দিনযাপন | ০৯০৯২০১৫

প্রচণ্ড ক্লান্ত ! … গ্রুপে থাকতেই মনে হচ্ছিলো যে যেকোনো মুহুর্তে মাথা ঘুরে পড়ে গেলেও অস্বাভাবিক কিছু হবে না! … ক্যামন জানি একটা ঝিম ধরা ভাব! …

অবশ্য ক্লান্ত না হওয়ার কোনো কারণ নাই … সকালে যেইসময়টায় স্কুলে যাবার জন্য বের হয়েছি, তখন রোদের তেজ একেবারে গা জ্বালিয়ে দিচ্ছিলো … সিএনজি বসে থেকেও মনে হচ্ছিলো ওভেনের ভেতর বসে আছি! … আবার ক্লাস শেষ করে যখন ১টার দিকে বের হলাম, তখনও রোদের তেজ কোনো অংশে কম না! … সেই রোদের মধ্যে এক কাঁধে ব্যাগ আর এক হাতে ভায়োলিন নিয়ে প্রচণ্ডরকম জ্যামে আটকে থাকা রাস্তায় কিছুদূর হেঁটে গিয়ে সিএনজি নিয়ে আবার আগারগাও গেছি … সেখানে ভায়োলিনের ক্লাস করলাম মিউজিক স্কুলে … তিন্নি আপুও ওখানে গ্যালো ভায়োলিনে ভর্তি হবে বলে … সেখানে কাজ সেরে আবার তার সাথে ধানমণ্ডি ৪ নাম্বার আসলাম … সেখান থেকে সায়েন্স ল্যাব … তারপর সায়েন্স ল্যাব থেকে আবার কাঁটাবন … অতঃপর কাঁটাবন থেকে দিনের শেষে আবার মিরপুর ! … আর তার মধ্যে আজকে কি প্রচণ্ড গরম! …

আজকে সারাদিনের মধ্যে গল্প করার মতো ঘটনা দুইটাই – এক, স্কুলের প্রথম ক্লাস, আর দুই তিন্নি আপুর ভায়োলিন কেনা … স্কুল দিয়েই শুরু করি …

আজকের ক্লাস ছিলো ১২ঃ২০ -এ … বাসা থেকে বের হলাম সাড়ে ১০টা নাগাদ, ৩২ নম্বরের কাছে যখন আসলাম তখন বাজে ১১টা ১০ মিনিট। ভাবলাম যে তাইলে ৮ নাম্বারে কিউ বেলা হয়ে যাই, ভ্রূ প্লাক করানো দরকার, ওই কাজটা সেরেই যাই … আমার তো সাড়ে ১১টার দিকে পৌঁছালেই হলো … সিএনজিওয়ালা জ্যাম কম হবে চিন্তা করে মেট্রো শপিং মলের পাশ দিয়ে ঢুকলো, কিন্তু তাতে হলো হিতে বিপরীত! কিছু কিছু স্কুলের প্লে-গ্রুপ/ নার্সারি সেকশনগুলো তখন মাত্র ছুটি হয়েছে, আর ধানমণ্ডির ওই স্কুল এরিয়াতে ‘ইনএভিটেবল’ জ্যাম লেগে গ্যাছে! …ওই জ্যামের মধ্যেই সাড়ে ১১টা বেজে গ্যালো , অগত্যা কিউ বেলায় আর নামলাম না, … জ্যাম ছুটতেই সরাসরি স্কুলে চলে গেলাম … যেই টিচার্স রুমে বসি, ওইখানে যা বুঝলাম যে আমার আগে, আমার সময়ে সানিডেলে চাকরি করতেন এরকম টিচারের সংখ্যাই বেশি … এমনকি বুয়ারাও দেখলাম এক-দুইজন কমন পড়ে গ্যালো! … আজকে ক্লাস এইট-এর সাথে ক্লাস ছিলো … ক্লাস নিতে ঢুকলাম … না! ঢুকলাম না! ঢুকতে গেলাম, তখনই দেখা গ্যালো যে… ক্লাসের ৫ জন স্টুডেন্ট-এর মধ্যে তিনজনই সানিডেলের পুরানো স্টুডেন্ট! … আর শুধু তা-ই না, তাদের দুইজন সেসময় দুষ্টুমিতে সেরাদের সেরা ছিলো, আর একজন পড়া বুঝবার দিক থেকে ছিলো কচ্ছপগতির! … আমার প্রথম ইম্প্রেশনটাই ছিলো ‘ হোয়াট দ্য ফাক!’ টাইপের! … ধারণা করছি যে পুরানো স্টুডেন্ট তিনজনেরও মোটামুটি একই এক্সপ্রেশন ছিলো! কারণ, আমি প্রবাবলি আই আ্যম দ্য লাস্ট পারসন দে অলওয়েজ হ্যাভ উইশড টু সি অ্যাজ দেয়ার টিচার!… যদি এইটা সিনেমা হতো, তাহলে নিশ্চয়ই একটা ঝনঝন টাইপের মিউজিক বাজতো পেছনে, আর আমি স্টুডেন্টদের দিকে আর স্টুডেন্টরা আমার দিকে তাকায় আছে এরকম একটা ব্যাপার হতো … আর তারপর দুইপক্ষই একসাথে বলে উঠতাম, ‘ হোয়াট দ্য ফাক!’ … [ গ্রুপ থেকে বের হয়ে গল্প করতে করতে আজকের ঘটনা বলছিলাম গোপী, অমিত, নাভিদকে … তখন এই ভিজ্যুয়ালাইজেশনগুলা তৈরি হয়েছে! গোপী মোৎজার্ট -এর একটা বিখ্যাত কম্পোজিশনের কথা বলছিলো … ওই যে প্রথমেই পুরা অর্কেস্ট্রা কাঁপিয়ে ‘টানা না না’ বাজে, কিছুতেই নামটা মনে করতে পারছি না কম্পোজিশনটার … ] …

