দিনযাপন । ১৭১২২০১৫

গতকালকে সারাদিন বাইরে থেকে জার্নি করে বাসায় ফিরে আর দিনযাপন লিখতে বসবার জন্য শক্তি পাচ্ছিলাম না। বাসায় ফিরেছি রাতে সাড়ে ১২টার দিকে। তারপর কোনোরকমে একটু খাওয়া-দাওয়া করেই শুয়ে পড়েছি।অতএব আজকের দিনযাপনে গতকাল এবং আজকের – এই দুইদিনের ফিরিস্তি দেয়া হবে!

গতকাল সারাদিন সাভারে ছিলাম। গ্রুপের শো ছিলো – সার্কাস সার্কাস। সাভারে এনাম মেডিক্যাল কলেজের অডিটোরিয়ামে। গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনেরই একটা আয়োজনের অংশ। অমিতের সেট-এর টিমের কল ছিলো, সাড়ে ১০টায়। মিরপুর থেকে কাঁটাবন যাবো, সকালে রাস্তার কি অবস্থা না অবস্থা ভাবতে ভাবতে অমিত আর আমি ৯টার দিকেই বের হয়ে গেলাম।কিন্তু আসলে রাস্তায় কোনো ঝামেলাই পোহাতে হলো না, আর আমরা পৌনে দশটা সময় গ্রুপে পৌঁছে গেলাম। এদিকে হাতে সময় পেয়েই অমিত ওর বুয়েটের হলে ঘুরে আসার ছুতায় চলে গেলো, আর আমি গ্রুপে একা একা বসে রইলাম। যাই হোক, শেষমেশ ১২টা সময় সবাই মিলে রওয়ানা দেয়া হলো বাসে করে।এর মধ্যে গোপী আবিষ্কার করলো তাড়াহুড়া করে আসতে গিয়ে রাস্তায় কোথাও ওর ফোন পড়ে গেছে। ফোনে কল দিয়ে আবার জানা গেলো যে এক সিকিউরিটির লোক তার ফোন পেয়েছে! ওই লোকের ফোন নাম্বার নিয়ে রাখা হইলো। আজকে আবার সকাল বেলা গিয়ে ঐ লোকের কাছ থেকে ফোন উদ্ধার করেছে শুনলাম। তো, যাই হোক, সাভারে পৌঁছেই সেট লাগানোর কাজটা করে ফেলা হলো প্রথম। এমনিতেই বেলা দুইটার কাছাকাছি বাজে, সবারই এক্টু-আধটু ক্ষুধা লেগেছিলো, সেট লাগাতে গিয়ে সেই ক্ষুধা মনে হয় ডবল হয়ে গেলো। এমন একটা টাইম, তখন বাইরে থেকে হালকা কিছু আনিয়ে খাওয়াও বিপদ! কারণ কিছুক্ষণ পরেই তো লাঞ্চ করতে যাওয়া হবে। তো আমরা লাঞ্চ করতে গেলাম যখন, তখন আরেক কাহিনী! গিয়ে দেখা গেলো যেই দোকানে খাবারের জন্য বুকিং দিয়ে রাখা হয়েছিলো, তারা আসলে ঠিক্টহাকভাবে খাবার রাখে নাই। ফলে, কয়েকজন খাবার পেলো না। তাদের জন্য আবার বাইরে থেকে খাবার আনানো হলো। এর মধ্যেও আবার হিসাবের গোলমাল। আবার তাদের আচরণও ভালো না। শেষে রফিক ভাই, রানা আর টুটুল বাইরে আরেক দোকানে গিয়ে খাওয়া দাওয়া করলো।শো-এর সময় তেমন কাজ-কাম নাই দেখে টুটুল আর আমি অডিটোরিয়ামের একদম পেছনের দিকের সিটে গিয়ে বসে নাটক দেখলাম। ওই অডিটোরিয়ামের সিটগুলো কনফারেন্স হলের পোডিয়ামের মতো। মনে হয় যে বেঞ্চে বসে ক্লাস করছি!দর্শক অবশ্য তালি দেয়ার জন্য টেবিলের অংশটুকু বেশ ভালোই ব্যবহার করলো। আর কি যে কথা বলছিলো অডিয়েন্স! এদিকে এমনিতেই ওই হলে স্টেজে সাউন্ড ক্যাচার নাই, তারমধ্যে অডিয়েন্সের গুজুর-গুজুরের কারণে পেছনে অধিকাংশ ডায়ালগই স্পষ্ট শোনা গেলো না! আমাদের ডায়ালগ জানা বলে আমরা বুঝতে পারসি, কিন্তু অন্য অডিয়েন্সরা প্রায় কিছুই বোঝেনাই!

