দিনযাপন | ০৩১২২০১৫

মনে হচ্ছে যেন কতদিন পর আগামীকাল সকালবেলাটা এমন একটা সকাল হবে, যেই সকালে ঘুম থেকে উঠবার তাড়া নেই! শেষ ৩টা সপ্তাহ যাবৎ তো ঘুমের রুটিনের যাচ্ছেতাই অবস্থা! ফলে ঘুমটাও ঠিকমতো হচ্ছে না, আর সারাদিন ক্যামন অসুস্থ লাগছে, টায়ার্ড লাগছে! আগামীকাল যদি অনেকটা সময় ঘুমিয়ে নেয়া যায়!

গতকালকে দিনযাপন লেখা হয়নি আলসেমিজনিত কারণে। ঠিক আলসেমিও বলা যায় না … বাসায় ফিরে কি জানি কি মনে হলো, একটা পুরানো এক্সটারনাল ড্রাইভ নিয়ে বসলাম ওইখান থেকে সমস্ত ডকুমেন্ট গুগল ড্রাইভে ট্রান্সফার করার জন্য। এই করতে করতে ঘুম পেয়ে গেলো, ঘুমিয়ে পড়লাম। অবশ্য কালকে আমি প্রচণ্ড ক্লান্তও ছিলাম। সকালে স্কুলে গিয়ে বিস্কিট আর চা খেয়েছিলাম, তারপর সারাদিন আর কিছু খাওয়া হয়নি। পরে রাত ৯টার দিকে গ্রুপের নিচে সিপি-তে গিয়ে ফ্রাইড রাইস আর চিকেন খেয়ে তারপর শান্তি হয়েছে। না হলে মনে হচ্ছিলো যে ক্ষুধার কারণেই মাথা ঘুরে পড়ে যাবো। কাহিনী হচ্ছে যে স্কুল থেকে বের হয়ে সময় কাটানোর উছিলায় ফৌজিয়া আপার সাথে কিছুক্ষণ ঘুরলাম। উনি উনার বোনের জন্য ব্লাউজের কাপড় কিনবেন। সেজন্য ধান্মন্ডি ৪ নাম্বারের সিল্কের কাপড়ের দোকানগুলোতে ঘুরলেন। পারফেকশনিস্ট হবার কারণে কোনোভাবেই উনি ঠিক যেই কাপড়টা খুঁজছেন সেটা মেলাতে পারছিলেন না। ফলস্বরূপ অইখানের ৪টা দোকানের প্রত্যেকটায় ২/৩ বার করে ঘুরে, এটার সাথে ওটা, ওটার সাথে এটা করতে করতে সময় পার হয়ে গেলো ঘণ্টাখানেক। তারপর সেখান থেকে সরাসরি চলে গেলাম শশাঙ্ক দা’র অফিসে। ট্র্যাজেডি পলাশবাড়ির ব্রশিয়ার ছাপাবে, সব্য দা বলেছেন ডিজাইনের গ্রাউন্ড পেজে লেখা বসিয়ে দিতে, তারপর উনি পেজ সেটআপ করে দেবেন। এই লেখা বসানোর কাজটা আমি চাইছিলাম নিজের পরিচিত সার্কেল থেকে করিয়ে নিতে, শশাঙ্ক দা ছিলো লাস্ট রিসোর্ট। নিজের আলসেমি’র জন্যই হোক, আর খুঁতখুঁতানির জন্যই হোক, সেই যোগাযোগটা আর কারো সাথে করা হয়নি। সো, শেষমেশ লাস্ট রিসোর্টের কাছেই যাওয়া। অবশ্য গ্রাফিক্স-এর কাজ যিনি করলেন তিনি যথেষ্টই কম ‘প্যানাফাইং’ আর ‘আমি সব বুঝি’ টাইপ আচরণও দেখায় নাই। উনার সাথে কাজে বসিয়ে দিয়ে শশাঙ্কদা চলে গিয়েছিলো। দেখলাম যে কোনোরকম ক্যাচালীয় মনোভাব ছাড়াই শান্তিপূর্ণভাবে কাজ শেষ হলো। তো, এই স্কুল থেকে বের হয়ে ওই কাজ শেষ করে গ্রুপে যাওয়া পর্যন্ত ওই সময়ের মধ্যে ইভেন এক কাপ চা-ও খাওয়া হয়নি। গ্রুপে উঠার আগেই খাবার কিনে উঠবো ভাবছিলাম, কিন্তু যেই পরিমাণ প্রেশার ছিল ব্লাডারে তাতে করে গ্রুপে গিয়ে আগে ব্লাডার খালি করাটাই বেশি জরুরি হয়ে পড়লো। তাই, গ্রুপে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে তারপর আবার খেতে নামলাম। একা যেতে ইচ্ছা হচ্ছিলো না দেখে টুটুলকে নিয়ে গেলাম, পরে শুভ এসে জয়েন করলো।

