দিনযাপন | ১৯০৯২০১৫

মাথা ব্যথার সকলরকমের ফ্যাক্টর একসাথে জড়ো হয়েছে মনে হচ্ছে … প্রথমত, কালকে সারাদিন প্রচণ্ড গরমের মধ্যে ঘেমে-নেয়ে একশেষ হয়ে পারফর্মেন্স করেছি … দ্বিতীয়ত, পারফরমেন্স করতে গিয়ে একজায়গায় দুর্ঘটনাবশতঃ ইট-বাধানো মাটিতে প্রচণ্ড জোড়ে মাথায় বাড়ি খেয়েছি … তৃতীয়ত, রাতে বাসায় ফিরে গোসল করেছি, কিন্তু মাথার বাড়ি খাওয়া অংশের ব্যথার কারণে চুল খুব ভালোমতো মোছা হয়নি, ফলে বাতাসেই শুকিয়ে মাথার মধ্যেই পানিটা বসে গেছে … ফলাফল, সাইনাসজনিত মাথাব্যথা … চতুর্থত, প্রচণ্ড ক্লান্তির কারণে আজকে যেখানে অন্তত সকাল ১০টা পর্যন্ত ঘুমানোর কথা, সেখানে ভোর ৭টায় ঘুম থেকে উঠেছি, ভায়োলিন প্র্যাকটিস করেছি, তারপর ভায়োলিনের ক্লাসে গিয়েছি … এর মধ্যে, আজকে আবার চশমা নিয়েও বের হইনি … চশমা ছাড়া দীর্ঘক্ষণ থাকা তো মাথাব্যথার আরেকটা ফ্যাক্টর … ফলে, ভায়োলিন ক্লাস শেষে যখন টিয়ামের বাসায় গেলাম, সেই বেলা ১২টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা অবধি ঘুমিয়ে ঘুমিয়েই কাটলো … মাঝখানে ঘন্টাখানেকের জন্য উঠে গোসল করলাম, খেলাম … আর বাকি সময় ঘুম … বিছানা থেকে মাথা তুলতে না পারার মতো মাথা ব্যথা … সাথে অল্পবিস্তর জ্বর … ক্যামন জানি লাগছে … ভালো লাগছে না কিছুই … ১১ নাম্বার থেকে সাড়ে এগারোতে নিজের বাসা পর্যন্ত আসতে আসতে ওইটুকু রাস্তাটাই মনে হলো অনন্তকাল ধরে চলছে …

কিভাবে কি করবো জানি না! … আজকে রাতে দুইটা জরুরি কাজের ডেডলাইন … কিন্তু বসে থাকারই শক্তি নাই … এই যে দিনযাপন লিখতে বসেছি, গত ৪০ মিনিট লাগিয়ে মাত্র এতটুকু লিখলাম … আর তাতেই এখন মনে হচ্ছে মাথার রগগুলো সব যেন ছিঁড়ে যাচ্ছে! … কি করবো আমি? কিভাবে কি করবো? … কোথায় প্ল্যান ছিলো যে ভায়োলিন ক্লাসটা সেরে এসে সারাদিন তো বাসাতেই থাকবো, দিনের বেলাটা রেস্ট নিয়ে সারা সন্ধ্যা কাজ করে ‘অল ডান’ অবস্থায় ঘুমাতে যাবো তাড়াতাড়ি … কিসের কি! … আদৌ কাজ করতে কিভাবে বসবো সেটাই তো কিছু বুঝতে পারছি না! … কালকে না হয় ভোরবেলা উঠে একটা শেষ করলাম … আরেকটার কি হবে? …