শো শেষ করে সেট গুছায় আবার বাসে করে যখন রওয়ানা দিলাম, তখন বাজে সাড়ে দশটা। অমিতের সেটের কল, তাই ওকে তো গ্রুপে ফিরতেই হবে। এদিকে আমার জন্য টেকনিক্যাল নেমে যাওয়া সহজ ছিলো, কিন্তু সেখান থেকে অত রাতে বাসায় ফেরাটা অস্বস্তিকর। ফরহাদ ভাই-এর বাসা যেহেতু মিরপুর, সেও টেকনিক্যালেই নাম্লো। ফরহাদ ভাই যেহেতু এর মধ্যে কয়েকদিন কি কথা বলবে বলে ফোন করে টরে গুতাগুতি করেছে, আমি তাকে কাটানোর জন্যই টেকনিক্যালে নামার চিন্তা বাদ দিলাম। নইলে ওইখানে নেমে তো তার সাথেই ফেরা লাগতো, আর তখন উনি উনার যা যা বলার সেইসব কথাবার্তা নিয়ে আলোচনা শুরু করে দিতো। যেহেতু আমি জানি না উনি ঠিক কি নিয়ে কথা বলবে, আর এরকম ফর্মালি ‘ প্রজঙা,আপনার সাথে কিছু আলাপ ছিলো’ টাইপ সূচনা দিয়ে কথা বলতে চাইলেই আমার কেমন জানি একটা বেঁকে বসবার টেন্ডেন্সি তৈরি হয়, আর আমি সেই ‘কথা বলা’র সকল রকম পরিস্থিতিগুলো অ্যাভয়েড করতে থাকি। তো, ঠিক করলাম যে নায়ীমীর বাসায় চলে যাবো দরকার হলে। সকালে তো স্কুলে যেতেই হবে, ওর সাথে চলে যাবো।ওকে ফোন করে বলেও দিলাম যে বাসায় যাবো। কিন্তু মনের মধ্যে কেমন খচখচানি শুরু হলো যে নায়ীমীর বাসায় যাওয়াটা ঠিক হবে না। তো সেই খচখচানির ফলস্বরূপ আর গেলাম না। বরং অমিতের সাথে গ্রুপ পর্যন্ত গিয়ে তারপর বাসায় ফিরলাম। অমিত অবশ্য ব্যাপক নিরুৎসাহের সাথে বাসায় ফিরলো। কিঞ্চিৎ মেজাজও খারাপ করলো বোধহয়। বারবার বলছিলো যে টেকনিক্যালে নামলাম না কেন। ওকে কিভাবে বুঝাই যে আমার সমস্যা আছে বলেই আমি নামি নাই!

গতকালকে ক্যামেরা নেই নাই, আবার মোবাইলেও খুব একটা ছবি তোলার সুযোগ হয় নাই, কারণ ওখানে গিয়ে সেট-এও হাত লাগিয়েছি, প্রপ্স-এর কাজও করেছি। আর শো-এর সময় তো এমন একটা জায়গায় ছিলাম যে ওখান থেকে তো ছবি তোলাই যাচ্ছিলো না। তো, যেই কয়টা ছবি তুলেছি সেটাই তো স্মৃতি! এখানেই আপ্লোড করে রাখি না হয়!

