দিনযাপন | ৩০০৯২০১৫

দিনের শুরুই হলো বেলা ১১টা সময় … তারপর ভায়োলিন নিয়ে প্র্যাকটিসে বসলাম … ঘন্টাখানেক প্র্যাকটিসের পরে ডি স্ট্রিংটাই ছিঁড়ে গ্যালো বাজানোর মাঝখানে … তখন ভায়োলিন বাদ দিয়ে বসে বসে মোবাইলেই পিয়ানোর অ্যাপ্লিকেশনটায় টিউনগুলা বাজালাম … গোসল-টোসল করে বের হতে হতে প্রায় পৌনে ২টা বাজলো … রিকশা খুঁজতে খুঁজতে তারপর একটা সিএনজি পেয়ে গেলাম … রিকশা ভাড়াও পল্লবী থেকে তালতলা পর্যন্ত ১০০টাকা চায়, সিএনজি-ও ১০০ টাকায় রাজি … সো, বেটার অপশন হিসেবে এই গরমে সিএনজি-ই সই … যাই হোক, মিউজিক স্কুলে গিয়ে আগে ভায়োলিন ক্লাস করলাম … ঈদের বন্ধের জন্য গত শনিবার ক্লাস হয়নি, তাই আজকে করে নিলাম … নইলে সেপ্টেম্বরে মাত্র দুইটা ক্লাস করা হতো ! … তিনটা হয়ে তাও একটা হিসাবের মধ্যে থাকলো … আবার আজকে মিউজিক স্কুলে ‘অডিও-ভিজুয়াল’ ক্লাস ছিলো মিউজিক থিওরির … সেখানে আজকের টপিক ছিলো ভোকাল … সেই ক্লাস করতে গোপীও গ্যালো … ওর এগুলাতে আগ্রহ আছে বলে ওকে বলেছিলাম এই ক্লাসগুলোর কথা … যেহেতু ক্লাসগুলো ফ্রি অভ কস্ট, আর ওপেন ফর অল, সেহেতু যে কেউ মিউজিক নিয়ে ইন্টেরেস্টেড থাকলে আসলে এই ক্লাসগুলো করতেই পারে … এদিকে গোপী আবার মিউজিক স্কুল চিনে চিনে আসতে গিয়ে প্রথমে কাজিপাড়া পর্যন্ত চলে গ্যালো … তারপর আবার উল্টা অনেকটা পথ ফিরে এসে মিউজিক স্কুল পৌঁছালো … ক্লাসটা বেশ ইন্টেরেস্টিং ছিলো … ফিমেল ভোকাল, মেল ভোকাল, সোপ্রানো, আল্টো, টেনর, বারিটোন, বেজ এইসব নিয়ে কথাবার্তা … আমার চিন্তা হচ্ছে আমি বিভিন্ন বাংলা গান, মিউজিক এসবের স্টাফ নোটেশন লেখার একটা মহান উদ্যোগ নেবো … শুরু করবো প্রাচ্যনাটের গান দিয়ে … সে কারণে মিউজিক ইন্সট্রুমেন্ট বাজানোর চাইতে ভালোভাবে আমাকে শিখতে হবে মিউজিক থিওরি … বাংলা গানের ওয়েস্টার্ন স্টাফ নোটেশন ইন্টারপ্রিটেশন মোটেই সহজ না … কিন্তু আমি চেষ্টা করতে চাই … কয়েকদিন আগে ঠিক করলাম প্রাচ্যনাটের ‘রাজা এবং অন্যান্য’র টোটাল মিউজিক স্কোর -এর স্টাফ নোটেশন শিট বানাবো … ছোটোখাটো মিউজিক কিউ থেকে শুরু করে প্রতিটা গানের … নিজে নিজেই চেষ্টা করবো, তারপর সেটা অভিজ্ঞ কাউকে দেখাবো … এইসব কাজ আমার মনে হয় একা করাই ভালো, কারণ আমি দেখেছি যে এইধরনের কাজগুলোতে কথায় কথায় অনেকেই রাজি হয়, এমনকি কাজের প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিশাল এক সমুদ্র জ্ঞানও দিয়ে দেয়, কিন্তু আসল কাজের বেলায় অদৃশ্য একটা লেজ গুটিয়ে পালায় …

যাই হোক, ক্লাস শেষে আমাদের একেকটা গ্রুপ করে অ্যাসাইনমেন্ট-ও দিয়ে দিলো … প্রেজেন্টেশন তৈরি করতে হবে টাইপ অ্যাসাইনমেন্ট … তিনজন করে একটা টিম … কাছাকাছি বসার সুবাদে জ্যানেট, গোপী আর আমার টিম হয়ে গ্যালো … একদিক দিয়ে ভালো … গোপীর সাথেও আমার গ্রুপে গেলে দেখা হবে, জ্যানেটের সাথেও ক্লাস করতে গেলে দেখা হবে … সো আলাপ-আলোচনা করার সুযোগ থাকবে …

