দিনযাপন | ০৭০৯২০১৫

সোহেলের জন্মদিনের প্রসঙ্গে কিছুই লিখবো না … গতকালকে রাতে ঘুমাতে যাবার আগে ফেসবুকে ওকে উদ্দেশ্য করে ইন্ডিরেক্টলি একটা স্ট্যাটাস দিয়েছিলাম … যে যা বোঝার বুঝেছে … যে বুঝেনাই তো বোঝে নাই … এমনকি কে কি বুঝলো, সেই রি-অ্যাকশনটাও আমি আসলে জানতে চাই না … যেমন, সোহেলের যেসব বন্ধুদের সাথে আমার ফেসবুকে অ্যাড করা আছে, তাদের সাথে আমার একবার দুইবার খালি হাই-হ্যালো হয়েছে … তারা আমাকে সোহেলের ফ্রেন্ড হিসেবে চেনে … কিন্তু ফেসবুকে তাদের সাথে আমার কখনো ইভেন একটা হাই বা হ্যালোও বিনিময় হয় নাই … ফলে আমার পোস্ট নিশ্চয়ই তাদের নিউজ ফিডে যায় না … সুতরাং তারা আদৌ এমনও হতে পারে যে আমার স্ট্যাটাস দেখেই নাই সারাদিনে … মুগ্ধ, হিমেল, সাজ্জাদ এরা দেখলেও দেখতে পারে … ওর বোন হয়তো আজকে ফেসবুকেই বসে নাই … উনার সাথেও আমার নিতান্তই কালে-ভদ্রে ফেসবুকে একটা হ্যালো বিনিময় হয়, নয়তো কোনো একটা ছবিতে লাইক বিনিময় হয় … উনার ফেসবুকের নিউজ ফিডেও আমার পোস্ট জ্বলজ্বল করবে এমনটা ভাবারও কোনো কারণ নাই … আর তাছাড়া আমি কোনো নামও লিখি নাই … সুতরাং এইটা যে সোহেল-ই সেটাও অনেকেই নাও বুঝতে পারে! … যেমন, সোহেলের বন্ধুদের কয়জন আদৌ ওকে সোহেল নামে চেনে তাতে আমার যথেষ্ট সন্দেহ আছে! …

এইসব পোস্ট দেখলেও কেউ সহজে লাইক বা কমেন্ট করে না … স্বভাবতই আমার আজকের পোস্টের ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে … ইথার খুব বিরক্ত হয়ে লিখেছে ‘ আর কত? … এই একই বিষয় প্রত্যেকটা লেখায়! … লাভ কি? কারে জানাতে চাস?’ … আমি উত্তরে লিখেছি যে কাউকে জানাতে চাই ব্যাপারটা এমন না … সবকিছুতেই ক্যামন করে ও জড়িয়েই আছে … অন্তত গত এক বছরের যাবতীয় ঘটনার সাথেই … ফলে, এই একবছরের টাকাপয়সা হোক, শারীরিক সমস্যা হোক, মানসিক সমস্যা হোক, হাসির বিষয় হোক, আর আনন্দের বিষয়ই হোক … সবকিছুতেই সোহেলের কথা কোথাও না কোথাও এসেই যায় … আবার আমি যদি ২০১৩ সালের কথা লিখি, তাহলে আরেক রকম বিষয় নিয়ে লেখা হবে … যদি ২০১২’র কথা লিখি তাহলে আরেকরকম হবে … আবার আগামী বছরও আরেকরকম হবে … কালকে কথায় কথায় লিখছিলাম যে ওর সবচেয়ে বড় শাস্তি এটাই হতে পারে যে ওর বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়-স্বজন সবাই জানবে আমার সাথে ওর কি কি হয়েছিলো … কিন্তু সত্যিকার অর্থে ব্যাপারটা এমন না যে সেইটা জানানোর দায়িত্ব আমি নিয়েছি … আমার আশেপাশের হাতেগোণা কয়েকজন মানুষকে আমি যাবতীয় ঘটনা বিস্তারিত বলেছি … কারণ নিজে হাল্কা হতে চেয়েছি, নিজের জন্য সাপোর্ট চেয়েছি … মুগ্ধকে জানিয়েছিলাম বাধ্য হয়ে … তারপর যখন নোবেল ভাইকে জানিয়েছি সেটা ছিলো নিজেকে স্টাক হয়ে থাকা চিন্তার জগত থেকে বের করার জন্য … অনেক পরে সাজিয়া আপু আর সিজার ভাই খালি একটা ঘটনাই জেনেছে … সেটা কে, কিভাবে তার কিছুই তাদেরকে বলি নাই … ইথার আর তিন্নি আপুকে সবকিছুই বলেছি কারণ তাদের কথা, তাদের উপদেশ, তাদের সাজেশনগুলোর মূল্য আছে আমার কাছে … আর একদিন শশাঙ্ক দা’র বাসায় ড্রিঙ্কস করে মনের দুঃখে কান্নাকাটি করে রানা, ফুয়াদ, গোপী এরকম একদল মানুষের সামনে নিজেকে উজাড় করে দিয়ে এক্টা-দুইটা কথাবার্তা বলেছি … কিন্তু ওই প্রসঙ্গে ওইখানে উপস্থিত মানুষগুলো পরে আর কখনো আমার সাথে কোনোরকমের আলোচনাই করেনি … কারণ তারা এইটুকু বুঝেছে যে কথাগুলো একান্তই আমার নিজের মনের ছিলো, আর সুস্থ অবস্থায় ওইসব কথা আমি অন্তত তাদের সামনে হয়তো ওভাবে বলতাম না …

