দিনযাপন| ২২০৯২০১৫

গতকালকে বিকালে সাড়ে ৩টা কি ৪টার দিকে ঘুমিয়েছিলাম। আজকে সকালে সাড়ে ১১টার দিকে উঠলাম … মাথা ব্যথায় এমন উথাল-পাথাল অবস্থা ছিলো যে পুরাই মরার মতো ঘুমিয়েছি! … ২৪ ঘণ্টা টানা ঘুমানোর ব্যক্তিগত রেকর্ডটা মনে হয় আরেকটু হলেই হয়ে যেতো! …

কি যে গ্যালো আগের দুইটা দিন! পুরাই ঘুম ঘুম ভাবের মধ্যে দিন পার করলাম … রবিবার স্কুলে গেলাম মাথা ব্যথা আর জ্বর নিয়ে, সেখান থেকে নায়ীমীর বাসায় দুপুরে রেস্ট নিয়ে তারপর শিল্পকলায় গেলাম ‘দেওয়ান গাজীর কিসসা’ দেখতে … এই নাটকটা অনেক বছর পরে হচ্ছে, যেখানে আবার সেই আগেকার সময়ের আবুল হায়াত, আলি যাকের, সারা যাকের উনারাও অভিনয় করেছেন … এইরকম বড় মানুষদের থিয়েটারের অভিনয়ের কথা তো কেবল শুনেই এসেছি, স্বচক্ষে তো আর দেখা হয়নি … এই নাটকটা সেইটারই সুযোগ করে দিলো এতবছর পর … অন্যসময় অন্য কোনো নাটক হলে হয়তো যেতাম না, বাসায় ফিরে রেস্ট নেয়ার কথা ভাবতাম … কিন্তু ওই মানুষগুলোর অভিনয় দেখার উৎসাহেই গেলাম …

গতকালকে আরেক কাহিনী … ভাবলাম যে ঈদের আগে কালকেই শেষ আড্ডাবাজি করে আসবো গ্রুপে, আজকে থেকে বাসায় থাকবো, নয়তো বনানী যাবো … স্কুলে যাবার পথে খেয়াল হলো যে ফোন রেখেই বের হয়ে গেছি বাসা থেকে … এমনিতেই শরীর ভালো লাগছে না, তার মধ্যে ফোন রেখে আসাটা বাসায় ফিরবার একটা বড় অজুহাত হয়ে গেলো … ফলে মনকে বুঝিয়ে বাসায় ফিরলাম … ভাবলাম যে খাওয়া-দাওয়া করে গোসল করে তারপর না হয় সন্ধ্যায় আবার বের হয়ে কাঁটাবন যাবো … কিসের কি! বৃষ্টির মধ্যে ঠাণ্ডা লাগছে দেখে গিজার ছেড়ে পানি গরম করতে দেয়ার অবসরে একটু শুলাম … সেই যে শুয়েছিলাম, সেখান থেকেই উঠেছি আজকে সকালে! …

ঈদের ছুটি শুরু হয়েছে ঠিকই … কিন্তু সেখানে খালি স্কুলটাই বন্ধ … আর সব কাজই বরং একসাথে জমা হয়ে বিশাল কর্মযজ্ঞ সাজিয়ে রেখেছে সামনে … বিবিসি’র একগাদা কাজ, ইথার একটা কাজ দিতে পারে, স্কুলেরও সামনের চ্যাপ্টারগুলো নিজে ভালোমতো পড়তে আর বুঝতে হবে, এদিকে জেম একটা স্ক্রিপ্ট লিখতে বলেছিলো সেটাও অর্ধেক করে বসে আছি … আর মুনির ভাইয়ের একটা বইয়ের অনুবাদ যে শুরু করেছিলাম, সেটা তো হারিয়েই গেছে এত এত কাজের ভিড়ে! …

এখন মনে হচ্ছে যে সব বাদ দিয়ে আগে আসলে আমার নেটবুকটা ঠিক করানো দরকার, যাতে করে ওটা নিয়ে সবজায়গায় মুভ করা যায় আর যাবতীয় লেখালেখির কাজ করা যায় … ম্যাকবুক নিয়ে তো পারতপক্ষে মুভ করি না … আর এতদিন তো স্কুলের পরে সোলায়মান মেলার কার্যক্রম ছিলো, কিন্তু ঈদের পরে যখন স্কুল খুলবে তখন ওই ২টা থেকে ৫টা পর্যন্ত সময় করবো কি? … নেটবুকটা থাকলে না হয় কোনো একটা জায়গাকে নিয়মিত বসবার ঠাই বানিয়ে নিয়ে সেখানে বসে বসে কাজকর্ম আগানো যাবে! … এই যেমন, আলিয়াস ফ্রাসেস-এর ক্যাফেতে বসা যায়, কিংবা ঢাকা ইউনিভার্সিটির দিকে গিয়ে কমার্স ফ্যাকাল্টির গার্লস কমন রুমেও বসা যায় … আসলে, কই বসবো সেটা তো ফ্যাক্ট না … সময়টা কাজে লাগানোটা ফ্যাক্ট … সেটার জন্যই একটা প্ল্যান করতে হবে … আমার হাতে আজাইরা অনেক টাকা-পয়সা থাকলে হয়তো পুরানো নেটবুকটা ঠিক হবে কি হবে না সেটা নিয়ে না ভেবে নতুন একটা কিনেই ফেলতাম … সেটা তো আর এখন আমার পক্ষে চাইলেই সম্ভব না! …

