দিনযাপন | ১৫০৯২০১৫

বসে থেকে থেকেই আজকে ক্লান্ত হয়ে গেলাম! … সাড়ে ১২টা থেকে পৌনে ৩টা পর্যন্ত শিল্পকলায় একা একা বসে থাকতে হলে ক্লান্ত না হয়ে  উপায় কি? … ঘটনা হচ্ছে যে রেজার সাথে শিল্পকলায় মিট করে দুইজন মিলে বাবুবাজারের দিকে যাবার কথা … ১৮ তারিখের প্রোগ্রামের জন্য আয়না দিয়ে একটা ইন্সটলেশনের চিন্তা করা হচ্ছে, সেটার কাজ করাতে … আজকে মঙ্গলবার, আমার ডে অফ, তাই আমার স্কুলেও যেতে হয়নি … ফলে কালকেই কথা হয়েছিলো যে দুপুরের আগেই এই কাজটা শেষ করে ফেলবো, যাতে ৫টা সময় রিহার্সালে যাবার টাইমটা ওভারল্যাপ না করে … তো, সকালে রেজার সাথে কথা হলো … ও বললো যে আমি রওনা দিয়ে ওকে ফোন দিলে ও শিল্পকলায় চলে আসবে, তারপর আমরা বাবুবাজার যাবো … সেটা সকাল ১১টার গল্প …

সোয়া ১১টার দিকে বের হলাম বাসা থেকে … ফার্মগেটের কাছাকাছি এসে রেজাকে ফোন দিতে গিয়ে দেখি ও নিজেই এর মধ্যে ফোন দিয়েছিলো আর ফোনে না পেয়ে মেসেজ পাঠিয়ে রেখেছে যে ও পুরান ঢাকায় গেছে, কারণ ব্যানার লেখার জন্য পাটি কিনতে হবে … ওইটায় লেখার জন্য আর্টিস্ট এসে বসে আছে, সো ও ওইটা কিনেই শিল্পকলায় আসবে … তো ধরে নিলাম যে ওর মোটামুটি ঘণ্টাখানেক লাগবে … এর মধ্যে আমার শিল্পকলায় পৌঁছাতে আধাঘণ্টা কেটে রাখলে বাকি আধাঘণ্টা অপেক্ষা করাই যায় … শিল্পকলায় পৌঁছালাম সাড়ে ১২টায় … রেজাকে ফোন করলাম, ও বললো যে সর্বোচ্চ আধাঘণ্টা … তারপর আমার শুরু হলো অনন্তকালের অপেক্ষা! … রেজা যখন আসলো, তখন বাজে পৌনে ৩টা! … আমি এর মধ্যে একবার এখানে হাঁটাহাঁটি করি তো একবার ওখানে বসি … একবার গান শুনি রেডিওতে, নয়তো আরেকবার চিন্তা করি যে ভায়োলিনটা বেড় করে বাজানো শুরু করবো কি না! … একবার ভাবলাম যে ৬ তলায় গিয়ে দেখি মুভিয়ানার মামুন ভাই আছে কি না … তাহলে অন্তত কথাবার্তা বলে সময় কাটানো যাবে … কিন্তু তারপর কেন জানি আর গেলাম না … এর মধ্যে আমার সাথে ব্যাকপ্যাক আর ভায়োলিন … আমার তো চিন্তা ছিলো যে শিল্পকলায় গিয়ে মামুন ভাই কিংবা পরিচিত কারো হেফাজতে ভায়োলিন আর ব্যাগটা রেখে রেজার সাথে পুরাণ ঢাকায় যাবো, তারপর আবার শিল্পকলায়ই তো ফিরবো, তখন ওইগুলা ফেরত নিয়ে নেবো … ২টা বেজে যাচ্ছে দেখে ভাবলাম যে এখন যদি পুরান ঢাকায় যাই, তাহলে তো ওখান থেকেই গ্রুপে চলে যাবো … তাহলে ভায়োলিনের আর ব্যাগের কি করবো? এইগুলা নিয়ে পুরান ঢাকা এলাকায় তো হাঁটাই যাবে না … হয় আমি ধাক্কা খাবো, নইলে মানুষ ভায়োলিনের বাড়ি খাবে … অনেক ভেবেচিন্তে মনে হলো যে ফুয়াদের বাসা তো কাছেই, ওকে বলি গ্রুপে যাওয়ার আগে ভায়োলিনটা নিয়ে যেতে, তাইলে আমি না হয় ওইটা মামুন ভাইয়ের রুমে কিংবা এক্সপেরিমেন্টালে বাতিঘরের শো আছে, ওখানে রেখে গেলাম কারো কাছে … কিন্তু ফুয়াদ বললো ও গুলিস্তান হয়ে তারপর গ্রুপে যাবে … সেকন্ড অপশন ভাবলাম গোপীর কথা … কিন্তু ওকে বলতে ইচ্ছে হচ্ছিলো না কারণ ওর সাথে ওর নিজের ভায়োলিনটাই থাকবে … তারচেয়ে বড় কথা ওকে তাহলে একবার নারিন্দা থেকে উল্টা দিকে শিল্পকলা আসতে হবে, তারপর আবার গ্রুপে যেতে হবে! … তারপরও ওকে ফোন দিয়ে রাখলাম যে আর কাউকে না পেলে ওকেই আসলে আসতে হবে … এর মধ্যে আরেক ঘণ্টা পার হয়ে গ্যালো … আর আমিও সিদ্ধান্ত নিয়ে নিলাম যে আমি আর আজকে পুরান ঢাকায় যাবো না … আয়নার কাজ দরকার হলে কালকে ধানমণ্ডি/ কাঁটাবন এরিয়া থেকেই করে ফেলবো … জেমের সাথে কথা হলো, ও ও বললো যে টাইমিং এর ঝামেলা হয়ে গেলে আমার আর যাওয়ার দরকার নাই … প্রয়োজনে রেজার সাথে জেম যাবে … আমিও গোপীকে শিল্পকলায় আসতে হবে না বলে দিয়ে মনের আনন্দে গ্রুপে চলে আসলাম …