ক্লাস এইট-এর ক্লাস শেষ করে টিচার্স রুমে এসে প্রথমেই নায়ীমীর কাছ থেকে রেজিস্টার খাতা নিয়ে ক্লাস সেভেনের স্টুডেন্টগুলার নাম দেখেছি! … যথারীতি ওখানেও সানিডেলের সব দুষ্টু আর কচ্ছপগতির বাচ্চাগুলোই আছে! … মোটামুটি একটা ‘ কই আইসা পড়লাম! এই ছিলো কপালে’ টাইপ একটা ইম্প্রেশন নিয়ে আজকের মতো স্কুল থেকে বের হলাম …

ভায়োলিন ক্লাসের ব্যাপারে ছোটো করে একটু লিখি, তারপর তিন্নি আপুর ভায়োলিন কেনার গল্পে যাবো …

শরীফ ভাইয়ের কাছে তো ভায়োলিন শিখতাম … মিরপুরে আসার দৌড়াদৌড়িতে সেই শেখায় দুই মাসের মতো ভাটা পড়লো … তারপর তো ভাবলাম যে কষ্ট করে আর সেন্ট্রাল রোড পর্যন্ত যাওয়ার ঝামেলায় না গিয়ে মিউজিক স্কুলেই ভর্তি হয়ে যাবো … গত বৃহস্পতিবারে ভর্তিও হয়ে এসেছিলাম … ক্লাস নিলাম বুধবার ৩ টায় … উদ্দেশ্য ছিলো যে ক্লাস শেষ করে গ্রুপে যাবো, এভাবে যাতে টাইমিংটা হয়! … কিন্তু সপ্তাহ না ঘুরতেই তো বেকার থেকে চাকরিজীবী হয়ে গেলাম! … এখন তো আর এটা সম্ভব না যে আমি ধানমণ্ডি যাবো, ক্লাস নেবো, তারপর আগারগাও গিয়ে তিনটা সময় ক্লাস করবো, তারপর হয় বাসা নয়তো গ্রুপে যাবো … সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে ভায়োলিনটা বহন করা … তো, গতকালকে সাতপাঁচ অনেক কিছুই ভাবছিলাম যে কিভাবে কি করা যেতে পারে, টাইমিং কি হতে পারে… আজকে গিয়ে দেখলাম শনিবারেও ক্লাস আছে … সকালবেলা … তো, ওইটাই সই … সকাল সাড়ে ৯টায় ক্লাস … যাবো, ক্লাস করবো, বাসায় যাবো বা অন্য কোথাও কাজে যাবো … ব্যাস! … অন্তত ক্লাসটা তো ফ্রেশ মাথায় করা হবে!

