দিনযাপন । ২৪১১২০১৫

অনেক অনেক কাজ করতে হবে এক রাতের মধ্যে … সেই সাথে মাথার মধ্যে একগাদা টেনশন আর কনফিউশন … কিভাবে যে কি করবো জানি না … মাথা ঠাণ্ডা করার জন্য এখন তাই দিনযাপন লিখতে বসেছি …

এই বৃহস্পতিবার, মানে ২৬ তারিখে ট্র্যাজেডি পলাশবাড়ি’র শো হবে সিরাজগঞ্জে। এদিকে বৃহস্পতিবারেই হচ্ছে স্কুলে হাফ ইয়ার্লি পরীক্ষার আগে লাস্ট রিভিশন ক্লাস। সেদিন যেহেতু থাকতে পারছি না, তাই আগামীকালকেই আমাকে যাবতীয় হ্যান্ডআউট আর রিভিশন ওয়ার্কশিট রেডি করে দিয়ে আসতে হবে। আমার ক্লাসটায় যেই টিচারই যাবেন, উনি যেন হ্যান্ডআউট আর রিভিশন ওয়ার্কশিটগুলো দিয়ে দিতে পারেন। গতকালকে অনেকটা সময় কাজ করেও অর্ধেকটাও শেষ করতে পারিনি। আজকে রাতের মধ্যে যেভাবেই হোক কয়েকটা ওয়ার্কশিট শেষ করতেই হবে।

এদিকে, আরেকটা ক্যাচাল নিয়ে আমার মাথার মধ্যে একগাদা টেনশন আর কনফিউশন। বৃহস্পতিবার গ্রুপের সামনে থেকে বাস ছাড়বে ৭টায়। সুতরাং, ৬:৩০ এর মধ্যে অবশ্যই কাঁটাবনে উপস্থিত থাকতে হবে সবাইকে। মিরপুর থেকে ওই ভোরবেলা কাঁটাবন যেতে হলে আমাকে রওয়ানা দিতে হবে অন্ততপক্ষে সাড়ে ৫টায়। কারণ অত সকালে সিএনজি তো পাবোই না, রিকশায় আসতে হলেও তো ঘণ্টাখানেক লাগবেই। আবার, আরেক ক্যাচাল হচ্ছে, এখনো আমি শিওর না যে অমিত কালকে বাসায় থেকে পরশু ভোরবেলা আমার সাথে কাঁটাবন পর্যন্ত যাবার জন্য ফ্রি আছে কি না! সিরাজগঞ্জে ও- ও যাবে। কিন্তু ও হয়তো প্রেফার করবে হল থেকে যাওয়া। সবকিছুর একটা সহজ সমাধান আছে, সেটা হলো কালকে রাতে নায়ীমী কিংবা আর কারো বাসায় থাকা। কিন্তু সেক্ষেত্রে কালকে সকাল থেকে দুনিয়ার জিনিসপত্র বহন করে তো আমাকে ঘুরতে হবেই, তার চেয়ে বড় কথা লং জার্নির ক্ষেত্রে নিজের বাসা থেকে রেডি হয়ে বের না হতে পারলে নিজেরই প্রচণ্ড অস্বস্তি লাগতে থাকে! ফলে, কি যে করবো সেটাই বুঝে উঠতে পারছি না। সেন্ট্রাল রোডে থাকতে তো ধীরে-সুস্থে পৌনে সাতটা সময় বের হলেও হয়ে যেতো। আর লাস্ট দুই বছরের মধ্যে তো হয় জেম নয়তো নোবেল ভাই-ও সেন্ট্রাল রোড থেকেই যেতো, ফলে সাতসকালে ল্যাপটপ-ক্যামেরা এসব নিয়ে বের হলেও সমস্যা হতো না। কিন্তু এবার আমি মিরপুর থেকে অত সকালে ল্যাপটপ, ক্যামেরা এসব যাবতীয় জিনিসপত্র নিয়ে অতদূর কাঁটাবন পর্যন্ত কিভাবে যাবো, সেটাই বুঝে উঠতে পারছি না।

