দিনযাপন | ০৩০৯২০১৫

যা বুঝতেসি, তাতে মাথা ব্যথার জন্য সাইনাস, চোখের পাওয়ারের সমস্যা এইসব হাবিজাবি চিন্তাভাবনা বাদ দিয়ে এবার মনে হয় নিউরোলজিস্ট -এর কাছে যাওয়া লাগবে। গত তিন/চারটা দিন যাবৎ বিষয়টা সহ্যসীমার বাইরে চলে গেছে। কপালের ওপরের অংশ থেকে তালু বরাবর জায়গাটা চক্রাকারে ব্যথা করে সারাক্ষণ। মনে হয় কি জানি কি একটা ভারি বস্তু মাথার ওপর চেপে বসে আছে! আর এই মাথা ব্যথাটা ব্রেইনকে প্রচণ্ড রকমের ডি-অ্যাক্টিভেট করে দেয়! … ক্যামন জানি একটা চেতনা লোপ পাওয়ার মতো অবস্থা হয় … মনে হয় এখন বিছানায় শুলেই অনন্তকালের জন্য ঘুমিয়ে পড়বো … কিছুক্ষণ জোর করে কাজ করি … তারপর আর টিকে থাকতে না পেরে ঘুমিয়েই পড়ি … অ্যার ঘুম বলতে যা হয় সেটা আসলে প্রায় অবচেতন আর অচেতন অবস্থার মাঝামাঝি একটা স্টেট বলা যেতে পারে। সেসময় আমি স্বপ্ন দেখি। কিন্তু স্বপ্নগুলো একদম বাস্তবের মতো মনে হয়। মনে হয় যে সত্যি সত্যিই চোখের সামনে ঘটছে! আর স্বপ্নগুলোর প্রত্যেকটাই একদম মনের অবচেতনে গেঁথে থাকা চিন্তাভাবনাগুলোরই রিফ্লেকশন থাকে … মনে হয় যেন ঘুমের ঘোরে আমি চিন্তাজগতের অন্য একটা স্তরে চলে যাই …

আগে ব্যাপারটা মাঝে মাঝে ঘটতো … হঠাৎ হঠাৎ এরকম মাথা ব্যথা করতো … এখন সেটা প্রায় প্রায়ই হতে হতে গত কয়েকদিন যাবৎ একদম নিয়মিত হয়ে গেছে …

কিন্তু অদ্ভুত বিষয় হচ্ছে স্বপ্নগুলোর সবকিছু আমার মনে থাকে না … কিভাবে শুরু হলো, কিভাবে শেষ হলো সেগুলো মনে রাখতে পারি না … কিন্তু মাঝখানের ঘটনার তীব্রতা অনেক থাকে, আর সেটুকু দেখতে দেখতেই মনে হয় যে এটা তো বাস্তবেই ঘটছে … তখন মনে হয় যে কিছুক্ষণ আগে স্বপ্ন দেখছিলাম, আর এখন জেগে উঠে এরকমটা দেখছি … তারপর আবার কিছুক্ষণ পর ভুল ভাঙ্গে … তখন মনে হয় যে আসলে তো পুরোটাই স্বপ্ন দেখছি! … তখন আমার ঘুম থেকে উঠে পড়তে খুব ইচ্ছা হয় … কিন্তু মনে হয় যেন চোখের পাতা আটকে গেছে … চাইলেও চোখ খুলে দেখতে পারি না যে কোনটা স্বপ্ন আর কোনটা বাস্তব! … কিছুক্ষণ পর আপনা আপনিই চোখ খুলে যায় … আর তখন মনে হয় মাথাটা এবার ভারি হয়ে গেছে … বালিশ থেকে আর মাথা তুলতে পারি না! … শোয়া থেকে তখন আর সোজা উঠতে পারি না … কাত হয়ে শুয়ে আগে শরীরকে উঠিয়ে তারপর মাথাটাকে শরীরের শক্তি দিয়ে উঠাতে হয় … তারপর শাওয়ারের নিচে দাঁড়িয়ে মাথা না ধোয়া পর্যন্ত সেই মাথা ব্যথা যায় না, আমারও অবচেতন আর অচেতন অবস্থার মাঝামাঝি থাকার ঘোর কাটে না …

নিত্যদিনের এই যন্ত্রণাটা আর ভালো লাগছে না …

ব্রেইন ড্যামেজ হয়ে যাচ্ছে মনে হয়! … মাথার যেদিকটায় এরকম ব্যথা হয় সেদিকটায় ফ্রন্টাল লোব আর পেরিয়েটাল লোব … দুইটার কাজই মোটামুটিভাবে যুক্তি-বুদ্ধি- চিন্তা-চেতনার কারবার নিয়ে … ব্রেইন যদি ড্যামেজ হয়েই যায়, তাহলে তো আমার বুদ্ধি-যুক্তি সব লোপ পাবে … আস্তে আস্তে মনে হয় স্মৃতিও হারাতে থাকবো … অনেক কিছুই তো বহুদিন হলো মনে রাখতে পারি না … হঠাৎ হঠাৎ ব্ল্যাঙ্ক হয়ে যাই প্রায়ই … কি জানি ! ব্রেইন ড্যামেজেরই লক্ষণ হয়তো! …

