দিনযাপন । ০১১২২০১৫

প্রতিদিন নিয়ম করে দিনযাপন তো লিখে যাচ্ছি ঠিকই, কিন্তু কেউ তো পড়বার সুযোগ পাচ্ছে না! ফেসবুক খুব সহসা চালু হবে বলেও মনে হচ্ছে না। দিনযাপনের লেখা, লাস্ট দুই সপ্তাহের দুই ট্রিপের ছবি … অনেককিছুই জমা হয়ে আছে প্রকাশের জন্য …

ডিসেম্বর মাস শুরু হয়ে গেলো। এ বছর নভেম্বর মাসে একদিনও বৃষ্টি হয়নি! নো নভেম্বর রেইন! এবার শীত আদৌ পড়বে কি না কে জানে! ডিসেম্বর মাস চলে আসলো, অথচ এখনো রাতের বেলা একটু ঠাণ্ডা বাতাস ছাড়া আর শীত শীত ভাবের ছিটেফোঁটাও নেই!

গতকালকে ক্লাসিক্যাল মিউজিক ফেস্টিভ্যাল -এ গিয়েছিলাম। রেজিস্ট্রেশন যখন করেছি, তখনই ঠিক করে রেখেছিলাম যে একমাত্র ৩০ তারিখেই যাবো, শিব কুমার শর্মা’র সান্তুর আর জাকির হোসেনের তবলা শুনবো। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ীই কালকে যাওয়া। স্কুল থেকে বাসায় এসে রেডি হয়ে প্রথমে গ্রুপে গেছি, তারপর গ্রুপ থেকে টুটুল আর আমি এই দুইজন গেছি। কলি আপু প্রথমে বলেছিলো তাকে নিয়ে যেতে। পরে যখন তার বাসার সামনে গেলাম, তখন প্ল্যান চেঞ্জ করে ফেললো। আমরা যখন গ্রুপ থেকে বের হয়েছি ততক্ষণে শশাঙ্কদা ফ্রি হয়ে গেছে বলে তার সাথেই যাবে বলে ডিসিশন নিলো কলি আপু। আমার বেশ বিরক্ত লাগলো ব্যাপারটা। মানে, সিচুয়েশনটার ওপর আর কি! এম্নিতেই আমাদের ৮টার মধ্যে বের হয়ে যাবার প্ল্যান ছিলো, জবা দি ব্যানারের কাজ করছে দেখে ভাবলাম যে সাড়ে ৮টা নাগাদ বের হই। আমার টার্গেট শিব কুমার শর্মার পারফরমেন্স শুরু হবার আগে আগেই আর্মি স্টেডিয়ামে গিয়ে একটা জায়গায় সেটল হয়ে বসে যাওয়া। কারণ আমি খুব মনোযোগ দিয়ে উনার পারফরমেন্স শুনতে চাই। কিন্তু সাড়ে ৮টা বাজতে না বাজতেই পাভেল ভাই এসে হাজির! এসেই হুটহাট এটা-সেটা কাজ নিয়ে আলোচোনা শুরু করলেন। আমি পড়লাম ফাঁপরে। আমার সাথেই কাজের আলোচনা, ফলে আমি তাড়া আছে, আজকে বের হই বলে চলেও আসতে পারছি না। এই করে করে বের হলাম ১০টা সময়। এম্নিতেই বিরক্ত লাগছে এই ভেবে যে সান্তুর-এর পারফরমেন্স বোধহয় আর শোনাই হবে না। এর মধ্যে বাটা সিগন্যালে কলি আপু’র বাসা পর্যন্ত হেঁটে গিয়ে যখন শুনতে হলো সে যাবে না, তখন ভেতরে ভেতরে প্রচণ্ড মেজাজ খারাপ হয়ে গেলো।

এদিকে, আর্মি স্টেডিয়াম পৌঁছে আরেক হুজ্জত! মেইন গেট দিয়ে ঢুকবার সময়ও এবার চেকিং হয়, ফলে ঢুকতে হয় লাইন করে। আর সেই লাইন দেখলাম প্রায় পেছনের নেভি অফিস পর্যন্ত গিয়ে ঠেকেছে। সেই লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে, আবার গ্যালারি গেট দিয়ে ঢুকবার লাইনে দাঁড়িয়ে, চেকিং-টেকিং এর ঝামেলা শেষ করে যখন ঢুকলাম ততক্ষণে শিব কুমার শর্মার পারফরমেন্স প্রায় শেষ। এরপর মনে হয় ১৫ মিনিটের মতো ছিলো উনার পারফরমেন্স। এত মন খারাপ হয়ে গেলো। প্রায় কান্নাই চলে আসলো দুঃখের চোটে যে এত প্ল্যান করে রাখলাম উনার সান্তুর শুনবো, আর সেটাই শুনতে পারলাম না!