যাই হোক … আমার বন্ধুবান্ধব, পরিবার -পরিজন কারা কি জানলো সেটা তো আসলে বিষয় না … ওর ফ্যামিলির কেউ … মানে ওর বোনেরা বা ভাইয়েরা কেউ জেনে গ্যালো কি না সেটা নিয়েই যত কথা! … এতদিন পরে হুট করে ওর মেইলটাও তো সেজন্যই করা! … আমি কখনো সেরকম কিছু করার চেষ্টা করিনি … দুলু আন্টি আমার ফেসবুক ফ্রেন্ড … তাকে ফেসবুকে বিশাল ম্যাসেজ লিখে সবকিছু বলে দেয়া আসলেই ওয়ান-টু’র ব্যাপার … কিন্তু সেটা আমি করতে চাই না … আমার কথা হচ্ছে, যা-ই হবে, সময়ই সেটা বলে দেবে … এই যে আমি দিনযাপনে সবকিছুই এত খোলাখুলি লিখি … সোহেলের পরিচিত কেউ যদি দিনযাপন পড়ে, সে তো বুঝবেই যে ঘটনা এই হয়েছিলো, সেই হয়েছিলো … কিন্তু তাই বলে ব্যাপারটা এমন না যে কেউ এটা পড়ে সোহেলের কথা জানবে সেজন্য আমি দিনযাপনে সবকিছু লিখি … আমি আগেই একদিন বলেছিলাম যে দিনযাপন সিরিজটা আমি লিখছি একধরণের সেলফ অ্যানালাইসিস মেথড হিসেবে … নিজের কাছে নিজে হনেস্ট থাকার প্র্যাকটিস হিসেবে … সেখানে প্রসঙ্গক্রমে আমার সাথে জড়িত মানুষের কথা আসবে … প্রসঙ্গক্রমে হয়তো বারবারই আসবে … আমার সুখ-দুঃখ-ভালো-মন্দ সব বিষয়েই আমি লিখবো, কিন্তু একটা ডাইরির আদলে … সেখানে যেই দিন লিখছি, সেই দিনের কথা আসবে, আবার ওই একই দিনে আগের বছরগুলোতে সিগ্নিফিকেন্ট কি ঘটেছিলো সেই কথাও আসবে … এক কথায়, যদি আমি টানা দুই/তিন বছর ধরে এই দিনযাপন লিখে যাই, তারপর সেটাকে কম্পাইল করে একটা বই বানাই, সেটা আমার একটা ছোটোখাটো আত্মজীবনীই হয়ে দাঁড়াবে …

ইথারের কমেন্টটা আসলে আমাকে সারাদিন ভাবিয়েছে … আর সেই ভাবনার প্রেক্ষিতেই এক নিঃশ্বাসে এত কথা লিখে ফেলা …ও হয়তো আজকের দিনযাপন পড়লে ওর প্রশ্নের বেটার উত্তর পাবে! …

