দিনযাপন | ১১১২২০১৫

আজকে সারাদিনে ছোটো ছোটো করে অনেক জাতের ঘটনা ঘটেছে … দেখি, কয়টা লিখতে পারি …

আজকে সকাল সকাল অরুনদ্যুতি আপুর সাথে তার মামাবাড়িতে যাওয়ার কথা। কিন্তু সেই প্ল্যানটা ক্যান্সেল হয়ে যাওয়ায় দিনের বেলাটা ফ্রি হয়ে গেলাম। প্ল্যান ছিলো যে সকাল সকাল উনার সাথে যাবো, তারপর উনার তৈরি শাড়ীগুলোর ফটোসেশন করবো। উনার বোন-ই মডেল হবে। কিন্তু গতকালকে রাতেই উনি জানালেন যে প্ল্যান ক্যান্সেল। …

আর তারই অবসরে সকালে ঘুম থেকে উঠেছিই প্রচণ্ড আলসেমি করে। প্রথম দফায় ঘুম ভেঙ্গেছে ভোরবেলা ৬টায়, তারপর ছাড়া ছাড়া ঘূম আর কোমর ব্যথার ছুতায় সাড়ে দশটার দিকে বিছানা ছাড়লাম বোধহয়। উঠে ফ্রেশ হয়ে বিবিসি’র কাজ নিয়ে বসলাম। সেটা কিছুটা আগাতে আগাতে আর মাঝে মাঝে আলসেমি করতে করতে ১টা বাজলো। এদিকে বাসার নিচে হইচই অবস্থা। সামনের একটা বিল্ডিং-এর কে যেন মারা গেছেন, তার কুলখানির মিলাদ পড়াবে আবার আমাদের গ্যারেজে। ফলে গ্যারেজ থেকে শুরু করে রাস্তা পর্যন্ত প্যান্ডেল টানিয়ে বসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। বাদ আসর মিলাদ হবে শুনলাম। সাথে সাথেই গোসল করে খেয়ে দেয়ে আমি ৩টার দিকে বের হয়ে গেলাম। কারণ মিলাদ শুরু হয়ে গেলে বের হওয়াটা পেইন হয়ে যেতো। তো বের হয়ে আর যাবো কই? সন্ধ্যায় সেগুনবাগিচায় মুক্তিযুদ্ধ যাদুঘরে গর্ত’র শো দেখতে যাবো, এরকমটাই সারাদিন প্ল্যান ছিলো। তো সেটার জন্য তো ৫টার আগে বের হতাম না। গ্রুপের দিকে চলে গেলাম সেজন্য। গ্রুপে গিয়ে চুপচাপ বসে থাকলেও সময় কেটে যাবে কিছুটা, এইটাই ভাবনা!

তো গ্রুপে গিয়ে বসে বসে রানা’র সাথে কথা বলতে বলতে কিছুটা সময় কাটলো। এর মধ্যে গোপী, ইভন, রিমন এরাও চলে আসলো। সোয়া ৫টার দিকে আবার আমরা মুক্তিযুদ্ধ যাদুঘরের উদ্দেশ্যে রওনাও দিলাম। ওইখানে শো শুরু হলো সাড়ে ছয়টার একটু পর। এমনিতে আজকে আমার দর্শক হিসেবেই ওখানে থাকার কথা। কিন্তু ঘটনাচক্রে শো-এর সময় গোপীর সাথে মিউজিকে বসে গেলাম। কাহিনী হচ্ছে গোপী বলছিলো যে এই নাটকে মিউজিকে আর কেউ ওর সাথে থাকলে ভালো, যেটা এই নাটকের প্রথম দিকে মেইন্টেইন করা হতো। তখন মিউজিকে থাকতো ৩/৪ জন, আর এখন  গোপী একা! তো রিমন গোপীকে বলছিলো যে ফুয়াদ থাকবে। কিন্তু দেখা গেলো ফুয়াদের এতরকমের এন্ট্রি যে ও আসলে মিউজিকে বসতে পারবে না। তখন গোপীকে ব্যাক-আপ দেয়ার জন্য আমি বসলাম। কিছুই করা লাগে নাই আসলে সেভাবে, খালি গোপীকে ফলো করে বিগ ড্রামে কয়েকটা বিট দিয়েছি … ব্যাস! এইটুকুই! …

