দিনযাপন | ২৯০৯২০১৫

গতকালকে রাতে সোয়া একটার দিকে নেট-এর কি জানি হলো, অনেক চেষ্টা করেও কানেক্ট করতে পারলাম না। পরে ঘুমিয়ে পড়লাম গিয়ে … সকালে উঠলামও দেরি করে … বলতে গেলে ‘নাই কাজ, তাই করি আলসেমি’ মার্কা ছুটির দিনের আজকেই শেষ … কালকে মিউজিক স্কুলের ক্লাস শুরু হয়ে যাচ্ছে, সো সকাল থেকেই কিছুটা সময় প্র্যাকটিসে যাবে … তারপর পরশু দিনও নিশ্চয়ই টুকটাক কাজ থাকবে … স্কুলের জন্য পড়া, প্রশ্ন, হ্যান্ডআউট এসবও তৈরি করা শুরু করতে হবে, বিবিসি’র কাজও অলরেডি একটা পাইপলাইনে চলে আসছে …

আজকে সকাল থেকে খুব রেন্ডম সময় কাটলো … কিছুক্ষণ বইপত্র গুছালাম … একটা গাট্টি থেকে আমার বই, অমিতের বই, আব্বুর বই এরকম আলাদা করলাম বইগুলো … তারপর সিনেমা দেখতে বসলাম – ‘ইডেন’ … উইলিয়াম গোল্ডিং-এর লর্ড অভ দ্যা ফ্লাইজ-এর কাহিনীকে বেজ করে স্ক্রিপ্ট করা … যেহেতু গ্রুপে লর্ড অভ দ্য ফ্লাইজ নিয়ে কাজ শুরু করার পরিকল্পনা চলছে, স্ক্রিপ্টিং-এর কাজও চলছে, তাই মনে হলো যে এই ছবিটাও দেখে রাখা উচিৎ … দুইদিন আগে ট্রেলার দেখে এটাকে ওয়াচলিস্টে রেখে দিয়েছিলাম … আজকে দেখতে বসলাম … সিনেমা শেষে খেয়ে-দেয়ে, গোসল করে একটু রেস্ট নেয়ার জন্য শুলাম …

এর মধ্যেই দুপুরের আগে রানা ফোন দিয়েছিলো যে অ মিরপুরে আপেল ভাইয়ের ফ্যাক্টরিতে আসবে একটা শেলফ নেয়ার জন্য … আমি বলেছিলাম যে এসে ফোন দিতে, তাইলে আমিও ওইদিকে যাবো, তারপর গ্রুপের দিকে গেলেও যাওয়া যাবে … এদিকে মা প্ল্যান করলো যে বিকালের দিকে কেয়া ফুপিদের বাসায় যাবে … তো ভাবলাম যে গ্রুপে না হয় না গেলাম, অন্তত রানা আসলে এদিকে একটা ঝটিকা আড্ডা দিয়ে আসা যাবে … তো ও চারটার দিকে আসলো … আমিও বের হলাম … আপেল ভাইয়ের ব্যাগের ফ্যাক্টরি ইনডোর স্টেডিয়ামের উল্টা দিকেই ছিলো এতদিন … এখন শিফট করবে বলে কিছু জিনিসপত্র গ্রুপে দিয়ে দিচ্ছে, আর কিছু সাময়িকভাবে গ্রুপে রাখছে … সেগুলা নেয়ার জন্যই রানা’র আসা … আপেল ভাইয়ের ফ্যাক্টরিতে আমার একসময় যাওয়ার কথা ছিলো উনার ব্যাগের ছবি তোলার জন্য … কিন্তু ক্যামেরা হারানো, তারপর অক্টোবর – ফেব্রুয়ারি সময়টাতে চরম মানসিক টানাপোড়েনের কারণে আমার আর যাওয়া হয়নি, উনার ব্যাগের ছবিও ভালোমতো তোলা হয়নি … এদিকে উনি টাকার অঙ্কে আমার ছবি তোলার মজুরি দেবেন না বলে আমাকে উনার কিছু ব্যাগ ফ্রি ফ্রিও দিয়েছেন … এইটা নিয়েই আমার লজ্জার শেষ নাই … উনি আমাকে ছ্যাঁচড়াই ভেবেছেন কি না কে জানে! … যাই হোক, আজকে যখন উনি ফ্যাক্টরি শিফট করে ফেলছেন, তখন সামহাও আমার যাওয়া হলো …

