দিনযাপন | ০৮০৯২০১৫

এখন আর রাতের বেলা ঠাণ্ডা পানিতে গোসল করে ঠাণ্ডা লাগার ভয় নাই … বাসায় গিজারের কানেকশন লাগানো হয়ে গেছে গতকাল … আজকে এইমাত্র রাত ১২টা সময় কুসুম গরম পানিতে গোসল করে ‘ আহা কি শান্তি! আহা কি শান্তি’ টাইপ একটা ভাবভঙ্গি নিয়ে বের হলাম … এতকাল যাবৎ শুনে এসেছি যে গিজার, এসি এইসব নাকি শুধু বড়লোকদের বাসায়ই থাকে! … গিজার হলো, আগামী গরমের আগে আগে নিশ্চয়ই এসিও হয়ে যাবে! … এখন তো আমি বাপের পিতৃপ্রদত্ত ফ্ল্যাটে থাকি, তার মানে ঢাকা শহরে এখন নিজের একটা ঠিকানা আছে! রাতে সাড়ে ১০টায় লিফট বন্ধ করে দেয়ার নিয়ম, কিন্তু আমার ফিরতে ফিরতে প্রায় সাড়ে ১১টা বেজে যায় বলে দারোয়ান তখন পর্যন্তও ‘আমার জন্য’ লিফট চালায় রাখে, শত হলেও আমি এইখানে একটা ফ্ল্যাট মালিকের মেয়ে! … তারপর একদিন হয়তো গাড়িও কিনে ফেলবো … আর তখন সেই গাড়িতে চড়ে নিজেকে রাজরানী সাব্যস্ত করে চলবো … আর একটা ড্রাইভার থাকবে, যে রাস্তায় যাবতীয় রিকশা-সিএনজি-বাস-মানুষ সবকিছুকে সামনে থেকে সরে যাওয়ার জন্য তারস্বরে হর্ন বাজাতে থাকবে, অ্যাজ ইফ হর্ন বাজানোর সাথে সাথে সামনে যা-ই থাকুক সেটা আকাশে উঠে যাবে, আর গাড়ি যাবার জন্য রাস্তা ফাঁকা করে দেবে! …

হা হা হা … কথাগুলো লিখতেই আমার ক্যামন হাস্যকর লাগছে! … কিন্তু শো-অফ করার টেন্ডেন্সি থাকলে আমি নিশ্চয়ই এভাবেই নিজের অবস্থার কথা জাহির করে বেড়াতাম আর মানুষকে বলতে চাইতাম যে ‘ আমি বড়লোক’ … আশেপাশে এরকম অনেক মানুষ দেখি যারা টাকা-পয়সার হিসেবে তারা কত বড়লোক, সেটা সারাক্ষণই খুব জাহির করতে থাকে… আমি তাদেরকে দেখে দেখে হাসি … আজকে হঠাৎ করেই এইসব প্রসঙ্গে ভাবছিলাম … তখনই মনে হলো যে এইরকম একটা কিছু লিখে একটু ফোঁড়ন কাটি! …

যাই হোক, মজার ব্যাপার হচ্ছে যে গতকালকের দিনযাপনের ভিউ হচ্ছে ৬২! … এর মধ্যে অন্তত ৪০ জন পুরোটা লেখা পড়েছে! … এক সোহেলকে নিয়ে লিখতেই আমার ব্লগের ‘টিআরপি’ বেড়ে গ্যালো ! … তাইলে তো ওকে নিয়েই বেশি বেশি লেখা উচিৎ! … তাইলে আমার ব্লগে ভিউ আর হিট বাড়বে! …

