দিনযাপন | ২২১০২০১৫

বেশ কিছু কাজ করবো করবো একটা চিন্তা ছিলো মাথায় … তারমধ্যে অনেক ভেবেচিন্তে ঠিক করলাম যে দুলু আন্টিকে ওই যেই মেসেজটা পাঠিয়েছিলাম, সেটার উনি যখন যখন আবার রিপ্লাই দিয়েছিলেন তখন তো আমি আসলে আর কিছুই বলিনি … এমনকি সোহেল যে মেইল করেছিলো, সেখানেও সাইলেন্ট ছিলাম … ইনফ্যাক্ট, দুলু আন্টিকে আসলে কি লিখবো, কি বলবো সেটা গুছিয়ে উঠতে পারিনি … গতকালকে থেকে হঠাৎ করেই আবার মনে হচ্ছিলো যে কি লিখবো সেটা একরকম গুছিয়ে নিয়েছি … একটু আগে তাকে রিপ্লাই দিতে গিয়ে আবিষ্কার করলাম যে আমাকে উনি ব্লক করে দিয়েছেন। একমুহুর্তের জন্য ধাক্কা লাগলো … তারপর আপনমনেই হাসলাম … কি জানি! সোহেল হয়তো এবারও তার কথা-বার্তা দিয়ে সবাইকে কনভিন্স করে ফেলেছে যে ও যা করেছে সেটা ফ্যামিলির জন্যই করেছে … বলেছে যে ভুল হয়ে গেছে, ক্ষমা করে দাও ইত্যাদি ইত্যাদি … হয়তো বা আমার হাতে-পায়ে ধরে যেভাবে কেঁদেছিল ‘তার’ জীবন বাঁচানোর জন্য, ‘তার’ ফ্যামিলির কাছে ‘তার’ যাবতীয় সম্মান, ‘ভালো ছেলে’ ইমেজ টিকিয়ে রাখার জন্য, সেভাবেই ওর বোনেদের পায়ে পড়ে কেঁদেছে … আর ওর ফ্যামিলি মেম্বাররাও যদি তাতে গলে গিয়ে মাফ করে দেয় ওকে, তাহলে অবশ্য আমার বলার কিছু থাকবে না … দুনিয়াতে ‘প্রতারক’-রাই ভাল থাকে, পার পেয়ে যায় সেটাই আবার প্রমাণিত হবে …

যত যাই হোক, ওর তো ব্যাকআপ হিসেবে মুগ্ধ আছেই … আমি কত খারাপ, সেই ব্যাপারে যদি মুগ্ধ কোনোভাবে সার্টিফিকেট দিয়ে দেয়, তাইলে তো হইলোই … মুগ্ধ’রও পিঠ বাঁচলো, সোহেলেরও পিঠ বাঁচলো … এবার মামা-ভাগ্নে পিঠ ঘষাঘষি করে বাঁচবে …

দুইদিন যাবৎ সাজ্জাদ বেশ যোগাযোগ করার চেষ্টা করছে! … আউট অভ নোহ্যায়্যার কেউ যখন অনেকদিন পর যোগাযোগ করে বলে যে ‘ কি ব্যাপার? খোঁজখবর নাই কেন?’ তখন খুব খটকা লাগে! … আমার খোঁজখবর নাই, এই কথাটা আমার কাছে খুব হাস্যকর লাগে এইজন্য যে আমি ফেসবুকে অ্যাক্টিভ, ইন্সটাগ্রামে অ্যাক্টিভ, নিয়মিত ব্লগ লিখি … তারপরও কেউ যদি বলতে চায় যে সে আমার ‘হোয়্যারঅ্যাবাউটস’ জানেনা, সেইটা আসলেই খুব হাস্যকর শোনায় … তখন খালি মনে হতে থাকে যে নিশ্চয়ই এই হঠাৎ যোগাযোগের পেছনে কোন উদ্দেশ্য আছে …

যাই হোক, কালকের একটা ঘটনা অবশ্যই আমার দিনযাপনে লিখে রাখা উচিত। গতকালকে প্রচণ্ড ক্লান্ত লাগছিলো বলে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম টুকটাক কিছু কাজ শেষ করে … তাই কালকে দিনযাপনও লেখা হয়নি … ফলে একদিন পরে ঘটনাটা বর্ণনা করতে গেলে কালকের উত্তেজনাটা একটু হলেও কম থাকবে …