তো, উনার ওইখানে আধাঘণ্টা মতো ছিলাম … তারপর আবার চলে আসলাম বাসার দিকে … মা’র সাথে কেয়া ফুপিদের বাসায় গেলাম … ওই বাসায় মোটামুটি ঘন্টা দুয়েক থাকা হলো … সামাজিক সৌজন্য সাক্ষাত আর কি! … গেলেও ক্যামন ক্যামন জানি লাগে, আবার না গেলেও ক্যামন ক্যামন লাগে! …  তো সেখান থেকে বাসায় ফিরে কিছুক্ষণ আবার বইপত্র গুছালাম, তারপর আজাইরা ফেসবুকিং করলাম, তারপর আবার কিছুক্ষণ ভায়োলিন প্র্যাকটিস করলাম, তারপর এখন দিনযাপন লিখছি … দিনযাপন লিখতে লিখতে আমার ক্ষুধাও পেয়ে গেছে, ফলে মাঝখানে লেখা-বিরতি নিয়ে খেয়েও এসেছি …

একটা ব্যাপার ভাবছিলাম আজকে … যদিও সেটার জন্য আমার একটা সেভিংসও থাকতে হবে … না হলে এটা ছেঁড়া কাঁথায় শুয়ে লাখ টাকার স্বপ্নের মতোও মনে হতে পারে … সেটা হচ্ছে যে প্রতি উইকএন্ডে নিজের জন্য ৫০০টাকা করে বাজেট ধার্য করা আর সেইটা দিয়ে কোনো একটা সিনেমা দেখতে যাওয়া, কিংবা কোথাও খেতে যাওয়া … সাথে সঙ্গী হিসেবে কেউ থাকলে থাকলো, নয়তো একাই … এই ‘একা’ ব্যাপারটা আমার জন্য যদিও চ্যালেঞ্জিং … কারণ আমার কাছে মনেই হয় যে কোথাও ঘুরতে যাওয়া, খেতে যাওয়া আর সিনেমা দেখতে যাওয়ার মতো কাজ একা হয় না … এগুলো হচ্ছে শেয়ার করার জিনিস … যেমন কোথাও খেতে গেলাম, খেতে খেতে সেই খাবারের টেস্ট-টা শেয়ার করা … সিনেমা দেখতে গেলাম, সিনেমার যে হিউমার, যেই অ্যাকশন, যেই ঘটনা, সেটার এক্সপেরিয়েন্সটা শেয়ার করা … কোথাও ঘুরতে গেলাম, সেই জায়গার দৃশ্যাবলী,  ঘটনাবলীর এক্সপেরিয়েন্স শেয়ার করা … একা একা কোথাও ঘুরতে যাওয়া যায়, সেখানকার ছবি তুলে এনে কাউকে বলা যায় ‘ দ্যাখো, এখানে গিয়েছিলাম’ , কিন্তু সেই ব্যক্তি তো আর আমার সাথে একই সময়ে একই জায়গায় থেকে সেই দৃশ্যটা নিজের চোখে অভিজ্ঞতা করে না! … একা একা খেতে গেলাম, কিন্তু তারপর আরেকজনকে যখন বলবো, ‘ওই জায়গায় খেতে গিয়েছি, খাওয়াটা এরকম টেস্ট’ , তাতে করে তো আরেকজন একই সময়ে একই টেবিলে বসে একই সাথে সেই একই খাবারের স্বাদটা পায় না … আমি বলতে চাচ্ছি যে, এসব ঘোরা, খাওয়া আর সিনেমা দেখার মতো কাজের ক্ষেত্রে ভার্চুয়ালি এক্সপেরিয়েন্স শেয়ারের চেয়ে কাউকে সাথে নিয়ে সেই এক্সপেরিয়েন্স-এর ভাগীদার করাটা অনেক বেশি তাৎপর্যপূর্ণ … ফলে, ভাবছি যে প্রতি বৃহস্পতিবার একটা ওপেন কল দেবো যে ‘ কালকে এরকম প্ল্যান, কে কে যাবা? ‘ … তারপর একান্তই যদি কেউ না যায়, তাহলে নিজের ইচ্ছার প্রচণ্ডতার ওপর নির্ভর করে হয় একাই যাবো, নয়তো যাবো না …

অক্টোবর মাসটা যদি কিছু টাকা সেভিংস খাতে রাখতে পারি, তাহলে হয়তো নভেম্বর মাস থেকে এই প্ল্যান কার্যকর করা যাবে … এইটাকে বলা যেতে পারে ‘ ফিড ইওর সোল’ টাইপের একটা কিছু … ওই যে সবাই খালি বলে না, ‘ আত্মাকে অতৃপ্ত রাখতে হয় না’ ! … ওইরকম আর কি! …

যাই হোক, আজকের মতো এখানেই অফ যাচ্ছি … ওভার অ্যান্ড আউট …

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s