দিনযাপন | ০৪০৯২০১৫

দুপুরবেলা শিল্পকলা যাবার পথে সিএনজিতে বসে গান শুনতে শুনতে সেই যে ঈশান নামের গানের দলটার ‘বন্ধু ফিরে এসো’ গানটা মাথায় ঢুকেছে, আর বের হচ্ছে না! … একদম নির্দিষ্ট করে বললে একটা লাইন – ” সবাই আছে … অথচ কেউ নেই … “

” চা জুড়ানো বেলাতে, হিসেবটা মেলাতে, দরদর ঘামি / রাজা-রাণী বন্দি, দুই ভূতে সন্ধি, সময়টা দামি? ” – ২০০৭ এর এই দিনে অনীক এই ছড়া  লিখেছিলো আমার ফেসবুকের ওয়ালে …টাইমহপের কল্যাণে সেইটা আবার স্মৃতিতে জেগে উঠলো … অনীকের সাথে সেইসময়টায় খুব সম্ভবত সদ্য পরিচয়, আর অনেক অনেক কথাবার্তা হয় … ঠিক দিন-তারিখ খেয়াল নেই … আগে ওর সাথে কবে কোথায় দেখা হলো সেটাও ডাইরিতে লিখে রাখতাম … এখন আর সেই দিন-তারিখগুলো খেয়াল রাখার প্রয়োজনও বোধ হয় না …

যাই হোক, আজকের দিনের সবকিছুই ক্যামন জানি রেন্ডম হলো … শুক্রবার দিন নামাযের ভিড়ে না পড়ার জন্য তাড়াতাড়ি বের হলাম বাসা থেকে … ধানমণ্ডি আসতে না আসতে নামাযের সময় কাছাকাছি চলে এলো … রাস্তা দেখলাম পুরাই ফাঁকা! … মিরপুর থেকে শিল্পকলা অ্যাকাডেমি পৌঁছে গেলাম ৪৫ মিনিটে! … তখনও সেট নিয়েই কেউ শিল্পকলায় পৌঁছায় নাই! … একা একাই কতক্ষণ বসে রইলাম … খিদা লাগলো দেখে বের হয়ে দেখি সব দোকানপাট বন্ধ হয়ে গ্যাছে নামাযের জন্য। মোবাইলে নেট নাই বেশ ক’দিন হলো … আজকে হাতে কিছু টাকা ছিলো। ভাবলাম ৩৫০ টাকা ফ্লেক্সি করে নেটটা অ্যাক্টিভ করি আবার … খাবারের দোকানের সাথে সাথে ফ্লেক্সির দোকানও মনে হলো সব বন্ধ করে দিয়েছে … পরে টুটুলকে ফোন করে বললাম আসার সময় পারলে খাবার কিছু নিয়ে আসতে। আর আমি হলের গ্রিনরুমে গিয়ে বসে রইলাম …

আজকে মনে হচ্ছিলো মাথা ব্যথার চোটে অজ্ঞানই হয়ে যাবো! একে তো শিল্পকলার এসি এখন সাইবেরিয়ান টেম্পেরেচার মেইন্টেইন করে চলে, ফলে প্রচণ্ড ঠাণ্ডা!  তার ওপর আমার মাথা ব্যথা! সেই সাথে পিরিয়ড চলছে দেখে পেটের টিউমারটার খামচানো টাইপের যন্ত্রণা তো আছেই … ব্লিডিং কমানোর জন্য ওষুধ খাওয়ার কারণে আবার আরেক যন্ত্রণা হয় যে শরীর ক্যামন ঝিম মেরে থাকে! … সব মিলিয়ে মনে হচ্ছিলো আজকে মনে হয় শো-এর আগেই অসুস্থ হয়ে ক্যাচাল বাধায় ফেলবো … তাও ভালো যে সেরকম কিছু হয়নাই …