ব্রেইন ড্যামেজের বাংলা কি হয়? … মস্তিষ্ক বিকৃতি? … ব্রেইন ড্যামেজ বললে যেমন অসুস্থ অসুস্থ শোনায়, মস্তিষ্ক বিকৃতি বললে তেমনি পাগল পাগল শোনায়! …

আচ্ছা, ব্রেইন ড্যামেজ থেকে আমি যদি সিজোফ্রেনিক হয়ে যাই? … তাইলে কি উল্টাপাল্টা শব্দ শুনতে শুরু করবো? চোখের সামনে একে – তাকে দেখতে শুরু করবো? … আমার ইমাজিনারি ওয়ার্ল্ডের তখন ষোলোকলা পূর্ণ হবে! … এমনিতেই সবাই বলে আমি নাকি কল্পনার জগতে বসবাস করি … তখন সত্যি সত্যিই তাই হবে …

নাহ! ঠাট্টা না … সিরিয়াসলিই ভাবছি মাথা ব্যথার বিষয়টা নিয়ে এবার ডাক্তারের কাছে যাওয়া উচিত …

যাই হোক, আজকে আর কিছু লিখবো না … এমনিতেই ৫ মিনিট লিখে ১০ মিনিট রেস্ট নিতে নিতে রাত ৩টা বাজিয়ে ফেলেছি … কালকে আবার  শো আছে ট্র্যাজেডি পলাশবাড়ির … তার চেয়ে বড় কথা সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠে একটা স্ক্রিপ্টের অনুবাদের কাজ শেষ করতে হবে … একটা সিনেমার স্ক্রিপ্ট … আমি মূল অনুবাদক না … আমি খালি ইংরেজি একটা স্ক্রিপ্ট বোধগম্য করার জন্য বাংলা করে দিচ্ছি যাতে করে সেটা আর্টিস্টদের দিলে তারা কাহিনীটা বোঝে … এই অনুবাদ আলটিমেটলি আর কোনো কাজে লাগবে না … আলামিন ভাই আজকে জিজ্ঞেস করছিলো কত টাকা চাই আমার এই কাজের জন্য … আমি ঠাট্টা করে বলছিলাম যে ‘ ৬২ পেইজের একটা বই অনুবাদ করলে কম করে হলেও ৫০ হাজার টাকা পাইতাম!’ … আমি যেই কাজটা করলাম, গুরুত্বের লেভেলে সেই কাজ এতই নিচে যে এইটার জন্য ৫০০০ টাকা চাইলেও মনে হয় ওদের মনে হবে ‘ এত কেন?’ … দ্যাখা যাক, কত টাকা দেয় … আদৌ টাকা দেয় কি না! …

তো, কাহিনী হচ্ছে যে টাকা দিক আর না-ই দিক … এই কাজ আমার কালকে আলামিন ভাইকে দিতে হবে … আর সেজন্য সকালবেলা ঘুম থেকে উঠে সেই কাজটা শেষ করতে হবে … তারপর শিল্পকলা যেতে হবে … এইবার ট্র্যাজেডি পলাশবাড়ির শো-টা করতে একদমই উৎসাহ পাচ্ছি না … ক্যামন জানি একটা ‘ করতে হবে দেখে করছি’ টাইপ ভাবসাব মনের মধ্যে কিলবিল করছে …

আপাতত ঘুমানোর চেষ্টা করি … মাথা ব্যথার বদৌলতে অবশ্য এখন বিছানায় শোয়া মাত্রই ঘুমের রাজ্যে পৃথিবী অন্ধকার হয়ে যায় …

কিন্তু মিরপুরের মশারা দিনদিন অ্যাক্টিভ হয়ে উঠছে … এখন রাত বাড়তে না বাড়তেই তারা কামড়ে কামড়ে হাত-পা জ্বালিয়ে দেয় … মা সেদিন একটা ‘ম্যাজিক মশারি’ নামক বস্তু কিনে এনেছে … এইটার বিশেষত্ব এখনো বুঝতে পারছি না, কারণ সেটা এখনো টাঙ্গানো হয়নাই … খালি এইটুক বুঝলাম যে ইউজুয়াল মশারির চাইতে এইটা অনেক পাতলা, আর ওজনে হাল্কা … মনে হচ্ছে মশারি টাঙ্গিয়ে ঘুমানোর বন্দোবস্ত করতে হবে আস্তে আস্তে …

অবশ্য এই কয়েকদিন যাবত আমি অমিতের ঘরে ঘুমাচ্ছি … আমার ঘরে এখনো রাতে ঘুমানোর সুযোগ হয়নি আমার …

যাই হোক … অলরেডি চোখের পাতা ভারি হয়ে যেতে শুরু করেছে … অতএব আজকের মতো দিনযাপনের বকবকানি এখানেই শেষ …

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s