দিনযাপন | ১৩১২২০১৫

বাসা পাহারা দেয়ার জন্য দুপুরবেলা স্কুল শেষ করে বাসায় চলে এসেছি। সন্ধ্যাবেলা এখন আর কাজ খুঁজে পাচ্ছি না! ভাবছিলাম ঘরের টুকটাক কিছু জিনিস গুছাই। কিন্তু সেটাও খুব আগ্রহ তৈরি হলো না। গতকালকে উত্তরদিকের জানালায় বোর্ড পিন দিয়েই পর্দা লাগিয়ে ফেলেছি। আপাতত ঘরটায় গেলে আর হঠাৎ করে ধাক্কা লাগে না। পূর্ব দিকের জানালাটা এখনো একপাশ খোলা। অইটায় একটা পর্দা দিয়ে দিলেই মনের খচখচানি আরো কমবে। দেখি, কালকে হয়তো আড়ং-এ যাবো। ওখানে নাকি সেল দিয়েছে। যদি পছন্দমতো পর্দা পাই, নিয়ে আসবো।

সন্ধ্যার দিকে ফরহাদ ভাই ফোন দিলো। ওই যে অইদিন উনি কথা বলতে চেয়েছিলেন। অইদিন তো বাসায় চলে আসলাম। কালকে আর যোগাযোগ করিনি। আজকে উনিই আবার ফোন করে এ বললেন উনার বাসার দিকে যেতে পারবো কি না, তাইলে উনি কথা বলতো। আমি না করে দিলাম। বাসা পাহারা দিবো বলে গ্রুপে না গিয়ে বাসায় বসে আছি, এখন আবার বের হয়ে ১১ নাম্বারে উনার বাসায় যাই কোন যুক্তিতে? উনাকে বাসায় আসার অফার দিলাম। উনি রাজি হলো না। আমিও আর কিছু বললাম না। যে বিষয়েই কথা বলুক, গরজটা উনার। সো, উনার সুবিধা অনুযায়ী দেখা না হয়ে তো যুক্তি অনুযায়ী আমার সুবিধা অনুযায়ীই দেখা হওয়াটা স্বাভাবিক! উনার যুক্তি অবশ্য হতে পারে যে উনি গ্রুপে সিনিয়ার, আর আমি জুনিয়ার। সো, উনার সুবিধাটাই আমি প্রায়োরিটি দেবো! … আমি ইনফ্যাক্ট উনার বাসায় যেতে চাই না দুইটা কারণে। এক, ছয়তলা পর্যন্ত সিড়ি বেয়ে উঠতে হবে, যেটা আমার বর্তমান শারীরিক অবস্থায় সম্ভব না। আবার  দ্বিতীয় কারণ হচ্ছে, আর্মি স্টেডিয়াম থেকে ফেরার পথে যে ভোর ৫টা সময় অন্ধকারের মধ্যে আমি কিভাবে বাসায় ফিরবো সেটা নিয়ে কনফিউশনের মুহুর্তে যে ‘দারোয়ানের সমস্যা হবে’ যুক্তিতে উনি আর শান্তা আপু আমাকে একা একাই ছেড়ে দিলো সেটাতে আমি একটু হলেও বিরক্ত হয়েছি। উনারা আমাকে উনাদের বাসায় গিয়ে ঘন্টাখানেক সময় পার করতে বলেছিলেন ঠিকই, কিন্তু সেটা আমার পক্ষে সম্ভব ছিলো না কারণ আমার জন্য জরুরি ছিলো এক ঘণ্টা হলেও ঘুমিয়ে নেয়া, তারপর উঠে স্কুলে যাওয়া। উনার বাসায় এক ঘণ্টা থাকলে তো আর আমার ঘুম হতো না!