আজকে কথায় কথায় টুটুল, সাদি ওদেরকে বলছিলাম যে ওদের কেউ একজন, কিংবা দুইজনই আমার বাসায় থেকে যাক কালকে রাতে। ভোরবেলা অন্তত একা একা মিরপুর থেকে যাওয়ার টেনশন থাকবে না। ওরা ছেলেমানুষ, সিগারেট-টিগারেট খাবে, আমার বাসায় থাকলে সেটা ওদের অস্বস্তি হবে, সেজন্য থাকার খুব একটা আগ্রহ দেখালো না দু’জনের কেউই। আমার টেনশন আক্রান্ত চেহারা দেখে সাদি শেষমেশ বললো যে কালকে দুপুর নাগাদ ওকে আপডেট জানাতে। তাহলে ও গ্রুপে আসার আগে সবকিছু গুছিয়ে আমার বাসায় থাকার প্রিপেরেশান নিয়ে বের হবে।

দেখা যাক, কি অবস্থা হয়। অমিত যদি বাসা থেকে আমার সাথে যেতে পারে, তাহলে তো আর সমস্যা নাই। অবশ্য সিএঞ্জি পাওয়া, রাস্তায় সাতসকালে ছিনতাই-এর ভয়, এসব তো আছেই! … হয়তো বা সকালে ঘুম থেকে উঠে আমার নিজেরই মনে হবে যে এত ঝক্কি-ঝামেলা না করে বরং সবকিছু গুছিয়ে বের হয়ে যাই, রাতে ধানমন্ডি এলাকায় কারো বাসায় থেকে যাবো … অরুনদ্যুতি আপুর বাসায় থাকা যেতো, ক্রিসেন্ট রোডে বাসা, গ্রুপের একদমই কাছে। কিন্তু উনার বাসায় বিড়াল আছে, আর সেটা ঘরময় ঘুরে বেড়ায়। পোষা কুকুর – বিড়াল বিষয়টা নিয়ে আমার বেশ অস্বস্তি আছে। ফলে, ওই বাসায় থাকার চিন্তা আগেই বাদ দিয়ে দিচ্ছি। নায়ীমী’র বাসার সমস্যা হচ্ছে যে শীতের বিকাল-সন্ধ্যা বা রাতে ওদের বাসায় প্রজাপতি ঢুকবে কি না, কিংবা গরম পানি পাওয়া যাবে কি না, সে ব্যাপারে আমি নিশ্চিত না। ওদের বাসা অনেক খোলামেলা, বারান্দার দরজাও ওরা খোলাই রাখে, এমন কি এর মধ্যে একদিন বিকালবেলা ড্রয়িংরুমে ছোটো পোকা উড়তেও দেখেছি । এইটা যদি গরমকাল হতো, তাহলে আমি বিনা দ্বিধায় নায়ীমী’র বাসায় রাতের বেলা থেকে যেতাম।

ঊফ! কী একটা হুজ্জত! এতদূরে বাসা হয়ে এখন আর আমি ধানমন্ডি এলাকায় কোথাও একটা রাত থাকার আরামদায়ক জায়গা পর্যন্ত পাই না!

যাই হোক, রাতটা পোহাক। সকালবেলা ঘুম থেকে উঠে কোনো দিশা পাই কি না দেখা যাক!

আজকের কথা সংক্ষেপে বলি। আজকে আমার ডে অফ ছিলো। তারপরও স্কুলে যেতে হয়েছে, মিটিং ছিলো বলে। স্কুল থেকে বের হতে হতে ৪টার মতো বাজলো। নায়ীমী স্কুল থেকে সরাসরি শিল্পকলায় রিহার্সালে চলে যাবে বলে ঠিক করলো, কারণ ওর ৫টায় রিহার্সাল কল। দুপুরের খাওয়াটা এর মধ্যে খেয়ে নিয়ে সময় কাটিয়ে দেয়া যেতে পারে চিন্তা করে এলিফ্যান্ট রোডে শর্মা হাউজের দিকে রওয়ানা দিয়ে শেষে হাতিরপুলে ইস্টার্ন প্লাজার পাশে বিগ বাইট-এ গিয়ে বসলাম। বিগ বাইট বেশ পুরনো দোকান। এটার ইন্টেরিওরে একটা আর্লি নাইন্টিজ-এর ফ্লেভার এর কারণে বেশ ভালো লাগতো ওখানে যেতে। রিসেন্টলি পুরানো ইন্টেরিওর চেঞ্জ করেছে, কিন্তু এরপর আর যাওয়া হয়নি। নায়ীমী’র উৎসাহেই আজকে গেলাম। ভালোই লাগলো। আগের ফার্নিচার আর দেয়ালে টাঙ্গানো ছবিগুলো ওরা একরকমই রাখার চেষ্টা করেছে। তারমধ্যেও আধুনিকতার ইফেক্ট তো আছেই। কিন্তু ওভারঅল খারাপ লাগেনি। যাই হোক, খাওয়া-দাওয়া করে বের হয়ে দেখি মাত্র পৌনে ৫টা বাজে। অত তাড়াতাড়ি গ্রুপের দিকে গিয়ে করবোটাই বা কি? নায়ীমীর সাথে শিল্পকলা পর্যন্ত গেলাম, চিলেকোঠায় বসে এক কাপ কফি খেলাম, তারপর আবার গ্রুপের দিকে রওয়ানা হলাম। তারপরও গ্রুপে যখন পৌঁছেছি তখন মাত্র সোয়া ছয়টা বাজে।