গতবছরের ১৬ ডিসেম্বরটাও বেশ স্মৃতিময়। সর্বনামের প্রথম স্টেজ শো! তাও একটা পাব্লিক প্রোগ্রামে! খিলগাঁওতে একটা কালচারাল ক্লাবের উদ্যোগে প্রোগ্রামটা হয়েছিলো। জেমের এলাকার প্রোগ্রাম, জেম নিজেও এইটার আয়োজনে ছিলো। তো সেই রেফারেন্সেই সর্বনামের শো করা সুযোগ পাওয়া। বেশ এক্সাইটিং একটা সময় কেটেছিলো সেদিন সবার। সর্বনামের সদস্যদের তো বটেই, আমরা যারা বন্ধুস্থানীয়, শুভানুধ্যায়ী তাদের জন্যও একটা ভালো লাগার অভিজ্ঞতা ছিলো। ছবি তুলবো বলে অমিতের ক্যামেরা নিয়ে গিয়েছিলাম। কিন্তু ওর ক্যামেরার রিস্ক এক্টাই, একবার অন করলে আর বন্ধ করা যায় না, তখন একেবারেই পাওয়ার অফ হয়ে যায়! তো, লাকিলি মিন্নির সাথে দেখা হয়েছিলো সন্ধ্যায় আর আমিও সুযোগ পেয়ে ওর ক্যামেরা ধার করে নিয়ে গিয়েছিলাম। মিন্নির ক্যামেরাতেই পরে ছবি তোলা হলো। সর্বনামের প্রথমবারের মতো অত বড় শো হলো, সেখানে যদি ভালোমতো ছবিই না উঠতো তাহলে কি ব্যাপারটা কারো ভালো লাগতো? আমার নিজেরই ভালো লাগতো না, মেম্বারদের কথা তো পরে!

1527092_10154913755125655_3572041479604268119_n

গত বছরের ১৬ ডিসেম্বরের দুপুরটা খুব মেজাজ খারাপ করা একটা দুপুর ছিলো! সোহেল-এর সাথে প্ল্যান হয়েছিলো দুপুরে একসাথে খাবো কোথাও। আমার ধারণা ছিলো সবসময়ের মতো খাওয়া-দাওয়া করে সে হয়তো আবার কোনো কফি শপ বা আর কোথাও বসে আরো কিছুটা সময় কাটাবে। কিংবা অন্তত এমন কোথাও খেতে যাওয়া হবে যেখানে খাবার তৈরি করে সার্ভ করতে করতেও কিছুটা সময় কেটে যাবে। এমনকি শাড়ি-টাড়ি পরেই বের হয়েছিলাম যে একেবারেই রেডি হয়ে বের হয়ে যাচ্ছি, বাসার দিকে আর আসবো না। কিন্তু দেখা গেলো বিষয়টা হলো এমন যে ও ওর বাসার কাছেই একটা সাধারণ রেস্টুরেন্টে গিয়ে বসলো, ভাত-ডাল খেলো আর তারপর আচ্ছা, ঠিক আছে, বাই বলে চলেও গেলো! আমার যে কি পরিমাণ মেজাজ খারাপ হয়েছিলো! খালি ভাত খাওয়ার জন্য এইরকম দিনে এইরকম প্ল্যান! আগে জানলে তো বাসা থেকেই বের হতাম না! পাঁচতলায় গিয়ে সর্বনামের রিহার্সাল দেখতাম আর ওদের সাথেই দুপুরবেলা আড্ডাবাজি করতে করতে খেতাম! ওই আড্ডাবাজি আর হইহুল্লোড়-এর ভালো লাগা ফেলে আমি গেছি কি না চুপচাপ কোনো কথা না বলে একজনের সাথে বসে সাধারণ ভাত, ভর্তা, ডাল খেয়ে আবার টা টা বাই বাই বলে যে যার রাস্তা মাপতে!পরে সন্ধ্যায় মিন্নির সাথে দেখা হওয়া, সর্বনামের শো- এইসবকিছু মিলিয়ে ওই মেজাজ খারাপকে কম্পেন্সেট করে নেয়া গিয়েছিলো।

তবে, সেদিন থেকে সোহেলের সাথে মেশার ব্যাপারে একটা সিদ্ধান্ত পাকা-পোক্তভাবে নিয়ে নিয়েছিলাম – “নিজের ভালো লাগার জায়গাটার প্রায়োরিটি সবার আগে! অন্তত সোহেলের ক্ষেত্রে এখন থেকে তাই!” …