পরে সেই যে এক জায়গায় বসেছি, জাকির হোসেন -এর তবলার পারফরমেন্স শেষ হওয়া পর্যন্ত আর উঠলাম না। শিব কুমার শর্মার সান্তুর আর জাকির হোসেনের তবলার মাঝে পন্ডিত তেজেন্দ্র নারায়ণ মজুমদারের সরোদ -এর পারফরমেন্সটাও বেশ ভালো লাগলো। একদম লাস্টে পন্ডিত উল্লাস কাশালকার-এর ভোকাল পারফরমেন্স ভালোই লাগলো না। কেমন ঝিমানী মার্কা লাগছিলো। পরপর তিনটা তাল আর লয়ের পারফরমেন্স শোনার পর ওরকম পারফরমেন্স কার ভালো লাগবে? মনে হচ্ছিলো যে উনি পারফরমেন্স করতে চাইছিলেন না, উনাকে জোর করে কেউ স্টেজে বসিয়ে দিয়েছে আর উনিও খুব বিরক্ত হয়ে একটা কিছু গেয়ে দিচ্ছেন আর গাইতে গাইতে হঠাৎ ঘুমিয়ে পড়ছেন!

কালকে ক্লাসিক্যাল ফেস্ট- এও আবার সোহেলকে দেখলাম, তার ফটোগ্রাফার বন্ধুদের সার্কেল-এর সাথে বসে আড্ডাবাজি করছে। প্রথমে যখন ঢুকলো, তখনই ওর দিকে চোখ পড়ে গেছে আমার। আবার বসেছেও আমি গ্যালারির যেখানটায় বসে ছিলাম সেই বরাবর, জাস্ট একটা কলাম পরেই! ও আর ওয়ালিদ ভাই একসাথে ঢুকলো, সাথে একটা মেয়েও ছিলো। ওই মেয়েটা কি সোহেলের রিসেন্ট কোনো বান্ধবী নাকি জানি না। কয়েকদিন আগে বাবুর্চিতে খেতে গিয়ে যেই মেয়েটার সাথে ওকে দেখেছিলাম তার চেহারা-সুরত তো আর আমি মনে রাখি নাই!

বাই দ্য ওয়ে, বাবুর্চি রেস্তোরাঁর গল্পটা এই প্রসঙ্গে বলে নেয়া যাক। ২১ তারিখ, শনিবার কোয়েশ্চেন পেপারের কাজে স্কুলে গিয়েছিলাম। স্কুল থেকে বের হয়ে আমি আর নায়ীমী প্রথমে অর্চার্ড পয়েন্টে গেলাম। সেখানে নায়ীমী বাটিকের কাপড় খুঁজবে – সেটাই উদ্দেশ্য। সেখানকার কাজ সেরে নায়ীমী প্রস্তাব দিলো যে আমরা পার্লারে গিয়ে ভ্রু প্লাক করাই, তারপর কোথাও লাঞ্চ করে নেই, তাহলে ও বাসায় গিয়ে জাস্ট ফ্রেশ হয়ে শিল্পকলায় রিহার্সালে চলে যাবে, আর আমারও গ্রুপে যাবার আগে কিছুক্ষণ সময় কেটে যাবে। শনিবারে তো ৩টা থেকে প্রাচ্যনাটে স্কুলের ক্লাস থাকে, ফলে ৩টার দিকে গিয়ে বসে থাকা যায়। আর আমরা স্কুল থেকে বের হয়েছিলাম ১টার দিকে। তো যাই হোক, পরিকল্পনা অনুযায়ী ৭ নাম্বারে কিউ বেলায় ভ্রু প্লাক-এর কাজ সেরে বের হয়ে যখন চিন্তা করলাম কই খেতে যাবো, তখন আমার হঠাৎ করেই মনে হলো বাবুর্চির খিচুড়ি খাবো। তো রওয়ানা দিলাম বাবুর্চিতে। যাবার পথেই হঠাৎ আবার মনে হলো, আচ্ছা ওখানে গিয়ে যদি সোহেলের সাথে দেখা হয়ে যায়! ও তো প্রায়ই বাবুর্চিতে খেতে যায় তার বান্ধবীদের নিয়ে। আমার সাথেও তো বেশ ক’বার গিয়েছে! যাই হোক, বাবুর্চি পৌছালাম। অনেক কাহিনী করে কমলা কেনার বিনিময়ে ৫০০টাকা ভাঙ্গিয়ে রিকশা ভাড়া দিলাম। তারপর দুইতলায় সিট থাকার পরেও ইচ্ছা হলো যে তিন তলায় বসবো। তিন তলায় দরজা দিয়ে ঢুকে দুই কদম সামনে আগিয়েই ইলেক্ট্রিক শক খেলাম – সোহেল জানালার পাশের একটা সোফায় বসা, তার সাথে একটা মেয়ে! এই দৃশ্য দেখার জন্যই কি কোনো একটা অদৃশ্য শক্তি আমাকে ওখানে নিয়ে গেলো? তাও এতটা কাকতালীয় ভাবে?

