দিনযাপন | ১২১০২০১৫

সো ফার সো গুড টাইপের একটা দিন গেলো আজকে …

সকাল সকাল ক্লাস, তাই ৭টায় উঠে ৯টায় বের হয়ে যাওয়া … স্কুলে একসাথে অনেকগুলো কাজ শেষ করা … কই যাবো কি করবো করতে করতে দেরি করে বের হওয়া … নায়ীমীর বাসায় যাবো না কই যাবো ভাবছি … নায়ীমীর নিজেরই বাসায় যেতে ইচ্ছা করছে না … সেই ছুতায় দুইজন মিলে রাইফেলস স্কয়ার-এ নাচোস আর ব্রেড অ্যান্ড বিয়ন্ডে কফি খেয়ে সময় পার করা … ইয়েলো-তে উইন্ডো শপিং … একটা জামা সেই ঈদের আগে থেকে পছন্দ হয়ে ছিল … কোন আইউটলেটেই সাইজ মিলছিল না … এখানে সাইজ মেলার পর নতুন করে রিয়ালাইজেশন হলো যে ইয়েলোর জামা পড়তে হলে আর যাই হোক কোমর চাপা হতে হবে, কারণ ওদের সব কামিজেরই কোমরের কাটটা হঠাৎ চাপা হয়ে যায়! … তারপর ‘জামাটা নিয়েই ছাড়বো’ চিন্তাকে বিসর্জন দিয়ে ‘ হয়তো ভালো কিছুর জন্যই ওই জামার দামের ২০০০টাকাটা বারবার খরচ হওয়া থেকে বেঁচে যাচ্ছে’ চিন্তায় নিজের মনকে কনভার্ট করে বের হয়ে আসা … গ্রুপে গিয়ে রিয়েলাইজ করা যে আজকে আসলে গ্রুপে তেমন কেউ আসবে না, বরং আমি আর নায়ীমী যে যার বাসায় চলে গিয়ে রেস্ট নিলেই পারতাম … তারপর কিছুক্ষণ এমনি বসে থেকে আড্ডাবাজি … মেবিন, রুপু, নায়ীমী, ফুয়াদ, সজীব … ‘আলু কাঠি’ নাম দিয়ে ফ্রেঞ্চ ফ্রাই খেতে যাওয়া ক্লাব গ্রিলে … সজীব যায় নাই … আমার, নায়ীমীর আর মেবিনের একইরকম স্যান্ডাল, ডিফেরেন্ট কালার … তিন জোড়া পায়ের ছবি তুলে ফেসবুকে আপলোডের ঢং-ঢাং … বৃহস্পতিবার সিনেমা দেখার প্ল্যান … জালালের গল্প … গ্রুপে বসে সময় কাটানোর জন্য দলবেঁধে স্ক্রিপ্ট রিডিং – লর্ড অভ দ্যা ফ্লাইজ … কালকে থেকে ফর্মালি রিডিং শুরু হবে … নতুন প্রডাকশন … নীল একবার কোথা থেকে এসে ওয়াশরুমেই গেলো না আজাদ ভাইয়ের সাথে দেখা করলো … যেমন চুপচাপ ঢুকল, তেমন চুপচাপ বের হয়ে গেলো … লাস্টের দিকে এসে গোপী জয়েন করলো … কতক্ষণ পর নিচে নেমে চা খেয়ে বাসার উদ্দেশ্যে সিএঞ্জি খোঁজা শুরু হলো … অমিত একবার বলেছিল বাসায় ফিরবে, আবার ফোন দিয়ে জানালো যাবে না … একা একা সিএঞ্জি খোঁজাটা রাতের বেলা পেইন … ফুয়াদ আর গোপীকে সঙ্গী করে শাহবাগ গেলাম … ওরাই সিএঞ্জি ঠিক করে দিলো … ২২০ টাকা … আজকে ৩০ টাকা সেভ …