আজকে দুপুরে হালকা এক পশলা বৃষ্টি হলো, অবশেষে! তবে, আজকের বৃষ্টির গল্পটা মজার। আমি আর নায়ীমী স্কুল থেকে বের হয়ে শিল্পকলায় যাবার পথে নভেম্বর মাসে বৃষ্টি না হওয়া নিয়ে কথা বলছিলাম। বৃষ্টি সংক্রান্ত আলোচনা শেষ হয়েছে কি হয়নি, হঠাৎ মনে হলো মেঘের গর্জন শুনলাম! তার একমিনিট -এর মধ্যেই বিশাল বড় বড় পানির ফোঁটা গায়ে পড়তে শুরু করলো। আমাদের রিকশা তখন শাহবাগে পিজি হাসপাতালের পাশে। আমার একবার মনে হলো হাসপাতালের ওপর থেকে কেউ পানি ফেলেছে বুঝি! তার প্রায় সাথে সাথেই রিয়েলাইজ করলাম যে এটা আসলে বৃষ্টি! কি কাকতালীয়! বৃষ্টি নিয়ে গল্প করতে করতে যেন বৃষ্টিকে ডেকেই আনলাম!

গতকালকে ডকুমেন্ট গুছাতে গিয়ে ২ টা লেখা খুঁজে পেয়ে আমি বেশ আপ্লুত। ভেবেছিলাম লেখাগুলো হয়তো হারিয়েই গেছে! একটা গল্প লিখতে শুরু করেছিলাম একসময়, ‘ ক্যাকটাস’ নামে। গল্পটা লিখতে গিয়ে নিজের সাহিত্য প্রতিভায় নিজেই মুগ্ধ হয়ে গিয়েছিলাম। কিন্তু ৩টা দৃশ্যের পরে আর আমি গল্পটা আগাতে পারিনি। একদম শেষ দৃশ্যটা আমার চোখে, মাথায় গেঁথে আছে, কিন্তু ক্লাইম্যাক্সটকু কিভাবে কি হবে সেটা আর গুছিয়ে লিখতে পারছি না। কিন্তু এবার আমি লেখাটা নিয়ে বসবো। লেখাটা শেষ করতেই হবে! … আরেকটা লেখা যেটা পেয়েছি, সেটা একটা নাটকের স্ক্রিপ্ট। সেটাও লিখতে গিয়ে নিজের সাহিত্য প্রতিভা নিয়ে বেশ উল্লসিত হয়েছিলাম। একটা আপেল নিয়ে গল্প। এক্টু ম্যাজিক রিয়ালিজমের ধাঁচ আছে। একটা সময় জেম-কে এই স্ক্রিপ্ট-টার সামারি বলেছিলাম। ও নিজে আপাতত ডিরেক্টর হবার চেষ্টায় আছে, তাই আমাকে বলেছিলো স্ক্রিপ্টটা ওকে করে দিতে। আমি ওকে সরাসরি না করিনি। কিন্তু দেইও নাই। কারণ ও যদি এটা নিয়ে কাজ করে, তাহলে আমার যে ভাবনা আছে, সেটাকে ছাপিয়ে ও নিজের একদম খাপছাড়া একটা ইন্টারপ্রেটেশন ঢুকিয়ে দেবে। রবীন্দ্রনাথ, শেক্সপিয়ার এদেরকেই ছাড়েনাই, আর আমি তো কোন ছাড়! কিন্তু আমার লেখার যে ভিজ্যূয়াল, যে ভাবনা সেটা তো চেঞ্জ করলে আমি পছন্দ করবো না। তাই ওকে কয়েকদিন যাবৎ দিচ্ছি – দিবো করে করে আর দেই নাই। এই স্ক্রিপ্ট-এর ডিরেকশন যদি কেউ দেয়, সেটা পাভেল ভাই হতে পারে, কিংবা বকুল ভাই! … এই মানুষগুলোর বুঝদারিত্বের লেভেল অনেক বেশি, আর এরা যদি এটা নিয়ে মিডিয়ার নাটক বানায়, তাহলে সেই নাটক ভালো হবে নিশ্চিত।

আজকে আর লেখার মতো কিছু পাচ্ছি না। কালকে শো আছে – কিনু কাহারের থেটার। এখন ঘুমাই। সকালে আরাম করে দেরি করে উঠে তারপর ধীরে-সুস্থে বের হবো শো-এর উদ্দেশ্যে। অনেকদিন টিয়ামের বাসায় যাই না, কালকে দিনের বেলা একবার ঢুঁ মেরে যাবো কি না ভাবছি।

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s