ঘটনা হচ্ছে , মেবিন, নায়ীমী আর আমি গতকালকে দুপুরে বের হয়েছিলাম পূজামণ্ডপে ঘুরতে … কালীমন্দির আর জগন্নাথ হলের মণ্ডপে ঘুরে গ্রুপে গেলাম … জগন্নাথ হল থেকে তিনজন মিলে একটা রিকশায় এসেছি … আমি অভ্যাসবশতঃ জেগিংস-এর পেছনের পকেটটায় ফোনটা রেখেছিলাম … রিকশায় বসে থাকা অবস্থায় ওটা পকেট থেকে বের হয়ে রিকশাতেই পড়ে গিয়েছিলো, আমি খেয়াল করিনি … গ্রুপের সামনে গিয়ে ভাড়া দিয়ে নামলাম, একটা কোক কিনলাম, কিছুক্ষণ গ্রুপের নিচে গেটে দাঁড়িয়ে আমি, মেবিন, নায়ীমী আর কণা গল্পও করলাম … তারপর গ্রুপে উঠলাম যখন, তখন হঠাৎ খেয়াল হলো যে ফোনটা পকেটে নাই … ব্যাগে রেখেছি কি না চেক করলাম, সেখানেও নাই! … সাথে সাথে নায়ীমীর ফোন থেকে কল দিলাম, রিং হলো … ধরে নিলাম যে কেউ তখনো পায়নি … একবার নিচে গিয়ে ঘুরেও আসলাম যে ওখানে রাস্তায় পড়েছে কিনা রিকশা থেকে নামার সময় … পেলাম না … ধারণা করলাম যে জগন্নাথ হল থেকে রিকশায় ওঠার সময় পড়ে যেতে পারে … তখন আশা ছেড়ে দিয়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে নিলাম যে ফোনটা হারিয়েছে … একবছরের মধ্যে তিন বারের মতো ফোন হারালাম জাতীয় চিন্তাভাবনা শুরু হয়ে গেলো … এর মধ্যে একবার ইমন ভাইয়ের সাথে কথা বলার জন্য নায়ীমীর ফোনটা নিয়ে হাঁটতে হাঁটতে গ্রুপের ফ্লোরটাতেই সিঁড়ির যে প্যাসেজটা আছে, সেখানে গেলাম … কথা বলতে বলতেই দেখলাম যে এক মহিলা আর একটু কম বয়সী একটা মেয়ে সিঁড়ি দিয়ে উঠে গ্রুপেই ঢুকছে! … আমি অবাক হয়ে ভাবলাম যে মনে হয় নিচের ফ্যামিলি বাসাটায় এসেছে, কিংবা অন্য কিছু … এর মধ্যে কথা শেষ করে আমি ভেতরে ঢুকছি, আর উনি বের হচ্ছে … আমাকে দেখিয়ে গ্রুপে যারা ছিলো সবাই বলে উঠলো – এই যে! এই যে! উনার ফোন! … কাহিনী কি হচ্ছে বুঝে উঠার আগেই জানলাম যে উনি ফোনটা রিকশায় পেয়েছেন, তারপর আমার ফোন থেকেই একজনকে ফোন করে গ্রুপের অ্যাড্রেস নিয়েছেন, তারপর এখানে এসে ফোনটা দিয়ে গেছেন! … উনি আবার দৌড়ের ওপর চলেও গেলেন! … আমার মাথাতেই আসলো না যে উনার নামটা জেনে নেই, ফোন নাম্বারটা রেখে দেই কিংবা আর কিছু … কি করা উচিত, কি বলা উচিত ভাবতে ভাবতেই উনি চলেও গেলেন …