আজকে অনেকদিন পর হঠাৎ করে সোহেলের ফেসবুক প্রোফাইলটা দেখার খুব ইচ্ছা হলো! … কেন জানি! একদম হুট করেই … ওকে সেই ফেব্রুয়ারি মাসে যখন ব্লক করেছি, তারপর থেকে আর ওর প্রোফাইলে যাই নি … অন্য কারো প্রোফাইল থেকেও না! … আজকে হুট করেই কি জানি মনে হলো, তিন্নি আপুর অ্যাকাউন্ট থেকে ওর প্রোফাইলে ঢুকলাম … ওর পাবলিক পোস্ট নাই-ই … সবসময়ই ওর প্রোফাইলের সবকিছুর  প্রাইভেসি ‘অনলি ফ্রেন্ডস’ দেয়া থাকে … ফলে ওর ফেসবুক ফ্রেন্ড না হলে আসলে ওর প্রোফাইলে কিছু দেখাও যাবে না … ওর প্রোফাইলে চোখ বুলাতে বুলাতেই হঠাৎ করে মনে হলো ওই মেয়েটার প্রোফাইলে যাই … ওর প্রোফাইলেও ইন ফ্যাক্ট ওই ফেব্রুয়ারির পরে আর কখনো যাইনি … যাওয়ার প্রয়োজনই মনে করি নাই … ওকে যেদিন ফেসবুকে মেসেজ পাঠিয়ে সোহেলের সব কথা বলে দিয়েছিলাম, সেদিন ও নিজেই বলেছিলো আমাকে ব্লক করে দেবে, আমিও সেটায় সায় দিয়েছিলাম … সে কারণেই এর পরে আর কখনো ওর প্রোফাইলে যাইনি … আজকে অনেকদিন পর ইচ্ছা হলো হঠাৎ … আগে ওর স্ট্যাটাসগুলো পাবলিক ছিলো না, কিন্তু এখন ছবি ছাড়াও ওর স্ট্যাটাসও পাবলিক … ফ্রেন্ড না হয়েও দেখা যায় … যা বুঝলাম, গত দেড়/ দুই মাসের বেশিরভাগ স্ট্যাটাসই প্রেম-ভালোবাসা-সম্পর্ক এসব সংক্রান্ত … হয়তো নতুন কারো সাথে ইনভল্ভড হচ্ছে … সেটা একদিক দিয়ে ভালো … আগে যখন সোহেলের সাথে ওর ব্রেক-আপ হয়েছে শুনেছি, তখন ওর প্রোফাইলে মাঝে মাঝেই যেতাম এটা বোঝার জন্য যে ও নতুন কারো সাথে ইনভল্ভড হচ্ছে কি না … সেটা হলে আমার ভালো লাগতো, আমি রিলিভড হতাম যে সোহেলের সাথে ওর আবার রিকানেক্টেড হবার সম্ভাবনা নাই … এই শান্তিটুকু পাবার জন্যই মনে প্রাণে চাইতাম যে ও ব্রেক-আপের দুই/তিন মাস যেতে না যেতেই আরেকটা প্রেম শুরু করুক … তাইলে আমি তো তখন সোহেলকে এটাও বলতে পারতাম যে ‘ দেখসো! দুই মাসও হয় নাই, আবার আরেকটা প্রেম করতেসে! যেমন তুমি, তেমন তোমার এক্স! ‘ … কিন্তু, পরে যখন সোহেলের কথা ওকে বলেই দিলাম, আর ও-ও জানালো যে সেসব কথা বলে আমি আসলে ভালোই করেছি, তখন আবার আমার ওই মেয়ের প্রতি একটু হলেও সফট কর্ণার তৈরি হয়েছিলো … যত যাই হোক, সোহেল তো ইন ফ্যাক্ট ওর সাথেও প্রতারণা করেছে! … আমার অস্তিত্বই তো ওই মেয়ে জানতো না! … আর কি হয়েছে না হয়েছে, সেগুলো তো পরের কথা! … আবার, হোলির সময় যখন সোহেলের সাথে একই দিনে একই জায়গায় একই সার্কেলে ওকেও দেখেছিলাম, তখন আবার খুব জিদ হয়েছিলো যে এতকিছুর পরও কি আবার ওদের যোগাযোগ চলছেই? মেয়েটার কি আত্মসম্মানবোধ বলে কিছু নাই যে ওই সার্কেলেই সে আবার মিশতে যাচ্ছে? … কিন্তু আমি যেহেতু আদৌ জানি না যে ওদের যোগাযোগ আছে কি নাই, কিংবা সম্পর্ক আছে কি নাই, ফলে ওইটা কেবল অ্যাজাম্পশনই ছিলো … আর কেবল ধারণার ওপর তো আর কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া যায় না! … যেমন, এখন যদি আমি শুনি যে এইসব যাবতীয় স্ট্যাটাস যে আমি ওই মেয়েটার প্রোফাইলে দেখলাম, ওইগুলা সব সোহেলকে উদ্দেশ্য করে লেখা, কিংবা সোহেলের সাথে ওর আসলে এখনো সম্পর্ক আছে, তাহলে সোহেলের সাথে সাথে ওই মেয়ের প্রতিও আমার একধরণের ঘৃণাবোধ তৈরি হবে যে ‘ আফটার অল দিস ও সোহেলের সাথে মিশতেসে?’ কিংবা  ‘আসলেই ওর আত্মসম্মানবোধ বলে কিছুই নাই …’ এইসব মনে হবে তখন! …

