দিনযাপন| ২৮০৯২০১৫

গতকালকে প্রচণ্ড ক্লান্ত লাগছিলো বলে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম । সেকারণে কালকে অনেককিছু ঘটার পরও দিনযাপন লেখা হয়নি … আজকে তাই কালকের কিঞ্চিত সমাচার দিয়েই শুরু করি …

যেটা ছিলো যে, কালকে সুমন ভাইয়ের বাসায় আমাদের কয়েকজনের দাওয়াত ছিলো … ঈদ পরবর্তী দাওয়াত-এর চাইতে আমার কাছে ব্যাপারটা আরও বেশি ছিলো এমন যে এই দাওয়াতের উছিলায় অন্তত সুমন ভাইয়ের তিন মাসের মেয়ের চেহারাটা দেখা হবে … সুমন ভাইয়ের মেয়ে হবার পর গ্রুপের অনেকেই হাসপাতালে গিয়ে দেখে এসেছিলো, কিন্তু আমার সে সুযোগ হয়নি, কারণ ওই সময়েই আমাদের ট্র্যাজেডি পলাশবাড়ি নিয়ে কলকাতা ট্যুরের যাবতীয় দৌড়াদৌড়ি চলছিলো … নোবেল ভাইয়ের সাথে পকয়েকবারই মুখে মুখে প্ল্যান হচ্ছিলো যে ‘টিম সর্বনাম’ এর পক্ষ থেকে সুমন ভাইয়ের বাসায় গিয়ে একদিন সবাই মিলে মেয়েকে দেখে আসা হোক … নোবেল ভাইও ‘ হ্যাঁ, দেখি, আচ্ছা’ এইসব করতে করতে অনেকটা দিন পার হয়ে গ্যালো … এর মধ্যে একদিন অবশ্য নোবেল ভাই নিজ দায়িত্বেই সন্ধিকে নিয়ে সুমন ভাইয়ের বাসায় ঘুরে চলে আসলো … তো, যাই হোক, সুমন ভাইয়ের বাসায় দাওয়াতের উছিলায় এবার আমার মেয়েটাকে দেখার সুযোগ হলো …

সুমন ভাইয়ের বাসায় যাওয়াটা হচ্ছে আরেক কাহিনী! … তার বাড়ি শনির আখড়া… আর আমাকে যেতে হবে মিরপুর থেকে … ফরহাদ ভাই যাবে কি না শিওর ছিলাম না, যদিও আগের দিন রাতে মেসেজ পাঠিয়ে সেটা জিজ্ঞেস করে রেখেছিলাম … তো, সকাল ৯টা বেজে যাবার পরও যখন মেসেজের রিপ্লাই পাচ্ছি না, তখন ‘যদি না যায়, তাইলে ক্যামনে কি করবো’ চিন্তা করে শেষে নোবেল ভাইকে ফোন দিলাম যে আমি ল্যাব এইড পর্যন্ত এসে তারপর উনার সাথে যাবো … এর মধ্যেই সোয়া দশটার দিকে ফরহাদ ভাইও ফোন করে জানালো যে উনি যাবে। তো উনার সাথেই প্ল্যান ফিক্সড হলো যে মোটামুটি ১২টার দিকে বের হয়ে উনি, শান্তা আপু আর আমি সুমন ভাইয়ের বাসায় যাবো। একদিক দিয়ে রিলিভড হলাম। এমনিতেই আমার নোবেল ভাইয়ের মতো মানুষদের গার্লফ্রেন্ডদের সামনে প্রচণ্ডরকমের রিজার্ভড হয়ে যাবার টেন্ডেন্সি আছে … কথা’র সময় তো সেইটা বাধ্যতামূলক ছিলো, পরে অন্যান্যদের ক্ষেত্রেও সেই অভ্যাসটাই রয়ে গেছে … ফলে, নোবেল ভাইয়ের সাথে গেলে উনি আর সন্ধির মাঝখানে নিজেকে ‘কাবাব মে হাড্ডি’ ফিল হতো … আগে তো তাও নোবেল ভাই প্রতিবেশী ছিলো বলে নিজেরও একটা দাবি ছিলো, আর সে কারণে কোথাও গেলে সাথে প্রেমিকা থাকলো কি না থাকলো তাতে খুব একটা যেতো আসতো না … কিন্তু এখন তো আসলে সেই দাবী আর নাই … দাবী করাটাও সাজে না … সো, ‘বিয়িং থার্ড পারসন’ টাইপ অস্বস্তিটাই বেশি কাজ করে … তো যাই হোক, আমরা মিরপুরবাসীরা ১২টায় রওনা দেয়ার প্ল্যান থাকলেও রওনা দিলাম আসলে দেড়টা সময়। মজার ব্যাপার হচ্ছে, ঈদের সিজনের ফাঁকা ঢাকা’র বদৌলতে আমরা শনির আখড়া গিয়ে পৌঁছালাম মাত্র আধা ঘণ্টায় … নর্মালি অন্য কোনো সময় হলে তো মিরপুর পার হতেই ঘন্টাখানেক লাগতো … তারপর গিয়ে পৌঁছাতাম তিন/চার ঘণ্টায় হয়তো বা … অবশ্য, এভাবে যদি চিন্তা করা হয় যে ‘ঢাকা শহরে আসলে মাইগ্রেটেড মানুষের সংখ্যা কত বেশি!’ , তাহলে কিন্তু ধরতে হয় যে ঈদের সময়কার এই ফাঁকা ঢাকাই আসল ঢাকা! মাইগ্রেটেড মানুষগুলো তখন ঢাকা থেকে চলে যায়, আর ঢাকার আসল চেহারা বেরিয়ে পড়ে! … আবার হয়তো বা বিষয়টা আরও অন্যরকম … সেই প্রসঙ্গে এখন আমরা না যাই …