যাই হোক, কালকের কথা বলি … কালকে সোলায়মান মেলার প্রোগ্রামটা বেশ ভালো হলো … প্রাচ্যনাটের জন্য একটা বড় অ্যাচিভমেন্ট … সারাদিনের বিস্তারিত বর্ণণা দেয়ার মতো অবস্থা নাই … কালকে যেহেতু আমার নিজেরই সারাদিনে ৩/৪ বার পারফর্মেন্স ছিলো তাই নিজের দায়িত্বে ছবিও তুলিনাই … মোবাইলে টুকটাক ছবি তুলেছি … মাঝখানে একবার শাহরিয়ারের ক্যামেরা নিয়ে উদ্বোধনী প্রোগ্রামের ছবি তুললাম, তারপর রাতে আবার অমিতের ক্যামেরা নিয়ে সবশেষের অগ্নিচক্রনৃত্যের ছবি তুললাম … অগ্নিচক্রনৃত্যটা হলো যে , একটা বিশাল বড় দানবীয় ফিগার বানানো হয়েছিলো, সেটাকে দাহ করা হলো … আমার পারফর্মেন্সটা ছিলো একটা ইম্প্রভাইজেশন বেজড নাটিকা … দুই যোগ দুই পাঁচ … পারফর্মেন্সটায় ইনভল্ভড হয়েছিলাম খুব উৎসাহ নিয়ে, কিন্তু দুইদিন পরেই উৎসাহে প্রচণ্ডরকমের ভাটা পড়ে গ্যালো … এক পারফরমেন্স-এর ডিরেকশন দেয়ার জন্য দুই-তিনজন মাথা একসাথে হয়ে পুরা মাখামাখি অবস্থা … হীরা ভাই একদিন একরকম করে কাজ করালো … পরদিন মিতুল ভাই আবার সেটার কিছু জিনিস চেঞ্জ করলো … তারপরদিন সজীব ভাই এসে বলে ‘ এইগুলা কি করসো!’ … ‘এইটা এমন না’ … ‘ ওইটা অমন’ … সবাই বেশ বিরক্ত হয়ে গেলাম … আমার যেহেতু মুখে কথাবার্তা খুব একটা ফিল্টার হয় না, তাই আমি একপর্যায়ে বলেই দিলাম যে আসলে কারটা ফলো করবো, সেটাই মাথায় ঢুকছে না, কারণ তিনদিন তো তিনজন তিনভাবে কাজ করালো! … ১৭ তারিখেই যেটুকু রিহার্সাল হবার হলো, তাও সেখানে আবার হীরা ভাই আর সজীব ভাইয়ের দুই মেরুর মাথা একসাথে হওয়াতে বিষয়গুলো একরকম ‘ট্রায়াল অ্যান্ড এরর’ কিসিমের হয়ে গ্যালো! … অধিক সন্ন্যাসীতে গাজন নষ্ট বলে যে একটা কথা ছোটোবেলা থেকে শুনে এসেছি, সেটাই বারবার মনে হচ্ছিলো … পারফরমেন্সটা যেই এন্থুজিয়াজম নিয়ে করার কথা, তার কিছুই ছিলো না আসলে … করার জন্য করছি টাইপ একটা ব্যাপার ছিলো প্রতিবারেই … তারমধ্যে আবার প্রথম পারফরমেন্স-এর সময় এমন রোদের তাপ যে গরমের চোটে কেউ ঠিকমতো ব্লকিং-ই মেইন্টেইন করতে পারলাম না … সবাই মোটামুটি ছায়ার মধ্যে গুটি পাকায় থাকার মতো অবস্থা হলো … দ্বিতীয়বারের পারফরমেন্স প্রায় শেষের দিকে আসতে না আসতেই দুই-তিনজন ভদ্রলোক ‘ নামাযের সময়ও আপনারা এসব বন্ধ করেন না’ টাইপ গ্যাঞ্জাম শুরু করে দিলো, ফলে আমাদেরও আর পারফরমেন্স শেষ হলো না … আর বিকালে যখন তৃতীয়বারের মতো পারফরমেন্স করলাম, তখন তো মাথার মধ্যেই বাড়ি খেলাম … তাও কি অদ্ভুতরকমের বাড়ি খাওয়া! … একটা দৃশ্যে সবাই মিলে পড়ে যাওয়া ছিলো … পড়ে যাওয়ার পর রানা’র পায়ের লাথি এসে লাগলো বাম কপালে, আর সেই লাথির ফোর্সে ডান কপাল বাড়ি খেলো ইট-বাধানো ফ্লোরের সাথে … টের পাচ্ছি যে বাড়ি খাওয়া অংশটা ফুলে আছে, কিন্তু চুলের নিচে ঢাকা পড়েছে দেখে বুঝতে পারছি না যে ঠিক কি পরিমাণ ইনজুরি হয়েছে …

