দিনযাপন | ১৩১০২০১৫

১৩ অক্টোবর একটা সিগ্নিফিকেন্ট দিন …

কেউ যদি ভেবে থাকেন যে সোহেল সংক্রান্ত কোন ঘটনা, তাইলে ভুল … আবার কেউ যদি ভেবে থাকেন নোবেল ভাইয়ের জন্মদিন, সেজন্য তাহলেও ভুল …

আমার জীবনে এই দিনটার একটা ঐতিহাসিক তাৎপর্য আছে …

তবে, সেই তাৎপর্যের সাথে নোবেল ভাইয়ের জন্মদিনের একটা সূক্ষ্ম সম্পর্ক আছে এভাবে যে আমি দিনটাকে মনে রাখি নোবেল ভাইয়ের জন্মদিন দিয়ে … মানে, নোবেল ভাইয়ের জন্মদিনে এরকম ঘটেছিলো – এভাবে … এতদিন পর্যন্ত তাই-ই ছিলো … কিন্তু এবার টাইমহপ-ও আমাকে মনে করিয়ে দিয়েছে যে আজ সেই দিন!

একটা স্ট্যাটাস দিয়েছিলাম, ১৩ অক্টোবর ২০০৯ তারিখে, ” ক্যাসিয়া জাভানিকার প্রতি ঈর্ষারা আজ মৃত … পাখি আজ নীল রঙা মেঘকে ছুঁতে পেরেছে ” … লিখেছিলাম অনিক-কে নিয়ে … দিনটাকে কিভাবে ব্যাখ্যা করা যায়? ‘দ্য ফার্স্ট কিস’ – এভাবে? … এটা বললেও অবশ্য আইডিয়াটা ক্লিয়ার হয় না … কারণ ইন্টেরেস্টিংলি ওর প্রতি আমার এই দিনটার আগেও কোন সেক্সুয়াল অ্যাট্রাকশন ছিলো না, এমনকি ওই দিনের পরেও হয় নি! … খালি ওই একটা দিনই একটা সাডেন মোমেন্টের জন্য ওরকম একটা ইমোশন তৈরি হয়েছিলো … হয়তো একটা ঘরে দুইজন মানুষ একদম একা থাকার সাইকোলজিক্যাল ইফেক্ট ছিলো … অনিক আমার অনেক পছন্দের একজন মানুষ ছিলো। ওর প্রতি আমার অনেক গভীর ভালোলাগার অনুভূতি কাজ করতো একসময় … সেটার কারণ ছিলো ওর চিন্তা-ভাবনা, পড়াশোনা এসবের সাথে আমার সাদৃশ্য … ওর সঙ্গটা অনেক আরামদায়ক ছিলো … মনে হতো আমি অনেককিছু শিখে গেছি … ইনফ্যাক্ট, ওর সাথে পরিচয় হবার কারণেই আমি আসলেই জীবন সম্পর্কে এমন কিছু চিন্তা-ভাবনার ট্রান্সজিশনের মধ্যে দিয়ে গেছি, যার কারণে আজকের যেই প্রজ্ঞা থিয়েটার করে, মিউজিক নিয়ে ভাবে, আর্ট বুঝতে চায়, ফটোগ্রাফি করে, জীবনকে একটা ‘অজানা গন্তব্যের’ পথ ভেবে ‘যা আছে কপালে’ বলে সামনে হাঁটে – সেই প্রজ্ঞার নবজন্ম হয়েছে … সো ফার, হি ইজ দ্যা মোস্ট ইনফ্লুয়েনশিয়াল পারসন ইন মাই লাইফ ফর হোয়াট আই অ্যাম টুডে … যাই হোক, ওর সাথে অনেক ভালো একটা মানসিক বন্ধন ছিলো আমার … আর সেটার প্রভাবেই একটা সময় আমি ওর প্রতি মানসিকভাবে দূর্বল হয়েওছিলাম … কিন্তু সেইটা সরাসরি কখনো প্রকাশ করি নাই … আমার মনের কথা মনেই থাকুক, মুখ ফুটে না বলি টাইপের একটা ভাবসাব ছিলো মনের মধ্যে … সামথিং ফিশি টাইপও বলা যায় … ধরে নিয়েছিলাম যে এই ১৩ অক্টোবর ইন্সিডেন্টটাও এই অনুভূতির পেছনে একটা ফ্যাক্টর …