সো ফার সো গুড …

গত বছর এই দিনে মুগ্ধ’র বাসায় পোস্ট – ঈদ বারবিকিউ পার্টি ছিলো … অনেক মানুষজন … আমি যাবো কি যাবো না কনফিউজড ছিলাম … যেই মানসিক অবস্থা ছিলো, মনে হচ্ছিলো আমাকে দেখেই সবাই বুঝে যাবে কিছু একটা ঝামেলা হয়েছে, তারপর মুগ্ধ, পূর্ণা ওরা হয়তো এটা-সেটা জিজ্ঞেস করলে আমিও বলে দেবো সবকিছু … সোহেল চায়নাই আমি যাই … কিন্তু সরাসরি না-ও বলতে পারে নাই … মুগ্ধকে বলে দিসিলাম যাবো না … কিন্তু যখন রিয়েলাইজ করসিলাম যে ও প্রেমিকার সাথে ডেটিং-এ গেছে, তখন সবকিছুর ক্ষ্যাতাপুরি টাইপ মনোভাব নিয়ে চলে গেছিলাম … সোহেলকে একটা মেসেজ পাঠিয়েছিলাম খুব খোঁচা মেরে … ও অনেকবার ফোন দিয়েছিলো, আমি ধরি নাই … ধারণা ছিলো মেসেজ পেয়েই ফোন দিচ্ছে … কথা বলতে ইচ্ছা করছিলো না … রাতে আবার ফোন দিয়েছিলো … মুগ্ধ’র বাসায় থাকা না থাকা নিয়ে কনফিউশন … থাকলে সোহেলের মনে খুঁতখুঁতানি … সবাই ড্রিঙ্কস করবে, আমিও যদি ড্রিঙ্কস করে টাল হয়ে আবার সব কিছু বলে দেই! … কিন্তু সরাসরি বলতে পারে নাই থাইকো না … অনেক বিরক্ত হইসিলাম… থাকবো না সিদ্ধান্ত নিসিলাম … পরে যখন মুগ্ধ ডাক দিসে বের হওয়ার জন্য, গাড়ি দিয়ে পৌঁছায় দিয়ে আসবে, তখন বলসি থাকবো … মুগ্ধ একটা এক্সপ্রেশন দিসিলো … এখনো মনে আছে … হয়তো কিছুই না জানার পরও এইটা অন্তত বুঝছিল যে এই একবার হ্যাঁ, একবার না বিষয়গুলোর সাথে সামহাও সোহেলের কানেকশন আছে … সোহেল মনে হয় ওই রাতে এই টেনশনেই ঘুমাতে পারে নাই যে আমি না মুগ্ধদের সবকিছু বলে দেই! … পরদিন সকালে ঘুম থেকে উঠসি ১২টায় … সোহেল ফোন করে প্রথমেই বলসিল, ‘ এখনো মুগ্ধ’র বাসায় তুমি!’ … বিরক্ত হইসিলাম … যাই হোক, ওইদিন রাতের বেলা এমনিতে অনেক মজা হইসিলো, কিন্তু আমি কিছুই এঞ্জয় করার মুডে ছিলাম না … ভালো লাগছিলো না কিছু … কত বড় একটা ঘটনা ঘটিয়েছি মাত্রই সপ্তাহখানেক আগে! … এত মানুষ, অথচ কারো সেটা সম্পর্কে বিন্দুমাত্র ধারণা নেই … মানুষের জীবন কত অভিনয়ের! … কত মিথ্যার! … কত গোপনীয়তার …

ঐ রাতের ছবি এখানে দিয়ে রাখি … স্মৃতিকে স্থায়ী করার জন্য … ছবিগুলা অনেক সিগনিফিকেন্ট … ভবিষ্যতে ছবিগুলাই একেকটা মুহুর্তের কথা হুট-হাট করে মনে করিয়ে দেবে …

কালকে মঙ্গলবার … আমার অফ ডে … কিন্তু শান্তি নাই … ট্রান্সক্রিপ্ট-এর কাজ করতে হবে … দুইটা ট্রান্সক্রিপ্ট মেবিনকে দিয়ে দিয়েছি যতটুকু পারে করে দিয়ে আমার কাজে হেল্প করার জন্য … তাতে আমার যেমন কাজের চাপ কমবে, ওরও কিছু ব্যস্ততা হবে, অল্প হলেও একটা ইনকাম হবে …

কালকে ভায়োলিন প্র্যাকটিস করতে হবে অনেকক্ষণ … প্রতিদিন রাতে বাসায় ফিরে আধাঘণ্টার মতো প্র্যাকটিস করি … কিন্তু পরপর দুই সপ্তাহ ক্লাস মিস হয়ে গেছে … শনিবার না গেলে বুধবার যাওয়া যায় … আমি গত বুধবারে যাই নাই কিনু কাহারের থেটারের শো-এর জন্য … এই শনিবার যাই নাই প্রচণ্ড মাথা ব্যথার জন্য … তার আগের শনিবার কথা নাই বার্তা নাই প্রচণ্ড ডি-হাইড্রেশন হয়ে গিয়েছিলো … লুজ মোশন … বমি বমি ভাব … এই বুধবারে ক্লাসে যাওয়াই লাগবে … এই মাস্যার বেতনও দেই নাই … টাইম চলে গেছে … ফাইন হবে … কি জানি কুফা আছে ভায়োলিন ক্লাসের সাথে … শরীফ ভাইয়ের কাছেও একমাস যেতে না যেতেই ক্লাসে ভাটা পড়া শুরু হলো … এখানে মিউজিক স্কুলেও তাই … এরকম হলে তো হবে না … নভেম্বর থেকে পিয়ানোও শুরু করবো …

ওইদিন সেন্ট্রাল রোডের বাসায় গিয়েছিলাম … সর্বনামের প্র্যাকটিসে … চান্টিং বোল-টা নিয়ে আসছি … বাকি ইন্সট্রুমেন্টগুলাও আনতে হবে … কিবোর্ড-টা আনতে হবে একদিন … পিয়ানো শুরুর আগে নিজে নিজে লেসন বুক ওয়ান করে ঝালাই করতে হবে …

আজকে আর লিখবো না … ঘুমায় থাকি … সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠেই ট্রান্সক্রিপ্টের কাজ নিয়ে বসতে হবে … কালকে আরেকটা পাঠাতেই হবে, যেভাবেই হোক … মাত্র ৬ মিনিটের ট্রান্সক্রিপ্ট হইসে ওটার … আরও ১ ঘণ্টা ৫ মিনিটের মতো বাকি … ক্যামনে কি জানি না … কান-মাথা যা হয় হবে … মরি- বাঁচি ট্রান্সক্রিপ্ট করি …

আজকের মতো অফ যাই …

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s