দিনযাপন | ১৮১০২০১৫

হয়তো বা এটা হবারই ছিলো যে আমি সত্যি সত্যিই একদিন মুহুর্তের সিদ্ধান্তে সোহেলের বোনকে কোনোভাবে জানিয়ে দেবো আমাদের সবকিছু! … মাঝে মাঝেই তো প্রচণ্ড জিদের চোটে ভাবতাম যে এটা করবোই … কিন্তু কখনো আসলে সত্যিকার অর্থে ইচ্ছা কাজ করে নাই যে আর যাই হোক, দুলু আন্টিকে এখনি বলি … সবকিছুতে আমি যেমন ‘দ্যাটস ইট!’ মোমেন্ট খুঁজি, এখানেও হয়তো তাই খুঁজছিলাম …

কিন্তু অতঃপর, দুলু আন্টিকে আমি সবই জানালাম … একদমই হঠাৎ সিদ্ধান্তে … উইদাউট এনি কনফিউশন … ‘যা করছি, কেন করছি?’ জাতীয় প্রশ্নেরা মাথায় ঘুরপাক খায়নি … খুব ঠাণ্ডা মাথায় খুব গুছিয়ে প্রতিটা কথা লিখেছি … লেখা শেষ করে ফোনের ইন্টারনেট, ওয়াইফাই সব বন্ধ করে দিয়ে ঘুমিয়ে গেছি …

ঘুম ভেঙ্গেছে সোহেলের ফোনে … ওর জিপি নাম্বারটা ব্লক করে রেখেছিলাম, যাতে ও কখনো ফোন করতে না পারে … জিপি থেকে ফোন করে পায়নি যথারীতি … এয়ারটেল নাম্বারটা কোথাও লেখা ছিলো কখনো, তাই ওই নাম্বারটা ব্লক করা হয়নি … ফোন করেছে অনেকবার … প্রথমে কনফিউজড হয়ে ধরিনি যে দুলু আন্টিই ফোন দিলো কি না আবার! উনি যদি হয়ে থাকে, তাহলে ফোনে ফোনে আমি আসলে কি বলবো! … তারপরেই মনে হলো যে এটা সোহেলেরই এয়ারটেল নাম্বার … তখন ফোন সাইলেন্ট করে বালিশ চাপা দিয়ে আবার চোখ বন্ধ করে ফেললাম … বুঝলাম যে মেসেজটা দুলু আন্টি পড়েছে এবং তার আফটার ইফেক্ট শুরু হয়ে গেছে …

সোহেল আমাকে ফোনে না পেয়ে মেসেজ পাঠিয়েছে জিমেইলে … লিখেছে, আমি যে তাকে ৫ অক্টোবর মেইলে লিখেছিলাম মরে যেতে, ও নাকি সেটাই করতো আর কয়েকটা দিন পরে, খালি তার আগে তার মা’র মুখে তাকে নিয়ে একটা হ্যাপিনেসের হাসি তৈরি করতে পারলেই সে আমার কথামতো মরে যেতো … ধরে নিচ্ছি কথাটা সে মিন করেই বলেছে … কিন্তু তারপরও আমার ঠোঁটে বাঁকা হাসি খেলেছে … ‘ আসলেই যদি তুমি এরকম কিছু করতা, তাইলে তো আর তুমি ওয়াহিদ রহমান সোহেল হইতানা, অন্য কেউ হইতা’ টাইপ একটা হাসি … একবার মনে হয়েছিলো যে ওর মেইলের উত্তর দেই তিনটা শব্দে – ‘ইউ ডিজার্ভ ইট’ … তারপর মনে হলো যে ওর মেইলের উত্তর দেয়া মানেই কথার পিঠে কথা বাড়ানো … সেটা না হোক …

দুলু আন্টিও মেসেজের রিপ্লাই দিয়েছেন … উনার মেসেজ পড়েই মনে হয়েছে নিজের ভাইয়ের এরকম রূপ সম্পর্কে জেনে প্রচণ্ড ধাক্কা খেয়েছেন … উনার মেসেজেরও আমি রিপ্লাইয়ে কিছু লিখিনি! … মনে হচ্ছিলো কিছু লেখা দরকার … কিন্তু কি লিখবো বুঝে উঠতে পারছিলাম না …

সোহেলের অবস্থা কি জানি না … ওর বাসায় ওকে কি বলেছে, কি হচ্ছে জানি না কিছুই … কেমন জানি স্যাডিস্ট-এর মতো লাগছে নিজেকে … মনে হচ্ছে সামনাসামনি যদি দেখতে পেতাম কি হচ্ছে ওর সাথে, তাহলে মনে হয় ভালো লাগতো বেশি …

