দিনযাপন | ২২১১২০১৫

২২১০২০১৫-তে সর্বশেষ দিনযাপন লিখেছিলাম … আর আজকে ২২১১২০১৫ …

কাঁটায় কাঁটায় একমাস …

আজকের দিনযাপন অবশ্য তেমন কেউ পড়তেও পারবে না … ফেসবুক তো বন্ধ! … আমার দিনযাপনের বেশিরভাগ পাঠকই তো ফেসবুকভিত্তিক। ফলে, যেহেতু সারাদেশে ফেসবুক বন্ধ এবং এখনো চালু হয় নাই, সুতরাং একমাস পরে দিনযাপন লিখতে বসে এতদিনের জমানো কিচ্ছা-কাহিনি লিখলেও সেটা আসলে পড়ার মানুষই পাওয়া যাবে না …

একমাসের মধ্যে তালিকা করার মতো ঘটনার তো অভাব নাই … প্রতিদিনই মনে হয়েছে যে ‘ ইশ! দিনযাপনে এটা লিখে রাখতে পারলে কি ভালো হতো!’ … ‘আই মিস রাইটিং দিনযাপন’ ভেবে ভেবেই আমার এই একটা মাস কেটেছে।

ল্যাপটপ চুরি দিয়ে শুরু … ২৬ অক্টোবর, ২০১৫ … আগের দিন রাত প্রায় আড়াইটা পর্যন্ত ল্যাপটপে কাজ করে প্রতিদিনের মতোই ল্যাপটপটাকে টেবিলের কিবোর্ড-এর ড্রয়ারটার ভেতরে রেখে ঘুমাতে গেছি … ভোরবেলা ৬টা কি সাড়ে ৬টার দিকে, মা ঘুম থেকে ডেকে তুলেছে … ‘ ঘুমানোর সময় কি ল্যাপটপ সাথে নিয়ে আসছিলা?’ ~ ‘না’ ~ ল্যাপটপ যেখানে রাখো ওখানে তো নাই, আর জানালা খোলা!’ … একটা লাফের মধ্যেই বিছানা থেকে নেমে ড্রয়িংরুম পর্যন্ত দৌড়ে গেছি … জানালা খোলা, বারান্দার গ্লাস সরানো, কি-বোর্ডের ড্রয়ারটা খোলা আর ল্যাপটপের চার্জারটা জানালা দিয়ে ঝুলছে! … ধাক্কাটা এত তীব্র ছিলো যে কি করবো কিছুই বুঝতে পারছিলাম না! … প্রচন্ড ধাক্কার চোটে পেছনের সোফায় ধপ্‌ করে বসে পড়েছিলাম। মনে হচ্ছিলো এক্টা-দুইটা হার্টবিট মিস হয়ে যাচ্ছে … যে কোনো সময় হয়তো হার্ট অ্যাটাক হয়ে যাবে আমার! … প্রথমেই মাথায় কাজ করলো যেখানে যেখানে কাজের কমিট্মেন্ট আছে, তাদের অন্তত জানাই! বিবিসি’র একটা কাজ ওই সকালেই পাঠানোর কথা … খেয়া আপুকে ঐ ভোরবেলাতেই ফোন করে ঘুম ভাঙ্গিয়ে জানালাম ল্যাপটপ চুরির কথা … ইথারের কাজটা তো আর যা যা করেছিলাম একটাও পাঠানো হয়নি … ওকেও তখনি মেসেজ পাঠিয়ে জানালাম চুরির কাহিনি। ওর কাজের বারোটা বেজেছে, স্বাভাবিকভাবেই ও সেই রাগটাই প্রকাশ করলো ওর পাল্টা ম্যাসেজ -এ। আমার বেখেয়াল কিংবা গাফিলতি যেটাই হোক, সেটার কারণেই ম্যাক বুক কেনার পর কখনো আই ক্লাউড-এ অ্যাকাউন্ট খোলা হয়নি। আই ক্লাউড – এর অ্যাকাউন্ট থাকলে ল্যাপটপটা লোকেট করা যেতো কি না জানি না, হয়তো লক করা যেতো … তারপরও কিছু করার আছে কি না জানার জন্য হীরা ভাই, মানে যার কাছ থেকে ম্যাক বুকটা নিয়েছিলাম, তাকে ফোন করার কথা ভাবলাম। সেটা করতে গিয়ে আরেক কাহিনি। এদিকে হীরা ভাইয়ের নাম্বারও নাই। এমনকি পাঠশালা নেটোয়ার্কের কেবল মুগ্ধ ছাড়া আর কারো নাম্বার নাই। কিন্তু মুগ্ধ’র সাথে তো কথা বলবো না! শামীম ভাইয়ের নাম্বার আছে, কিন্তু তাকে এত সকালে ফোন করলে উনি আবার কি ভাব্বেন, সেইটা নিয়ে একটু দোনোমনো করলাম। আবার আমার ফোনও নষ্ট। মা’র ফোন থেকে কল করলে অপরিচিত নাম্বার দেখে নাও ধরতে পারে!যাই হোক, মা’র ফোন থেকেই ফোন দিলাম শামিম ভাইকে। উনার কাছেও হীরা ভাইয়ের নাম্বার নাই। উনি দেবাদা’র নাম্বার দিলো। সেই সাতসকালে দেবাদা’র ঘুম ভাঙ্গায় হীরা ভাইয়ের নাম্বার নিলাম। হীরা ভাইকে ফোন করার পর উনিও সেম কথাই বললেন যে আই ক্লাউড-এর অ্যাক্টিভ অ্যাাকাউন্ট থাকলে হয়তো উনি ম্যাক বুকটা লক করে দিতে পারতেন, কিন্তু লোকেট করার সিস্টেম নাই।