এর মধ্যে সারাদিনের খাওয়া দাওয়াও হলো উলটাপালটা … সেই যে দুপুরে ১ টা সময় টুটলের আনা সিঙ্গারা খেলাম, তারপর বিকাল ৫ টা সময় খিদা সহ্য করতে না পেরে সাত তলায় চিলেকোঠায় গিয়ে আবার ভেজিটেবল রোল আর চপ খেয়ে আসছি … সেট লাগানো শেষ করে সবাই ভাত খেতেই গ্যালো ৫টা সময় … সেই সময় আমি আবার প্রজেক্টর এর সেট-আপের কাজে ব্যস্ত হয়ে গেছি … আর ওই সময় গিয়ে ইন ফ্যাক্ট খাবোই বা কি ? দুপুরের ঠাণ্ডা হয়ে যাওয়া ভাত আর তলানির তরকারি? … টুটুলকে বলে দিয়েছিলাম স্ন্যাক্স জাতীয় কিছু নিয়ে আসতে … কিন্তু ওরা আসতে আসতে ক্ষুধায় আমার এমনি অসুস্থ লাগতে শুরু করলো যে আমি নিজেই সাত তলায় গিয়ে খেয়ে নিলাম … টুটুল স্যান্ডউইচ নিয়ে আসছিলো, সেইটা আর খাওয়া হয়নি … ব্যাগের মধ্যে ছিলো, পরে ভুলেও গেলাম … এখন বাসায় এসে সেটা ময়লার ঝুড়িতেই ফেলে দিতে হলো …

শো-তেও রেন্ডম অবস্থা … লাস্ট কয়েকটা শো যাবৎ বিপ্লব বসে আমার সাথে। প্রজেক্টরের ওপরে একটা ফ্লিপ বোর্ড থাকে ওইটা কিউ অনুযায়ী সরাতে হয়, আবার নামাতে হয়। আজকে আবার বিপ্লবও নাই! অফিসের কাজে সে এইবার সময়ই দিতে পারে নি … একবার ভেবেছিলাম একাই চালিয়ে দেবো শো-টা। এক্সপেরিমেন্টালে শো হলে প্রজেক্টরের হাইট আয়ত্বের মধ্যেই থাকে, ফলে ফ্লিপ বোর্ডটা একাই সরানো যায় … কিন্তু তারপরও সাথে কেউ থাকলে একটু কনফিডেন্স পাওয়া যায় এই মর্মে রানাকে বলেছিলাম থাকতে … পরে রানা ব্যস্ত থাকবে বলে নায়ীমীকে পাঠিয়ে দিলো আমার সাথে থাকার জন্য …

আজকের শো-টা ভালো হয়েছে … বেশ ভালো … শো-এর শুরু থেকেই সবকিছু খুব সিঙ্ক্রোনাইজড হয়েছে, এমনকি অভিনয়ও অনেক বেশি টাচি ছিলো আজকে … এর আগের কয়েকটা শো-তে যেই বিষয়গুলা হচ্ছে না বলে মনে হচ্ছিলো, আজকে সেই জিনিসগুলো খুব সুন্দর ওয়ার্ক করেছে … আসলে টিম এবং টিমের ভেতরকার কেমিস্ট্রি যে খুব বড় একটা ফ্যাক্টর সেইটা কলি আপু আর পারুর পারফরমেন্সেই খুব স্পষ্ট ধরা পড়ে … অন্তত আমরা যারা নাটকটার সাথে সংশ্লিষ্ট আমাদের কাছে … কলি আপুর যেটা হয় যে তার নিজেকে একটু বেশি করে দেখানোর টেন্ডেন্সিটা নাই … সে যে খুব পাকা অভিনেত্রী তা না … আর সেটাই এই নাটকে তার জন্য প্লাস পয়েন্ট … পারুর অভিনয়ের অভিজ্ঞতা বেশি বলেই তার মধ্যে একটা এক্সট্রা অভিনয় করার টেন্ডেন্সি চলে আসে অবচেতনেই … ও নিজেও যে খুব কন্সাসলি সেটা করে তা না … ফলে পারুর অভিনয়ে তারাভান চরিত্রটা আমাকে কখনো টাচ করে নাই … মনেই হয়েছে যে এইটা ডায়ালগ মুখস্ত করা অভিনয় … কিন্তু কলি আপু অভিনয়ের ক্ষেত্রে খুব বেশি ‘স্কিল্ড’ কিংবা ‘এক্সপেরিয়েন্সড’ না হওয়ার কারণেই সে চাইলেও আসলে তার অভিনয়ে ‘এক্সট্রা কিছু দিচ্ছি’ বিষয়টা আনতে পারে না … সে কারণে এই নাটকে  বিশেষ করে কলি আপু অভিনয় করলে চরিত্রের সারল্যটা পাওয়া যায় … তাছাড়া কলি আপু, রফিক ভাই আর নোবেল ভাই বন্ধু , সেই সাথে ফুয়াদ আর গোপীর সাথেও তাদের কেমিস্ট্রি ভালো … ফলে এই টিমটা শো করলে সেই শো-টা মনে দাগ কাটে, একবার না একবার চোখ ছলছল করেই …