যাই হোক, আজকের দিনের শুরুটা অনেক ইন্টেরেস্টিং ছিলো! … একেবারে ঘুম থেকে ডেকে তুলে চাকরি দিয়ে দিয়েছে টাইপের একটা অবস্থা! … দশটার দিকে হুট করে নায়ীমীর ফোন … ঘুমের ঘোরে একবার ভাবলাম যে ফোনটা ধরবো না … তারপর হঠাৎ মনে হলো যে এখন তো নায়ীমীর স্কুলে থাকার কথা … এইসময় ফোন করেছে মানে নিশ্চয়ই খুব জরুরি কিছু … ঘুমের ঘোরেই ফোন ধরলাম … হ্যালো বলতে না বলতেই নায়ীমী বলে, ‘ প্রজ্ঞা আপু, আপনি কি আমাদের স্কুলে পার্ট টাইম চাকরি করবেন?’ … এক মুহুর্তে ঘুম টুম সব গায়েব হয়ে গ্যালো … তারপর ওর সাথে কথাবার্তার সারমর্ম হলো যে ওদের বাংলাদেশ স্টাডিজ-এর জন্য একজন পার্ট টাইম টিচার লাগবে … সপ্তাহে চারদিনে ৫টা ক্লাস নিতে হবে … আমি বললাম যে টাকা-পয়সা কি দেবে না দেবে সেগুলা একরকম জেনে রাখতে, তাহলে সন্ধ্যায় গ্রুপে আসলে কথাবার্তা বলে ডিসিশন জানানো যাবে … কিছুক্ষণ পরেই প্রিন্সিপাল নিজেই ফোন করে কথা বললেন! … উনার কথা হচ্ছে আমি যেন কালকেই গিয়ে জয়েন করে ক্লাস নেয়া শুরু করি! আমি যদি জয়েন করি তাতে উনারা খুবই খুশি হবেন … ১১টায় যেহেতু ক্লাস, তাই ১০টার পরে গেলেই হবে … কালকেই গিয়ে যেন কন্ট্রাক্ট সাইন করে ফেলি! … আমার হ্যাঁ কিংবা না বলার তো কোনো অপশন থাকলোই না, এমনকি নিজের ব্যাপারে আরেক্টু যে কিছু বলবো সেটার অপশনও না …

আমার কাছে বেশ ইন্টেরেস্টিং লাগলো পুরো ঘটনাটাই … এক্সেল অ্যাকাডেমি, মানে যেই স্কুলটাতে জয়েন করার ব্যাপারে এই ঘটনা, সেই স্কুলের প্রিন্সিপাল একসময় সানিডেইলের ভাইস প্রিন্সিপাল ছিলেন … এখন নিজের স্কুল দিয়েছেন … ওখানে সানিডেলের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন কেউ গেলে তাকে তিনি একেবারে সাগ্রহের সাথে ওয়েলকাম করেন। ব্যাপারটা খুবই স্বাভাবিক । উনার এই স্কুলটারও অনেক কিছুই সানিডেলিয়ান মেথডেই চলে … এখন যদি সানিডেলে আগে পড়িয়েছে এমন একজন ওখানে টিচার হিসেবে থাকেন, তাহলে স্কুলের সিস্টেমটা তারা তাড়াতাড়ি ধরতে পারেন … এইখানে সানিডেল ভার্সাস এক্সেল অ্যাকাডেমি কি পলিটিক্স আছে বা না আছে, সেটা নিয়ে আমি অন্তত মাথা ঘামাই না … থাকতেই পারে পলিটিক্স … আমার সাথে তো আর নাই! … সানিডেলে থাকতেও কারো সাথে ছিলো না … এক্সেলে ঢুকলেও কারো সাথে থাকবে না … যাই হোক, প্রিন্সিপাল ম্যাডাম আমাকে নামে খুব ভালো চেনেন না …মিডল সেকশানের সাথে উনার সরাসরি কাজের যোগাযোগ ছিলো না … হয়তো চেহারা দেখলে চিনলেও চিনতে পারেন … অ্যালিস ইন ওয়ান্ডারল্যান্ডের কস্টিউম করেছি যখন, তখন তো উনার সাথে দেখা হয়েছে, কথা হয়েছে … কালকে গিয়ে তো আগে নিজেকে চেনাতে হবে! … বলতে হবে যে আমি ওই যে সেইজন্ … তারপর বলতে হবে যে সানিডেলে আমি ছিলাম ওয়ান অভ দ্যা রাডিকেল (Radical) টিচার্স! … বলতে হবে যে আমার ঘাড়ে আর হাতে ট্যাটু আঁকা আছে, বাচ্চা-কাচ্চা আবার ট্যাটু দেখে নষ্ট হয়ে যাবে বলে ভাববেন না তো? … বলতে হবে আমি থিয়েটার করি … আমার লাইফস্টাইল কিন্তু স্কুলের বাইরে অনেক radical, বুইঝেন কিন্তু! … নইলে পরে ওই সানিডেলের মতো কথায় কথায় ‘জীবনযাপন ক্যামন হওয়া উচিত’ সংক্রান্ত লেকচার শুরু হলে তো বিষয়টা খুব লেইম হয়ে যাবে! … সানিডেল থেকে নীরবে পালিয়েছি … এখান থেকে তো দৌড়ে পালাতে হবে! …

