দিনযাপন | ২৪০৯২০১৫

গতকালকে দিনযাপন লিখলে হয়তো অনেককিছুই লেখা হতো … আবার হয়তো হতো না … কিন্তু কালকে প্রথমত একটা কাজ ছিলো, দ্বিতীয়ত ক্লান্তও ছিলাম … রেন্ডম চেঞ্জ অভ প্ল্যান …

গতকালকে যেটা হলো যে সারাদিন ধরেই ‘জালালের গল্প’ দেখতে যাবো কি যাবো না টাইপের একটা প্ল্যানিং ঝুলন্ত অবস্থায় থাকার ফলে অনেককিছুই সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছিলো … যেমন, বনানীতে বিবিসি’র অফিসে যাবার কথা … ভাবছিলাম যে জালালের গল্প দেখতে যাওয়া হলে ওইটা হয়তো পরদিনের জন্য শিফট করবো, কিংবা বিবিসি-তে কাজ সেরে আবার বলাকায় যাবো … শেষমেষ যেটা দাঁড়ালো যে বিবিসি-তে কালকেই ৫টার মধ্যে যেতে হবে, কারণ আজকে থেকে ছুটি হয়ে যাচ্ছে … ফলে জালালের গল্প দেখতে যাই বা নাই যাই, বিবিসি যাওয়া মাস্ট … সো, আমি বিবিসি’র উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম … এদিকে জালালের গল্পের প্ল্যানও ক্যান্সেল হলো … তো, তিন্নি আপুর সাথে একরকমের একটা প্ল্যান ছিলো যে বনানী যদি যাওয়াই হয়, তাইলে কফি আড্ডা হবে … তিন্নি আপুরও কি একটা কাজে বনানী যাবার কথা, সেকারণেই এরকম একটা প্ল্যান ছিলো … আর আমার মাথায় পুরা প্ল্যানের ছকটা হচ্ছে যে বিবিসি’র কাজ, তারপর কফি খাওয়া, তারপর এলএলসিক্স-এ ঢুঁ মেরে মনির মৃত্তিকের আর্টিস্ট টকটায় অ্যাটেন্ড করা … তো, বিবিসি’র কাজ সেরে তিন্নি আপুর সাথে দেখা হলো … সাথে ফায়হাম ভাই … কফি খেতে যাবার পথে দুর্ঘটনাবশতঃ  ময়লা কাদায় পা পড়লো … সেই সূত্রে কফি খেতে যাবার মাঝপথে যাত্রা বিরতির মতো ফায়হাম ভাইয়ের বাসায় গিয়ে ভালোমতো ফ্রেশ হবার সিদ্ধান্ত হলো … ফায়হাম ভাইয়ের বাসায় গিয়েই গল্পের মোড় ঘুরে গ্যালো … দুধের সাধ ঘোলে মেটানোর মতো ‘ঘরে বানানো কফি খেয়েই খুশি’ টাইপ একটা বিষয় দাঁড়ায় গ্যালো … যদিও আমি মোটেও খুশি হইনাই … আমার বিষয়টা ছিলো যে ‘বনানী যখন আসছি, তখন কলাম্বাস কফিতে গিয়ে কফি খাবোই’ … কই কলাম্বাসের ক্রিমসন কাপ কফি, আর কই বাসায় গরম পানিতে গুলানো বয়ামের কফি! …তো, কার মুখ দেখে যে বাসা থেকে বের হইসিলাম টাইপ ভাবভঙ্গি নিয়ে কফি খেতে খেতে ফায়হাম ভাইয়ের আরেক বন্ধু আসলো … দেখা গ্যালো যে তাদের প্ল্যান হচ্ছে অ্যালকোহল আড্ডার … এবং তিন্নি আপুরও সেইটাতেই উৎসাহ … আমি মনে মনে একবার দোনোমনো করলাম যে ওরা গেলে যাক, আমি না হয় এলএলসিক্স-এ চলে যাই … আবার জামাকাপড়, পা এগুলা কাদা লেগেছিল বলে পানি দিয়ে ধুয়েছি বলে ভেজা শরীর আর কাপড় নিয়ে ওইখানে যেতে অস্বস্তিও লাগছে … শেষে তিন্নি আপুদের সাথেই যোগ দিলাম … সেই আড্ডা শেষ হতে হতে সাড়ে দশটা পার … ইমরান ভাইও পরে জয়েন করলো … আর আমি ইমরান ভাইয়ের মৌখিক ভরসায় অত রাত হবার পরও থেকে গেলাম যে ইমরান ভাইয়ের বাসাও যেহেতু মিরপুর, সুতরাং সে আমাকে বাসা পর্যন্ত আগিয়ে দিয়ে যেতে পারবে … এদিকে ফায়হাম ভাইয়ের সেই বন্ধু প্ল্যান করছে আরেকটা কোথায় যাবে … ইমরান ভাই পুরোটা সময় যাবো যাবো না করে শেষে সবাই যখন বের হলাম তখন বলে যে সেও যাবে! আমার খুব বিরক্ত লাগলো! ‘ মানুষের মুখের কথা আর কুত্তার পাছা’ টাইপের বিরক্ত! … ঠিক যেই পরিস্থিতিটায় না পরবার জন্য সেই সাড়ে নয়টা থেকেই ইমরান ভাইকে জিজ্ঞেস করে করে বারবার কনফার্ম হয়েছি যে সে বাসায় যাবে কি না, বাসায় না গেলে আমি বের হয়ে যাই, আর গেলে আমি থাকি … সেই পরিস্থিতিতেই আলটিমেটলি পড়তে হলো … একে তো বৃষ্টি, তারপর রাত প্রায় পৌনে এগারোটা, আর তারচেয়ে বড় কথা কোনো সিএনজি নাই! … আর সিএনজি যদি বা পাইও, অত রাতে একা সিএনজি নিয়ে মিরপুর এলাকায় যাওয়াটা অন্তত ঈদের সিজনে সেফ না! … যাই হোক, প্রায় আধাঘণ্টার বেশি সময় যাবত হাঁটা এবং রাস্তার প্রায় ওপরে টিপ্টিপা বৃষ্টির মধ্যে দাঁড়ায় থাকার পর একটা সিএনজি পাওয়া গ্যালো, আর তিন্নি আপু আমার সাথে আমার বাসাতেই ফিরলো … এমনিতেই সে ড্রিঙ্কস করে টালমাটাল, তারমধ্যে ইমরান ভাইদের প্ল্যানের কোনো ঠিক নাই, আবার এই অবস্থায় সে বাসায়ও যেতে চায় না … শেষমেষ এটাই সুরাহা হলো যে সে আমার বাসায় রাতে থাকুক, তাইলে আমারও একা ফেরা হবে না, তারও এই অবস্থায় বাসায় ফেরা লাগছে না …

