দিনযাপন| ২৬০৯২০১৫

10703873_801193176570577_2897123317220108213_n-4ছবিটা গতবছরের এইদিনের মাওয়া ট্যুরের স্মৃতি … শৌনক -এর তোলা, আর কোলাজ করা … গতকালকে রাতেই যখন টাইমহপে ছবিটা দেখলাম, তখনি ভাবছিলাম আজকের দিনযাপনের থ্রু-তে ছবিটার একটা চিরস্থায়ী ঠিকানা দিয়ে দেবো … সকালে দেখলাম মুগ্ধ-ও খুব ‘মনে পড়ে … মনে পড়ে’ টাইপ আহা-উহু আবেগে গদগদ হয়ে ওই ট্যুরের সবাইকে ট্যাগ করে ছবিটা শেয়ার দিয়েছে …

এই ট্যুরটা আমার জন্য টাইমলাইন সাপেক্ষে অনেক সিগনিফিকেন্ট … এমন না যে এই ট্যুরে আমার অনেক ভালো লেগেছিলো … অনেক মজা করেছিলাম … এইসব এইসব কোনো কারণ … বরং, ঠিক যেই উদ্দেশ্যে আমি ট্যুরটায় গিয়েছিলাম, কিন্তু সেটা করি নাই, এবং সেটা করলে ইতিহাস একরকম হতো, না করাতে আরেকরকম হবার প্রক্রিয়াগুলো একে একে ঘনীভূত হয়েছিলো … এইসব বিবিধ কারণে ট্যুরটা আমার কাছে একটা সিগনিফিকেন্ট স্মৃতি …

ট্যুরটা ইনফ্যাক্ট হয়েছিলো ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে, আর সেটা ঘড়ির হিসেবে রাত বারোটার পর থেকে ২৬ সেপ্টেম্বর প্রথম প্রহর ধরা যেতে পারে … আমি এই প্ল্যানের কথা জেনেছিলাম ২৫ তারিখ দুপুরের কাছাকাছি সময়ে … তাও মুগ্ধ তার একটা ব্যক্তিগত কাজে নোবেল ভাইকে খুঁজছিলো বলে আমাকে ফোন করেছিলো, আর তখন সে হঠাৎ বললো, “আচ্ছা, বাই দ্য ওয়ে, তোকে তো বলতেই ভুলে গেসিলাম, আজকে রাতে মাওয়া যাওয়ার একটা প্ল্যান হয়েছে। যাচ্ছিস তো?” … সাধারণত এই ধরণের ‘বলতে ভুলে গেছি’ টাইপ অ্যালিবাইগুলো আমার কাছে প্রচণ্ড ইন্সাল্টিং লাগে, এবং আমি ফিল করি যে আই অ্যাম বিয়িং ইগ্নোরড অর নট গিভেন ইম্পোর্ট্যান্স অ্যাজ আ ফ্রেন্ড অর সো … কিন্তু সেদিন মুখের ওপর ‘না’ বলতে গিয়েও থেমে গিয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম যে যাবো … আমার কাছে এটা একটা সুযোগের মতো মনে হয়েছিলো … এর আগের তিন/চারদিন ধরেই আমি আমার শরীরের পরিবর্তনগুলো টের পাচ্ছিলাম, এবং প্রায় নিশ্চিত হয়ে গেছিলাম যে সামথিং ইজ হ্যাপেনিং ইনসাইড … কিন্তু সে ব্যাপারে সোহেলের সাথে আলাপ করাটা কখনোই আমার ফার্স্ট প্রায়োরিটি ছিলো না … এমনকি মুগ্ধও না … কিন্তু আমি আগের দুইদিন ধরেই চাইছিলাম পূর্ণাকে একটা কিছু বলি, তার সাথে একটা কিছু শেয়ার করি, তার কাছ থেকে সাজেশন নেই যে কি করা যেতে পারে … ‘ অনলি আ গার্ল ক্যান আন্ডারস্ট্যান্ড’ টাইপ একটা ভাবসাব ছিলো আর কি! … মাওয়া যাওয়ার উদ্দেশ্য এটাই দাঁড়ালো যে কোনো এক ফাঁকে আমি পূর্নাকে, অথবা মুগ্ধকেই একটা কিছু হিন্টস দেবো অ্যাবাউট থিংস গোয়িং অন …

যাই হোক, ট্যুরটা আদতে কোনো আরামদায়ক ট্যুর ছিলো না … বাপ্পির প্ল্যান প্রোগ্রাম কখনোই দশজনের কথা ভেবে হয় না … মেয়েদের কথা তো নয়ই … অর চিন্তাটা থাকে এমন যে ও একটা প্ল্যান করবে, তারপর সেই প্ল্যান অনুযায়ী সবাই শেপড-আপ হয়ে যাবে! … বাপ্পির কোনো প্ল্যানই কখনো আমার ভালো লাগে নাই … মাওয়া ট্যুরও তাই … রাত বারোটা সময় মাওয়ার বাসে উঠে ওইখানে ফেরি ঘাটে গিয়ে ইলিশ মাছ দিয়ে ভাত খাওয়া, তারপর নৌকা করে ঘোরা … এই হচ্ছে প্ল্যান … অনেকক্ষণ বসে থাকার পর খাওয়া-দাওয়াটা তাও ভালো হলো … কিন্তু নৌকা করে ভরা পদ্মায় গভীর রাতে ঘোরার প্ল্যানটা আমার একদমই পছন্দ হলো না … একদিকে নিজের শরীরের চিন্তা, অপরদিকে এই ভয় যে ভরা পদ্মায় এই রাতের বেলা নৌকা উল্টায় গেলেও সাহায্যের জন্য কাউকে পাওয়া যাবে না … আমি একপর্যায়ে বেঁকে বসলাম যে আমি যাবো না নৌকা করে ঘুরতে … বাপ্পির হিসাব মতে ঘণ্টাখানেক ঘুরবে … আমি জিদ ধরলাম যে সবাই ঘুরলে ঘুরতে যাক, আমি এক ঘণ্টা কোথাও দরকার হলে একাই বসে থাকবো, তবু যাবো না … সাজ্জাদও পাশ থেকে ফিসফিস করে বললো যে আমি না গেলে সেও থাকবে … আমিও স্বার্থপরের মতোই চেষ্টা করে গেলাম যে মুগ্ধ আর বাপ্পি বলুক যে ‘আচ্ছা, যাইস না’, তারপর আমি থেকে যাই … সাজ্জাদ থাকলে থাকলো … কিন্তু শেষপর্যন্ত ওদের স্বার্থপরতার কাছেই আমাকে হার মানতে হলো … তারপর যেই নৌকা ভ্রমণ হলো, অন্যসময় হলে আমি হয়তো জিদের বসে বাপ্পিকে ওই চলন্ত নৌকা থেকেই ফেলে দিয়ে বলতাম, ‘ দ্যাখ, এখন মাওয়া ক্যামন লাগে!’ … একটা ইঞ্জিনের নৌকা নেয়া হলো … ঘুটঘুটে অন্ধকারের মধ্যে ভরা পদ্মায় চারপাশে কালো ছাড়া আর কিছুই দেখা যাচ্ছে না … এমনকি শব্দ বলতেও ইঞ্জিনের ভটভট ভটভট শব্দ … অন্ধকার নদীতে আকাশে চাঁদ দেখতে দেখতে বৈঠার আঘাতে ঢেউয়ের ছলাৎ ছলাৎ শব্দে রোমান্টিসিজমের কোনো অপশনই নাই … পুরাই মেজাজ-টেজাজ খারাপ হয়ে গ্যালো … দেড় ঘণ্টা টানা এই ভটভট শব্দ শুনতে শুনতে অস্থির হয়ে গিয়ে ভোরবেলার দিকে আমরা মাওয়ার অপর পাড়ে পৌঁছালাম … আবার সেখান থেকে রওনা দিয়ে মাওয়া ঘাটের পাড়ে আসলাম আরও ঘণ্টা দেড়েক সময় লাগিয়ে … ইতিমধ্যেই আমি প্রচণ্ড কোমর ব্যথায় কাতর হয়ে গেছি … ফিরে আসার পথে এক জায়গায় কাশবন দেখে নৌকা থামায় সবাই নামলো … আমার একদমই ইচ্ছা করলো না … তখন আমার খালি মনে হচ্ছে যে কখন বাসায় যাবো! … মনে হচ্ছিলো ওই মাঝনদী থেকেই কেউ এক মুহুর্তে আমাকে বাসায় পৌঁছায় দিতো! … যাই হোক, ওইদিন মাওয়া থেকে সরাসরি টিয়ামের বাসায় গিয়েছিলাম, ফ্রেশ হয়ে গোসল করবো বলে … টিয়ামের বাসায় ঢুকে কোনদিকে না তাকিয়ে বিছানায় শুয়ে মনে হয়েছিলো এর চেয়ে শান্তি আর হয় না! …