ল্যাপটপটা কোনোভাবেই আর উদ্ধার হচ্ছে না, এইটা ধরে নিয়ে মন খারাপ করে বসে রইলাম অনেকক্ষণ। ক্যামন জানি একটা জিদ-চাপা ক্ষোভ কাজ করতে শুরু করলো। গত এক-দেড় বছর ধরে সবকিছু হারিয়ে যাওয়ার যেই ফেজ-টা চলছে, তারই ধাক্কায়ই কি এইবার ল্যাপটপ চুরি? তাও আবার এমন নয় যে ল্যাপটপটা জানালার পাশে রেখেছিলাম, আর চোর এসে হাতের কাছে পাকা ফলের মতো সেটা পেড়ে নিয়ে গেছে। ল্যাপটপটা যে আমি টেবিলের কি-বোর্ডের ড্রয়ারে রাখি, রাতে ৩টা’র দিকে ঘুমাতে যাই এগুলা যাবতীয় তথ্য চোরের জানা বলেই মনে হয়েছে। এম্নিতে আমাদের বাসা চারতলা, তারওপরে ভর দিয়ে বেয়ে ওঠা কিংবা জানালার পাশে দাঁড়ানোর মতো যুতসই কোনো অবস্থা নাই। আবার বারান্দা কিংবা জানালা কোনোদিক দিয়েই নর্মালি হাত বাড়িয়ে ল্যাপটপটা নেয়ার উপায় নেই, যদি না চোরের কাছে সেরকম ইকুইপমেন্ট থাকে। আর সেরকম প্রিপেরেশানে আসতে হলে চোরকে অবশ্যই ঘরের হোয়্যারঅ্যাবাউটস আগে থেকেই জানতে হবে। এম্নিতে চুরি করতে এসে চারতলা বেয়ে উঠবার সময় বারান্দার গ্লাস দিয়ে ল্যাপটপটা দেখলাম আর নিয়ে গেলাম – সেটা অন্তত আমার ল্যাপটপের ক্ষেত্রে সম্ভব ছিলো না। ফলে, ধরেই নেয়া হচ্ছে যে চোর আগে থেকেই কোনো উপায়ে সবকিছু রেইকি করে, বুঝে-শুনে প্রস্তুতি নিয়েই এসেছিলো যে কিভাবে তারা ল্যাপটপটা চুরি করবে। আর ক্যামন জানি অদ্ভুত লাগে পুরো বিষয়টা। খালি মনে হয় যে ঘরের ভেতর থেকে কেউ ল্যাপটপটা জানালা দিয়ে বাইরে বের করে দিয়েছে। অথচ কারো ঘরে ঢুকবার উপায় বা আলামত কিছুই নেই! গোপী চুরির ঘটনা শুনে বলছিলো কোথাও গ্রিল কাটা আছে কি না ভালোভাবে দেখতে; ওদের বাসাতেও নাকি চোর বারান্দার গ্রিল কেটে ঘরে ঢুকেছিল একবার। আমি পরে বাসায় ফিরে চেক করেছি আসলেও আমাদের বাসায় এরকম গ্রিল কেটে কেউ ঢুকেছে কি না। দেখলাম যে সেরকম কিছুও হয়নি। অথচ, ল্যাপটপটা যে ওই টেবিলের ওখান থেকে জানালা পর্যন্ত নিয়েছে, সেটা যেভাবেই নিক না কেন, টেবিলের বা জানালার পাশের আর একটা জিনিসও এদিক-সেদিক হয়নি!