এবার ভায়োলিন কেনার গল্প … তিন্নি আপুর সাথে গত রবিবারেই প্ল্যান হয়েছিলো যে ও ভায়োলিনে ভর্তি হবে, তাই আমরা ভায়োলিন কিনতে যাবো … আমি তো এখনো এত লায়েক হইনাই যে ভায়োলিনের টিউন বুঝে তিন্নি আপুকে ভালো দেখে একটা ভায়োলিন বাছাই করে দিতে পারবো … তাই গোপীকে বললাম সাথে যেতে … সোমবারে হলো না … গতকালকে মঙ্গলবারের জন্য হলো না … প্ল্যান হলো যে আজকে যাবো … তিন্নি আপু ক্লাস নিলো বৃহস্পতিবার সকালে … তো, কালকেই তো তার প্রথম ক্লাস … ফলে ভায়োলিন কেনাটা আরও ফরজ হয়ে গ্যালো … গতকালকেই রাতের বেলা গোপীর সাথে প্ল্যান হয়েছিলো যে আমি ক্লাস শেষ করে ওকে ফোন দেবো, তারপর টাইমিংটা ঠিক করে নেবো … সন্ধ্যায় তো গ্রুপে যাওয়া হবেই, তাই মোটামুটি এরকমই প্ল্যান হলো যে গ্রুপে যাওয়ার আগে সায়েন্স ল্যাব থেকে ভায়োলিন কিনে তারপর দুইজনে গ্রুপে চলে যাবো … আজকে দুপুরেও কথা হলো যে বিকালে যাচ্ছি … ক্লাস শেষ করে বের হয়ে ওকে ফোন দিচ্ছি, কিন্তু ওর ফোন বন্ধ! বুঝলাম যে ঘটনা খারাপ … নিশ্চয়ই ফোনের চার্জ নাই … যখন কারো সাথে আমার কোনো একটা কাজ থাকে, বা প্ল্যান হয়, তখন যদি তার ফোন বন্ধ পাই, তাহলে আমি প্রচণ্ড রকমের ফ্রিকড আউট হয়ে যাই … এইটা একটা স্ট্রেস ডিসঅর্ডারের পর্যায়ে চলে যাচ্ছে আস্তে আস্তে … তো, আজকেও সেরকমই হলো … এখন আমি তো জানিও না যে ও কই থাকতে পারে, সেজন্য আরও স্ট্রেসড হয়ে গেলাম এইটা ভেবে যে এখন ওর ফোন যদি কোনো কারণে বন্ধও থাকে, ওকে আমি পাবো কই? … মিরপুরে অপেক্ষা না করে আমরা সায়েন্স ল্যাবের দিকে রওনা দিলাম … এদিকে তিন্নি আপু বা আমি কেউই দুপুরে লাঞ্চ করি নাই, তাই সায়েন্স ল্যাব যাওয়ার আগে ভাবলাম যে ধানমণ্ডি ৪ নাম্বারের দিকে নেমে কিছু একটা খেয়ে নেবো … এর মধ্যে নিশ্চয়ই গোপীর সাথে যোগাযোগ হয়ে যাবে … আমরা ধানমণ্ডি চলে আসলাম, তাও গোপীর ফোন বন্ধই বলে … আগে ভাবছিলাম যে হয়তো ও বাসায়, ঘুমিয়ে গেছে, ফোন বন্ধ টের পাচ্ছে না … তখন মনে হলো যে নিশ্চয়ই বাইরে, আর ফোনে চার্জ নাই, চার্জও দেয়া হচ্ছে না … কিভাবে কি হবে … যোগাযোগ ক্যামনে কি করবো ভাবতে ভাবতে মনে হলো যে রানাকে ফোন দেই … অন্তত রানার কাছ থেকে ওর মা’র নাম্বারটা নিয়ে বাসায় একটা ফোন দিয়ে দেখি যে ও বাসায় কি না … রানাকে ফোন দেয়ার পর জানতে পারলাম যে গোপী সশরীরে শিল্পকলায় গ্রুপের সবার সাথেই কাজ করছে , ওর ফোনে চার্জ নাই, সেটা যথারীতি চার্জ দেয়া যাচ্ছে না  … এবার আমার মেজাজ খারাপ হয়ে গ্যালো … ও যদি গ্রুপের লোকজনের সাথেই থাকে, তাহলে ও কারো ফোন থেকে ফোন করে আমাকে জানাবে না যে ওর ফোনের এই অবস্থা? … ও তো জানে যে সাড়ে চারটা/ পাঁচটা নাগাদ আমি যোগাযোগ করবো … এদিকে তিন্নি আপু সন্ধ্যায় তার ভাইয়ের ভার্সিটির প্রোগ্রামে যাবে … তারও সময় সংক্রান্ত একরকম তাড়া তো আছেই … সে কারণেই প্ল্যানটা এরকম ছিলো যে আগারগাও থেকে সরাসরি সায়েন্স ল্যাবে গিয়ে ভায়োলিন কিনে তিন্নি আপু আবার খামার বাড়ি যাবে … এদিকে গোপী আবার ধরে রেখেছে যে সন্ধ্যায় গ্রুপে আসলে তখন গ্রুপ থেকে যাবে … সো, ও ভেবেই নিয়েছে যে ফোন বন্ধ হয়ে গ্যাছে যাক, গ্রুপে তো দেখাই হবে! … আর আমি যে ওকে ফোন করে তিন্নি আপুর এই প্ল্যানের সাপেক্ষে সন্ধ্যার আগেই ওকে আসতে বলবো, সেইটার কোনো উপায়ই পাচ্ছি না ! …

