দিনযাপন | ২৮১১২০১৫

দুইদিনের জন্য হুট করে সব ব্যস্ততা থেকে গায়েব হয়ে যাওয়া বিষয়টা আনন্দের … বিশেষ করে যদি সেটা হয় কোথাও ঘুরতে চলে যাওয়া …

গত দুইটা দিন তাই করলাম … সিরাজগঞ্জ শো করতে গেলাম … সেখান থেকেই ইনস্ট্যান্ট প্ল্যানিং-এ পরদিন সকালে শ্রীমঙ্গল  রওয়ানা … ঝটিকা সফরে শ্রীমঙ্গল ঘুরে অতঃপর ঢাকায় …

কাহিনী হচ্ছে যে, অমিতের ক্লাসমেট উজ্জ্বলের বোনের বিয়ে। উজ্জ্বল মনিপুরী, সিনহা ফ্যামিলির ছেলে। ফলে এত কাছ থেকে একটা মনিপুরী বিয়ে দেখার সুযোগ! … অমিতদের ক্লাসমেট-দের আগে থেকেই ওখানে যাওয়ার প্ল্যান ছিল। সেকারণে সিরাজগঞ্জে ট্র্যাজেডি পলাশবাড়ির শো-তে অমিতের যাওয়া না যাওয়া নিয়ে একটা কনফিউশন ছিলো। ওকে যেতে বলেছিল, পরে আবার ওর যাওয়া হলো না … মনিপুরী বিয়ে শুনে আমারও যাওয়ার আগ্রহ হচ্ছিলো … ভাবছিলাম যে অমিত যদি সিরাজগঞ্জ যায়, তাহলে ওর সাথে এমন একটা প্ল্যান করবো যে ও যদি ২৭ তারিখ সকালে রওয়ানা দেয়, তাহলে আমিও সাথে যাবো। ওদের সবার আবার ট্রেনের টিকিট কাটা ছিলো ২৬ তারিখ রাতের। সিরাজগঞ্জ যাওয়া হলে হয়তো অমিত যেতো না বিয়েতে। সিরাজগঞ্জ যাওয়া হলো না দেখে ও-ও ২৬ তারিখ রাতেই রওয়ানা দিলো। এদিকে ও যখন যাচ্ছে, তখন আমি সিরাজগঞ্জ থেকে ফিরছি। ফলে ওর সাথে আর আমার যাওয়া হলো না … যাওয়া হবে না চিন্তা করে বেশ মন খারাপ হলো … গ্রুপে ঢোকার পর সাদি’র সাথে অমিতের বেশ খাতির হয়েছে। দুইজনে একসাথে বাঁশি নিয়ে গবেষণা করে, সিগারেট খায়। তো, অমিত উজ্জ্বলের বোনের বিয়েতে যেতে পারে, এইটা সাদি’রও জানা ছিলো। আমি সাদিকে সামনে পেয়ে ওকে বলছিলাম যে অমিত রওয়ানা দিয়ে দিয়েছে, আমার আর যাওয়া হলো না … সাদি তখন হুট করে বলে যে ও নিজেও যেতে চাইসিলো, কিন্তু অমিত আর ফাইনালি কিছু না বলেই চলে যাচ্ছে। তারপর আধাঘণ্টার মধ্যে সাদি আর টুটুলের সাথে প্ল্যান হয়ে গেলো যে আমরা পরদিন সকালে ১০টা/১১টার দিকে রওয়ানা দিচ্ছি শ্রীমঙ্গলের উদ্দেশ্যে। রানা আর নীল-কে অফার করেছিলাম সাথে যাবে কি না, কেউ রাজি হলো না। গোপি’র পরদিন কাজ আছে সর্বনামের সাথে, তাই ওকে যেতে বলার কোনো অপশন ছিলো না। নোবেল ভাইকেও বলা যেতো, তবে সেও তো সর্বনামের কাজেই এঙ্গেজড, তাই আর বলি নাই। অবশ্য যদি সে যেতেও পারতো, তাও হয়তো বলতাম না কারণ তাহলে তো আর একা যেতো না, সাথে লেজ নিয়ে যেতো। আর সাথে লেজ থাকলে না আমরা কেউ নোবেল ভাইয়ের সাথে ইউজুয়াল ফাজলামি করতে পারতাম, না নোবেল ভাই সেসবের ইউজুয়াল কাউন্টার দিতে পারতো!সো, বাদ!