এবার অন্য প্রসঙ্গে আসি … আজকে সকালে উঠে এক্সেল অ্যাকাডেমিতে গেলাম … শিলু আপার সাথে কথাবার্তা হলো … প্রিন্সিপালের সাথে কথাবার্তা হলো … কন্ট্রাক্ট সাইন করলাম … নায়ীমী এসে বইপত্র বুঝিয়ে দিলো … রুটিন পেলাম … কালকে থেকে ক্লাস শুরু হচ্ছে … ঘটনা হচ্ছে যে গতকালকে ওখানে আরেকজন টিচারের জয়েন করার কথা, কিন্তু একদম লাস্ট মোমেন্টে উনি জানিয়েছেন যে পারবেন না! … তখনি কি হবে না হবে করতে করতে নায়ীমী কথাপ্রসঙ্গে আমার কথা বলেছে, আর শিলু আপাও সানিডেলে পড়িয়েছি, এক্সপেরিয়েন্স এসব বিবেচনা করে সাথে সাথেই আমার সাথে যোগাযোগ করেছেন …

এখানে কয়েকদিন আগের আরেকটা ঘটনার কথা বলি … কয়েকদিন আগে ইন্দিরা রোডের মাথায় একদিন রিখতা আপার সাথে দেখা হলো … উনি তো এখন এক্সেল অ্যাকাডেমিতে আছেন … বাংলা পড়ান … তো উনার সাথে কথা হচ্ছিলো যে আমি আবারো স্কুলেই ঢুকবো কোথাও এরকম ভাবছি … তো, কথায় কথায় উনি হঠাৎ বললেন যে ‘ তুমি  এক্সেলে যোগাযোগ করছো না কেন?’  … আমি আবার বললাম যে সাবজেক্ট টিচার হতে চাই না … ড্রামা জাতীয় পার্টটাইম কিছু হলে ভেবে দেখতে পারি … উনি তখন বললেন যে একদিন এমনিই শিলু আপার সাথে কথা বলে আসো, তাইলে উনার মাথায় থাকবে … আমিও ভাবছিলাম যে একদিন এক্সেলে গিয়ে শিলু আপার সাথে কথা বলে আসবো যে উনার যদি ড্রামা’র টিচার লাগে তাহলে আমাকে যেন নেয় … তার এখন! এক সকালের মধ্যেই কতকিছু! …

আমার ক্লাস নিতে হবে ক্লাস সেভেন আর ক্লাস এইটের! …টেনশনই লাগছে! … খুব কঠিন একটা বয়স! … ওদেরকে পড়ানোর চাইতে সাইকোলজিক্যালি ডিল করতে হবে বেশি! … ফাইভ-সিক্সের বাচ্চা-কাচ্চাগুলাই সানিডেলে কত রেস্টলেস ছিলো! আর এরা তো না জানি কি হবে! … আমার তো আবার স্টুডেন্টদের সাথে দোস্তি পাতায় ফেলার অভ্যাস আছে! … তখন না আবার ঘাড়ের ওপর চড়ে বসে! … দেখা যাক! যাত্রা শুরু তো করি আগে! তারপর দেখা যাবে রাস্তাটা আসলে ক্যামন! …