যাই হোক, মেজাজ খারাপ হলো … কিন্তু নিজেকে ঠাণ্ডা করার চেষ্টা করতে থাকলাম নিজেই … বিভিন্ন রকমের যুক্তি-তর্ক-বিশ্লেষণ করে নিজেকে বোঝাতে থাকলাম … বুঝ দিতে চেষ্টা করলাম নিজেকে এইটা বলে বলে যে, আমি নিজে এরকম ক্ষেত্রে রাস্তার কোন দোকানে ঢুকে  ফোনে চার্জ দিয়ে হলেও যোগাযোগ করে বলতাম যে আমার ফোন বন্ধ হয়ে গ্যাছে, প্ল্যানটা কি হবে এখন? … আর যদি আশেপাশে সেই ব্যক্তিরও পরিচিত কেউ থাকতো, তাহলে তার ফোন থেকে ফোন দিতাম … কিন্তু, তাই বলে নট নেসেসারি যে গোপীও এরকম করবে! … ওর কাছে হয়তো ব্যাপারটা এত ইম্পর্ট্যান্স দেয়ার মতো না … কিংবা এই বিষয়গুলা ও হয়তো এভাবে ভাবেই না যে ফোন বন্ধ হয়ে গেছে, অথচ যার সাথে বিকালে কোনো একটা কাজ আছে, সে যে কোনো কারণে আগেই ফোন দিতে পারে! …

তো, গোপীর সাথে তো কথা হলো রানাকে ফোন দেয়ার পর … ও তখন শিল্পকলা থেকে রওনা দিলো সায়েন্স ল্যাবের উদ্দেশ্যে… এদিকে আবার বৃষ্টিও নামলো … বৃষ্টির জন্য আমি আর তিন্নি আপু ৪ নাম্বারের মাথাতেই আটকিয়ে রইলাম বেশ কিছুক্ষণ … তারপর সায়েন্স ল্যাবে ইন্সট্রুমেন্টের দোকানে গিয়ে দেখি গোপী আমাদের অনেক আগেই পৌঁছেছে … তখনও মেজাজ পুরোপুরি ঠাণ্ডা হয়নাই, তাই নিজেকে পুরাই অফ করে রাখলাম … ফোন বন্ধ হওয়ার ফলে কি হলো, কি হতে পারতো এইসব নিয়ে তখন কথা বলতে গেলেই হয়তো মেজাজ খারাপের কারণে যা-তা কথা বলে বসতাম … সেই কাজটা করা থেকে নিজেকে কন্ট্রোল করতে চেয়েই পুরোপুরি অফ থাকলাম … এমনকি গোপী বসে বসে ভায়োলিন টেস্ট করলো, টিউন করলো সেগুলাতেও কোনো কথা বললাম না … পরে সব কাজ শেষ হতে হতে আস্তে আস্তে আমার মেজাজও ঠাণ্ডা হয়ে গ্যালো … পরে গ্রুপে যেতে যেতে রিকশায় বসে গোপীকে খুব স্বাভাবিক স্বরেই বলতে পারলাম যে ওর সাথে যোগাযোগ না হওয়াতে কি কি ক্যাচাল হলো, আর যোগাযোগ হলে কি কি ক্যাচাল হতো না …