তো, বাসায় ফেরার পর বৃষ্টি ভেজা জনিত অস্বস্তি, কাদায় পা পড়া সংক্রান্ত অস্বস্তি, ভেজা জামাকাপড় নিয়ে টানা অনেকক্ষণ এসি’র মধ্যে থাকা জনিত অস্বস্তি সবকিছু মিলায় বাসায় আসার পর এতই ক্লান্ত লাগছিলো যে আর জেগে থাকতে ইচ্ছা করছিলো না … বিবিসি’র একটা কাজ নিয়ে বসলাম … ওইটা কিছুটা করলাম ঘণ্টাখানেক … তারপর ঘুমায় গেলাম …

আজকেও আসলে প্ল্যানগুলা যেমন যেমন ছিলো তেমন হয়নাই … প্রথমত প্ল্যান হলো যে আমি আর তিন্নি আপু ১২টা/সাড়ে ১২টার দিকে বের হয়ে যাবো … বসুন্ধরা সিটিতে ঘুরে কিছু জিনিসপত্র কিনে-টিনে আমি বাসার দিকে চলে আসবো, আর তিন্নি আপু তার বাসায় যাবে … প্রথমত দেরি হলো যে ডাইনিং টেবিল যেটা বানাতে দেয়া হয়েছিলো ওটার গ্লাস ফিটিং-এর জন্য মিস্ত্রি আসার কথা … তার জন্য অপেক্ষা করলাম … তারপর দেরই হলো কারণ তিন্নি আপুর বাথরুম হোক আর গোসল হোক সবকিছুতেই মিনিমাম সময় লাগে ৪৫ মিনিট, আর উর্ধ্বে তো আরও বেশি … দেখা গ্যালো যে আমাদের বের হতে হতেই সাড়ে ৩টা বাজলো … এর মধ্যে আবার বনানী হয়ে বসুন্ধরা সিটি যাওয়ার একটা প্ল্যানও হলো … বনানীতে কফি খাবো, লা মোড নামের একটা জুতার দোকান আছে সেখানে যাবো, তারপর সেখান থেকে বসুন্ধরা সিটি … তো বনানী যেতে যেতে আমি ভেবে দেখলাম আমার যা কেনাকাটা সেগুলা অবশ্য সবই বনানী থেকেই করে নেয়া যাবে, সুতরাং কষ্ট করে আবার বসুন্ধরা সিটি কেন যাবো? … কলাম্বাসে কফি খেতে খেতে তিন্নি আপুর একদল বন্ধুবান্ধবের সাথে দেখা হয়ে গ্যালো … সেখানে বেশ একটা আড্ডা হয়ে গ্যালো কিছুক্ষণের … তারপর আমি আড়ং, দেশাল এসব ঘুরবার উদ্দেশ্যে বের হলাম, সাথে সঙ্গী তিন্নি আপু, তার ফ্রেন্ড ঈশিতা আর অই ঈশিতা আপুর এক কাজিন [ নামটা মনে নাই। আমার খালি মাথায় ঘুরছে আয়েশা। কিন্তু আসলেই আয়েশা কিনা নিশ্চিত না!] । তো ঘুরেঘুরে মোটামুটি সবকিছুই কেনা হলো … ঈশিতা আপুর গাড়ি তখনও আসে নাই, সেই অবসরে টেস্টবাড-এ বসা হলো … আমি বারবারই চলে যাই চলে যাই করে করে আবার দেরি করছিলাম কারণ ‘বাসায় গিয়ে আসলে করবোটা কি?’ টাইপ একটা চিন্তা কাজ করছিলো মাথায় … আবার একবার ভাবলাম যে এদের কাছ থেকে বিদায় নেই, কিন্তু তারপর এলএলসিক্স-এ কেউ আছে কি না ঢুঁ মেরে যাই … তারপর আবার সেটাও ইচ্ছা করলো না … এই করতে করতে শেষে টেস্টবাড পর্যন্ত সাথে যাওয়া হলো … ওখান থেকে বের হয়ে ঈশিতা আপুরা তাদের বাসায় রওনা হলো, আমিও সিএনজি নিয়ে বাসায় … মাঝখানে অবশ্য বাসার সামনে স্বপ্নের আউটলেটে নামলাম। মা একটা ক্লিপ হ্যাঙ্গার নিতে বলেছিলো । কিন্তু পেলাম না । লাভের মধ্যে লাভ হলো, স্কুলে পরে যাবার জন্য দুই ফিটার স্লিপার খুঁজছিলাম, ওইখানে একটা দেখে মনমতো হলো, নিয়ে নিলাম …

কালকের দিনটা যারপরনাই বোরিং যাবে! ঈদের দিন আসলে কিছুই করার থাকে না … সবাই সবার বাসায় ব্যস্ত থাকে … আমার নিজের বাসায়ও কোনো ব্যস্ততা থাকে না। কোরবানি ঈদের আরেকটা বিষয় হচ্ছে যে আমরা যেহেতু কোরবানি দেয়ার ঝামেলাতেই থাকি না, আমাদের এই কারণে আরও বেশিই কোনো ব্যস্ততা থাকে না …

যাই হোক, ক্যামন জানি জ্বর জ্বর ভাবসাব টের পাচ্ছি … কিঞ্চিত মাথা ব্যথা … বিবিসি’র কাজটা শেষ করে ঘুমাবো ভেবেছিলাম, কিন্তু সেটা বোধহয় হবে না … যার সুপারভিশনে কাজ করছি সে নিশ্চয়ই এবার প্রচণ্ড বিরক্ত হবে আমার ডেডলাইন বিষয়ক ঔদাসীন্য দেখে! …

যাই হোক, ঘুমাই গিয়ে …

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s