কিন্তু, ওই যে, যেই উদ্দেশ্য নিয়ে আমি আসলে শরীরের নাজুক অবস্থা সত্ত্বেও ওইরকম এইটা পেইনফুল ট্যুরে গিয়েছিলাম, সেই উদ্দেশ্যটাই আমার সফল হয়নি … এমন না যে আমার সুযোগ ছিলো না … অফুরন্ত সুযোগ ছিলো পূর্ণা কিংবা মুগ্ধকে একটু আড়ালে ডেকে নিয়ে বলে ফেলা যে কি ঘটছে বলে ভাবছি বা প্রায় নিশ্চিত … কিন্তু আমি প্রচণ্ড কনফিউজড হয়ে যাচ্ছিলাম বারবার … বলবো কি বলবো না … টু বি অর নট টু বি … তারপর আর আমার বলা হয়নি … যখন মাওয়া ঘাটে খাওয়া-দাওয়া শেষে অনেকটা সময় আমরা বসে চা খাচ্ছিলাম, গল্প করছিলাম, আর পূর্ণা একা একা এক কোণায় হাঁটছিলো, তখনও না … আবার যখন ভোরবেলা মাওয়ার অপর প্রান্তের ঘাটে অনেকটা সময় আমি আর পূর্ণা একা একা নৌকায় বসে ছিলাম তখনও না … যদি বলে ফেলতে পারতাম, তাহলে যে ঘটনাগুলো মুহুর্তের মধ্যেই অন্যরকম হয়ে যেতো, সেটা জেনেও যে আমি বলি নাই সেটা ভাবতেই এখন আমার অনুতাপ বোধ হয় … ঠিক যে বিষয়টা নিয়ে আমার অনুশোচনা তার শুরু এই ট্যুর-এ কথাগুলো বলতে না পারা থেকেই …

সবকিছুরই হয়তো ফোর্সটাই এমন … সেকারণেই শুধু পূর্ণা কিংবা মুগ্ধ না, ওই সময়টায় আমি এমনকি নোবেল ভাইকেও পর্যন্ত কিছু বলি নাই! … খুব সচেতনভাবে এমনসব মানুষদের কাছ থেকেই পুরো ব্যাপারটা এড়িয়ে গেছি যারা সোহেলের সাথে আমার যাবতীয় ঘটনা সম্পর্কে ওয়াকিবহাল, কিংবা সাক্ষী! … এইরকম একটা বিষয় আর কেউ হোক বা না হোক, অন্ততপূর্ণা, মুগ্ধ কিংবা নোবেল ভাইয়ের সাথেই আমার প্রথম আলোচনা করাটা স্বাভাবিক ছিলো … কিন্তু আমি করি নাই! … কেন করি নাই কে জানে! … এই ‘কেন’ টাই আমাকে এখন প্রচণ্ডরকম পোড়ায় … প্রচণ্ডরকম অনুতপ্ত করে, অনুশোচিত করে, অপরাধী বোধ করায় … আমার কাছে কেবলই মনে হয় যে আমি সম্পূর্ণ নিজের হাতেই সবকিছু যেভাবে ঘটেছে সেভাবে ঘটবার সুযোগ করে দিয়েছি … শুধুমাত্র আমার একটা ‘হ্যাঁ’ কিংবা ‘না’ -ই সব বদলে দিয়েছে, এমন না … সেই পর্যন্ত ব্যাপারটা যাওয়ার পটভূমিটাও আসলে আমার নিজের রোল প্লে’র কারণেই হয়েছে … আমি প্রজ্ঞা ব্যক্তি হিসেবে যেমন, আমার যেমন পারসোনালিটি টাইপ, সেই অনুযায়ী আমি অ্যাক্ট করি নাই … বরং এমন একটা মানুষ হিসেবে অ্যাক্ট করেছি, যেই মানুষটা কখনোই আমি না …