কিন্তু ওইরকম লম্বা সময় হুদাই বসে থেকে থেকে আমার বরং মনে হলো যে বেশি ক্লান্ত হয়ে গেছি! … ক্যামন জানি লাগছিলো বিকালে! … ইন ফ্যাক্ট এখনো মনে হচ্ছে আমি প্রচণ্ড ক্লান্ত … ঘুমে আমার ক্যামন জানি দুনিয়া ভেঙ্গে আসছে! …

ঘুমিয়ে পড়াটাই মনে হয় আজকে বেটার … কারণ কালকে খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠে আগে আমাকে স্কুলের জন্য হ্যান্ডআউট আর ওয়ার্কশিট টাইপ করতে হবে … সেগুলা সকালে নিয়ে প্রিন্ট করিয়ে, ফটোকপি করিয়ে তারপর ক্লাসে দিতে হবে …

গতকালকে দিনযাপন লেখা শুরু করেছিলাম … অর্ধেক লিখে ঘুমিয়ে গেছি … ভেবেছি আজকে সকালে উঠে লিখবো … সকালে একবার ৮টার দিকে উঠলাম … তারপর আবার ঘুম আসলো, তখন ১০টা পর্যন্ত ঘুমালাম … তারপর যখন লিখতে বসেছি তখন তো রেজার সাথে ফোনে কথা বলে সাথে সাথেই বেরই হয়ে গেলাম … কিন্তু ওই লেখাটা যেই প্রসঙ্গে যেই পর্যায়ে আছে, ওইটা শেষ করাটা জরুরি … আজকে না হলেও ভাবছি যে কালকে ওইটা পোস্ট করে দেবো শেষ করে … সোহেলকে যে মেইল করে সবকিছু বলে দিয়েছিলাম যে মুগ্ধরা সব জানে … তারপর যে ও আমাকে ফোন করে দেখা করার জন্য বারবার চাপ দিচ্ছিলো, আমার অমুক ছবি, তমুক ছবি ফেসবুকে/ইন্টারনেটে ছেড়ে দেবে টাইপ থ্রেট দিয়েছিলো, তারপর স্পাইস কিচেনে বসে বসে যা-তা কথাবার্তা বলেছিলো … ওইসব প্রসঙ্গে লিখছিলাম আর কি! কারণ, গতদিনের ঠিক একবছর আগেই ওই ঘটনাটা ঘটার দিন ছিলো তো! …