ঘটনা হচ্ছে রিকশাতেই ফোনটা পড়ে ছিলো, আর উনি আমার পরপরই ওই রিকশায় উঠেছেন। এর মধ্যে আমি যখন নায়ীমীর নাম্বার থেকে ফোন করছিলাম, তখন রিং হচ্ছে শুনে উনারা এবং রিকশাওয়ালা রিকশায় কার ফোন রিং হচ্ছে সেটা খুঁজতে খুঁজতে আমার ফোনটা পড়ে থাকতে দেখেছে … তারপর উনি কিভাবে কি নাম্বার খুঁজেছে, বা কি করেছে সেটা জানি না … কারণ বিস্ময়করভাবে উনি ফোন করেছেন শান্তা-কে, যার সাথে গত একমাসে আমার কোন যোগাযোগই হয়নাই, এবং আমার ডায়াল লিস্টের কোথাও তার নাম্বার থাকারই কথা না … উনি যদি লাস্ট ডায়াল লিস্ট দেখে ফোন করতেন তাইলে তো নায়ীমী,মেবিন, গোপী, অমিত এদের কাউকে না কাউকে ফোন করার কথা! … কোথায় শান্তা আপু! … শান্তা আপু তখন উনাকে গ্রুপের অ্যাড্রেস দিয়েছে … তখন ওই মহিলা রিকশা ঘুরিয়ে গ্রুপে এসে ফোন ফেরত দিয়ে গেছেন! …

পুরাই সিনেমাটিক গল্পের মতো …

শরীর ক্যামন ম্যাজম্যাজ করছে … আজকে সন্ধ্যায় মগবাজারে একটা প্র্যাকটিস প্যাডে গিয়েছিলাম সর্বনামের রিহার্সালে … গ্রুপে যাবোনা ইরাদা নিয়েই বের হয়েছিলাম … কারণ গ্রুপে একটা স্ট্রিট প্লে’র কাজ হচ্ছে এবং বিভিন্ন কারণে সেটার সাথে ইনভল্ভড থাকতে চাই না আমি … তাছাড়া, একটা ছুটি ছুটি মুডে আছি … ইথারের দেয়া ট্রান্সক্রিপ্টের কাজ ছাড়া আর কিছুই করছি না … বাসায় যতটুকু সময় থাকা যায়, একটু হলেও ট্রান্সক্রিপ্টের কাজ আগায় … একটানা বেশিক্ষণ তো কাজ করতে পারি না … এক ঘণ্টা/ দেড় ঘণ্টা কাজ করে তারপর আবার ব্রেক নিতে হয় … নইলে মাথা ব্যথায় অস্থির হয়ে যাই … তো, যাই হোক, গ্রুপে না গিয়ে ওই রিহার্সালে গেলাম … ওখানে এসি নষ্ট, ফ্যান নষ্ট … একসময় এসে ফ্যান ঠিক করে দিয়ে গেলো, কিন্তু ওইটার কোন বাতাসই গায়ে লাগে না … ক্যামন জানি সাফোকেটেড আর গরমে অস্থির লাগছিলো পুরোটা সময় … এখন সেটার আফটার ইফেক্ট টের পাচ্ছি গা ম্যাজম্যাজ অবস্থার কারণে …

তাইলে আর কি? ।। ঘুমায় থাকি ! …

বাই দ্য ওয়ে, যেদিনই আমি সোহেল প্রসঙ্গে একটা কিছু লিখি, সেদিনই দেখি আমার ব্লগের ভিউয়ার সংখ্যা অনেক থাকে! … ভাবছি এখন থেকে প্রতিটা দিনযাপনের লেখার প্রথমে ‘সোহেল … সোহেল … সোহেল … সোহেল … ‘ এরকম করে কিছু লিখে রাখা যেতে পারে … এক মুহুর্তে ব্লগের ভিউয়ার আর হিট বেড়ে যাবে! …

আজকে অনেকদিন পর বাসা সংক্রান্ত একটা আপডেট দেই … আজকে বাসায় অনেককিছু গুছিয়েছি … দেয়ালে ফুটো করে ছবি লাগিয়েছি অনেকগুলা … একটা পিলার পুরোটা জুড়ে মাস্কগুলো ললাগিয়েছি … ঘরটায় এখন বেশ অনেকটাই গোছানো গোছানো একটা লুক আছে …

নাহ! আর পারছি না … ঘুমিয়ে থাকি …

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s