মুক্তিযুদ্ধ যাদুঘর থেকে আবার গ্রুপে ফেরত গেলাম … গ্রুপে আজকে একটা ইভেন্টের রিহার্সাল ছিলো … আগামীকাল শো ওই ইভেন্টের… চিন-মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে … এই ইভেন্টে আমার কাজ নেই … ৭ তারিখের ইভেন্টেও অবশ্য ছিলো না। তবু শেষ মুহুর্তে স্লাইড চালানোর একটা কাজ জুটে গেলো। পরে দেখা গেলো যে প্রায় কিছুই না করে ওই ইভেন্টের পেমেন্ট হিসেবে পাঁচ হাজার টাকা পেয়ে গেছি! শেষ যেই ইভেন্টে কাজ করেছিলাম গত বছর, তাতে কস্টিউম ডিজাইনের মতো কাজ করেও ২০০০ টাকা পেয়েছি মাত্র! তখন মনে মনে ঠিক করেছিলাম যে এইসব ইভেন্টের কাজে আর থাকবো না। এবারও সরাসরি ছিলাম না। প্রথমত দুইটা প্রপস দেয়ার কথা আমার, দ্বিতীয়ত টুটুল পার্ফরমেন্স-এ ছিলো বলে নীলকে মিউজিকের অপারেশনে হেল্প করেছিলাম। পরে তো ইভেন্টের দিন গিয়ে দেখা গেলো কতগুলা স্লাইড যাবে মাঝে মাঝে, কিন্তু সেগুলো চালাণোর কেউ নেই। তখন আমি ওই কাজটা করলাম। কালকের ইভেন্টে কোনো কাজ নাই … অন্তত আপাতত! … তাই বসে বসে এমনিই রিহার্সাল দেখলাম।

ফরহাদ ভাই বলছিলো তার কি আলাপ আছে আমার সাথে। বলছিলো পারলে আজকে রাতটা তার বাসায় থেকে যেতে, উনি আলাপ সারবেন। মনে হলো গ্রুপের বিষয়েই আলাপ করবেন। এম্নিতেই বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আমার মেজাজ খারাপ, তার মধ্যে গ্রুপেরও এটা-সেটা বিষয় আছে। সামহাও আজকে আমি রাতে থাকতে পারলাম না উনার বাসায়। আব্বু খুলনায়, বাসা ফাকা। সো বাইরে থাকার রিস্ক নিলাম না। তাতে হয়তো ভালোই হলো। এম্নিতেও এখন বাসার বাইরে থাকার আমার উপায় নাই, কারণ পিরিয়ড শুরু হোয়েছে। প্রথম তিনদিন তো পারলে বাসা থেকেই বের হই না! …

মিরপুরে আসার পরে আজকে প্রথমবারের মতো আব্বু বাসার বাইরে। খুলনা গেছে পেনশনের কাজে। ক্যামন জানি অদ্ভুত লাগছে। বাসাটা এখন এম্নিতেই এত অদ্ভুত লাগে! পারতপক্ষে উত্তর দিকটায় যাই-ই না! মিস্ত্রীও আসছে না, একটা পাশের পর্দাও লাগানো হচ্ছে না। ফলে নেটবুকটা কেনার পর তো ওইদিকে যাইই নাই! অমিতের ঘরে বসে বসেই সারাদিন কাজ করি। ওইদিক্টাতে গেলেই মনে হয় কেউ হয়তো বাইরে থেকে দেখছে! বিশেষ করে রাতে বাসায় ফিরে বাথরুমে যে যাই ফ্রেশ হবার জন্য, তাতেও ক্যামন গা ছমছম করে! ল্যাপটপ চুরি হবার পর থেকে এই বাসার সাথে, বিশেষ করে ওইদিকটার সাথে আর মন মিলছেই না! মনে হয় যে কেমন খা খা করে ওই পাশটা!

