দিনযাপন | ০৫১২২০১৫

প্রায় সারাটা দিনই আজকে ক্যামন ঘুম ঘুম একটা ভাবের মধ্যে গেলো! সকালে ঘুম থেকে উঠেছি সাড়ে ৮টার দিকে। তারপর বসে বসে বিবিসি’র একটা স্ক্রিপ্ট-এর কাজ শেষ করে সেটা পাঠালাম ১২ টার দিকে। এরপর গুগল ট্রান্সলেট -এর উন্নতি সাধনের বেশ মুড আসলো। বেশ কয়েকটা সেন্টেন্স-এর ট্রান্সলেশন করলাম। এর মধ্যে ঘুম পেয়ে গেলো। আবার ঘুমিয়ে গেলাম ঘণ্টা দুয়েকের জন্য। তিনটার দিকে বেশ জোর করে উঠেই খেয়ে দেয়ে গোসল করে বের হয়ে গেলাম শিল্পকলা অ্যাকাডেমির উদ্দেশ্যে।

শিল্পকলার ৬৪ জেলার নাটকের প্রজেক্টে আজকে ঢাকা জেলার নাটকের শো ছিল। ডিরেকশন দিয়েছে বকুল ভাই। উনার ডিজাইন আর কম্পোজিশন সেন্স নিয়ে কিছু বলার নাই। উনার কাজ মানে ভালো হবেই, এরকম একটা ব্যাপার অলিখিতভাবেই আছে। এবারের প্রডাকশনটা নেমেছে ১ মাসে। ৩০ অক্টোবর থেকে কাজ শুরু হয়েছে, আর আজকে শো হল। তিন/চারটা দল থেকে মেম্বারদের নিয়ে কাজ করা হয়েছে। প্রাচ্যনাটেরও ৬ জন ছিলো।  বকুল ভাই-এর এই কাজটায় আমারও কোনো না কোনোভাবে ইনভলভড থাকার ইচ্ছা ছিলো। কিন্তু এমনিতেই খোয়াবনামা’র স্ক্রিপ্ট রিডিং-এর কাজটায় আমাকে থাকতে হচ্ছে, সেটা বাদ দিয়ে একমাসের জন্য তো গ্রুপ থেকে হাওয়া হয়ে যেতে পারতাম না! তাতে ‘দায়িত্বে অবহেলা করলাম’ ভেবে নিজের কাছে খারাপ তো লাগতোই, আবার হয়তো বিভিন্ন জনের বিভিন্ন কথাও শুনতে হতো!

আজকে তো এর বাইরে আর কিছু লেখার নাই। কারণ লেখার মতো সেরকম কিছু ঘটেও নাই। যেহেতু এইদিনে আর কবে কি ঘটেছিলো সেটারও কোনো রেফারেন্স নাই, তাই সেটা নিয়েও বকবক করা যাচ্ছে না। আজকে ৫ ডিসেম্বর, স্বপ্ন’র জন্মদিন। এইটুকুই মনে আছে আজকের দিনের বিশেষত্বের ব্যাপারে। পুরানো লেখার ভান্ডার থেকে একটা লেখাই না হয় শেয়ার করি । লেখাটা ফেসবুকের নোট হিসেবে লিখতে শুরু করেছিলাম কি না মনে নাই। অসমাপ্ত লেখা। ওই লেখা যেহেতু জমায় রেখেও লাভ নাই, তাই এখানে শেয়ার করে ড্রাইভ থেকে ডিলিট করে দেয়াই উত্তম। লেখাটা কবে লিখেছিলাম, তাও মনে নাই। ২০১০ সালের কাছাকাছি সময়ে হতে পারে।

এটা কখনোই আমার মাথা ঘামানোর বিষয় ছিলো না। এমনকী সমস্যাও নয়। কিন্তু, গত কয়েকদিন ধরেই ব্যাপারটা অনেক বেশি ভাবাচ্ছে। ভাবছি, সমস্যাটা কার? আমার, না মানুষগুলোর, না পারিপার্শিকতা তথা সমাজের?

