দিনযাপন | ১৮১২২০১৫

কেমন একটা ম্যান্দা মার্কা ইয়েট এন্ডেড ওয়েল টাইপ একটা দিন গেলো। কিঞ্চিৎ নিরামিষ দিনও বলা যায় …

সকালে ঘুম থেকে উঠে ‘কি করবো’ সংক্রান্ত একটা কনফিউশন দেখা দিলো! বের হতে হতে দুপুরের পর, কিন্তু তার আগ পর্যন্ত যুতসই কোনো কাজের কথাই মাথায় আসলো না। ভাবলাম ভায়োলিনটা নিয়ে বসবো। কারণ আর কিছুই করতে ইচ্ছা করছিলো না। এর মধ্যে প্রমা আর খালু বাসায় এসে হাজির। টিয়াম আর লালাম আসে নাই, দুজনেই বাসায় নিজেদের কাজে ব্যস্ত। প্রমা আসাতে আমার বেশ অনেকটা সময় এমনিতেই কেটে গেলো। এদিকে প্রমার উৎসাহে এবং আমাদের ইচ্ছাতেই ঠিক হলো যে ও আমাদের বাসায় দুপুর পর্যন্ত থাকুক। খালু না হয় নামায পড়ে-টড়ে বাসায় ফেরার আগে আমাদের এখানে এসে প্রমাকে নিয়ে যাবে। সেটা হওয়াতে আমার আর কাজ খুঁজতে হলো না। এমনিতেই দুপুর পর্যন্ত প্রমার সাথে খেলতে খেলতেই কেটে গেলো। দুপুরের দিকে খালু এসে ওকে নিয়ে গেলো। তারপর গোসল করে বের হলাম আমি। সায়েন্স ল্যাবে মেলোডি অ্যান্ড কোং-এ গিয়ে গ্রুপের হারমোনিয়ামটার জন্য একটা ব্যাগ কিনলাম। এখন যেই ব্যাগটা ব্যবহার করা হয় সেটা ছিঁড়তে ছিঁড়তে এমন অবস্থা হয়েছে যে যেকোনো দিন ওই ব্যাগে হারমোনিয়াম ক্যারি করার সময় ব্যাগ ছিঁড়ে হারমোনিয়াম পড়ে যাবে। একটা নতুন ব্যাগ কিনতে হলেও নাকি সেটা ইমন ভাই জানতে হবে, তারপর সেটার পারমিশন হবে, তারপর সেই ব্যাগ কেনা হবে। এই করতে করতে মোটামুটি ২/৩ মাস পার হয়েও গেছে। আসল কথা হচ্ছে কেউ দায়িত্ব নিতে চায় না। যারা মিউজিক-এর টিমে থাকে বা ইন্সট্রুমেন্টগুলো নিয়মিত ব্যবহার করে তারা তো নয়ই। সবাই এসব খুচরা দায়িত্ব থেকে গা বাচিয়ে চলতে চায়! শেষমেশ কালকে আমি বলেই দিলাম যে আমি নিজের পকেটের পয়সা দিয়েই একটা ব্যাগ কিনে গ্রুপে ডোনেট করবো! তাও একটা ৩০০ টাকার ব্যাগের জন্য এত হুজ্জত করার দরকার নাই!