ভায়োলিন ক্লাসে আজকে স্যারের অনেক বয়ান শুনতে হলো … সমস্যাটা আমারই … কিন্তু সেটা থেকে নিজেকে কিছুতেই উৎরাতে পারছি না গত দুই সপ্তাহ যাবৎ … আমার টেন্ডেন্সি হচ্ছে আমি খুব তাড়াতাড়ি টিউন ধরে ফেলতে পারি, তারপর সেটা রেন্ডম বোয়িং করেই বাজিয়ে ফেলি … কিন্তু প্র্যাকটিস শিটে বোয়িং-এর যেই প্যাটার্ন দেয়া আছে, যেমন ‘হিল অভ বো’ , ‘পয়েন্ট অভ বো’ কিংবা ‘মিডল অভ বো’ , একেকটা নোটে শ্বেই ইন্সট্রাকশনটা ফলো করতে গেলেই আমার টিউন উল্টাপাল্টা হয়ে যায়! … আবার হয়তো বা টিউনও ঠিক আছে, বো-এর পজিশনিং-ও ঠিক আছে, কিন্তু হোল বোয়িং এর সময় হাত আর সোজা থাকে না … সেইটা আবার হয় যখন আমি স্টাফ নোটেশন দেখে বাজাতে যাই … মুখস্ত বাজাতে গেলে আবার সেটাও ঠিকঠাক হয় … কিন্তু স্যার তো আর এইসব নানাবিধ জিনিসপত্র মাথায় রাখবেন না … উনার কথা হচ্ছে লেসন য্যামন করে ইন্টাস্ট্রাকশন দেয়া আছে, সেটা প্র্যাকটিস করাটাই মূল কাজ … আমি যা যা বলছি সেগুলা আরও অ্যাডভান্স লেভেলের কাজ … এখন আপাতত আই শুড ডু দ্য বেসিক … আমিও ‘ স্যার, সেটা তো বুঝি, কিন্তু …’ টাইপ একটা ভাবসাব দেখাইলাম …

বিকালে ক্লাস শেষে বের হয়ে গ্রুপে গেলাম … গোপী বাসায় না কই গ্যালো জানি না … আমি রিকশা নিয়ে রওনা দিলাম … রাস্তা খালি বলে আধাঘণ্টাতেই পৌঁছায় গেলাম কাঁটাবন … কিছুক্ষণ পর খালি রানা আসলো … মাঝখানে কিছুক্ষণের জন্য ইমন ভাই … আমার খালি মনে হতে লাগলো যে হুদাই আসলাম! … কাঁটাবন পর্যন্ত যাওয়া আসা মানেই ৪০০ টা টাকা এই দুর্দিনে খরচ হয়ে গ্যালো, অথচ ‘হুদাই’! … বসে থাকতে থাকতে ক্লান্ত হয়ে সোয়া ৮টার দিকে বের হয়ে গেলাম আমরা …

আজকে ‘অন দিজ ডে’ -তে দেখি স্মৃতির ছড়াছড়ি! …

২০১২ সালে লিখেছিলাম ‘ওয়েলকাম ডিপ্রেশন’ , সেখানে আবার সোহেল তখন কমেন্ট করেছিলো ফান করে … খেয়াল করে দেখলাম যে ওই সময়টাতে যতদিন মুগ্ধ’র সাথে একরকমের গল্প ছিলো, সেই সময়টার মধ্যে সোহেলও বেশ নিয়মিত আমার ছবি, স্ট্যাটাস এসবে কমেন্ট করতো! … কাকতালীয়ই হবে হয়তো! …

তারপর দেখলাম ২০১১ সালে রুবেল ভাইয়ের হলুদের প্রোগ্রামের অনেকগুলা ছবি … উনাদের বিয়ের ইভেন্টগুলোতে আমি ছবি তুলেছিলাম … সে কারণেই অনেক ছবি আমার প্রোফাইল থেকেই শেয়ার দিয়েছিলাম … স্টার কাবাবে হলুদের প্রোগ্রাম … গ্রুপের বিশাল দলবল … অনেক মজা হয়েছিলো … আজকে এতদিন পরে ছবিগুলো দেখতে গিয়ে একেকজনের সেই ৪/৫ বছর আগের চেহারা দেখে মাজাই লাগছিলো …

