দিনযাপন । ২৩১২২০১৫

“সবাই বছর শেষে পেছন ফিরে দেখে নিচ্ছে সারা বছরের হেঁটে আসা পথটাকে… আর আমি ? … পথের দোটানায় দাঁড়িয়ে ভাবছি, পেছনের দিকে ফিরে তাকাবো কি? সবকিছুই তো ছায়া হয়ে ঘাড়ের ওপর চেপে রয়েছে, পেছনে যে কেবল কালো আর কালো … সামনে যাচ্ছি সেটা নিয়ে খুশি হবো, তার উপায় কি? সামনে যে সব সাদা, ধোঁয়াশা! … পা টিপে টিপে যতই আগাচ্ছি, ততই যে এই ধোঁয়াশা দমবন্ধ করে দিচ্ছে! … আমার হাতে যে আলোকবাতি, তার এমন তাপ, না পারছি তাকে ধরে রাখতে, না পারছি সামনে ছেড়ে দিতে …ধরে রাখলে সে আবছা হয়ে জ্বলে, ভয় হয় কখন নিভেই যায়! … পথ দেখানোর জন্য সামনে ছেড়ে দিলে সে যে নিজের উত্তাপ দিয়ে সবকিছু পুড়িয়ে ছারখার করে নিজের মতো করে একটা পথ করে নেবে, আর সেই পথে আগুণের হলকা ছাড়া আমি আর কিছুই দেখবো না! …

বৃষ্টি চাই, বৃষ্টি ! … সব ছায়া, ধোঁয়া, আগুনকে মিলিয়ে দিয়ে সামনে সবুজ প্রান্তর মেলে দেবে, এমন বৃষ্টি! …”

গতবছরের এইদিনের ফেসবুক স্ট্যাটাস এটা। অনেক বেশি বিষন্নতার জায়গা নিয়ে লিখেছিলাম। সোহেলের সাথে যাবতীয় ঘটনা, ওর সাথে আমার তথাকথিত নামহীন সম্পর্ক এবং তার ভবিষ্যৎ, আমার নিজের জীবনের ভবিষ্যৎ –  এইসব নিয়ে লেখা। গতবছর এইসময়টায় এসে মনে হচ্ছিলো বছরটা কেন চোখের পলকে শেষ হয়ে যাচ্ছে না? পরের বছরটা হয়তো ভালো যাবে! … কিংবা হয়তো আরো খারাপ! তবু বারবার চেয়েছি ২০১৪ সাল্টা শেষ হোক! ২০১৫ সাল ভালো গেছে কি যায়নি, সেটা নিয়ে হয়তো ৩১ ডিসেম্বরের দিনযাপনে লিখবো!

আজকের দিনটা কেমন গেলো সেটা নিয়েই বরং লিখি …

আজকে সারাটা দিনই কেটেছে বোটানিক্যাল গার্ডেনে। না না! প্রেম করতে যাই নাই! শুটিং করতে গেছি! … প্রজন্ম আগামী নামে চ্যানেল আই-এর আপকামিং একটা প্রোগ্রামের স্কিড-এ। বিষয়টা ছিলো একজন প্রফেশনাল মিউজিশিয়ানের সাথে সাথে একটা একটা ইন্সট্রুমেন্ট নিয়ে ইনভলভড হয়ে টোটাল একটা মিউজিক পিস হিসেবে জ্যামিং সেশনটা শেষ করা। এইটার মূল কাহিনীটা হচ্ছে টিম বিল্ডিং, যেটা এভাবে মিউজিক্যাল জ্যামিং এর মাধ্যমে দেখানো হলো। সনেট-দের ফিল্ম নয়ার এর কাজ এটা। ফলে শ্যুটিং-এর টিম বলতে সবই প্রায় পরিচিত মুখই ছিলো। সাকিব, অনিম, সওকি, সনেট, সৌরিন…সবাই-ই তো ভার্সিটির সময়কার বন্ধু-বান্ধব। ফিল্ম নয়ার-এর কাজ এতদিন দেখেছি কেবল। অনেক ইন্টেরেস্টিং আইডিয়া নিয়ে কাজ করে ওরা। এই টিমটার সাথে এমনিতে আমার কাজ করা হয়েছে ‘ফিরে এসো বেহুলা’ নামে একটা ফিল্মে। কিন্তু ওদের ফিল্ম নয়ার-এর কোনো কাজে কখনো ইনভল্ভ হবার সুযোগ হয়নি। ফিরে এসো বেহুলাতে জানি কার থ্রুতে কিভাবে ইনভল্ভড হয়েছিলাম সেটা এখন বেমালুম ভুলে গেছি! ওই কাজটার এক্সপেরিয়েন্সখুব মজার ছিলো। তখনো গ্রুপে ঢুকেছি কি ঢুকি নাই। কাজ করতে গিয়ে দেখা গেলো সেখানে রুবেল ভাই, রফিক ভাই, জগন্ময় দা, ফারহান ভাই এরকম আরো অনেকেই আছে। … যাই হোক, সাকিব-দের সার্কেলটার সাথে সবসময়ই আমার কানেকশনগুলো বেশ ইন্টেরেস্টিং হয়। ঘটনাচক্রে, ওদের সাথে হ্যাং-আউট করা ফ্রেন্ডশিপ আমার কখনো হয়নি। তারও একটা বিশেষ গল্প আছে। সেই গল্পটা এখন বলবো না। ইন ফ্যাক্ট, সেই গল্পটা হয়তো দিনযাপনে লিখবোই না, যদি না সেটা নিয়ে লেখার প্রসঙ্গটা ভাইটাল হয়ে যায়! …