যাই হোক, কি করা যায় খুঁজে না পেয়ে সাতপাঁচ ভেবে দিনযাপনটাই লিখতে বসলাম। গতকালকে দিনযাপন লেখা হয়নি। বিবিসি’র একটা কাজ করতে করতে ঘুমিয়ে গেছি … আজকে না হয় কালকের দিনের ফিরিস্তিটাও দিয়ে দিবো।

গতকালকে সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠে কাজ করবো ভেবে নিয়ে ঘুমিয়েছিলাম। কিন্তু আলসেমি করে করে বিছানা ছাড়লাম দশটার দিকে। এর মধ্যে টিয়াম ফোন দিয়ে বাসায় যেতে বললো। বাসায় নাকি নেটের লাইন নিয়েছে, কিভাবে কি সেটা বূঝিয়ে দিতে হবে। ভাব্লাম যে ১০টা থেকে ১২টা পর্যন্ত বিবিসি’র কাজ করে তারপর বের হবো। এর মধ্যে ইলেক্টট্রিসিটি চলে গেলো। অমিতের ঘরে ইলেক্ট্রিকের সুইচে আইপিএস লাগানো নাই। ফলে নেট ডিস্কানেক্ট হয়ে গেলো। উত্তরের ঘরটায় আইপিএস-এ ইলেকট্রিক সুইচ কাজ করে। কিন্তু ওই পর্যন্ত সবকিছু নিয়ে যাওয়া মানে আরেক ক্যাচাল! ফলে কাজ স্থগিত রেখে দিয়েই বের হয়ে গেলাম। ভাবলাম যে সন্ধ্যায় বাসায় ফিরে এসে করবো।

টিয়ামের বাসায় গিয়ে এটা-সেটা করতে করতে শেষে একটা বই নিয়ে পড়তে শুরু করলাম। মুহম্মদ জাফর ইকবালের ‘দলের নাম ব্ল্যাক ড্রাগন’ … পড়ে শেষ করতে অবশ্য ঘন্টাখানেকের বেশি লাগলো না! তারপর খাওয়া-দাওয়া করে টিয়ামের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট ওপেন -এর অভিযানে বসলাম। নতুন জিমেইল অ্যাাকাউন্ট, নতুন ফেসবুক অ্যাকাঊন্ট … কামতা, প্রভা ওদের সাথে অ্যাড করিয়ে দিলাম, আমার সাথেও। এখন অন্তত টিয়ামের বাসায় কাজ-বাজ নিয়েও যাওয়া যাবে, যেহেতু নেট আছে। আগে তো নেটের লাইন এর বাপ-মা-চৌদ্দ গুষতি কিছুই পাওয়া যেতো না। ওদের ব্রডব্যান্ড কানেকশন দেখলাম বেশ ফাস্ট। তার মানে, কাজ করতে সমস্যা হবে না।