এমনিতেই ধারদেনা এখনো শেষ করতে পারি নাই … ইমন ভাইয়ের বউ এখনো ৮ হাজার টাকার মতো পাবেন … তারপর ইউপিএল-এ যখন ছিলাম তখন কি একটা ইমার্জেন্সিতে [ সোহেলের জন্মদিনের উপহারের ঘড়িটা কেনার সময়, নাকি নোবেল ভাইকে ভাড়ার টাকা দেয়ার জন্য … ঠিক খেয়াল নাই … কিন্তু খুব ইমার্জেন্সি ছিলো সেটা মনে আছে] মাহরুখ আপুর কাছ থেকে হুট করেই ৮ হাজার টাকা নিয়েছিলাম … এই টাকাগুলা দিয়ে দিলে আমার ধারদেনার একটা বড় অংশ মিটমাট হয়! … মানে সোহেল সংক্রান্ত ধার দেনাগুলো আর কি! … এমনিতে পাভেল ভাই এখনো ম্যাকবুকের ৩০ হাজার টাকা পায় … সেই টাকা তাকে কিভাবে কবে দিতে পারবো এখনো জানি না … ওইটা আমার ব্যক্তিগত ধার … কিন্তু ওইটারও আগে আসলে সোহেলের কারণে করা যাবতীয় ধারগুলো মিটিয়ে নিতে হচ্ছে …

এদিকে আমি যে দুইজনের কাছ থেকে প্রায় হাজার দশ/বারো টাকা পাই, আর সেগুলো তাদের কেউই দিচ্ছে না, সেই বিষয়টা বেশ বিরক্তির পর্যায়েই চলে যাচ্ছে! … আমিও নেহায়েত ভদ্রতাবশতঃ তাদেরকে বলতে পারি না যে ‘টাকাটা দিয়ে দিলে ভালো হতো!’ … একজনকে ইনফ্যাক্ট সেই মার্চ মাস থেকে বলতে বলতে এখন তার প্রতি আমার বিরক্তি ছাড়া আর কিছুই নাই … আরেকজন রোজার ঈদের আগে আগে খুব ইমার্জেন্সি বলে নিলেন … পরের মাস্যা একদিন ফোন করে বললেনও যে টাকাটা কিভাবে দেবেন … তারপর থেকে আর কোনো খবর নাই! … আর আমার নিজের কাছেই আসলে নিজের পাওনা টাকা চাইতেই লজ্জা লাগে! …

এইবারের ঈদে লিটেরেলিই আমার হাত খালি … বিবিসি’র একটা ইনভয়েসে সাইন করার কথা ছিলো, কিন্তু সোলায়মান মেলার দৌড়াদৌড়িতে আর যাওয়া হলো না … ওইটা কালকে সাইন করলেও ঈদের পরে চেক পাবো, তখন টাকা তুলতে পারবো …

ঈদে টিয়ামরা ব্রাহ্মণবাড়িয়া যাচ্ছে … আমাকেও বলছিলো সাথে যাবো কি না … যাবার ইচ্ছা হচ্ছে না … এতগুলা কাজ হাতে … ওইগুলা অন্তত বাসায় বসে করলেও লাভ হবে … কোথাও বের হবো না ভাবছি … একদিন অবশ্য কলি আপু’র বাসার দিকে যাবার প্ল্যান করছি ঢাকায় যারা আছি সেরকম কয়েকজন মিলে … কলি আপু মাতোয়াইল চলে যাবার পর ওই এলাকার বাসাটায় তো যাওয়া হয়নি … রোজার ঈদের সময় প্ল্যান হচ্ছিলো, কিন্তু বৃষ্টি ছিলো বলে সেই প্ল্যান ফাইনাল হয়নি … এবার কি অবস্থা হয় দেখা যাক! …

আজকে লেখার মতো আর কিছু পাচ্ছি না … এখন একটু খেয়ে-দেয়ে বিবিসি’র কাজ নিয়ে বসতে হবে … সকালে উঠে আবার আরেকটা কাজ ধরতে হবে … তারপর যাবো মিউজিক স্কুলে … তারপর বনানী … তারপর আবার জালালের গল্প দেখার জন্য সন্ধ্যায় বলাকায় যাওয়া হতে পারে! … কতরকমের যে শিডিউল! দেখা যাক, কোনটা হয়, আর কোনটা বাদ যায়! …

আপাতত অফ যাই …

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s