তোর প্রমিজের মুখে’ টাইপ জিদ+অভিমান নিয়ে ইচ্ছামতো ড্রিঙ্কস করলাম … সবচেয়ে বেশি খেয়েছি টাকিলা, আর টাকিলার দুই-তিন শট খেলেই যেখানে টাল হয়ে যাবার অবস্থা হয় সেখানে আমি খুব সম্ভবত ৬/৭ শট খেয়ে ফেলেছিলাম … যখন বুঝলাম যে অবস্থা আসলে বেশি ভালো না, তখন নিজ দায়িত্বে সরে গিয়ে ড্রয়িংরুমের সোফায় শুয়ে থাকলাম … এদিকে, সেটাই বরং হিতে বিপরীত হলো! … এমনিতেই তো আবেগে বাগবাগুম অবস্থা, তখন মনে হইলো যেন দিন-দুনিয়ার সব আবেগ উপচায় পড়তেসে … আমি এখানে একা একা শুয়ে আছি, কেউ এসে খোঁজও নিচ্ছে না – এইটা নিয়ে অভিমানী হয়েই কাঁদতে শুরু করে দিলাম … আর আমি টাল হয়ে কান্নাকাটি করা মানে হচ্ছে একেবারে ডাক ছেড়ে কাঁদা! … কিছুক্ষণের মধ্যেই সেখানে মুগ্ধ, পূর্ণা, হিমেল, বাপ্পি, তাহির ভাই সবাই জড়ো হয়ে গ্যালো … এদিকে কিছু সময় আগেই সবাই মিলে আড্ডা দেয়ার সময় প্রেম-ভালোবাসা-সম্পর্ক সংক্রান্ত কথাবার্তা চলছিলো … আমিও ‘ভালোবাসা মাই ফুট’ টাইপের একটা এক্সপ্রেশন দিয়ে সরে গিয়ে আবার দুই শট টাকিলা সাবাড় করে দিয়েছিলাম … তো ওই আলোচনায় যারা ছিলো তারা ধারণা করলো যে আমিও লাভ-লাইফ নিয়ে ইমোশনাল হয়ে গেছি…

এখন, টাল হইলে যেটা হয় যে চিন্তা-ভাবনা-মনোযোগ কিভাবে কিভাবে জানি এককেন্দ্রিক হয়ে যায় খুব সহজে … আমিও ওই টাল অবস্থাতেই ভাবলাম যে তাই তো! প্রেম না, ভালোবাসা না, কিছুই না, আমার যাবতীয় সমস্যা তো সোহেলকে নিয়ে … সেই যে আমি হাউমাউ করে কান্নাকাটি করতে করতে সবকিছু বলতে শুরু করলাম, বলতেই থাকলাম … সম্পর্কের প্রথম থেকেই আমার ওপর কড়া রেস্ট্রিকশন ছিলো যে কাউকে কিছু বলা যাবে না … পাঠশালা সার্কেল তো না-ই … মুগ্ধ জানলে কি ম্যাসাকার হবে এইসব এইসব … তো ওইদিন টাল অবস্থায় এইগুলা যত মনে হচ্ছিলো, ততই আমি সবচেয়ে বেশি না করা ঘটনাগুলো বলছিলাম … আবার, ফানি বিষয় হচ্ছে এর মধ্যেও আমার মাথায় এটা কাজ করছিলো যে সবাই ঘটনা জানে জানুক, নাম বলা যাবে না … তাইলে তো ভরা মজলিশে সবাই জেনে যাবে যে মুগ্ধ’র আপন মামা’র সাথে যাবতীয় কাহিনী ঘটেছে … তখন আবার ‘আমার বন্ধু’ মুগ্ধ’র ইম্প্রেশনটা কি হবে সেই ভেবে আমি কিছুতেই নাম বলছিলাম না … পূর্ণা এসে অনেকক্ষণ কথাবার্তা বলে নাম বলানোর চেষ্টা করলো, বাপ্পি চেষ্টা করলো, হিমেল চেষ্টা করলো … ইতিমধ্যে সবাই এইটুকু বুঝে গেছিলো যে ঘটনার ব্যক্তিটা পাঠশালা সার্কেলেরই কেউ, এবং ওই পার্টির প্রায় সবাই-ই তাকে চেনে … এইজন্যই নাম জানার জন্য তাদের আগ্রহও অনেক বেশি ছিলো …

আমার ঠিক মনে নাই … আমি খুব সম্ভবত হিমেলকে কথায় কথায় বলেছিলাম যে ব্যক্তিটা হচ্ছে সোহেল … কিন্তু ওইদিনের পরে এই ঘটনা প্রসঙ্গে হিমেলের সাথে আমার একটা শব্দও বিনিময় হয়নাই … আমার খুব আবছা আবছা মনে আছে যে আমি সোফায় শুয়ে কাঁদছিলাম আর হিমেল আমার মাথায় হাত বুলাতে বুলাতে বলছিলো যে ‘অন্তত আমাকে বল ছেলেটা কে!’… আমি আবার বলছিলাম যে ‘ না! তোরা সবাই ওকে চিনিস’ বা এইরকম কিছু…এরমধ্যেই আমার খুব বমি পেয়েছিলো … তখন হিমেল আমাকে ধরে ধরে বাথরুমে নিয়ে গিয়েছিলো … বমি করে আমি শাহ্‌রিয়া আপুর ঘরে গিয়ে বিছানায় শুয়ে ছিলাম আর হিমেল তখন পাশে বসে ছিলো … ওইসময়টাতে কথায় কথায় হিমেলকে মনে হয় বলেই ফেলেছিলাম নামটা … আবার ওই টাল অবস্থাতেই আমার এটাও মনে হচ্ছিলো যে একমাত্র হিমেলই নাম জানলেও কখনো কাউকে বলবে না, এমনকি মুগ্ধকেও না … এই করতে করতে আমি আবার আরেকবার বমি করে শাহ্‌রিয়া আপুর ঘর ভাসিয়ে দিয়েছিলাম …

