দিনযাপন | ০৫০৯২০১৫

ক্যামন জানি একটা অদ্ভুত ফিলিংস হচ্ছে! মনে হচ্ছে কালকের পরেই সব শেষ! মনে হচ্ছে কালকের দিন শেষ হবার সাথে সাথেই অনেককিছু পাল্টে যাবে … কি হবে জানি না ! … কি করবো, সে ব্যাপারে একটা চিন্তা আছে ঠিকই … কিন্তু যা করবো সেটার ইমপ্যাক্ট সম্পর্কে ভাবছি না … মনে যা আসে তাই … মনের মধ্যে কতরকমের কথা নিয়ে ঘুরতেসি! … এত কথা মনে রেখে কি হবে? …

মন খুলে যাকে যা বলতে চাই বলে ফেলার, যাকে যা প্রশ্ন করতে চাই করে ফেলার জন্য একটা দিন থাকলে ভালো হতো! … ‘ মনের কথা খুলে বলার দিন’ টাইপের কিছু একটা! … ওই দিনটাতে যাকে যা বলতে চাই, তাকে সেটা বলে দিতাম … আমি মনের মধ্যে কথা জমায় রাখতে পারি না … আমার খুব অস্বস্তি হয় … ভালো কথাই হোক, আর খারাপ কথাই হোক, সবাইকে মন খুলে সেই কথা বলতে আমার কখনো সমস্যা হয় না … মনে রাখতে গেলেই সমস্যা হয়ে যায় … তখন অনেককিছুর খেই হারিয়ে ফেলি … যেই মানুষটাকে নিয়ে মনের মধ্যে কথা জমে আছে, তার সাথে চলা-ফেরা, মেলা-মেশায় আমার তখন খুব সমস্যা হয়ে যায় … আর তারপর কখনো কখনো দেখা যায় যে মনের মধ্যে কিছু কথা জমায় রাখার কারণেই, কিছু প্রশ্ন জমায় রাখার কারণেই কারো কারো সাথে একটা অহেতুক দূরত্ব তৈরি হয়েছে যেটা হয়তো ওইসব কথার ভাগাভাগি হয়ে গেলে হতো না! … আবার দেখা যায় কাউকে মনের কথাটা বলে ফেললে তার সাথে একটা দূরত্ব তৈরি হয়ে যায়, কিন্তু তার সাথে আর চলা হোক বা না হোক, অন্তত নিজের মনের মধ্যে একটা রিলিভড হবার অনুভূতি থাকে যে ‘ কিছু তো অ্যাট লিস্ট চাপা নেই!’ …

আজকে সানবিমস্‌ স্কুলে গিয়েছিলাম বিকালে। ওই স্কুলের অ্যানুয়াল ড্রামা ছিলো আজকে । নাটকের নাম ছিলো ‘উইকেড’ । উইজার্ড অভ ওয্‌ গল্পের উইকেড উইচ কিভাবে উইকেড হলো, সেটারই গল্প । মিউজিক্যাল ছিলো এটা মূলত। ডিরেকশন দিয়েছে রেজভী ভাই, মিউজিক থেকে শুরু করে সেট পর্যন্ত সবই প্রাচ্যনাটেরই সবাই । সেই কারণেই নাটকটা দেখতে যাওয়া। সবার কাজ তো গ্রুপের ভেতরেই দেখা হয়। গ্রুপের বাইরে সবার প্রফেশনাল কাজগুলো এজন্য যতটা সম্ভব দেখার চেষ্টা করি। তাতে আসলে নিজেরই অভিজ্ঞতা বাড়ে। অন্যের কাজ সম্পর্কে যেমন আইডিয়া বাড়ে, তেমনি নিজের কাজের ক্ষেত্রেও তাদের অভিজ্ঞতা আর আইডিয়াগুলোকে কাজে লাগানো যায়। …

অবশ্য সানবিমস্‌ এর নাটকগুলোর সাথে আমার কি জানি একটা বিষয় আছে! প্রথমবার ‘লায়ন কিং’ হলো, তখন ঋতু আপু কস্টিউম করলো। আমাকে তার সাথে থাকতে বললো। তার কিছু আচরণে এমনই পিসড অফ হলাম যে কাজ শুরু করেও পরে মুখের ওপর ‘করবো না’ বলে দিলাম। এরপর আরেকবার ‘হীরক রাজার দেশে’ হলো। সেবার কস্টিউম করলো স্বর্ণা আপু। তার সাথে কাজ করতে গিয়ে সেসময় অনেককিছু মিলিয়ে এমনই উইথড্রয়াল সিনড্রোম হলো যে অনেকখানি সময় তার সাথে থেকেও শেষের দিকে গিয়ে ‘ ভাল্লাগে না’ টাইপ একটা বিষয় মনের মধ্যে খচখচ শুরু করলো আর আমিও কাজটা আর করলাম না … জানি না! কস্টিউম ডিজাইনারের অ্যাসিস্ট্যান্ট থাকার বদলে কস্টিউম ডিজাইনার হিসেবে কাজ পেলে হয়তো দ্বিগুণ উৎসাহ পেতাম কাজ করার জন্য! … আমি ডিজাইন করি ভালো, কিন্তু কামলা হিসেবে আমি ভালো না … ফলে এইসব টেকনিক্যাল জবে অ্যাসিস্ট্যান্ট থাকার বদলে মূল ডিজাইনার থাকাটা আমার জন্য বেশি স্বস্তিদায়ক। যেমন, অ্যালিস ইন ওয়ান্ডারল্যান্ড হয়েছিলো সানিডেইলে। সেখানে একদম নিজের শতভাগ ঢেলে দিয়ে কাজ করেছিলাম, আর সেই কাজের অ্যাপ্রিশিয়েশনও পেয়েছিলাম। সেটার একটা বড় কারণ ছিলো সেখানে আমি মূল কস্টিউম ডিজাইনার ছিলাম।

আজকে আর লিখবো না … খুব ঘুম আসছে …

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s