দিনযাপন | ০৪১২২০১৫

ওই যে কালকে বলছিলাম, অনেকদিন পর একটা অ্যালার্ম ছাড়া ঘুম ভাঙ্গার সকাল পেতে যাচ্ছি। সকালটা বেশ আরামেই হলো। অবশ্য ৬টার দিকে একবার ঘুম ভেঙ্গে গেলো। তারপর আবার ঘুমিয়ে গেলাম। তখন কি কি জানি হাবিজাবি স্বপ্নও দেখলাম। মেজাজ খারাপ করা স্বপ্ন! কোথায় জানি গেছি, সেখানে আবার সোহেলের সাথে দেখা। সোহেল আবার আমার কাছে খুব মাপ-টাপ চাইলো। এইসব এইসব জিনিসপত্র! ওর নামটাই আমার মনে আসলে আমার পায়ের রক্ত মাথায় উঠে যাওয়ার অবস্থা হয়, তার মধ্যে এইসব স্বপ্ন দেখে তো মেজাজ আরও কয়েক ডিগ্রি বেশি খারাপ হয়ে যায়!

যাই হোক, ঘুম থেকে উঠলাম ১১টার দিকে। তারপর বসে বসে এম্নেই ল্যাপটপ গুতালাম। বিবিসি’র কাজটা ধরবো কি না ভাবছিলাম, কিন্তু ইচ্ছা করলো না। তারপর কতক্ষণ ভায়োলিন বাজানোর পাঁয়তারা করলাম। স্টাফ নোটেশন দেখে দেখে অল্ড লাং সাইন-এর টিউন তুলেছিলাম কয়েকদিন আগে। ঐটাই আবার মনে করে করে বাজালাম কিছুক্ষণ। এইটা কিন্তু আমার ভায়োলিন লেসনে করতে আরো দেরি আছে। অন্তত আরো তিন/চারটা ক্লাশ। কিন্তু আমি গুতাগুতি করে নিজে নিজেই তুলে ফেলেছি টিউনটা। এখন মূল লেসন বাদ দিয়ে খালি এইটাই বাজাই। এর মধ্যে তো ক্লাসও করিনা প্রায় দুই সপ্তাহ’র বেশি হয়ে গেলো। এক বুধবার মিল্টন স্যারের সমস্যা ছিলো। আরেক বুধবার আমি ট্র্যাজেডি পলাশবাড়ির ব্রশিয়ারের লে-আউট করতে শশাঙ্ক দা’র প্রেসে গেলাম। কালকে সকালবেলা যাওয়া যেতো। ভাবছিলামও যে যাবো। কিন্তু, সেটা করতে গেলে কালকের সারাদিনের রুটিনটা খুব হেক্টিক হয়ে যাবে। সো, বাদ …

তো, ঘুম থেকে ওঠা অবধি এই করতে করতে বেলা ১টা বাজিয়ে ফেললাম। কিনু কাহারের শো-এর জেনারেল কল ৩টায়। সুতরাং ২টার দিকে বের হতে হবে। এর মধ্যে অমিতও বাসায় আসলো। ও আর আমি এক সাথেই বের হয়ে গেলাম শিল্পকলায় যাবো বলে। ৩টা বাজার ঠিক ২ মিনিট আগে গিয়ে হলে ঢুকলাম। গিয়ে দেখি কেউ নাই! এমনকি সেট-এর টিমও নাই! শিল্পকলার লোক আমাকে জিজ্ঞেস করে “সেট কই?” … ফুয়াদের নাম্বার নাই দেখে আমি শুভ’কে ফোন করলাম। ও বললো যে ওরা মাত্র সেট ভ্যানে উঠিয়েছে! বুঝলাম যে আরো আধাঘণ্টা থেকে ৪০ মিনিটের মামলা। রানা’রা নিচে বকুল ভাইয়ের নাটকটার রিহার্সালে ছিলো, ওখানে গিয়ে কিছুক্ষণ সময় কাটিয়ে আসলাম। আজকের কিনু কাহারের শো-টা নিয়ে মনে হলো সবারই ক্যামন গা ছাড়া ভাব। রিহার্সালেও তাই দেখেছি! নাকি আমার কাছে হুদাই এমনটা মনে হয়েছে কে জানে!