যাই হোক, নিজের মতো করে মোবাইলে দুই-তিন্টা ছবি তুলেছিলাম, সেগুলা এখানে দিয়ে রাখি … [ তাও যদি ছবিগুলোর কারণে লেখার কাটতি বাড়ে! … হুহুহাহা হাহা হা … ]

একটা বিষয় নিয়ে লিখতে চাইছিলাম … ঘটনাটা গতকাল্কের … কিন্তু কালকে দিনযাপন লিখলে হয়তো রেফারেন্সটা ভালো হতো … মানে, তখন একটা ইন্সট্যান্স থাকতো লেখার মধ্যে … এখন লিখলেই মনে হবে যে খুব ভেবেচিন্তে লেখা হয়েছে … ঘটনা হচ্ছে যে প্রোগ্রামের এক পর্যায়ে হঠাৎ দেখলাম জেবা খুব মন খারাপ করে দাঁড়িয়ে কাঁদছে … কি হয়েছে জিজ্ঞেস করাতে বললো ফোন হারিয়ে ফেলেছে … কিভাবে হারিয়েছে? … লবিতে যেখানে আমাদের ইনফরমেশন ডেস্ক, ও সেখানে শেষবারের মতো রেখেছে বলে মনে করতে পারছে … কিন্তু অনেকক্ষণ পড় যখন ফোনের কথা খেয়াল হয়েছে তখন গিয়ে দেখেছে যে ওখানে নাই … আবার ফোনও বন্ধ … কিন্তু অস্বাভাবিক বিষয় হচ্ছে যে ওখানে আমাদের মানুষজন ছাড়া আর কেউ নেই … আমার একমুহুর্তের জন্য মনে হলো যে কেউ নিয়ে লুকিয়ে রেখে মজা করছে না তো? … তারপরেই মনে হলো যে ধুর! এরকম সিরিয়াস জোক কেউ করবে নাকি? … এদিকে জেবা ফোন সেট নিয়ে না, বরং ফোন হারানোর কারণে ওর চারপাশের সবকিছুতে এটা কি ইমপ্যাক্ট ফেলতে পারে, কয়েকদিন আগেই রিপন ভাইদের বাসায় চুরি হয়েছে, এখন যদি ও ফোন হারিয়ে ফেলে তাহলে বিষয়টা ক্যামন একটা দায়িত্বজ্ঞানহীনতার পরিচয় হবে এইসব বিবিধ বিষয় ভেবে ভেবে সে প্রচণ্ডরকমের অপরাধবোধ নিয়ে কথাগুলো বললো … বেচারি এমনিতেই প্রচণ্ডরকমের স্ট্রেসড হয়ে যায় অল্পতেই, তার মধ্যে এই কাহিনী … ক্যামনে কি হতে পারে, ওকে আসলে আমি কিই বা বলে স্বান্ত্বনা দিতে পারি ভাবতে ভাবতে এর মধ্যে একটু পরেই আমি সমাপনী পারফরমেন্স-এর অ্যারেঞ্জমেন্টে ইনভল্ভড হয়ে গেলাম … আর পরে জানলাম যে জেবার ফোন আসলে হারায় নাই … ও ফোনটা লবিতেও রাখে নাই, ওয়াশরুমে হাতমুখ ধুতে গিয়ে ওখানেই ফেলে রেখে আসছিলো, তারপর কলি আপু নাকি ওইটা পেয়ে ওর ভুলোমনার জন্য ওকে ‘পানিশমেন্ট’ দেয়ার উদ্দেশ্যে ফোনটা বন্ধ করে রেখেছিলো! … আমার খুব মেজাজ খারাপ হলো কথাটা শুনে! … একজন মানুষ ফোন হারায় এভাবে কাঁদতেসে আর সেখানে এইরকম একটা ডার্ক জোকস করা হলো! … এইভাবে যে ফোন ফেলে রেখে আসে, সে নিশ্চয়ই ইচ্ছা করে কাজটা করে না … সে আত্নভোলা থাকে বলেই এমনটা করে … তার সাথে এইরকম করলেই কি সে ঠিক হয়ে যাবে! … আমার কাছে এই আচরণটাই ক্যামন জানি অশিক্ষিত টাইপের মনে হইলো … মানে, সামাজিক শিক্ষার দিক থেকে আর কি! … কিংবা, এমনও হতে পারে তার সামাজিক শিক্ষা এটাই যে এরকম ঘটনার ক্ষেত্রে এইরকম আচরণ করতে হবে! …

