দিনযাপন। ২৩১১২০১৫

হরতাল ছিলো বলে স্কুলও হয়নি, তাই সারাদিন বাসায় বসেই টুকটাক কাজ সারলাম। বিবিসি’র একটা কাজ ছিলো, সেটা করলাম। তারপর স্কুলের ক্লাস এইটের রিভিশন ক্লাসের জন্য একটা হ্যান্ডআউটের কাজ শুরু করলাম। সেটা আজকে রাতে শেষ করে কালকে প্রিন্ট নিয়ে ফটোকপি করতে হবে। তার আগে দিনযাপন লিখে নেই …

গত একমাস তো টিয়ামের বাসায় গিয়ে গিয়ে কাজ করেছি। টিয়ামের ভাসুর না কে যেন আমেরিকা নাকি কানাডা থেকে ল্যাপটপ পাঠিয়েছে, সেটায় কিছু কাজবাজ করলাম আর কি। কিন্তু টিয়ামের ল্যাপটপে কাজ করার প্যানাও কম না। একদিকে টিয়ামের বাসায় ইন্টারনেট-এর লাইন প্রচণ্ড স্লো থাকে, আরেকদিকে ওই বাসায় এক ড্রয়িং রুম ছাড়া আর কোথাও কোনো প্লাগ পয়েন্ট নাই! ফলে মডেম আর ল্যাপটপের চার্জার একসাথে একসাথে লাগাতে গেলে মহা ফ্যাসাদে পড়তে হয়। তার ওপর, ল্যাপটপ নিয়ে কাজ করতে বসলেই প্রমা’র কি জানি কি হয়, সে প্রচন্ড রকমের হিংসামি শুরু করে দেয়! ‘ত্বিষা আপুকেই সব দিয়ে দাও!’ ‘ আমার ল্যাপটপ ও ইউজ করে কেন?’ এইসব টাইপের কথাবার্তা শুরু করে দেয়। এইগুলা কথাবার্তায় আমার বেশ অস্বস্তি লাগতে থাকে। তারপরও উপায় নাই দেখে দাঁত-মুখ চেপে এই একমাস যখন যখন দরকার পড়েছে টিয়ামের বাসায় গিয়ে কাজ করেছি।

এর মধ্যে দুইদিন ল্যাপটপ বাসায় এনে কাজ করেছি, আর ওই দুইদিনই সবচেয়ে আরামে সবচেয়ে দ্রুত কাজ করতে পেরেছি। একদিন টিয়াম নিজে এসে ল্যাপটপ দিয়ে গেছে। আরেকদিন আমি টিয়ামের বাসায় কাজ করতে গিয়ে দেখলাম যে একটা মেইল ওপেন হতেই এক ঘন্টা লেগে যাচ্ছে! তখন দৌড়ের ওপর ল্যাপটপ বাসায় নিয়ে এসে কাজ করে আবার দিয়ে এসেছি।

চোর পালালে বুদ্ধি বাড়ার মতো ল্যাপটপ চুরির পর বাসার বড় ঘরটার ট্রান্সপারেন্সি’র আইডিয়াকে গলা চিপে মেরে এখন পর্দা সিস্টেমে চলে যেতে বাধ্য হয়েছি। অবশ্য, এম্নিতেও শীতকালে ওখানে পর্দা মাস্ট। এখন যে মাত্র অগ্রহায়ণ চলে, তাতেই তো সকাল বেলা ওই ঘরটায় যাওয়া যায় না। উত্তরের খোলা বাতাস পুরো ঘরটাকে যেন কাবু করে রাখে।

আরেকটা জিনিস ঠিক করেছি, সেটা হচ্ছে যে এখন থেকে লেখালেখি, ডকুমেন্টস এইসব যাবতীয় জিনিসের আর্কাইভিং করবো ওয়েব-এ। গুগল ড্রাইভ, ব্লগ এইসবে আর কি। ডকুমেন্টস-এর জন্য গুগল ড্রাইভ আর ছবির জন্য ব্লগ + গুগল ড্রাইভ। আগের হার্ডড্রাইভগুলো থেকেও বিষয়গুলো সাজাতে-গুছাতে হবে। ডিভাইস চুরি হোক, নষ্ট হোক যাই হোক, ডকুমেন্টস সব ঠিকঠাক থাকলেই হলো।