যাই হোক, কালকে যাই আগে … তারপর দেখা যাক …

আজকে বিকালে তৃষা আর ওর হাজবেন্ড জোহা ভাই আসছিলো বাসায় … ওরা মিরপুরের দিকে বাসা খুজতেসে … খুঁজতে খুঁজতে আমাদের অ্যাপার্টমেন্টেও আসছিলো … এইখানে তো সবগুলা ফ্ল্যাটই ভাড়া হয়ে গ্যাছে। খালি কণা ফুপিরটা বাকি আছে … কিন্তু সেটাও মনে হয় বিক্রি করবে … আর বিক্রি করুক বা যা-ই করুক, কণা ফুপির সাথে আমাদের কেউ এই ব্যাপারে যোগাযোগ করতে যাওয়া মানে যুদ্ধের মধ্যে প্রথম সারিতে দাঁড়িয়ে স্বেচ্ছায় নিজের প্রাণ দেয়া! … বিবির সাথেই কথা হয়েছিলো তৃষাদের … আজকেও বলেছিলাম যে বিবির সাথেই কথাবার্তা বলে আবার শিওর হয়ে যেতে যে আসলে কি হচ্ছে … পরে ফ্ল্যাট বিক্রির কথা শুনে ওরা আর আগায় নাই … বাসায় বসে গল্প করে চলে গেছে … আরও কয়েকদিন আগে আসলে হয়তো কেয়া ফুপিদের সাথে যোগাযোগ করিয়ে দেয়া যেতো … কেয়া ফুপিদের ফ্ল্যাটটা তো ভাড়া হলো এই দিন দশেক আগেই …

আজকে বিশাল বড় দিনযাপন লেখা হয়ে যাচ্ছে … খুব মুড এসেছে আজকে লেখার … আর দুনিয়া কাঁপিয়ে ঘুমও আসছে না আজকে! … মাথা কি হঠাৎ খুব রিলাক্সড হয়ে গ্যালো কি না বুঝতে পারছি না! …

যাই হোক, শেষ একটা প্রসঙ্গ নিয়ে লিখি … এইটা নিয়ে দুই দিন যাবতই লিখবো বলে ভাবছি, কিন্তু দিনযাপনের অন্যান্য সব প্রসঙ্গের সাথে আর মিলছে না … আজকে বাসায় ফিরতে ফিরতে সিএনজিতে বসে বসে লেখার কথাগুলো মনে মনে গুছালাম … বিষয়টা হচ্ছে যে স্বপ্নে যদি আমি কাউকে নগ্ন অবস্থায় দেখি, যাকে আমি বাস্তবে আসলে কখনো নগ্ন অবস্থায় দেখিনাই তাহলে সেটার অবচেতনামূলক অর্থটা কি হতে পারে? হয়তো বা তাকে আমি খালি গায়ে দেখেছি, কিন্তু সম্পূর্ণ নগ্ন অবস্থায় না! … কিন্তু স্বপ্নে আমি তাকে দেখেছি নগ্ন অবস্থায়, যেটা বাস্তবে আপাত অসম্ভব … এখন, কাহিনী হচ্ছে ভিন্ন … ধরা যাক, তাকে স্বপ্নে ওইরকম নগ্ন অবস্থায় দেখার পর আমার যদি মনে হয় যে ‘ বাস্তবে তাকে নগ্ন অবস্থায় ক্যামন লাগে সেটা দেখতে পারলে ক্যামন হতো ‘ , তাহলে সেটারই বা অর্থ কি? … তারপর, ধরা যাক, ‘মনের কথা থাকবেনা গোপন’ ফর্মুলায় আমি যদি আবার তাকে গিয়ে সেটা সরাসরি বলি যে ‘ তোকে স্বপ্নে ন্যুড অবস্থায় দেখসি, সত্যি সত্যি তোকে ন্যুড হইলে ক্যামন লাগে দেখতে চাই’ তাহলে সে-ই বা বিষয়টা কিভাবে নেবে? … আউট অভ নোহয়্যার কোনো ছেলেকে এরকম কথা বললে কি সেটা যৌন কামনার সাথে কোনোভাবে সম্পৃক্ত করা হবে বা যাবে? … হতেই পারে যে একজনকে স্বপ্নে নগ্ন অবস্থায় দেখার পর তাকে নিয়ে আমার একধরণের fetish চিন্তাভাবনা তৈরি হয়েছে, সেটাও যদি তার কাছে প্রকাশ করি, সেটাও কি অস্বাভাবিক? …আই মিন, সেটারই বা অর্থ কি?

যারা আমার এই দিনযাপন সিরিজ পড়েন, তারা ভাবতে থাকেন … পারলে সাক্ষাতে বা কমেন্টে উত্তর দিয়েন … আমি ঘুমাতে যাই … গুডনাইট …

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s