যাই হোক, এই প্রসঙ্গ আপাতত শেলফে তুলে রাখি। কাজ নিয়ে কথা বলছিলাম, সেই কথাতেই ফিরে আসি। আজকের এই কাজটায় আবার আমার সাথে দেবাশিষ আর রবিনকেও নিয়ে গিয়েছিলাম। সাকিব-দের ৮ জনের মতো মিউজিশিয়ান দরকার ছিলো। আমাকে বলছিলো আমিসহ আরো দুই-একজনকে নিয়ে যাবার জন্য। আমি প্রথমে নোবেল ভাই আর গোপীর কথা ভাবছিলাম। দুইজনকেই বলেওছিলাম। দুইজনেই পারবে না বলে দিলো। পরে দেবাশিষ আর রবিনের কথা মনে হলো। কাজটা করতে গিয়ে মনে হলো যে নোবেল ভাই কিংবা গোপী আসে নাই ভালোই হয়েছে বরং! এই কাজটার জন্য ওরা উলটা বেশিই প্রফেশনাল হয়ে যেতো! আসলে আমি তো আর ক্লিয়ার জানতাম না যে এগজাক্টলি কি হবে! মিউজিশিয়ান-এর কথা বলেছে, সো আমি দক্ষ মিউজিশিয়ান-এর কথাই আগে ভেবেছি। একটা কাজের জন্য নিয়ে যাবো, পরে কাজটা ঠিকঠাকমতো না হলে তো বিষয়টা আমার জন্যই বিব্রতকর হয়ে যাবে যে একজন একটা হেল্প চাইলো, আর আমি ঠিকমতো হেল্পটা করতে পারলাম না। আর দেবাশীষ বা রবিনের কাজের সাথে তো আমি পরিচিত না, সো খুব কনফিডেন্ট হতেও পারছিলাম না যে চয়েসটা ঠিক হলো কি না! আজকে গিয়ে দেখলাম যে দেবাশীষ আর রবিন-ই মোর দ্যান এনাফ ছিলো সেখানে। সাথে সাথেই মনের মধ্যে যেটুকু সামান্য পরিমাণ কনফিউশন বা খুঁতখুঁতানি ছিলো সেটাও চলে গেলো।

বোটানিক্যাল গার্ডেন গিয়ে আজকে টুকটাক কিছু ছবি তুলেছি। শুটিং-এর, প্রকৃতির। রোদ, আলো, হিপস্টামেটিক ইফেক্ট সব মিলিয়ে ছবিগুলো দেখে নিজের কাছেই ভালো লাগছে! একটা ‘বাহ! বাহ! বেশ বেশ!’ ভাব! কয়েকটা ছবি শেয়ার করি না হয়! এক্টা-দুইটা ছবি হলে ইন্সটাগ্রামে দেয়া যেতো, কিন্তু বেশ কয়েকটা ছবি তো! ফেসবুকে অ্যালবাম করে দেয়াটাও বেশি বেশি হয়ে যাবে! এখানেই পোস্ট করে রাখি! আজকের দিনের ছবি আজকের দিনযাপনেরই বর্ণনা করুক! …

আর কি লিখবো আজকে? প্রচণ্ডরকমের গা ম্যাজম্যাজ করা ভাব নিয়ে বসে আছি। একে তো ধুলাবালির মধ্যে সারাদিন থেকে এসেছি, তারমধ্যে গোসলও করা হয়নি। রাতের বেলা গোসল করে চুল শুকাবে না, তারপর ঠান্ডা লাগবে আর একবার ঠান্ডা লাগা মানে পুরা শীতকাল-এর জন্য বাঁশ! সকালে উঠে বের হবার আগে গোসল করে হবে। কালকে অনেক কাজ। সকালে টিউশনি-তে যেতে হবে, তারপর দুপুর থেকে শশাঙ্কদা’র অফিসে গিয়ে বসতে হবে ট্র্যাজেডি পলাশবাড়ির ব্রশিয়ার নিয়ে। কালকে সন্ধ্যার মধ্যে যেভাবেই হোক এটার ফাইনাল প্রিন্টে যেতে হবে। এমনিতেই কাজটায় অনেক দেরি হয়ে গেছে আমাদের। এখন এটা গলার কাঁটা হয়ে যাবার আগেই শেষ করে ফেলতে হবে। আজকে আর কালকে সারাদিন কাজ করে এটার ফাইনাল প্রিন্টের জন্য যদি সন্ধ্যায় প্রেসে পাঠানো যায়, তাহলে পরশুদিন সকাল নাগাদ সেগুলো হাতে পেয়ে যাবো। তারপর ডিস্ট্রিবিউশনের কাজ আছে। অন্তত স্পন্সরদের কাছে তো বটেই।

আর লিখবার কিছু পাচ্ছি না। অতএব, শেষ করি …

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s