[ এই ঘটনার পর আমি এমনই লজ্জিত হয়েছিলাম যে শাহ্‌রিয়া আপুকে যে সরি বলবো, সেইটারই সাহস হয়নাই! কি অ্যাম্বেরেসিং ঘটনা না? … একজনের বাসায় দাওয়াত খাইতে গিয়ে টাল-মাল হয়ে, কান্নাকাটি করে, বমি-টমি করে কি বিতিকিচ্ছিরি অবস্থা তৈরি করে আসছি! জানুয়ারিতে ছবিমেলার সময় যখন দেখা হয়েছিলো, তখন সরাসরি খুব লজ্জা নিয়ে তাকে সরি বলেছিলাম … উনি হাসি দিয়ে বলেছিলেন, ‘আরি কোনো ব্যাপারই না!’ … সত্যি সত্যিই উনার কাছে ওইটা ‘ব্যাপার’ না হয়ে থাকলে তো ভালোই … জানি না আসলে … ]

ওই অবস্থায় বাসায় তো আর যাওয়ার অবস্থা ছিলো না … পরে, ওইদিন রাতে হিমেলের বাসায় ছিলাম … সাথে বাপ্পি আর মুগ্ধ … হিমেলের বাসায় যেতে যেতে একটু ঘোর কাটলো … তখন সাথে সাথেই মনে হলো যে এইটা কি করলাম! সব কিছুই তো বলে ফেলসি! … এখন ক্যামনে কি হবে? … এদিকে মুগ্ধ যদি আবার কথায় কথায় সোহেলের সামনেই আমার টাল হওয়ার কাহিনী বলে ফেলে তাইলে তো বিরাট ক্যাচাল হয়ে যাবে! তখন আমি মুগ্ধকে বলতে শুরু করলাম যে ও যেন ওর বাসায় কাউকে কিছু না বলে … পূর্নাকেও যেন মানা করে দ্যায়! … এই যে বারবার মুগ্ধকে ওর বাসায় কিছু না বলার জন্য বলছিলাম, সেটার কারণেই বোধহয় সেই রাতে মুগ্ধ আর বাপ্পি ধারণা করতে পেরেছিলো যে ব্যক্তিটা ‘সোহেল’ … মুগ্ধ অনেককিছুই দুইয়ে দুইয়ে চার মিলিয়ে ফেলেছিলো, আর বাপ্পি অনেকটাই ধোঁয়াশার মধ্যে থাকলেও আমি যে শাহ্‌রিয়া আপুর বাসায় বারবার বিশেষভাবে হাইলাইট করে বলছিলাম ‘ কাউকে বলা যাবে না … মুগ্ধকেও না’ ওইটা শুনে আর হিমেলের বাসায় আরও অনেককিছুর ডিটেইল শুনে ও ধারণা করেছিলো যে ব্যক্তিটা সম্ভবত সোহেল …

বাপ্পি আমাকে ওইদিন বারবার একটা কথা বলছিলো, ‘প্রজ্ঞা, ছেলেটা যে-ই হোক, আমার একটাই কথা … ও তোকে ইউজ করতেসে’ … বারবার … অনেকবার করেই বাপ্পি এই একটা কথাই বলতেসিলো … আর মুগ্ধ কিছুই বলে নাই … ওর পক্ষে বলা সম্ভবও ছিলো না … যেটুকু যা বুঝেছিলো, সেটাই ওর জন্য নিশ্চয়ই অনেক বড় ধাক্কা ছিলো … আমাকে আর কি-ই বা বলবে! …

যাই হোক … আগের দিনের ঘটনা, কথোপকথন, ওই রাতে শাহ্‌রিয়া আপুর বাসার পার্টি, আমার টাল হয়ে কান্নাকাটি করে সব উজাড় করে বলে ফেলা, হিমেলের বাসায় গিয়ে মুগ্ধ আর বাপ্পির সামনে আরও অনেক অনেক কথা বলা এইসব কিছুই আসলে একটা বড় চেঞ্জমেকার ছিলো … সোহেলের প্রতি আমার মনোভাব, চিন্তাধারা, ওর প্রতি আমার ট্রিটমেন্ট, আমার নিজের চিন্তাশক্তি, নিজের আত্মবিশ্বাস সবকিছুরই একটা বড় পরিবর্তন এসেছিলো তার পরদিন থেকে … মনে মনে একটা শক্তি পেয়ে গিয়েছিলাম যে এখন অন্তত আমি একা না! … শক্তি পেয়েছিলাম যে এখন যত যা-ই হোক সোহেল কিছু একটা করে পার পেয়ে যাবে না! …

কিন্তু সবকিছুই যে একদম ওয়ান এইটি ডিগ্রি পাল্টে গিয়েছিলো কয়েকদিন পরেই সেইটাও তো আরেকটা গল্প … সময় হলে সেই গল্পও বলবো …

আজকে আপাতত আমার অফ যাওয়ার সময় হয়েছে …

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s