দিনযাপন | ১০১২২০১৫

নতুন ফোন কেনার সাথে সাথেই ফেসবুক ওপেন করে দেবে এটা যদি জানতাম, তাহলে তো যেদিন ফেসবুক বন্ধ করেছে সেদিনই নতুন ফোন কিনে আনতাম! … এরকম একটা ভাবসাব এখন দেখানোই যায়! আজকে বিকালে অবশেষে আমি একটা ‘স্মার্ট’ ফোন কিনে আবারো ‘স্মার্ট’ দুনিয়ায় পদার্পণ করলাম আর তারপর সন্ধ্যায় বাসায় ফিরতে না ফিরতেই আবিষ্কার করলাম যে ফেসুকও চালু হয়ে গেছে! তো, এইবার ওয়াল্টনের সেটটা হাত থেকে পড়ে নষ্ট হয়ে যাওয়ার পর আর সিম্ফনি/ওয়াল্টনের ফোন কেনার কথা ভাবি নাই। ফোন কিনবোই যখন ভালোটাই কিনবো – এইরকম ভাবসাব নিয়ে মাইক্রোসফট-এর উইন্ডোজ ফোন কিনে ফেলেছি! তাও প্রায় হাজার দশেক টাকা খরচ করে! আবার ফোনের সাথে বিশাল একটা স্টুডিও হেডফোন গিফট-ও পেয়েছি। এত দাম দিয়ে জীবনে এর আগে একবারই ফোন কিনেছিলাম, মটোরোলা এল সেভেন। প্রায় ৪ বছর টানা ওই সেটটা ব্যবহার করার পর খুবই আনফরচুনেটভাবে ফোনটা পকেট থেকে পড়ে গিয়েছিলো! তাও সেই ঝিনাইদহতে! তো যাই হোক, এবার আবার বহুবছর পর একটা ফোন কিনলাম প্রায় ১০ হাজার টাকা দিয়ে। ফ্লুরোসেন্ট অরেঞ্জ রঙের ব্যাক এই ফোনটার! কেঊ কেঊ যে দেখামাত্রই চরম ‘খ্যাত’ বলবে এটা যেমন সত্য, আবার কেউ কেউ বলবে ‘ওয়াও সো কুল’ এটাও সত্য! যে যেটাই বলুক, আমার কালারফুল জিনিস পছন্দ তাই আমি এটা কিনেছি! খ্যাতই হোক আর কুলই হোক!

ফেসবুক যেহেতু ওপেন, তারমানে আজকে থেকে আমার দিনযাপনের যাবতীয় লেখা সবাই পড়তে পারবে। গতকয়েকদিন তো বেশ ঠোঁটকাটা লেখা লিখেছি। আজকে থেকে আবার ঠোঁট-এর কাটা অংশটা সেলাই করে তারপর লিখতে হবে, সো দ্যাট আমার মনের গভীরের আপ্ত বাক্যে কেউ আবার অফেন্ডেড ফিল না করে! ইদানীং চারপাশে এই ‘অফেন্ডেড’ ফিল করা বিষয়টা অনেক বেশি চোখে পড়ছে! এর কথায় ও অফেন্ডেড ফিল করে, ওর কথায় এ অফেন্ডেড ফিল করে! আমার কথাতেও অমুকে তমুকে অফেন্ডেড ফিল করে সেটা তো বলাই বাহুল্য! সৃষ্টিকর্তা আর যাই দিক বা না দিক, ঠাস ঠাস করে মুখের ওপর সত্যিকারের মনোভাব প্রচণ্ড সরলভাবে প্রকাশ করার জন্য একটা মুখ আমাকে দিয়েছেন! যেহেতু প্রাচ্যনাটেই আমার সারাদিনের ব্যস্ততার একটা বড় অংশ দেয়া হয়, তাই এই অফেন্ডেড হবার তালিকাটাও প্রাচ্যনাটেই বেশি। এগুলার গল্পগুলাও অনেক অনেক অদ্ভুত আর অনেক বড় বড়। যতসই প্রসঙ্গ না আসলে সেগুলো নিয়ে লেখা হবেও না।

তো যাই হোক, গত কয়েকদিন ব্যস্ততা, ক্লান্তি, আলসেমি সব মিলিয়ে আর দিনযাপন লিখতে বসা হয়নি। একদিন একটা লেখা অর্ধেক লিখে ঘুমিয়ে গেছি, কিন্তু তারপর আর পোস্ট করি নাই। তাতে খারাপ কিছু হয় নাই। ওই পোস্টে যা নিয়ে বা যাদের নিয়ে লিখেছিলাম, তাদেরকে ওইসব কথার মর্মার্থ বোঝার বা হজম করার ক্ষমতা এখনো সৃষ্টিকর্তা দেন নাই। দেখা যেতো ওইসব কথার অর্ধেক বুঝেই তারা মোটামুটি তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু করে দিয়েছে! সো, হোয়্যাটএভার হ্যাপেনড, ইট হ্যাপেন্ড ফর আ গুড!