যাই হোক, ট্যুরের যাবতীয় ঘটনা নিয়ে আলাদা লেখা হয়ে যাবে হোপফুলি। সো, এখানে ট্যুর-এ কি হলো না হলো সেগুলো নিয়ে আর কিছু লিখছি না …

হুটহাট সবার সব কাজ বাদ দিয়েই ঘুরতে চলে যাওয়া। আমার স্কুলে ফার্স্ট টার্ম পরীক্ষা শুরু হয়েছে। আমার অবশ্য আজকে পর্যন্ত ডিউটি ছিল না, আর শনিবার বলে আমার না গেলেও চলতো। কাজের মধ্যে অবশ্য খোয়াবনামার স্ক্রিপ্ট রিডিং এর তত্ত্বাবধানটা জরুরি কাজের মধ্যেই ছিলো। সেটা সজীবকে বলে নিতে ভুলে গিয়েছিলাম যে ও যেন দুইটা দিন এসে সময় দেয়। সাদি’র অনার্সের থিসিস জমা দেয়ার কথা আজকে। সিরাজগঞ্জ থেকে ফিরতে ফিরতে রাত হলো দেখে আমরা ৪/৫ জন ( সাদি, টুটুল, ফুয়াদ, গোপী আর আমি) গ্রুপেই থেকে গিয়েছিলাম। তো সাদি গ্রুপে বসেই আমার ল্যাপটপ নিয়ে বসে ওর থিসিসের কাজ শেষ করে রাখলো। পরে সেটা এক ফ্রেন্ডকে মেইল করে দিয়েছে, জমা দিয়ে দেবার জন্য। আর একমাত্র টুটুলের তেমন ব্যস্ততা নাই। গ্রুপে স্কুলের একটা দায়িত্ব ছিলো, সেটা সুইচ করে নিলো। …

মোট কথা, যে যার কাজের কথা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলেই এই ঝটিকা সফরে বের হয়ে গেছি … ট্রেনের লম্বা ৮ ঘন্টার জার্নি … সিট নিয়ে কাহিনী … রাজশাহী ডেন্টালের সারিতা … আতর ব্যবসায়ী রাহি … জনৈক পাঙ্ক সহযাত্রী … যাত্রাপথের এইসব টুকরো ঘটনা …

নাহ! ক্লান্ত লাগছে খুব … টানা তিন রাত তিন দিন বাসায় ছিলাম না … একরাত নায়ীমীর বাসায় … একরাত গ্রুপে … একরাত শ্রীমঙ্গলে … সিরাজগঞ্জের শো শেষ করে ঢাকায় এসে সারারাত থেকে কালকে ভোরবেলা বাসায় এসে ব্যাগটা গুছিয়ে গোসল করেই আবার কমলাপুর … তিনটা রাতই ঘুমিয়েছি একটা ‘ নট ফ্রেশ’ ভাব নিয়ে … গতকাল্কে রাতে অবশ্য গরম পানিতে গোসল করে বেশ ফ্রেশ ফ্রেশ মুডেই ঘুমিয়েছি, কিন্তু তারপরও … নিজের বাথ্রুমে ফ্রেশ না হলে, গোসল না করলে কখনোই ভাল লাগে না! …

আজকে আর লিখবো না … ঘুমে দুনিয়া আন্ধার হয়ে যাচ্ছে … অতএব ঘুমাতেই যাই …

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s