যাই হোক, আশা করি ওইপাশে পর্দা দিয়ে দিলে এই গা ছমছম করে ভাব আর কেউ দেখছে কি না টাইপের ভ্য়টা অনেকটা কাটবে। … বাসাটা আরেক্টু জমজমাট হলে হয়তো এই ছমছমানি ভাবটা একটু হলেও কম হতো। কিন্তু সেটা কি আর আদৌ হবে? আমি তো বাসায় থাকলে প্রয়োজন ছাড়া কথাও বলি না। তাও যা কথা বলার মা’র সাথে বলি। আব্বুর সাথে তো আর আমার কথা হয় না। এদিকে বাসায় থাকলে মেজাজও খারাপ হয় বেশি। যেমন আজকে দুপুরে আমাকে শুনিয়ে শুনিয়ে আব্বু মা-কে বলছিলো যে প্রতিদিন যে আমি রাত ১১টা/সাড়ে ১১টার দিকে বাসায় ফিরি সেটা বন্ধ করা যায় কি না। প্রয়োজন হলে আমি যেন কাউকে আমার দায়িত্বগুলা বুঝিয়ে দিয়ে এসে বাসায় বসে ইমেইল, ফেসবুক এগুলোতে সেই কাজ মনিটর করতে পারি কি না সেটা ভেবে দেখতে! মা তখন আবার  আব্বুকে সাপোর্ট দেয়ার জন্য উত্তর দিলো যে আমি যেহেতু ‘বুদ্ধিহীন’ ক্যাটাগরির একজন মানুষ তাই এইসব সহজ বুদ্ধি তো আর আমার মাথায় আসবে না! আমার প্রচণ্ড মেজাজ খারাপ হয়ে গেলো। আমি থিয়েটারে যেই কাজ করি সেইটা কি আদৌ আর কাউকে বুঝিয়ে দিয়ে নিজে বাসায় বসে মনিটর করার কাজ? আমার কাজ কি অন্য কেউ করে দিতে পারবে? কিংবা আমার রিহার্সাল কি আমি ছাড়া আর কেউ করতে পারবে! থিয়েটারের কাজটা কি, সেখানে কি হয় সেটা বুঝেই হোক আর না বুঝেই হোক, এরকম কথা যদি কেউ বলে তখন ভাষা হারিয়ে ফেলা ছাড়া আড় কিছু করার থাকে না! আর মা যেভাবে অবলীলায় আমাকে ‘বুদ্ধিহীন’ ক্যাটাগরিতে ফেলে দিলো, সেটা আর কি বলবো? এই নিয়ে মেজাজ খারাপের মধ্যেই মা আবার একটু পরে ঘরে এসে খুব বিগলিতভাবে হেসে হেসে কালকে ফ্ল্যাটের মালিকপক্ষের মিটিং-য়ে কি হয়েছে না হয়েছে সেটা নিয়ে খুব গদ্গদ হয়ে গল্প করতে লাগলো। তাতে আমার মেজাজ আরো বিগড়ে গেলো। একটু আগেই আমাকে শুনিয়ে শুনিয়ে এটা-সেটা কথা বললো আমাকে নিয়ে, আর এখন এসে এমনভাবে গল্প করছে অ্যাাজ ইফ নাথিং হ্যাপেন্ড! মেজাজ খারাপের চোটে সাথে সাথে সিদ্ধান্তও নিয়ে নিলাম যে বাসায় থাকবোই নাই! ধানমন্ডির দিকে বাসা নিয়ে চলে যাবো। এরকমও চিন্তা করে ফেললাম যে আজকেই গ্রুপে গিয়ে টুটুলকে বলবো শংকরের দিকে সিঙ্গেল থাকা যাবে এরকম একটা কোন বাসার খোঁজ লাগাতে। পারলে জানুয়ারি থেকেই উঠে যাবো। পরে যখন মাথা একটু ঠান্ডা হলো, বাথরুম কেমন হবে না হবে এইসব চিন্তা মাথায় এলো তখন আলাদা বাসা প্রজেক্ট নিয়ে চিন্তাটাও আপাতত স্থগিত রাখলাম।

ম্যাকবুকের চার্জারটা তো রয়ে গেছিলো। অইটা তো চোর নেয় নাই। ঐটা আজকে নাভিদের কাছে বেচে দিলাম। ওর ব্যাগ টান দিয়ে নিয়ে গেছে দুইদিন আগে। ব্যাগে লাকিলি ল্যাপটপ ছিলো না, কিন্তু চার্জারটা ছিলো। চার্জারের অভাবে বেচারা কাজও নিশ্চয়ই ঠিকমতো করতে পারছিলো না। আমার চার্জারটা তাই কিনে নিলো। এখন আমার হাতে যা টাকা আসে তাই সই। ফলে ও যে চার্জারের জন্য ২০০০ টাকা দিয়েছে তাই অনেক মনে হলো! টাকার দরকার না থাকলে হয়তো এম্নেই দিয়ে দিতাম চার্জারটা!

আজকে আর লিখতে ইচ্ছা করছে না। ভাত খাইনি এখনো। এদিকে ঘুমও পাচ্ছে খুব। অল্প একটু ভাত খেয়ে ঘুমিয়ে পড়ি গিয়ে, যাই!

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s