স্কুল থেকে বের হয়ে গ্রুপে যাওয়ার আগ পর্যন্ত সময়টা কি করবো, সেটা নিয়ে যে প্রতিদিন কি একটা উদ্দেশ্যহীন অবস্থা তৈরি হয়! আবার প্রায়ই দেখা যায় গ্রুপে গিয়ে সাড়ে ৫টার দিকে বসে থাকতে হচ্ছে। সেটাও অস্বস্তিকর, কারণ আজাদ ভাই একা থাকে। উনি তো আমি গ্রুপে ঢুকবার পরপরই আমাকে প্রেম নিবেদন করে দুনিয়ার কাহিনী-টাহিনী করেছিলেন। আবার আমাকে থ্রেট-ও দিয়েছিলেন যে রেপ করবেন। সেগুলো আমি রাহুল দা আর পাভেল ভাই-কে জানিয়ে দিয়েছিলাম, তারপর তাকে বেশ শান্টিং-টান্টিং দেয়া হয়েছিলো। উনি গাঁজা খেয়ে খেয়ে মাথা নষ্ট করে ওইসব কাহিনী শুরু করেছিলেন, আর এখন উনি মাল্টিপল পারসোনালিটি নিয়ে থাকেন। কখনো মহামায়া, কখনো শ্রী বসন্ত বিদ্যারীণ, আবার কোনোদিন হয়তো সকালবেলা ঘুম থেকে উঠে উনি ‘মাসিহুদ্দৌল্লা আজাদ’ রূপেই ফিরে যাবেন। সে যাই হোক, তার সাথে আমি ওইসব ঘটনার পর থেকে কথা তো বলিই না, বরঞ্চ তাকে দেখলে বিরক্তই হই। সেই লোকটাই মানসিক অসুস্থতার লেবাস নিয়ে অন্যের কাছ থেকে টাকাপয়সা ভিক্ষা করে-টরে বেশ মুফতে গ্রুপে থেকে থেকে দিনের পর দিন পার করে দিচ্ছে। আমার কাছে উনাকে অসুস্থ বলে মনে হয় না। উনি যতটুকু মানসিক বিকারগ্রস্ত থাকবার ভাব নিয়ে থাকেন, তার চাইতেও অনেক বেশি সুস্থ উনি। আমার কাছে মনে হয় যে উনি খুব ঠান্ডা মাথায় কিছু রোল প্লে করে যাচ্ছেন আর এটার পেছনে তার অনেক গভীর কোনো একটা মোটিফ আছে। হয়তো উনি তার প্রতি মানুষের আচরণ নিয়ে এক্সপেরিমেন্ট করছেন, কিংবা এগুলো সবকিছু মিলিয়ে উনি একটা নাটক বা গল্প বা উপন্যাস লিখবেন। তাকে দেখলে যে কেউই তাকে মাল্টিপল পারসনালিটি ডিজঅর্ডারে আক্রান্ত বলে ভেবে নেবে, নয়তো ভাব্বে সিজোয়েড গোত্রের পেশেন্ট। হয়তো বা তিনি তাই, আবার হয়তো বা সুস্থ থেকেও সচেতনভাবে অসুস্থতার ভাব ধরে আছেন। সে যাই হোক, তার উপস্থিতি আমার অপছন্দ। সেকারণে অত তাড়াতাড়ি একা একা গ্রুপে গিয়ে বসে থাকতে আমার অস্বস্তি লাগে।

যাই হোক, আজকে আর লিখবো না। প্রচণ্ড ঘুম আসছে। অন্তত একটা হ্যান্ডআউট রেডি করে ঘুমাই। সকালে উঠে বাকিটা করবো।

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s