এবার আমার নিজের সম্পর্কে একটু আপডেট দেই। হঠাৎ করে ফিল করছি যে আমার ওজন বেড়েই চলছে। এই মাসখানেক আগেও যেই জামা আরাম করে পরেছি, সেটা এখন আর গায়ে লাগে না! পেটটা বিশেষ করে মনে হচ্ছে একটু বেশিই বড় হয়ে গেছে আগের চেয়ে। কি জানি! টিউমারটা আরেকটু বেড়েছে বোধহয়! নিজের চেহারা দেখলে এখন নিজেরই মেজাজ খারাপ হয়। হরমোনাল ইফেক্টগুলাও টের পাচ্ছি। মাথা ভার হয়ে থাকছে, সারাদিনই মেজাজও প্রচণ্ড খিটখিটে হয়ে থাকছে। কেমন জানি একটা ‘সব অসহ্য’ টাইপের ফিলিংস কাজ করে ভেতরে। রাস্তাঘটে রিকশাওয়ালা-সিএঞ্জিওয়ালাদের সাথে তো ঝগড়া-ঝাটি হয়ই, এমনকি একটু ধুলা থাকলেও মনে হয় ‘ধুর বাল! এত ধুলা ক্যান’, আবার একটু জ্যাম থাকলেও মনে হয় যে ধুর বাল, এত জ্যাম কেন? স্কুলের পরে আমার কোথাও যাওয়ার কোনো নির্দিষ্ট ডেসটিনেশন নাই। একটা বিশেষ কারণে নায়ীমী’র বাসায় এভাবে যাবো না বলে ঠিক করেছি, তাই এখন কোথায় সময় কাটাবো সেটা একটা বড় যন্ত্রণাদায়ক ফ্যাক্টরে পরিণত হয়েছে। এখন কিন্তু আমার তেমন আর কাজই নাই স্কুলে! তারপর আমি আবার পার্ট টাইম টিচার। প্রতিদিন স্কুলে না যাওয়া লাগলে কি হতো? এইটা ভাবলেও আমার মেজাজ খারাপ হয়ে যায়। আবার বেশিরভাগ দিনই দেখা যায় যে গ্রুপে গিয়ে ৫টা/ সাড়ে ৫টার দিকে একা একা বসে আছি, সেইটাও অসহ্য! আর গ্রুপে তো ইদানীং কতিপয় ব্যক্তির সাথে আমার ঠান্ডা যুদ্ধ চলছে, ফলে তাদের বিভিন্ন আচরণ আর কথাতেও মেজাজ খারাপ হয়। কিছু কথার উত্তরও দিয়ে বসি। হয়তো ওভারঅল মন মেজাজ ভালো থাকলে এইসব মানুষদের আচরণ বা কর্মকান্ডগুলো আমার চোখেই পড়তো না! কিন্তু মন মেজাজ খারাপ থাকলে যেটা হয় যে আমি প্রচণ্ড ঠান্ডা হয়ে যাই, আর খুব বেশি অব্জার্ভেন্ট হয়ে যাই। তখন আশেপাশের মানুষগুলোর খুঁতগুলোই চোখে পড়ে বেশি। ফলে তাদের প্রতি মনোভাবটাও চেঞ্জ হয়ে যায় আর ভাবতে থাকি, ‘ এরা এরকম করে কথা বলে কেন?’ কিংবা ‘ এরকম করে ভাবে কেন?’ … তারপর দেখা যায় যে তাদের সাথে আমি আর স্বাভাবিক হতে পারি না … বারবার আমার মনে হয় তাদের যেই চেহারা দেখছি তার নিচে আরেকটা মুখ আছে, যেটা ‘আসল’ তারা, কিন্তু সেটা হয়তো তারা নিজেরাও জানে না! যাই হোক, আসল কথা হচ্ছে এখন আমার ঘরে, বাইরে, জাগরণে, স্বপ্নে সবকিছুই অসহ্য লাগে! লিটেরেলি অসহ্য লাগে! মাঝে মাঝেই মনে হয় যে একেবারে সবকিছু বাদ দিয়ে সারাদিন ঘরে থেকে ঘুমাতাম, তাও বোধহয় ভালো লাগতো। কিংবা কে জানে! সেটা হয়তো আরো অসহ্য লাগতো! আর ম্যাকবুকটা চুরি হয়ে যাবার পর থেকে বেসিক্যালি আমার এই হতাশাবাদ আরো বেড়েছে। হতাশার অতল গহ্বরে পড়ে যাবার জন্য ওইটা আসলে অনেক বড় একটা ধাক্কা ছিলো। ওই ২৬ অক্টোবর থেকে আজকে ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত আমার প্রতিটা দিনের হতাশাবাদিতার কথা নিয়েই হয়তো একটা বিশাল দিনযাপন লিখে ফেলা যাবে!

যাই হোক, আজকে আর কি লিখবো? অ্যাকর্ডিং টু ‘ অন দিস ডে’, আজকে সিজার ভাই আর সাজিয়া আপু’র ম্যারেজ ডে। তাদের বিয়ের ছবি তুলেছিলাম আমি। কিন্তু ছবিগুলা গুছিয়ে দেয়ার আগেই ভাইরাসের কল্যাণে মেমোরি কার্ডটাই নষ্ট হয়ে গিয়েছিলো। ফলে, হলুদের ছবিগুলা একটাও রাখতে পারি নাই। বিয়ের ছবিগুলাই যা থাকার আছে। একটা কারণে সিজার ভাইয়ের ওপর প্রথমে রাগ, তারপর বিরক্ত তারপর অভিমান করেই যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছি। মাসখানেক হলো তাদের মেয়ে হয়েছে, দেখতেও যাইনি। সিজার ভাই এর মধ্যে দুইদিন ফোন করেছে, মেসেজ পাঠিয়েছে সেটারও রিপ্লাই দেই নাই … ইচ্ছাই করে নাই … সাজিয়া আপু নিশ্চয়ই আমার ওপরে অনেক রাগ করেছে। কিন্তু আমার কিছুই করার নাই। …

আজকে আর লিখবো না। ভালো লাগছে না লিখতে …

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s