আমার বিরক্তির কারণটা ছিলো এটা যে আমার মনে হচ্ছিলো যে মাঝে মাঝেই মানুষ আসলে ভুলে যায় কার সাথে ক্যামন আচরণ করা যেতে পারে! … কিংবা আসলে তার হয়তো আচরণবিধিটা এমনই! … জেবাকে যেমন আমরা গ্রুপ মেম্বার হিসেবে যতটা না চিনি, তার চেয়ে বেশি চিনি রিপন ভাইয়ের বউ হিসেবেই! … ও তো গ্রুপে ইনভল্ভড হলো মাত্র ৬ মাস … সেটাও আসলে নিজের স্ট্রেস ম্যানেজমেন্ট-এর জন্যই … জেবার সাথে ওর ব্যক্তিগত ব্যাপারে আমার যতটুকু শেয়ারিং হয়েছে, তাতে করে আমার মনে হয়েছে যে ওর অল্পতেই স্ট্রেসড হয়ে যাওয়ার প্রবণতা আছে … আর সেই ব্যাপারটা নিয়েও ও নিজেই প্রচণ্ডরকমের গ্লানিতে ভোগে … ‘স্ট্রেসড হওয়া যাবে না’ বিষয়টাই তখন আবার ওর স্ট্রেসের কারণ হয়ে দাঁড়ায়! … তো এইরকম একটা মানুষ একটু আত্মভোলা থাকবে সেটা একদমই স্বাভাবিক … এই যে গতকালকে ওর ফোন নিয়ে এরকম একটা কাহিনী হলো, এখন ‘ফোনটা হাতছাড়া করা যাবে না’ চিন্তা করতে করতেই ওর আরও এক্সট্রা মানসিক চাপ তৈরি হবে! …

এত কথা বলছি কারণ আমি নিজে প্রচণ্ড ভুলোমনা, এবং আমি নিজেই সবসময় ফিল করি যে বিষয়টাকে মানুষ ভুলভাবে ট্রিট করে … কেউ যদি জানেই যে আমি ভুলোমনা, তাহলে তো সে যখন দেখবে যে আমি কিছু একটা জিনিস ফেলে এসেছি, সে যত্নশীলতার একটা বোধ থেকে সেটা নিয়ে এসে আমার হাতে দেবে আর তারপর আমার ভুলোমনা টেন্ডেন্সি নিয়ে আমাকে জ্ঞান দেবে … তা না করে, যখন তারা দেখে যে একটা কিছু আমি ফেলে এসেছি কোথাও, সেটা সেখানেই রেখে এসে আমাকে এসে উল্টা ফাঁপর দেয়, ‘ তোমার ওই জিনিসটা কই?’ ~ ‘ আমি কেন আনবো? ‘ ইত্যাদি ইত্যাদি! …