তো, টিয়ামের বাসা থেকে বের হয়ে গেলাম চিন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে। ওইখানে জাতীয় জ্বালানি সপ্তাহের কি মেলা হচ্ছ। সেখানে আবার একটা স্টলে পাওয়ার প্ল্যান্ট সাইটের মডেল আছে যেগুলা বানানোর কাজে অমিতও ছিলো। কথায় কথায় গতপরশুদিন বলছিলো যে পারলে দেখে আসতে। এদিকে ওই জ্বালানি সপ্তাহেরই প্রোগ্রামে গ্রুপেরও একটা পারফরমেন্স ছিলো। বিদ্যুৎ নিয়েই ড্রামা স্কিড। তো, ভেবেছিলাম যে চিন মৈত্রী-তে যাচ্ছিই যখন, তাইলে একটু ঢুঁ মেরে যাই পারফরমেন্সের ওখানে। সবার সাথে একটু দেখা করে যাই। ওইখানে গিয়েই অবশ্য অমিতের মডেলের কথা বলে, ছবি দেখিয়ে আমার যাওয়াটা জাস্টিফাই করলাম। নাইলে হয়তো গ্রুপের সবাই, স্পেশালি সিনিয়ররা ভাবতো যে কাজ নাই তবু আজাইরাই গেছি। এগুলা নিয়েতো কথা উঠতে খুব সময় লাগে না! যাই হোক, আমি ভাবছিলাম ৬টার দিকে বের হয়ে চলে আসবো বাসায়। এম্নিতেই বাসা ফাঁকা, মা-ও একা একা ভয় পায়। এর মধ্যে পারু বললো যে ওর একটা সিন-এর জন্য কমদামী টাইপের স্যান্ডেল লাগবে, তাই আমার স্যান্ডেলটা নিবে। আমিও নির্দ্বিধায় রাজি হয়ে গেলাম। মজা করে বললাম ‘ভাড়া দিবা! ইভেন্টের কাজ তো!’ … তো বেশ অনেকক্ষণ পরে যখন প্রোগ্রাম শুরু হবে, তখন পারু বললো যে ওর নাকি আমার স্যান্ডেল লাগবে না। নায়ীমী’র কাছে এক্স্ট্রা স্যান্ডেল আছে, অইটা নেবে। আমি বিরক্ত হতে গিয়েও হলাম না। কারণ আমার চলে যাওয়ার তাড়া ছিলো, ও স্যান্ডেল জোড়া চেয়েছে বলেই থেকে গেছি, সেটা তো আর ও জানতো না! তো একটু পরেই বের হয়ে যাবো ভাবছি এর মধ্যে আবার জানলাম অমিত নাকি চিন মৈত্রী’র দিকে আসছে। গ্রুপ থেকে মানি রিসিড নিয়ে আসতে বলেছে, ওটা নিয়ে আসছে। তো আমি ধরেই নিলাম একদিকে যখন আসছে, তখন তো এখান থেকে নিশ্চয়ই বাসায়ই ফিরবে ও, সো আমিও থেকে গেলাম। ভাবলাম যে একসাথে চলে আসা যাবে। কিন্তু ও যখন আরো মিনিট ৪০ পরে আসলো, তখন অলরেডি ৮টা বাজে, আর এসে মানি রিসিড দিয়েই ও আবার বুয়েটের দিকে চলে গেলো! ওইখান থেকে নাকি ও আবার বাসায় ফিরবে! মেজাজটা এমন খারাপ হলো ওর উপর যে কিছু বলার ইচ্ছাই চলে গেলো আমার ! গ্রুপের শো-ও তখন প্রায় শেষ। সো, ভাব্লাম যে তাইলে একসাথেই নামি। দেরি তো হলোই, না হয় আরেকটু দেরি হোক। মা এতক্ষণ একা থাকতে পেরেছে, আরো কিছুক্ষণ নিশ্চয়ই পারবে! তো শেষমেশ বের হয়ে আফসানের সাথে একটা রিকশা নিয়ে গল্প করতে করতে দশ নাম্বারে আফসানকে নামিয়ে দিয়ে যখন বাসায় ফিরলাম তখন অলরেডি রাত ১০টা! তারপর বাসায় ফিরে কিছুক্ষণ বিবিসি’র কাজ করে টায়ার্ড হয়ে ঘুমিয়ে গেলাম। চিন্তা করলাম যে সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠে কাজটা শেষ করে তারপর আজকে একটু তাড়াতাড়ি স্কুলে যাবো।

কিন্তু অ্যালার্ম না দিয়েই কখন ঘুমিয়ে গেছি খেয়ালই নাই! সাড়ে ৮টার দিকে মা ডাক দিয়ে ঘুম ভাঙ্গালো! উঠে আমার পড়িমড়ি অবস্থা! কোনোরকমে বিবিসি’র কাজ শেষ করে বের হতে হতে সেই ১০টাই বাজলো। স্কুলে পৌছালাম যখন, তখন বাজে পৌনে ১১টা। এমনিতে তো স্কুলে কোনো কাজ নাই, তাই চা-নাস্তা খেয়েই সময় কাটালাম। মাঝখানে নায়ীমী’র খাতার নাম্বার তুলে দিলাম কয়েকটা, তাও একটা কাজ করা হলো! … কাজ ছাড়া বসে থাকা বিষয়টা বেশ বোরিং!

আজকে আর লিখবো না। যাই, একটু টেলিভিশন দেখি! আব্বু যেহেতু নাই,টেলিভিশন দেখার একটা সুযোগ হলো। টিভি দেখে একটু আধটু করে সময়ও কেটে যাবে!

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s