এতকিছুর পরেও সোহেল বীরদর্পে মেয়েদের সাথে স্বভাবসুলভভাবে মেলামেশা করে যাচ্ছে, এইটাতে আমি অবাক হই নাই। কারণ এরকম দৃশ্য দেখবো সেটা জানাই ছিলো। ওই যে, কুকুরের লেজ কখনো সোজা হয় না বলে একটা কথা আছে না! সোহেল তো জাত হিসেবে কুকুরের চাইতে উন্নত কিছু না, ফলে ওর লেজও বাঁকাই থাকবে, সেটাই স্বাভবিক।

কিন্তু পুরো পরিস্থিতিটার ওপরেই আমার সেদিন খুব রাগ হয়েছিলো। সোহেলের মতো চুতিয়া শ্রেণীর লোকজন কেমন নির্ভয়ে দাপিয়ে বেড়ায়! আর আমরা যারা তাদের মতো মানুষদের চোদন খাই, আমরাই কেমন গুটিসুটি মেরে নীরবে নিজের রাস্তা মাপি!

যাই হোক, কালকের ক্ল্যাসিক্যাল ফেস্টিভ্যাল নিয়ে লিখছিলাম, সেখানেই ফেরত যাই …

ফেরার সময় আরেক হুজ্জত! ফরহাদ ভাইয়ের বাসা ১১ নাম্বারে, পূরবী সিনেমা হলের আগে। উনার সাথেই ফিরলাম।  আর্মি স্টেডিয়ামের সামনে থেকে একটা সিএনজি নেয়া হলো, কিন্তু সেটা কালশী মোড়ের একটু আগে এসেই গ্যাস শেষ হয়ে বন্ধ হয়ে গেলো। ভোর সাড়ে ৫টা বাজে তখন, আলো খুব একটা ফোটেনি। ফরহাদ ভাই, শান্তা আপু আর আমি একটু দূর হাঁটার পর একটা রিকশা পেলাম। সেটা উনাদের বাসার সামনে দিয়ে ঘুরে মেইন রোডে বের হয়ে যাবে, এরকম প্ল্যান। সিএঞ্জি  তো সাড়ে ১১ পর্যন্তই ঠিক করা হয়েছিলো, মাঝখানে ফরহাদ ভাইরা উনাদের বাসার গলিতে নেমে যেতো। রিকশা নেয়ার ফলে রুট হয়ে গেলো উলটা, আর আমারও বেশ ভয় লাগলো। উনার বাসা থেকে রিকশায় মোটামুটি ১০ মিনিটের পথ আমার বাসা। অত ভোরবেলা, অন্ধকারের মধ্যে রিকশায় একা একা এইটুকু পথ যাবো তাতে বেশ ভয় লাগারই কথা। আমি তো আর সরাসরি  তাঁকে বলতে পারি না আমাকে বাসা পর্যন্ত এগিয়ে দিয়ে আসেন। উনি একা থাকলে হয়তো বলতে পারতাম। ফরহাদ ভাই নিজেও দেখলাম আমাকে একটু রাস্তা এগিয়ে দেয়ার বা বাসা পর্যন্ত পৌঁছে দেয়ার ব্যাপারে তেমন গরজ করছে না। এদিকে উনাদের বাসার সামনে পৌঁছে আমি ইনিয়ে বিনিয়ে বলেই ফেললাম যে ফরহাদ ভাই আমাকে কিছুটা রাস্তা এগিয়ে দিয়ে আসেন। সাথে সাথে শান্তা আপু বেশ প্রটেক্টিভ কন্ঠে বলে উঠলো যে দারোয়ান ঝামেলা করবে। মনে মনে হাসলাম শান্তা আপু’র যুক্তি শুনে! দারোয়ানকে ফোন করে উঠিয়ে গেট খুলিয়েছে, দারোয়ান আবার দশ-পনেরো মিনিট পরে উঠে গেট খূলে দেয়ার প্যানা নেবে না, এইটাই এখানে ইম্পোর্ট্যান্স দিতে হলো? একটা মেয়ে ভোর সাড়ে ৫টা সময় একা একা বাসায় যাবে, রাস্তায় কেউ আটকায় যে কোনো কিছু করতে পারে, সাথে একটা ছেলেমানুষ দেখলে হয়তো কিছু করবে না, সেইটা তাদের ভাবনায় গুরুত্ব পেলো না? … কি আর করবো! মনে মনে আল্লাহ খোদা ভগবান এইসব ডাকতে ডাকতে যেতে থাকলাম। পূরবীর সাম্নের কাটাটাও দেখলাম কালকে বন্ধ করে দিয়েছে। ঘুরে আসতে গিয়ে সেই টিয়ামের বাসার কাছ থেকেই ঘুরে আসতে হলো।  মনে হচ্ছিলো রাস্তা যেন আর শেষ হয়না। বাসার মূল গলি দিয়ে ঢুকে তারপর মনে হলো যে যাক! এ যাত্রা তো বেঁচে গেছি!

আর লিখবোনা আজকে। প্রচণ্ড ক্লান্ত। ঘুম হয়নি ঠিকমতো। একে তো সারারাত জেগেছি, তারপর স্কুলে গেছি … মাথা আর কাজ করছে না। গ্রুপ থেকে আজকে তাড়াতাড়ি বের হয়ে চলে  এসেছি ঘুমাবো বলে। সেই তো ১২টাই বাজালাম! এখন খেয়ে দেয়ে ঘুমাতে যাই। কালকে আবার সাত সকালেই বের হতে হবে …

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s