আমার নিজেরই এরকম ডার্ক জোকস-এর শিকার হওয়ার অভিজ্ঞতা আছে … ২০১১’র ছবিমেলার সময়কার ঘটনা … সেবার যুযানার কাছ থেকে একটা হোল্গা ক্যামেরা কিনেছি, সেটা দিয়ে টুকটাক ছবি তুলছিলাম … তো, একদিন গ্যাটে ইন্সটিটিউটে একটা প্রোগ্রাম ছিলো, ফলে সন্ধ্যায় আমরা সেখানেই ছিলাম … সবাই অনেকক্ষণ যাবত বসে বসে গল্প করছিলাম, আর এক পর্যায়ে ক্যামেরাটা হাত থেকে নামিয়ে টেবিলে রেখেছি … যেহেতু সবাইই বসে আছে, আমিও ক্যামেরাটা ওই অবস্থায় রেখেই ওয়াশ্রুমে গেলাম … এসে দেখি সবাই টেবিল খালি করে উঠে গেছে, বাসার যাবে বলে … দেখলাম যে আমার ক্যামেরাটা টেবিলে নাই … বুঝলাম যে কেউ একজন সেটা নিয়ে লুকিয়ে রেখেছে … ভেবেই নিলাম যে গেট থেকে বের হয়ে যাবার আগে তো নিশ্চয়ই একটু ফাঁপর টাপর দিয়ে ওটা দিয়ে দেবে … এদিকে সবাই একে একে চলে যাচ্ছে, অথচ ক্যামেরা নিয়ে কিছু বলছে না … আমিও কেন জানি ‘নিজে থেকে ক্যামেরার কথা জিজ্ঞেস করে ফাঁপর খাবো?’ টাইপ একটা চিন্তা করে কিছু বলছি না … তো, আমি, আরফান, প্রতীক ভাই, মিশুক ভাই আর কে কে জানি হেঁটে হেঁটে মিশুক ভাইয়ের বাসার কাছ পর্যন্ত গেলাম, তারপর চা খেতে খেতে এক পর্যায়ে মিশুক ভাই ক্যামেরার প্রসঙ্গ তুললো … সবাই এরকমই একটা ভাব করলো যে তারা আসলে জানে না ক্যামেরাটা কই … মাত্রই দুইদিন আগে গ্যাটে ইন্সটিটিউট থেকে যুযানার ক্যামেরার ব্যাগ চুরি হয়েছে, ফলে সবাই মোটামুটি আমাকে একপ্রস্থ ধুয়ে ফেললো যে আমার ক্যামেরাও নিশ্চয়ই চুরি হয়েছে … রাতে বাসায় ফিরে আমি মিশুক ভাইকে ফোন দিলাম যে আসলে কাহিনীটা কি! আমার ক্যামেরা কই? … তখন মিশুক ভাই বলেছিলো যে ক্যামেরাটা প্রতীক ভাই নিয়ে লুকিয়ে রেখেছে … আমি ফেলে এসেছি ভুলে, তাই আমাকে একটু শিক্ষা দেয়ার পরিকল্পনা আর কি! … অথচ আমি তো ক্যামেরাটা মোটেই ভুলে রেখে আসি নাই! ওখানে এত লোকজন বসে আড্ডা দিচ্ছিলো, আমি বিশ্বাস করেই রেখে এসেছিলাম যে এত মানুষের ভেতরে কেউ নিশ্চয়ই ওই ক্যামেরা তুলে নিয়ে যাবে না! … মেজাজ খারাপ হলেও কিছু আর বললাম না … পরদিন পাঠশালায় যাবার পর প্রতীক ভাই আমাকে দেখিয়ে দেখিয়ে আমার ক্যামেরা দিয়ে ছবি তুলছিলো, অনেক ফাজলামি ফাজলামি কথাবার্তা বলছিলো, আর এমন একটা ভাব করছিলো যে ক্যামেরাটা তার … সেগুলাও আমাকে ‘শিক্ষা দেয়ার’ প্রক্রিয়ার মধ্যেই ছিলো … আমার বিরক্তি ক্রমশই বাড়ছিলো এবং একপর্যায়ে আমি মনে হয় বার্স্ট আউটও করেছিলাম … কি বলেছিলাম, কি করেছিলাম মনে নাই, কিন্তু এইটুকু খুব ভালো মনে আছে যে প্রতীক ভাইয়ের প্রতি ওইসময় থেকেই একপ্রকার নেগেটিভ ইম্প্রেশন তৈরি হয়েছিলো যে তার মানসিকতা আসলে অশিক্ষিত টাইপের মানসিকতা, সেই মানসিকতার মানুষেরা অন্যের ‘মানসিক অবস্থা’ নিয়ে ভাবে না, নিজেদের ‘এঞ্জয়মেন্ট’টাকেই বড় করে দেখে …

তো, কালকে জেবা’র ফোন নিয়ে কাহিনীটাও এরকমই … ওই কাহিনীর সূত্র ধরেই এই কাহিনীটার কথা মনে পড়ে গ্যালো … যদিও পুরোপুরি মনে নাই … কিন্তু যেটুকু মনে আছে, সেটুকুই বোধহয় স্মৃতি রোমন্থনের জন্য যথেষ্ট …

আজকে আর লিখতে ইচ্ছা করছে না … মাথা ব্যথা আর জ্বর নিয়েও অনেক কিছু লিখে ফেলেছি …

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s