তো একদিন ঘটনাচক্রে জেনেছিলাম যে তার যেই গার্লফ্রেন্ড চলে গেছে বলে সে আমাকে পরিচয়ের প্রথম দিকে বলেছিলো, সেই গার্লফ্রেন্ড আসলে আমাদের পরিচয়ের প্রায় ৪ বছর ধরেই বর্তমান ছিলো … খালি মাঝে মাঝে তাদের ঝগড়া-টগড়া হতো, অনেকদিনের জন্য যোগাযোগ বন্ধ থাকতো – এটাই তাদের সম্পর্কের রুটিন … আমি ধারণা করতাম যে তার মাঝে মাঝেই একে-তাকে ভালো লেগে যায়, তাদের সাথে তার খুব প্রেম প্রেম ভাব হয়, তারপর একসময় আর কন্টাক্ট হয় না, কিংবা নর্মাল বন্ধুত্বের মতো চলাফেরা থাকে বা থাকে না … কিন্তু কন্সট্যান্ট গার্লফ্রেন্ড থাকাটা তো ভিন্ন বিষয়! …তারপর রিয়েলাইজ করলাম যে যখন তার গার্লফ্রেন্ড থাকতো, তখন আমার সাথে সে সকল যোগাযোগ বন্ধ করে দিতো, ফোন করলেও ধরতো না … আবার যখন গার্লফ্রেন্ডের সাথে ঝামেলা হতো তখন হুট-হাট ফোন করে খুব আবেগ নিয়ে বলতো, ‘ কেমন আছো প্রজ্ঞা?’ … ব্যাপারটা রিয়েলাইজ করার পর আত্মসম্মানে লেগেছিলো অনেক … নিজেকে ‘স্টপ গ্যাপ’ মনে হচ্ছিলো! … তার গার্লফ্রেন্ড আছে জানলে নিশ্চয়ই তার সাথে আমি আরও অন্য পারস্পেক্টিভ থেকে মিশতাম! … ওর মতো একটা মানুষও এরকম হতে পারে সেইটা আমি অনেকদিন বিশ্বাস করতে পারি নাই, মানতে পারি নাই … একটা সময়, একদমই হুট করেই ওর সাথে সকল যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছি … অনেক বড় একটা শক পেয়েছিলাম মানুষ বুঝতে, মানুষ চিনতে! … অনেক কষ্টও পেয়েছিলাম যে একটা মানুষ তার জীবনের এত বড় একটা সত্য এভাবে গোপন করে গেলো! … যখন আমাকে নিয়ে তার ওই গার্লফ্রেন্ড ঝামেলা শুরু করলো, তখন বাধ্য হয়ে জানালো! … ওর গার্লফ্রেন্ড ফেক অ্যাকাউন্ট খুলে আমার সাথে ফ্রেন্ড হয়ে আমার প্রোফাইল স্টকিং করেছে বহুদিন যাবৎ … যেহেতু আমি তার অস্তিত্বই জানতাম না, তাই আমার সেইটার ব্যাপারে বিন্দুমাত্র ধারণাও ছিলো না! … পরে যখন তার কথা জেনেছি, তখন আবিষ্কার করেছিলাম যে এরকম ঘটনা ঘটছে! …

আমার মনে আছে, একদিন ওকে ফোন করে পাচ্ছিলাম না … খুব সম্ভবত ওর জন্মদিনেই … উইশ করবো বলে ফোন দিচ্ছিলাম … মনের ভেতর থেকেই প্রচণ্ড বিরক্তি নিয়ে একটা এক্সপ্রেশন বের হয়েছিলো – ‘ হুহ! অসহ্য!’ … এবং আমি জাস্ট অবাক হয়ে ফিল করছিলাম যে ওর প্রতি আমার আর কোনোরকমের অনুভূতি কাজ করছে না … ভালো বন্ধু, কাছের মানুষ, পছন্দের মানুষ … কিছুই না! … হঠাৎ করেই যেন সব অনুভূতি কর্পূরের মতো উবে গিয়ে ও ‘জাস্ট অ্যানাদার নোউন ফেস’ -এ পরিণত হলো! …

২০১০ এর ঘটনা ছিলো সেটা? নাকি ২০১১? … আমার এখন মনে পড়ছে না! … কোন ঘটনার রেফারেন্সও পাচ্ছি না মনে করার জন্য …

যাই হোক … একটা ছোটো ঘটনার রেফারেন্সে তো প্রায় মহাকাব্য লিখে ফেলতে শুরু করলাম … অনিকের প্রসঙ্গ আরও বিভিন্ন সময় আরও অনেকভাবে আসবে … তখন অনেক অনেক কথা লেখা হবে … আরও ডিটেইলে …

আর কি লিখবো? … আজকে তো সারাদিনে লেখার মতো তেমন কিছু ঘটে নাই … সারাদিন বাসায় ছিলাম … সন্ধ্যায় গ্রুপে গিয়ে লর্ড অভ দ্য ফ্লাইজ-এর স্ক্রিপ্ট পড়সি দলবেঁধে বসে …

সো, আজকের মতো লেখা শেষ …

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s