এ তো গতকাল্কের কথা বললাম এতক্ষণ। এবার আজকের ফিরিস্তি দেই। আজকে তেমন কিছু ফিরিস্তি দেয়ার নাই অবশ্য। সকালবেলা ঘুম থেকে উঠে স্কুলে গেলাম। আজকে আবার স্কুলে ময়না আপা আর ফারজানা হক আপা খাইয়েছেন। কি কারণে খাইয়েছেন সেটা আর সঠিক জিজ্ঞেস করা হয়নি। স্কুল থেকে বের হয়ে ব্যাংকে গেলাম, টাকা তুল্লাম। নায়ীমী সাথে ছিলো। ওর সাথে দেখা করার জন্য আবার ওর ফ্রেন্ড রাফি আসলো। রাফি ছবি তোলে, ‘রাফি ফটোশুটার’ বলে নিজেকে পরিচয় দেয়।নায়ীমীদের ব্যাচের আযহারের ফ্রেন্ড। আগে একসময় শিল্পকলার বিভিন্ন প্রোগ্রাম, প্রাচ্যনাটের বিভিন্ন প্রোগ্রামেই আসতো ছবি তুলতে। ওর ভাবসাব বেশি ভালো লাগতো না দেখে আমি পাত্তা দিতাম না। আমিও পালটা খুব গম্ভীর ভাবসাব নিয়ে থাকতাম। তো আজকে নায়ীমী, রাফি আর আমি কফি ওয়ার্ল্ডে বসে বেশ কিছুক্ষণ আড্ডাবাজি করলাম।পরে সন্ধ্যায় ওখান থেকেই একেবারে গ্রুপে চলে গেছি। গ্রুপে এখন নাচে-গানে বেশ ভরপু অবস্থা। ২১ আর ২২ তারিখ ‘সুরের ভেলায় আগুন খেলায়’ নামে দেশাত্মবোধক গানের প্রযোজনাটা হবে। ২১ তারিখ রবীন্দ্র সরোবরে আর ২২ তারিখ গ্রুপের রিহার্সাল ফ্লোরে। আজকে থেকে সেটার রিহার্সাল শুরু হয়েছে।

আজকে আরেকটা কবিতা শেয়ার করি। ২০০৮ সালের ১৭ ডিসেম্বর এই কবিতাটা পোস্ট করেছিলাম। খুব সম্ভবতঃ এটা একটা গান হতে পারে ভেবে লিখেছিলাম। সে কারণে ফরম্যাটটা পুরোপুরি ইউজুয়্যাল কবিতার মতো না। আচ্ছা, ২০০৮ এর এই সময়টায়ই কেন আমি প্রতিদিন একটা একটা করে কবিতা পোস্ট করতাম? কবিতাগুলো সব কিন্তু একই সময়ে লেখা না! কিন্তু রেগুলার একটা একটা করে এই সময়টায় নোট আকারে ফেসবুকে পোস্ট করেছি! গতকালকেও একটা কবিতা পোস্ট করা ছিলো, কিন্তু সেটা তো গতকাল্কের ‘অন দিজ ডে’ –তে চলে গেছে! আজকেরটা আজকে! গতকাল্কেরটা আবার আগামী বছর! ১৭ ডিসেম্বরে পোস্ট করা এই কবিতাটার নাম দিয়েছিলাম ‘বিষণ্ণ শূন্যতা’। অনীক-কে নিয়ে লিখছিলাম বোধহয়!ওই সময়টাতে ওকেই ‘বন্ধু’ বলে ডাকতাম, ফোনেও ওর নাম্বার সেভ করা থাকতো ‘আমিগো’ [ ল্যাটিন ভাষায় ‘বন্ধু’] নামে।ওর প্রতিই একরকম আলগা টান ছিলো। সেখান থেকেই এই কবিতার জন্ম! …

উষার রাঙ্গায়, গোধূলি মায়ায়, লাল-মাখা মেঘ, উদাস হাওয়ায়

রোদ-ঝরা দিন, চাঁদ-জাগা রাত, হলদে-সবুজ-কমলা কথায়,

তোমায় ভাবি মনের ঘরে অন্ধকারের আলো,

তুমি বিষণ্ণতায় নীল, আমি শূন্যতায় কালো।

একলা একা অষ্টপ্রহর, তোমায় নিয়ে ভাবনা বিভোর

চুপটি করে মন লাগিয়ে ভাবতে থাকি, ভাবতে থাকি,

বন্ধু, তোমায় নাম দেবো কী?

তোমায় নিয়ে অঙ্ক কষা দুই দু’গুনে পাঁচ

নিজের ছায়ায় তোমায় দেখি, ছাঁচে মেলাই ছাঁচ।

বন্ধু তোমায় আলো ভেবে অন্ধকারে থাকা

তুমি বিষণ্ণতায় নীল, আমি শূণ্যতায় ফাঁকা।”  

আর কি? অনেক লিখলাম! আজকের মতো শেষ করি! … ঘুম পাচ্ছে না যদিও … লিখতেও ইচ্ছা করছে না আর … এমনিই শুয়ে শুয়ে মোবাইল গুতাই, নয়তো বই পড়ি! দেখি কতক্ষণে ঘুম আসে!

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s