সমস্যাটা কি তা বলার আগে নিজের একটা বর্ণণা দিয়ে নেই! আমি ৫ ফুট উচ্চতার একটা গোলগাল মানুষ। স্বাভাবিকের চেয়ে উচ্চতা অনুযায়ী ওজন একটু বেশি। সেটা নিয়ে অবশ্য আমার খুব একটা সমস্যা নেই। আমি মোটামুটি সারাদিন দৌড়ের ওপর থাকতে ভালোবাসা মানুষ। কোথাও একদন্ড অর্থহীন বেকার বসে থাকাটা খুব অপছন্দ। সকালবেলা ঘুম থেকে উঠবার পর পরই দৌড়ের শুরু। আমি কাকডাকা ভোরে ঊঠে পড়ার দলে নই। নিশাচরদের দলভুক্ত হবার সুবাদে আমার সকালটাও হয় দেরিতে। আর তাই ঘুম থেকে উঠেই ঘড়ির কাঁটার সাথে পাল্লা দিয়ে শুরু হয় আমার দৌড়। এই দৌড়াদৌড়িকে সহজ করে নিতে চুলগুলোকে ঘাড়ের নিচে নামতে দেয়ার প্রক্রিয়া বন্ধ করেছি। ফিতা-চিরুনির ঝামেলা নেই। হাতের পাঁচ আঙ্গুলই এখন অনেক ভালো চিরুনি! একটা ব্যান্ড হাতের কাছে পেলে তা দিয়ে চুলে ঝুটি বাঁধতে বাঁধতে সিড়ি দিয়ে নামা। নয়তো চুলে স্কার্ফ বেঁধে ফেলা, তাতে আঁচড়ানোর ঝামেলাটাও বর্জিত। পোশাকেও সেই দৌড়ের ছাপ স্পষ্ট। প্রায় দিনই বাসায় যে ট্রাউজারটা কিংবা থ্রি-কোয়ার্টার টা পরা থাকি, তার ওপরেই গেঞ্জি পালটে ফতুয়া পরে রওয়ানা হয়ে যাওয়া। সালোয়ার-কামিজের সাথে যোগাযোগ এখন অনিয়মিত। একটু সময় হাতে থাকলে তখন হয়তো কালে-ভদ্রে পরা হয়। পুরো সংসার নিয়ে চলা ব্যাগটা আগের দিন বাসায় ফিরে যেখানে রাখি সেখান থেকেই ওটাকে টান দিয়ে নিয়ে কাঁধে চাপিয়ে, খাবার টেবিল থেকে পানির ফ্লাস্কটা ব্যাগের এক কোণায় ভরে নিয়ে হাতঘড়িটা পড়তে পড়তে পায়ে স্যান্ডেল গলিয়ে বের হয়ে যাই। সিড়ি দিয়ে নামতে নামতে এমপিথ্রি প্লেয়ারটা চালু হয়ে যায়। গান শুনতে শুনতে গেট দিয়ে বের হয়েই কিংবা একটু হেঁটে নিয়ে রিকশায় পদার্পণ।

আমার প্রতিদিনের চিত্রটা মোটামুটি এরকমই…

গেট দিয়ে বের হবার আগ পর্যন্ত সমস্যা হয়না। গেট পার হবার সাথে সাথেই মনে হয় আমি যেন একটা ভিনগ্রহ থেকে আসা প্রাণী! প্রথম প্রথম ভাবি, কেন আমার দিকে সবাই তাকাচ্ছে এভাবে?…তারপর নিজের দিকে তাকিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলি!…আমার গেট-আপ! কানে হেডফোন থাকে, তাই মানুষ ভাবে পাশ দিয়ে যাবার সময় একটা বিশ্রী মন্তব্য করে গেলে সেটা শুনবো না। কিন্তু মাঝে মাঝে শুনে ফেলি। মানুষের বিভিন্ন জাতের দৃষ্টির সাথে বিনিময় করতে হয়। কতগুলো দৃষ্টির প্রত্যুত্তর দৃষ্টি দেই, কতগুলা দেই না। মাঝে মাঝে হাসিই পায়, মানুষ আমাকে পাগল ভাবে! কিংবা ভাবে উচ্ছৃঙ্খল। আবার কেউ কেউ ভাবে আমি ‘চারুকলা প্রডাক্ট’ তাই এমন গেট-আপ। মাঝে মাঝে বিরক্তও লাগে। কেন মানুষগুলো স্বাভাবিক দৃষ্টিতে তাকায় না? কেন সহজভাবে ব্যাপারগুলো নিতে পারেনা? …এই বিরক্তিটা কেবল নিজের জন্য কাজ করে না, যেসব মেয়েরা আমার মত এরকম ‘যা-ইচ্ছে-তাই’ ভাবে চলতে যায়, সবার জন্যই এই মানুষদের দৃষ্টিতে থাকে কামনা, বিরক্তি আর কৌতুক!

সমস্যাটা কার? আমার?…আমি তাদের এভাবে ভাবাই? … মানুষগুলোর? …তারা ওভাবে ভাবে?…নাকি সমাজের?…সময়ের সাথে প্রগতিশীল না হয়ে যেই সমাজ ক্রমাগত পিছিয়ে যাচ্ছে সেই সমাজ ওদেরকে এভাবে ভাবায়?…

সমস্যাটা আসলে কার?……”

এই তো! এইটুকু লিখে আর লিখি নাই! এইটা কোথাও পোস্ট করেছিলাম কি না তা-ও মনে পড়ে না! … কিংবা আদৌ কি ঘটনার প্রেক্ষিতে এইরকম লেখা লিখতে শুরু করেছিলাম, সেটা তো মনে পড়ছেই না!

এখন ‘মুল্লুক’ এর ছবি নিয়ে বসবো। আসলাম-কে কয়েকটা ছবি পাঠাতে হবে। তারপর তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পড়তে হবে। কালকে বের হবো সকাল ৭টার আগেই। সকাল বেলা পরীক্ষার ডিউটি আছে।

অতএব, আজকের মতো দিনযাপন এখানেই শেষ।

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s