উফ! … যাই হোক … এখন আপাতত বাদ দেই এই ট্যুরের প্রসঙ্গ …

আজকের কথা বলি … অবশ্য আজকের কথা বলতে আসলে তেমন কিছুই নাই … সারাদিন বাসাতেই ছিলাম … সকাল থেকে একটা সিনেমা দেখলাম, ‘ আ ব্রিলিয়ান্ট ইয়ং মাইন্ড’ … তারপর খাওয়া-দাওয়া করে দুপুরে আধাঘণ্টার মতো ঘুমিয়ে তারপর রেডি হয়ে বের হলাম বলাকা সিনেমা হলে যাবো বলে … ডিইউএফএসের পোলাপাইন, সাথে তিন্নি আপু মিলে সিনেমা দেখার প্ল্যান … ‘আশিকি’ … ভারত-বাংলাদেশ যৌথ ছবি … ছবির কোনোকিছুই পাশ মার্ক পাবার ধারে কাছেও যায় না … সিনেমা দেখতে দেখতে প্রচুর হাহা-হিহি করে হেসেছি এইটুকুই বিনোদন … এদিকে সিনেমা দেখতে বসে তিন্নি আপু মহা হাইপার হয়ে গ্যালো … সিনেমার প্রথম দশমিনিটের মধ্যেই ‘কি ফালতু সিনেমা’ টাইপের এক্সপ্রেশন দিয়ে সে মহা হাইপারগিরি শুরু করলো … একপর্যায়ে আমার হাত খামচায় ধরে, ‘অই এখনি টিকিটের ২২০ টাকা দে’ বলতে লাগলো … আমার প্রচণ্ড মেজাজ খারাপ হয়ে গ্যালো … এমনিতেই আমার শরীর পানি এসে ফুলে থাকে সারাক্ষণ, তার মধ্যে কেউ ওইরকম খামচি দিয়ে ধরলে ওই জায়গার ব্যথার অনুভূতিটাই থাকে পরের দুই/তিনদিন … আমিও প্রায় ঝাড়ি দিয়ে উঠলাম, ‘ আরে! ব্যালেন্স রেখে কাজ করো! এত এক্সাইটেড হওয়ার কি আছে?’ … এমন একটা ভাব যেন সিনেমাটা খুব ভালো হবার কথা, আর এখন দেখতে বসে মনে হচ্ছে টাকাটাই জলে গ্যালো! … এই সিনেমা যে বাজারের অ্যাভারেজ পচা সিনেমার একটা হবে, এইটা এক্সপেক্ট করেই তো দেখতে বসেছি! … যাই হোক, সিনেমা দেখা শেষ করে টিএসসি পর্যন্ত যাওয়া হলো … চিন্তা ছিলো যে টিএসসি গিয়ে অমিতকে ফোন দেবো … ওকে আধাঘণ্টার মধ্যে মনে হয় ১০/১২ বার ফোন করে ফেলেছি, তাও ফোন ধরে নাই … টিএসসি-তে চমন ভাইদের সাথে দেখা হলো … তারাও মিরপুর থাকে … কিন্তু যা বুঝলাম যে তারা যাবে ১০ নম্বরের গোল চত্বর থেকে ডানে, আর আমি যাবো সোজা আরও অনেকটা পথ … আমাকে আবার নেমে রিকশা নিয়ে ফিরতে হবে বাকি পথটা … অত কষ্ট করার রিস্কই নিলাম না … নিজ দায়িত্বেই একা একা রওনা দিলাম … শাহবাগে পিজির সামনে দিয়ে আসার সময় দেখলাম অমিতাভ দেউরি দাঁড়িয়ে আছে … মনে হলো সিএনজিই খুঁজছেন … উনার বাসাও এই মিরপুরেই … ১১ নম্বরে … একবার ভাবলাম সিএনজি থামিয়ে তাকে লিফট দেয়ার অফার দেই … আবার কি মনে হলো, ভাবলাম যে থাক! … তারপর আর ডাকলাম না তাকে! …

আজকে তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পড়তে হবে … কালকে কালকে সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠে বের হওয়া লাগবে … সারাদিন কিছুই করি নাই, তবুও ভীষণ ক্লান্ত লাগছে …

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s