আজকের দিনটা যেমন এমন ছিলো যে মুগ্ধ ক্যামেরা ফেরত নেয়ার অজুহাতে সকালবেলা বাড়ির সামনে এসে স্টারে বসে নাস্তা করতে করতে আগেরদিন সোহেলের সাথে যা যা কথাবার্তা হয়েছিলো সেগুলো নিয়ে আমার সাথে কথাবার্তা বলেছিলো … সোহেল আসলে মুগ্ধর ব্যাপারে কিছু বলেছে কি না, কিংবা মুগ্ধ যদি আমার আর সোহেলের ব্যাপারটা ওদের বাসায় জানিয়ে দেয় তাহলে মুগ্ধর যাবতীয় কীর্তিকলাপের কথা নিয়ে সোহেল আবার কাউন্টার অ্যাটাক করার সম্ভাবনা কতটুকু সেই ব্যাপারে ও নিশ্চিত হতে চেয়েছিলো … সোহেল বা মুগ্ধ কেউই যে আসলে কারো ব্যাপারে ওদের বাসার কারো কাছে মুখ খুলবে না সেটা আবার আমি ওইসব কথাবার্তা থেকে অনেকটাই বুঝেছিলাম … ওরা মামা-ভাগ্নে দুইজনেই তো কিছু বিষয়ে একইরকম! … যেমন, বাড়ির মানুষের কাছে তারা ‘দুধে ধোয়া তুলসী পাতা’, অ্যাজ ইফ মুগ্ধ জীবনে কোনোদিন পূর্ণা ছাড়া আর কোনো মেয়ের দিকে ফিরেও তাকায় নাই, আর সোহেল তো কারো দিকেই তাকায় নাই বলে ওর কোনো প্রেমিকাও নাই! …

মুগ্ধ’র বিয়ের পরপর একটা বারবিকিউ পার্টি হয়েছিলো ওর বাসার ছাদে … তার কয়েকদিন আগেই সোহেলের সাথে আমি প্রথমবারের মতো একরাত থেকেছি … তো ওই বারবিকিউ পার্টির পরে ওইদিন রাতেই সুজনের বাসায় আমরা আবার অ্যালকোহল পার্টি করেছিলাম … ওখানে মৈনাক দা’র আইডিয়ায় একটা গেম খেলেছিলাম সবাই … ট্রুথ ওর ডেয়ারের মতো, কনফেশন জাতীয় একটা গেম … ওইটাতে এমন একটা কিছু বলতে হতো যেটা আমি করেছি, তারপর যারা যারা সিমিলার কাজ করেছে তারা হাত তুলছিলো আর যারা করেনাই হাত তুলেনাই … ধরা যাক, একজন বললো, ‘আমি আমেরিকা গিয়েছি’ … তো ওই খেলায় পারটিসিপেন্টদের আর কেউ যদি আমেরিকা গিয়ে থাকে সে হাত তুলবে … এইরকম আর কি! … তো আমার টার্ন যখন এসেছিলো, তখন আমি ওই গেমের মধ্যেই আরেকটা গেম খেলেছিলাম … আমি বলেছিলাম, ‘ আমি একই ফ্যামিলির দুইজনের সাথে সেক্স করেছি’ … ওইদিন কে কি বুঝেছিলো আমি জানি না … কিন্তু ওইখানে যারা ছিলো, তাদের মধ্যে যারা যারা শাহরিয়া আপুর বাসার ঘটনার দিনও ছিলো আর বুঝতে পেরেছিলো যে আমি যেই ব্যক্তিটাকে নিয়ে এত কান্নাকাটি করছি সে সোহেল, তাদের যদি ওই রাতের ওই গেমটার কথা মনে থাকে, তাহলে হয়তো দুইয়ে দুইয়ে চার মিলিয়ে ধারণা করতে পারার কথা যে সুজনের বাসায় ওইরাতে আমি একেবারে জনসমক্ষে কাদের কথা বলেছি ! …

যারা ওইরাতে বোঝে নাই, শাহরিয়া আপুর বাসায়ও বোঝেনাই, তাদের যারা যারা আজকের দিনযাপন পড়বে তাড়া নিশ্চয়ই অন্তত আজকে বুঝবে যে কত বড় একটা বোমা ফাটলো! …

তো, আজকে আর কি? … ঘুমাতে যাই! … খালি বসে বসে দিনযাপন লিখলেই হবে নাকি? … অনেক কাজ করতে হবে কালকে … অনেক কাজ …

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s