একে তো ওই শনির আখড়া থেকে একাই ফিরতে হবে, তারওপর বাসায় ফিরতে হবে, কারণ অমিত ভুটান রওনা দেবে, সো ওর সাথে সি-অফ সাক্ষাত করার সুযোগটাও নিতে হবে … ফলে, আমি খাওয়াদাওয়া করে সুমন ভাইয়ের বাসা থেকে সাড়ে চারটার দিকে বের হয়ে গেলাম … বাকিরা আরও অনেকক্ষণই ছিলো … কিন্তু আমার আসলে আড্ডাবাজিরও মুড ছিলো না কেন জানি … সবাইকেই ক্যামন ছাড়া ছাড়া লাগছিলো … আবার নিজেকেও ক্যামন জানি বেমানান লাগছিলো … যাই হোক, বের হয়ে পড়লাম আরেক বিপদে … শনির আখড়ার মোড়টায় যেসব সিএনজি দাঁড়ানো তারা একেকজন ৪০০/ ৫০০ টাকা ভাড়া বলে বসে রইলো! … গিয়েছি ৩০০ টাকায়, এর বেশি ভাড়া এমনিতেও হয় না … বেশ কিছুক্ষণ দাঁড়ায় থাকার পর রিকশা নিয়ে সোজা রওনা দিলাম … যতদূর যাওয়া যায় সিএনজি পাওয়া পর্যন্ত – এইরকম কন্ট্রাক্ট … যেতে যেতে সেই যাত্রাবাড়ী বাসস্ট্যান্ডে গিয়ে একটা সিএনজি পেলাম, ৩০০ টাকা ভাড়া চাইলো … ‘ আপনাকেই তো খুঁজছে বাংলাদেশ’ টাইপের গদগদ ভাব নিয়ে উঠে পড়লাম …

এদিকে মিরপুর পৌঁছাতে পৌঁছাতে সন্ধ্যা হয়ে গ্যালো … এর মধ্যে অমিতও বেড় হয়ে গ্যালো, কারণ ও নাকি কোন এক ক্লাসমেটের বিয়েতে অ্যাটেন্ড করবে, তারপর বাসস্ট্যান্ডে যাবে … ফলে ওর সাথে আর দেখা হলো না … ফোনেই বিদায় পর্ব শেষ হলো …

এদিকে, আবার, মিন্নি আর তৃষার সাথে একটা ‘হঠাৎ দেখা’ প্ল্যান হয়ে গ্যালো কালকে … প্রথমে কিছুক্ষণ মিরপুর ২ নাম্বারের ওয়েস্টার্ন গ্রিল, তারপর টোলারবাগে তৃষার বাসা … তৃষায় বাসায় গিয়ে অবশ্য মিন্নি বেশিক্ষণ থাকলো না … আমি মোটামুটি বেশ কিছুক্ষণ কথাবার্তা বলে তারপর সাড়ে ৯টার দিকে বের হলাম … কথাবার্তা বলতে ওই টিউমার প্রসঙ্গে কথা হলো … তৃষা আগে জানতো না, কালকেই জানলো টিউমারটার কথা … ও বসে বসে আমার অনেক কাউন্সেলিং করার চেষ্টা করলো … আমি কেন ডাক্তার দেখাচ্ছি না, অপারেশনের ইনিশিয়েটিভ নিচ্ছিনা, কি নিয়ে আমি এতটাই হতাশ যে নিজের শরীর নিয়ে পর্যন্ত গরজ করছি না ইত্যাদি ইত্যাদি আর কি! … আমি এক-দুই বাক্যে আমার দার্শনিক জায়গাটা বোঝানোর চেষ্টা করলাম, কিন্তু লাভ হলো না … টিউমারের অপারেশন কিংবা ট্রিটমেন্টের সাথে যে সোহেলের সাথে ঘটা যাবতীয় ঘটনার সরাসরি কোনো ইমোশনাল ইফেক্ট নাই, সেইটাও ওকে বোঝাতে চাইলাম … অবশ্য ও পুরা ঘটনা, কিংবা ঘটনার আংশিকও জানে না … ফলে অতকিছুর সংক্ষিপ্ত ভার্সনও ওকে আসলে বলা গেলো না … মজা করে বললাম, ‘দিনযাপন পড়, তাইলেই সব জানতে পারবি!’ … যদিও আসলেও এটাই সত্যি যে কেউ যদি আমার দিনযাপন পড়ে, তাহলে আমাকে চোখের সামনে যা দেখে, যা বোঝে, তার চেয়েও আরও ভালো জানতে, বুঝতে পারবে! … কারণ, মুখ ফুটে আমি কথা যতই কম বলি, কি-বোর্ডে আঙ্গুলের বাড়িতে তার চেয়েও বেশি কথা লিখি …

আজকে সারাদিনে তেমন কিছুই হয়নাই … সকালে কিছুটা সময় ঘর গুছিয়েছি, তারপর ‘সি’জ ফানি দ্যাট ওয়ে’ নামের একটা সিনেমা অর্ধেক দেখে টিয়ামের বাসায় গিয়েছি মা’র সাথে … সেখান থেকে সন্ধ্যায় ফিরে এসে সিনেমার বাকি অংশ শেষ করে তারপর আবার ঘরের কিছু জিনিসপত্র গুছিয়েছি … তারপর খেয়েদেয়ে এখন বসে বসে দিনযাপন লিখছি, আর একটু পরেই ঘুমিয়ে যাবো …

ক্যামন জানি একটা ভ্যাপসা গরম … অস্থির লাগছে … আজকের মতো দিনযাপন লেখায় অফ যাই …

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s