আজকে যেহেতু সাড়ে ৬টায় শো শুরু হয়েছে, শেষ হয়ে গেলো সাড়ে ৮টার মধ্যেই। নিচে নেমে গল্পগুজব করে, চা খেয়ে কিছুটা সময় পার করেও দেখি মাত্র সাড়ে ৯টা বাজে। এদিকে টুটুল কলাবাগানে বাস কাউন্টারগুলোতে যাবে। ডিসেম্বরের লাস্টে ওদের ফ্যামিলি ট্রিপ হবে কক্সবাজারে, সেটার জন্য বাসের খোঁজ নেবে। আমার সাথে মুখে মুখে প্ল্যান হচ্ছিলো যে আমি ওকে বাসায় যাওয়ার পথে পান্থপথ মোড়ে নামিয়ে দিয়ে যাবো। দেখলাম যে তখনই যদি রওয়ানা দেই, তাতে করে আমার টাইমিং-টা অনেকটা এগিয়ে যায় আর রাস্তায় জ্যামের মধ্যেও পড়তে হয়। আবার ১০টার দিকে আমি যদি শিল্পকলা থেকে সিএঞ্জি নিতে যাই, তাহলে সিএঞ্জি সংকটে পড়তে হবে, নইলে লোক সংকটে। ফলে, উলটা প্ল্যান করলাম। টুটুলের সাথে রিকশায় করে কলাবাগান পর্যন্ত গেলাম। সেখানে ওর বাসের খোঁজ নেয়ার সঙ্গী হবার ছুতায় আমারও অনেকটা সময় পার হয়ে গেলো। তারপর যখন স্কয়ার হসপিটালের সামনে থেকে সিএঞ্জি নিয়ে বাসায় আসলাম, তখন আর রাস্তায় কোনো জ্যামে পড়তে হলো না, সময়ও নষ্ট হলো না।

ওইদিন ডকুমেন্ট গুছাতে গিয়ে খুচরা খুচরা কিছু লেখা পেয়েছি। সেগুলো একটা – দুইটা করে এখানে দিনযাপনে শেয়ার করবো ভাবছি। তাতে করে ওই লেখাগুলো আর ডকুমেন্ট ফাইল হিসেবে জমিয়ে রাখতে হবে না।  যেমন, ‘প্রতিদিনের কথা’ নাম দিয়ে একটা কিছু লেখা শুরু করেছিলাম। ডাইরি লিখবার মতো করে প্রতিদিনই কিছু না কিছু লিখে রাখতাম চিন্তা করেই হয়তো ঐ ডকুমেন্ট ফাইলটা খোলা। কিন্তু সেখানে একমাত্র এপ্রিল ১০,২০১০ তারিখের একটা অসমাপ্ত এন্ট্রি আছে। সেই ফাইলটা শুধু শুধু ল্যাপটপে বা ড্রাইভে রেখে দিয়ে আমার কাজ নাই। সো, বেটার যে লেখাটা এখানে শেয়ার করে আমি ওই ফাইলটা ফেলে দেই। এপ্রিল ১০, ২০১০ -এর এন্ট্রিটা এরকম –

ধানমন্ডি এলাকায় ইদানীং ইলেকট্রিসিটি যাওয়া-আসার নতুন টাইমটেবল হয়েছে। সারাদিন কোনো ভোগান্তি না করে বেলা ৪টা বাজতে না বাজতেই পরবর্তী দুই ঘন্টার জন্য ইলেকট্রিসিটি যায়, তারপর আবার রাত ৮টা থেকে ১০টা এবং রাত ১২টা থেকে ২টা। আমার জন্য সকালটা শান্তিদায়ক, কারণ আমি নিতান্তই আলস্যবশতঃ বাসা থেকে ধীরে সুস্থে বের হই ১১টার দিকে। সেই ভোর ৬টাতেই ঘুম ভাঙ্গুক আর ৮টায়, ঘড়ির কাঁটায় ৯টা পার না হলে আমার বিছানা ছেড়ে উঠতে একদমই মন চায় না…রীতিমত জোর করে হলেও আমি মটকা মেরে পড়ে থাকি ৯টা পর্যন্ত। আর ভাবি, ভার্সিটি কেন ১২টা থেকে শুরু হয়না?…যাই হোক, সারাদিনে আমার এই ইলেক্ট্রিসিটি থাকা না থাকা ব্যাপারটা খুব বেশি সমস্যা করে না একমাত্র গরম লাগা ছাড়া। বাসায় ফিরতে ফিরতে রাত ১১টা কি সাড়ে এগারোটা। … “

এইভাবে আরো টুকটাক লেখা এখানে এন্ট্রি করতে হবে। এখন তো ফেসবুক ইউজ করতে পারছি না, ফলে অন দিজ ডে ‘র বদৌলতে কবে কি লিখেছিলাম, কি করেছিলাম সেগুলোর রেফারেন্সও পাচ্ছি না! অনেক মানুষই অলরেডি প্রক্সি সার্ভার/ ব্রাউজার এইসব দিয়ে ফেসবুক চালাচ্ছে। কিন্তু আমি সাহস পাই না। এম্নিতেই খেয়াল করেছি যে আমি প্রতিদিন ব্লগে কি লিখি, সেটাও মনিটরিং হয়। প্রক্সি দিয়ে ফেসবুক ইউজ করছে যারা, তাদেরকেও যে মনিটর করা হচ্ছে না, তার গ্যারান্টি কি?

যাই হোক, বেশ ঘুম পাচ্ছে। ঘুমিয়ে যাই … কালকে অনেক কাজ …

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s