কেমন যেন একটা অদ্ভুত অনুভূতি হচ্ছে ভেতরে … কেন জানি! …

এমন না যে আমার অনুশোচনা হচ্ছে … কিংবা যা করলাম সেটা ভুল করলাম বলে ভাবছি … সত্য কখনো চাপা থাকে না … কোন না কোনভাবে সেটা প্রকাশ পায়ই … আর এটা এভাবে প্রকাশিত হবে সেটাই ছিল সবচেয়ে ইনেভিটেবল … আর এটা আমি ভুল করেছি সেটাও আমি ভাবি না … এইসব কথা ওর ফ্যামিলির মানুষের জানা না হলে ও সবসময়ের মতোই ‘ভালো ছেলে’ হিসেবেই থাকতো, যেটা ইন ফ্যাক্ট ওর ফ্যামিলির সাথেও ওর একটা প্রতারণাই হতো! … ওর প্রতারক চেহারাটা ধরা পড়েছে … এটাতে তো ভুল কিছু নাই …

কিন্তু কেমন জানি বিষাদগ্রস্ত হয়ে আছি … খিঁচে আছে মন … কোন কিছুতে মনোযোগ দিতে পারছি না … খালি মনে হচ্ছে যে কি হচ্ছে সোহেলদের বাসায়? … সোহেলকে সবাই দোষারোপ করছে? নাকি সোহেল কোনোভাবে সবাইকে কনভিন্স করে ফেলেছে যে ওর আসলে অতটা দোষ নাই, যা করেছে ফ্যামিলির ভালোর জন্য করেছে? … সেগুলো জানছি না বলেই অস্থির লাগছে …

সবকিছু ক্যামন উল্টাপাল্টা করছি … এই যেমন কালকে রাতে বিবিসির একটা কাজ করবো বলে ডকুমেন্ট ফাইল ওপেন করে-টরে তারপর ভাবলাম যে খাওয়াদাওয়া করে এসে বসি … কি জানি কি হলো! খেয়েদেয়ে আর ল্যাপটপের সামনেই আসলাম না! কিছুক্ষণ ভায়োলিন বাজিয়ে তারপর ঘুমাতে চলে গেলাম! বেমালুম ভুলে গেলাম যে একটা কাজ করার কথা তখন … সকালেও বেশ আরাম করে ঘুমাচ্ছিলাম … ভোরের দিকে যখন ঘুম পাতলা হলো, তখন ভাবছিলাম যে আস্তে-ধীরে ৮টার দিকে উঠবো … হঠাৎ কোথা থেকে ঠাস করে মনে পড়ে গ্যালো যে বিবিসি’র কাজ করতে হতো! … মোটামুটি হার্ট ফেইল করার মতো অনুভূতি নিয়ে প্রায় লাফিয়ে উঠলাম ঘুম থেকে! … তারপর সেই সাড়ে ৭টা থেকে বেলা ১০টা পর্যন্ত টানা কাজ করে সবকিছু পাঠিয়ে তৈরি হয়ে বের হতে যাবো, তখন খেয়া আপু ফোন করে জানালো যে একটা ফাইলের অনুবাদ মিস হয়ে গেছে … অনেক গবেষণার পর দেখা গেলো যে আমি ওর ফাইলটা খেয়ালই করিনি! … আমারই ভুল … তাই আবার বসে ওইটার কাজ শেষ করে যখন বের হলাম তখন বাজে সোয়া ১১টা … ১২টা ২০-এ ক্লাস … কিভাবে সেই ক্লাসে সময়মত পৌছাবো ভাবতে ভাবতে মাথা গরম করে বের হলাম … তাও ভাগ্য ভালো ছিল যে বাসের অবরোধ -এর জন্য রাস্তা ফাঁকা হয়ে যাওয়ায় মাত্র ৪০/৪৫ মিনিটের মধ্যেই স্কুলে পৌঁছে গেছি! নইলে আজকে খবরই ছিল …

ভালো লাগছে না কিছুই … খালি মনে হচ্ছে কি জানি হচ্ছে … কি জানি একটা হবে … কি হচ্ছে, কি হবে জানি না … এই অনুভূতিটা আমার কখনোই ভালো লাগে না … কেমন জানি অস্থিরতা কাজ করতে থাকে, কিন্তু কিছুই বুঝি না যে কেন অস্থির লাগছে … তারপর একটা কিছু ঘটে … তখন মনে হয় যে এই ঘটনাটা ঘটবে, সেটার জন্যই হয়তো এই অস্থিরতা ছিল … প্রাণীরা যেমন ঝড়ের আগে টের পায়, অস্থিরতা করে … আমারও সেরকম এক অদ্ভুত অ্যানিম্যাল ইন্সটিঙ্কট আমাকে কেবল তাড়িয়ে বেড়াই … আমি ক্রমাগত তরপাই … প্রচণ্ড আক্রোশে দিন কাটে … কিন্তু কিছুতেই বুঝে উঠতে পারি না যে ঠিক কি ঘটতে যাচ্ছে! …

আর ভালো লাগছে না লিখতে … আজকে অনেক ক্লান্ত লাগছে … ঘুমিয়ে পড়বো …

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s