এরকম ছোটোখাটো আরো অনেক কিছু আছে গ্রুপে, যেগুলোর দায়িত্ব নিতে বা এমনিতেই নিজের গরজ থেকেই একটা কিছু করতে বেশিরভাগ ছেলে-পেলেই খুব রিলাক্টেন্ট ফিল করে! হয়তো বা গা বাঁচিয়ে থাকতে চায় যে কাজটা করে পরে যদি কোনো কথা শুনতে হয় তারচেয়ে না করাই ভালো। আবার এমন অনেক কাজ আছে যেগুলো ইমন ভাই, পাভেল ভাই পর্যন্ত যাওয়া মানে অযথাই প্যাঁচানো। তাদের লেভেল পর্যন্ত যাবার আগেই হয়তো কাজটার ৫০ ভাগ নিজের সিদ্ধান্তেই করে ফেলা যায়। তারপর বাকি ৫০ ভাগ তাদেরকে দেখানো যায় যে , ‘দ্যাখেন, এভাবে এটা করেছি, এখন বাকিটা কি করবো?’ … কিন্তু সেইটুকুও বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই গা বাঁচিয়ে চলার জন্যই হোক, কিংবা নতুন কোনো দায়িত্ব যাতে গায়ে না পড়ে সেজন্যই হোক, ওই নিজে করে ফেলার মতো ৫০ ভাগ কাজটাও তারা ইমন ভাই কিংবা পাভেল ভাইয়ের সিদ্ধান্তের জন্য রেখে দেয়। তাতে করে কাজটা আর হয় না, কিংবা যেভাবে হতে পারতো তারচেয়ে অনেক বেশি কমপ্লিকেটেড হয়ে যায়! যেমন, খুব সহজভাবে যদি উদাহরণ দেই, ধরা যাক, গ্রুপের কম্পিউটারে একই ছবির দুইটা ফোল্ডার আছে, তাও আবার আলাদা দুই ড্রাইভে! যে কোনো একটা ফোল্ডার ফেলে দিলেই হয়! কিন্তু সেটাও করা হবে না! কেন? কারণ হিসেবে যুক্তি দেয়া হবে যে দুইটা তো দুই জায়গায়, যদি কোনো কাজের জন্য এভাবে রাখা হয়, তখন কি হবে? আমি ‘অফিসিয়ালি’ এইসব ডকুমেন্ট-এর বিষয়াদির দায়িত্বপ্রাপ্ত না, কিন্তু তারপরও ছবির ফোল্ডারগুলো নিয়ে কথা বলা আমার সাজে, কারণ বেশিরভাগ ছবিই আমার তোলা, আড় ফোল্ডারগুলোও আমারই বানানো! তাই আমার চোখে এরকম কিছু পড়লে আমি প্রশ্ন করি, বলি যে ফেলে দিলেই বা সমস্যা কি, আরেকটা সেম ফোল্ডারই তো আছে। তখন আবার সেটা হয়ে যায় ‘আলগা পাকনামি’! … এইরকম বিষয়আশয় এখন নিত্য-নৈমিত্তিক চলে আর কি! নিজের পিঠ, পাছা এইসব বাঁচিয়ে চলতে গিয়ে আর গ্রুপের প্রতি ‘বিলঙ্গিংনেস’ টা তৈরি হয় না। মনে হয় না যে গ্রুপের ফ্লোরে একটা ময়লা পড়ে থাকা মানে ‘আমার’ ঘর ময়লা হয়ে থাকা। উলটা ভাবে যে ‘আমি তো ফেলি নাই! আমার কি!’ …

যাই হোক, এগুলা প্রসঙ্গে ভাবতেও এখন আর ভালো লাগে না। ভাবতে গেলেই অনেক অনেক অসংগতি চোখে পড়ে। … সেইসব অসঙ্গতি নিয়ে প্রশ্ন করা বা কথা বলা মানে বেয়াদবি’র শামিল, কিংবা ‘আজাইরা পাকনামি’ অথবা ‘আগ বাড়িয়ে দায়িত্ব পালন’ … সে কারণে হয়তো সবার মতো ‘গা বাঁচিয়ে’ চলতে শেখা উচিৎ এখন! দেখেও না দেখা, শুনেও না শোনা, বা বুঝেও না বোঝার ভাব নিয়ে থাকতে হবে সব বিষয়ে!… যেটা আমি কখনো পারিও নাই, কখনো পারবো ও না! …

কালকে থেকে আমার টিউশনি শুরু হতে যাচ্ছে … কি যে হবে! তাই ভাবছি আজকে সারাদিন ধরে! …

কালকে আবার সকালে স্কুল … তারপর টিউশনি … তারপর গ্রুপ … সেইরকম প্যাকড শিডিউল… সো, আজকে ঘুমাই গিয়ে… এম্নিত হেচকি দিতে অস্থির হয়ে যাচ্ছি! … বহুদিন পর এই হেচকি সমস্যায় পড়লাম! … কতক্ষণে ঠিক হবে কে জানে! … শুয়ে পড়া জরুরি! …

যাই হক, আজকে শেষ করি লেখা …

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s