ইথারের কাজটা নিয়ে যেরকম বাঁশ খেলাম, তাতে করে ও তো আর কখনো আমাকে কোনো কাজ দেবেই না, আমার সাথে কথাও হয়তো আর ঠিকঠাকভাবে বলবে না। বিষয়টা স্বাভাবিক বলেই আমি ধরে নিচ্ছি। এই কাজটার জন্য অকে নিশ্চয়ই অনেক সাফার করতে হয়েছে। আর সেকারণে আমার এই ব্যাপারটাতে কোনোরকম বিরক্তি বা রাগও হচ্ছে না।

আরেকটা কাজ নিয়ে ঠিক বাঁশ না খেলেও, পিছিয়ে পড়লাম অনেকটা। ফলে, সেটা আবার শুরু করে তাড়াতাড়ি শেষ করার একটা অব্লিগেশন দাঁড়িয়ে গেছে। এইটা হলো মুনির ভাইয়ের অনুবাদের কাজ। রবার্ট অ্যাডামস-এর বইটার অনুবাদ । ফেব্রুয়ারি নাগাদ তাকে শেষ করে দিতে হবে। ৮টা চ্যাপ্টার, আর হাতে সময় তিন মাসেরও কম। তাকে কথা দিয়েছি যে ল্যাপটপ কিনেই কাজে ঝাঁপিয়ে পড়বো। ল্যাপটপ কিনেছি, এবার ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে।

এদিকে প্রাচ্যনাটে নতুন নাটকের কাজ শুরু হবে – আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের ‘খোয়াবনামা’ অবলম্বনে। সেখানে আবার সজীব আর আমি নির্দেশকের সহকারী। নির্দেশক হচ্ছে ইমন ভাই। আমার এখনকার প্রতিদিনের কাজ হচ্ছে সন্ধ্যায় গ্রুপে গিয়ে নতুন পোলাপাইনদের নিয়ে স্ক্রিপ্ট পড়ানো। স্ক্রিপ্ট পড়া হচ্ছে, অ্যানালাইসিস হচ্ছে, এডিট হচ্ছে … এইসব চলছে আর কি!

এই একমাসের মধ্যে আরেকটা আপডেট হচ্ছে অমিতও প্রাচ্যনাটে জয়েন করেছে। ফলে এখন ভাই-বোন মিলে বেশ মজা করে থিয়েটার করা হচ্ছে …

আবার বাসায় ফেরার ক্ষেত্রেও একজন যাত্রাসঙ্গি পাওয়া গেছে। ২৭ ব্যাচের একটা ছেলে আছে, সাদি, ওর বাসা পশ্চিম রাজাবাজার। ও এখন গত দুই/তিন  সপ্তাহ যাবৎ রাতে ফেরার পথে আমার সাথে খামারবাড়ি পর্যন্ত আসে। তাতে করে আমারও রাস্তার অনেকটাই গল্প করতে করতে পার হয়ে যায়। খামারবাড়ি পার হয়ে গেলে তো ১০ নাম্বার গোল চত্বরের জ্যাম ছাড়া বাকি রাস্তা ফাঁকাই থাকে আর একটানে চলে আসা যায়।

উফ! একমাসে কত ছোটো-খাটো আপডেট যে জমেছে! মনে করে করে লেখা তো সম্ভব না। যখন যেটা মনে পড়বে সেটা নিয়েই লিখবো। তাতে আগামী কয়েকদিনের দিনযাপন হয়তো বা একটু খাপছাড়া টাইপের হবে। কিন্তু, কিছু করার নেই। প্রসঙ্গক্রমে যেটুকু যা পারি লিখবো! আর কি!

সোহেল-কে নিয়ে একটা ঘটনা লেখার আছে। এইটা খুবই রিসেন্ট ঘটনা। এই গত শনিবার, মানে ২১ তারিখের। কিন্তু সেটা এখন লিখবো না। ফেসবুক চালু হোক, তারপর লিখবো। সবাই যাতে পড়তে পারে, জানতে পারে সেভাবে লিখবো। জাস্ট ইন কেস আমি তারিখটা ভুলে যাই, তাই এইটুকু রেফারেন্স দিয়ে রাখলাম।

আজকে লেখার মতো আর কিছু পাচ্ছি না। তাহলে আজকের মতো এখানেই শেষ করি।

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s