আজকে স্কুল থেকে বের হয়ে গ্রুপ টাইম পর্যন্ত কি করবো দিশাহারা হয়ে ছিলাম … তিন্নি আপুর সাথে রাতে কথা হচ্ছিলো যে ক্যাম্পাসে দেখা করে তারপর টিএসসিতে কি একটা ফ্রি মুভি দেখাবে, সেটা দেখবো, তারপর এর মধ্যে গ্রুপ টাইম হয়ে যাবে … কিন্তু দেখা গ্যালো যে আমি ১টার মধ্যে ক্যাম্পাসে গিয়ে, কোথাও আরাম করে বসবার জায়গা না পেয়ে বিজনেস ফ্যাকাল্টির গার্লস কমন রুমে গিয়ে খুব স্টুডেন্ট স্টুডেন্ট ভাবসাব নিয়ে বসে রইলাম … এসির বাতাসে আরাম করে বসে বসে তিন্নি আপুর জন্য অপেক্ষার প্রহর আধাঘণ্টা থেকে দেড় ঘণ্টা হলো … তারপর আমরা বিজনেস ফ্যাকাল্টির ক্যান্টিনেই লাঞ্চ করলাম … আমার সিনেমা দেখতে যাওয়ার ইচ্ছা হচ্ছিলো না … নানান টালবাহানা করতে করতে শেষে আমরা কফি খাওয়ার উদ্দেশ্যে খিলগাঁও রওনা হলাম … পপাই’স কফি শপে কফি খাওয়া হলো … তারপর আবার গ্রুপের উদ্দেশ্যে রওনা হলাম … মাঝপথে তিন্নি আপু আবার কাকরাইল মোড়ে নেমে গ্যালো …

আর আমি সারাদিন শাড়ি পরে ঘুরতে ঘুরতে একেবারে লুথামার্কা টায়ার্ড হয়ে গেলাম … শাড়ি জিনিসটা পরতে ভালোই লাগে, কিন্তু আমি কেন জানি সারাদিন শাড়ি একইরকম রাখতে পারি না … দিনশেষে ক্যামন কুচকায় ভচকায় যায় … অথচ, অনেকেকেই দেখি যে সারাদিন শাড়ি পরে ঘুরতেসে, অথচ শাড়ির ভাঁজটাও নষ্ট হয় না! … আই উইশ আমার সেরকম হতো! তাইলে বেশিরভাগ সময়ই শাড়িই পরতাম ! …

আজকে ঘুমাতে যাই …

কালকে দিনযাপনের শেষে স্বপ্নে একজনকে নগ্ন দেখা প্রসঙ্গে লিখেছিলাম … তিন্নি আপু খালি বললো যে ‘ আই উইশ নিক কার্টার আর আরেফিন শুভকে এরকম নু্যড দেখতে পারতাম স্বপ্নে’ … কিন্তু আমার প্রশ্নের সাপেক্ষে উত্তর পেলাম না … এমনকি আর কেউই না! … উত্তর না আসলে আমি পরবর্তী আলোচনায় যাবো কিভাবে? … মনে হচ্ছে প্রচলিত পথেই যেতে হবে! ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিতে হবে … তারপর দুনিয়ার আজাইরা কমেন্টের ভিড়ে একজন দুইজনের উত্তর নিয়ে কিছুটা সন্তুষ্ট হওয়া যাবে! …

যাই হোক, বিগত কয়েকমাসের বেকারত্বের শেষ রাতটা ঘুমাতে যাই … কালকে থেকে তো নতুন আরেকরকমের রুটিনের শুরু! …

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s