কিভাবে কি হয়েছে কিছুই আসলে বুঝে উঠতে পারিনি এই একমাসেও। খালি নিজেকে কষ্ট করে হলেও মানিয়ে নিতে চেষ্টা করছি যে গত দেড় বছরের যাবতীয় ছবি আর ডকুমেন্ট-এর অনেককিছু সহ আমার ম্যাক বুক প্রো-টা চুরি হয়ে গেছে। ল্যাপটপ চুরির কয়েকদিন আগেই মা আমাকে এক্সটারনাল হার্ড ড্রাইভ কেনার জন্য টাকা দিয়ে রেখেছিলো। কিভাবে কিভাবে যেন সময়ই করে উঠতে পারছিলাম না, হার্ড ড্রাইভটাও আর কেনা হচ্ছিলো না। না হলে তো অন্তত ডকুমেন্টস আর ছবিগুলো হার্ড ড্রাইভে ব্যাক-আপ থাকতো! … এটাই মনে হয় কপাল! ম্যাক বুক কেনার সময় পাভেল ভাই-এর কাছ থেকে ২৫ হাজার টাকা ধার নিয়েছিলাম, সে টাকা এখনো উনি পাওনা। সেই ধার শোধ হবার আগেই ল্যাপটপটাই চুরি হয়ে গ্যালো! … তবে, ল্যাপটপ গেছে, তার ভেতরের অনেক ডকুমেন্টস ব্যাক-আপ ছাড়াই আবার হারিয়েছে সেগুলো নিয়ে আমি যতটা না দুঃখিত, তার চেয়ে অনেক বেশি হতাশ এই সিরিজ অব লস-এর ধাক্কায়। কেন এসব হচ্ছে আমার সাথে, এক্টার পর একটা ধাক্কা আমাকে আসলে কোথায় নিয়ে ফেলতে চাচ্ছে সেটা ভাবতে গিয়েই চরমভাবে ডিপ্রেসড আর ফ্রাস্ট্রেটেড হয়ে যাচ্ছি।

কয়েকমাস আগে কি জানি একটা জিনিস, সম্ভবত মোবাইল হারানোর পর দিনযাপনেই লিখেছিলাম যে সোহেলের সংস্পর্শে আসা সবকিছুই ক্যামন করে আমার হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছে। হারিয়ে যাচ্ছে, নয়তো নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, নয়তো কাউকে দিয়ে দিচ্ছি … সেই হিসেবে ল্যাপটপটারও কিছু হবারই কথা! কারণ আমার ল্যাপটপ তো ও বেশ কয়েকবারই ব্যবহার করেছে! হলো তো হলো, চুরিই হয়ে গ্যালো! … এভাবে হিসেব করলে আর বাকি আছে কিউবি’র ইন্টারনেট মডেম, আর …আমি নিজে! মডেমটা যেদিন কিনেছিলাম, সেদিন ও সাথে গিয়েছিলো। আর আমি? … আমার সর্বস্বই তো সে ব্যবহার করেছে! … এতরকমের দুর্দশা হয়তো তারই আফটার ইফেক্ট!

আসল কথা হচ্ছে যে এতকিছুর মধ্যে ঠিক যেসময় মনে হতে শুরু করলো যে এবার আমি আবারো মেরুদন্ড সোজা করে দাঁড়াতে শুরু করেছি, ঠিক তখনি ল্যাপটপটা চুরি হয়ে ভাগ্য আমাকে আবারো মাটিতে শুইয়ে দিলো! মিরপুরের বাসায় উঠলাম, একটা চাকরিও শুরু করলাম, ক্যামেরা কিনলাম, মন-মেজাজ একটু একটু করে ভালো হতে শুরু করলো, এমন সময় আবারো বিনা মেঘে বজ্রপাত! … একটা মানুষের একসাথে এতকিছুর ধাক্কা নেয়ার ক্ষ্মতা থাকতে হবে তো!

যাই হোক, নতুন ল্যাপটপ কিনেছি। ঠিক ল্যাপটপ না, নেট বুক। আসুস কোম্পানির। মাল্টিপ্ল্যান সেন্টারে সুমন ভাইয়ের পরিচিত দোকান আছে, সেখান থেকেই নিলাম। লেখালেখির কাজটা অন্তত এই নেটবুক দিয়ে বেশ ভালোমতো চলে যাবে। ছবি তুলে সেগুলোর পোস্ট-প্রডাকশনের কাজ চলবে না। নিজের মতো টুকটাক কাজ করা যাবে, কিন্তু প্রফেশনাল কাজ হবে না। কারণ এই ল্যাপটপে ফটোশপের মতো ভারি সফটওয়্যার চলবে না। চিন্তা করছি যে আগামী এক বছর ধরে টাকা-পয়সা একটু একটু করে জমিয়ে আই ম্যাক-এর একটা ফান্ড বানাবো। তারপর একটা আই ম্যাক কিনে ফেলবো। দেখা যাক, কতদূর কি হয়! … সামনে আরো কত কত ধাক্কা আছে, কে জানে? … আগে তো এক বছর বাঁচি!

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s