আবার ২০১০ সালেরও এই একই দিনে চায়না থেকে আসা দলটার সাথে আমাদের শেষ রাতের স্মৃতিও আছে … ফ্রেয়া, শানশান, লিয়াহ, পার্ল, রাইয়ান, আরেকজন এর নাম ভুলে গেছি … ওরা পাঠশালায় আমাদের ব্যাচের সাথে একটা বেসিক ওয়ার্কশপ করেছিলো … আবার ভাস্করের বান্ধবী বাই জি’র ইউনিভার্সিটির জুনিয়র হবার কারণে ভাস্করের ব্যাচের সাথেই ওদের মূল হ্যাংআউট হয়েছিলো … ওদের সাথে আমারও বেশ হ্যাংআউট হয়েছিলো … চিড়িয়াখানা, বুড়িগঙ্গা, সোনারগাঁও … বিভিন্ন জায়গায় … আবার, লালমাটিয়ার যেই বাসায় ওরা ছিলো সেখানে ওরা একদিন রান্না করে খাইয়েছিলো আমাদেরকে … একদিন আবার নাফিজের বাসায় দাওয়াত ছিলো, একদিন আমার বাসায় সবাইকে আসতে বলেছিলাম … আবার ওদের ইনভাইটেশনেই লাস্ট ডিনারে গিয়ে আমি জীবনের প্রথম মদ খেয়েছিলাম … অনেক সিগ্নিফকেন্ট কিছু স্মৃতি আছে আর কি ওদের সাথে … তো, ওরা যেদিন চলে যায় তার আগের রাতে ওরা সবাই, ভাস্করদের ব্যাচেরকয়েকজন, আমি এরকম কয়েকজন দৃকের ফটো স্টুডিওটাতে ছিলাম … সারারাত ঘোরাঘুরি, আড্ডাবাজি টাইপের ব্যাপারস্যাপার ছিলো … সেই স্মৃতির সাক্ষী হিসেবে একটা ছবি তোলা হয়েছিলো সবাই মিলে, সেটাও ফেসবুক আজকেই মনে করিয়েছে …

হঠাৎ হঠাৎ এতরকমের স্মৃতি একসাথে হাজির হলে মজাই লাগে! তখন মনে হয় যে ‘ আরে ! এক বছরের ব্যবধানেই এত রকমের ঘটনা ঘটেছিলো!’ …

আসলেও তো তাই! … গতবছরের এই দিনগুলা! … বিভিন্নভাবে ভুলে থাকার ভান করে খুব ‘ আই অ্যাম কুল’ টাইপের ভাবসাব নিয়ে চলছি … কিন্তু যতই দিন যাচ্ছে, আসলে প্রতিটা মুহুর্ত, প্রতিটা ঘটনা আবার চোখের সামনে ভেসে উঠছে! … ৫ অক্টোবর! … অপেক্ষায় আছি ৫ অক্টোবরের! … কি করবো জানি না … কিন্তু খালি মনে হচ্ছে যে ৫ অক্টোবর তারিখে একটা কিছু হবে! … কি হবে দেখা যাক! …

[ যদি সোহেল দিনযাপন পড়ে থাকে, কিংবা কেউ ওকে এই লেখার কথা জানিয়ে থাকে, তাহলে হয়তো বা কিছুদিন আগের মতো আরেকদিন সোহেল আমাকে আরেকটা মেইল লিখবে, আবারো সেই পুরানো কথাই বলবে যে , ‘প্লিজ কাউকে বইলো না! … আমার ফ্যামিলি ধ্বংস হয়ে যাবে … ইত্যাদি ইত্যাদি … চোরের মন তো পুলিশ পুলিশই হবে, সেটাই স্বাভাবিক … আমার এখন কেন জানি মনে হয় আমার সবচেয়ে শান্তি হতো মনে হয় ও মরে গেলে! তাইলে অন্তত এইটা নিশ্চিত থাকতাম যে ও আর কারো লাইফ হেল করার সুযোগ পাচ্ছে না, আর আমারো দুইদিন পর পর ওর ‘বিন্দাস’ জীবনযাপনের খোঁজখবর পেয়ে, ছবি দেখে মুখের মধ্যে একহাজারটা গালি আসতো না! … মানুষ পারেও! … একসময় আমিই মনে মনে ঠিক করেছিলাম ওকে খুন করবো … সেটা করে ফেললেই মনে হয় ভালো হইতো! অন্তত আমার জীবনযাপন, চিন্তাভাবনা থেকে তো একটা আপদ বিদায় হতো! … ]

যাই হোক … আজকে আর লিখছি না … কালকে সকাল সকাল উঠে কাজে ঝাঁপায় পড়তে হবে … সামনে মহা ব্যস্ততার দিন আসতেসে … দম ফেলারও টাইম পাবো না বোধহয় … অতএব …

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s