নিজের অ্যাঙ্গার ম্যানেজমেন্টের সাফল্যে আজকে আমি নিজেই মুগ্ধ! … তবে, এটাও ঠিক যে গোপী পছন্দের একজন মানুষ বলেই রাগের মাথায় ঠাস করে একটা কিছু বলে ফেলার ব্যাপারটা থেকে নিজেকে সহজে কন্ট্রোল করতে পেরেছি … কারো কারো ক্ষেত্রে সেটা হয়তো পারতাম না! … কারো কারো ক্ষেত্রে পারিই না! …আবার তিন্নি আপুও বেশ হেল্প করেছে … সেও বিভিন্নরকমের পজিটিভ যুক্তি দিয়ে ব্যাপারটা হাল্কা করতে হেল্প করছিলো … সাথে কেউ ছিলো বলেই মনে হয় ফ্রিকড আউট হয়ে মাথা-মুথা গরম করে ফেলি নাই! … নইলে হয়তো সবসময় যা হয়, তা-ই হতো! … ঠাস করে একম একটা কিছু বলে বসতাম যে বেচারা গোপী আর কখনো কথাই বলতে চাইতো না …

যাই হোক, সন্ধ্যায় গ্রুপে যাওয়ার পর থেকেই শরীর এমনই ছেড়ে দিলো যে মনে হলো রাজ্যের যত ক্লান্তি এসে ভর করেছে আমার শরীরে … একসময় মনে হলো মাথা ঘুরে মনে হয় পড়েই যাবো … হাত-মুখ ধুয়ে আসলাম … মনে হলো যে পুরা শরীর ক্যামন ঝিম মেরে গ্যাছে … এর মধ্যে আবার বসে বসে ভায়োলিন নিয়ে গুঁতাগুঁতি করলাম কিছুক্ষণ, তাতে আরও মাথা ধরে গ্যালো … পরে না পারতে গোপীকে রিকোয়েস্ট করে একটা ঠাণ্ডা পানির বোতল আনিয়ে সেটা খেয়ে কিছুটা শান্তি হলো … কিন্তু সেটাও সাময়িক ছিলো … কিছুক্ষণ পড় আবার আগের অবস্থায় ফেরত গেলাম … সকালে অমিত বলেছিলো যে রাতে বাসায় ফিরবে … ওর সাথে গ্রুপ থেকে বেড় হয়ে দেখা হলো ঠিকই, কিন্তু ও বাসায় ফিরলো না … আমি আরও এই ভরসায় ছিলাম যে ও সাথে ফিরলে ওর কাছে ব্যাগপত্র বুঝিয়ে দিয়ে সিএনজি-তে উঠেই ঘুমায় যাবো … কিন্তু সেটা হলো না … সিএনজিতে ঘুমে ঢলে পড়েই যাচ্ছিলাম, কিন্তু ঘুমাতে তো আর পারছিলাম না! …

সেই ঘুমটা এখন ঘুমাতে যাচ্ছি … কালকের ক্লাস ১টায় … কালকে আবার স্কুলে গিয়ে কিছু কাজও আছে … একটা ওয়ার্কশিট-এর কন্টেন্ট রেডি করতে হবে, সেইটা আবার প্রিন্সিপাল ম্যামকে দেখাতে হবে … আর ক্লাস তো আছেই …

 যাই, ঘুমাতে যাই …

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s