একই সমস্যা শাহরিয়ার শো করলেও অবশ্য হয় … নিজের অভিনয়ের স্কিল প্রমাণ করতে গিয়ে ও কিছু অতিরিক্ত সংযোজন করে চরিত্রায়ণে, আর সেটা খুবই বেখাপ্পা মনে হয় … সামহাও এই নাটকের চরিত্রের সাথে সেটা ওয়ার্ক করে না … বাকি চারজনের চাইতে ক্যামন জানি আলাদা হয়ে যায় … পাঁচজনে মিলে যে একটা ব্লেন্ডিং এর বিষয় থাকে, সেটা আর হয় না …

যাই হোক, আমি আজকে টেনশনে ছিলাম মিউজিক নিয়ে … নীল নাই … টুটুল একা মিউজিক চালাবে … কি হবে না হবে … কিন্তু যেটুকু ভয় ছিলো, টুটুল তার চাইতেও অনেক ভালোভাবেই উৎরে গেছে … এমনকি আজকে মোখলেস ভাইও যথেষ্ট সিঙ্ক্রোনাইজড ছিলো লাইটের ক্ষেত্রে … তার একবারে লাফ দিয়ে লেভেল জিরো থেকে লেভেল হান্ড্রেডে ধুপ-ধাপ লাইট জ্বালানোটা কন্টিনিউ ছিলো, কিন্তু অন্যান্য দিন যেমন ‘কিউ চলে যাবার পর লাইট জ্বললো’ অবস্থা হয়, আজকে সেটা অনেক বেশিই কম হয়েছে! …

শো ভালো হলে ভালো লাগে …

যাই হোক, শো-এর পরে বের হয়ে আড্ডা দিতে দিতে চা খাবো বলে সামনে হাঁটতে হাঁটতে শেষে এক জায়গায় বসে কোল্ড কফি খাওয়া হলো … ফুয়াদ আমাদেরকে আসলে তার এক পরিচিত চায়ের দোকানে নিয়ে যাচ্ছিলো … কাছাকাছি গিয়ে দেখা গ্যালো সেটা বন্ধ … পরে জিএসবি’র নতুন ক্যান্টিনে বসে কোল্ড কফি খাওয়া হলো … শশাঙ্ক দা, কলি আপু, জেম, রানা, ফুয়াদ, আমি … পরে আবার প্রদ্যুত দা-ও এসে আড্ডায় যোগ দিলো …

বাসায় আসতে আসতে খুব ক্লান্ত হয়ে গেলাম … ক্যামন জানি গা ম্যাজম্যাজ করছে … জ্বর আসবে কি না বুঝতে পারছি না … ভালো লাগছে না একদমই … চোখ দুইটা জ্বলছে আর নাকও খুশখুশ করছে … কি যে হবে … দেখা যাক … এতরকমের শারীরিক অস্বস্তি … তার মধ্যে আবার যদি জ্বর আসে তাইলে তো একদম ষোলোকলা পূর্ণ! …

আজকে আর কিছু লিখতে ইচ্ছা করছে না … আজকে আমার বেহুদাই মন খারাপ … নির্দিষ্ট কোনো কারণ নাই … শরীর খারাপ … মন খারাপ … মাথাও কিঞ্চিত খারাপ … সবচেয়ে ভালো হয় এখন ঘুমায় গেলে …

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s