দিনযাপন | ২৪১২২০১৫

ভেবেছিলাম যে খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠে বিবিসি’র একটা ছোটো কাজ শেষ করবো, তারপর ৯টার দিকেই স্কুলে চলে যাবো, তারপর ১১টার দিকে বের হয়ে টিউশনি-তে যাবো, তারপর সেখান থেকে শশাঙ্কদা’র অফিসে গিয়ে ট্র্যাজেডি পলাশবাড়ির ব্রশিয়ারের কাজ নিয়ে বসবো। কিন্তু যেরকম ভাবলাম সেরকম কাজ আসলে হলো না। ঘুম থেকে উঠতে উঠতেই ৮টা বাজলো, ৯টা সময় আর স্কুলে কিভাবে যাবো! আবার টিউশনি-তেও দেরি করা যাবে না, কারণ বিকালে স্টুডেন্ট-এর খেলা আছে। ২টার মধ্যে ওকে পড়ানো শেষ করতে হবে। স্কুলে যেতে যেতেই ১০টা বাজবে, তারপর আবার ১১টায় বের হয়ে যেতে হবে! ১ ঘণ্টার জন্য স্কুলে গিয়ে করবো কি ভাবতে ভাবতে শেষে স্কুল বাদ দিয়ে টিউশনিতেই গেলাম। এমনিতেই ‘সুরের ভেলায় আগুন খেলায়’ এর শো’র দৌড়াদৌড়িতে ২ দিন টিউশনিতে যাওয়া হয়নি। টিউশনি শুরু করেই এরকমভাবে নিজের ব্যস্ততার জন্য টিউশনি মিস দেয়াটা খুব ভালো কিছু তো না! সো, আজকে সকাল বেলা ছাড়া যেহেতু আর সময় হচ্ছিলো না, তাই টিউশনিটাকেই প্রায়োরিটি দিলাম।

যাই হোক, টিউশনি শেষ করে শশাঙ্কদা’র অফিসে গিয়ে বসে ট্র্যাজেডি পলাশবাড়ির ব্রশিয়ারের কাজ গুছালাম। পেজ মেকাপ আগেই করা ছিলো, আজকে টুকটাক কিছু কারেকশন করে নিয়ে তারপর পেজ সেট-আপের কাজ করা হলো। এমনিতেই উনাদের এখন ইয়ার এন্ডের অনেকগুলা প্রিন্টিং এর কাজ চলছে, তার মধ্যে হুট করে এই ট্র্যাজেডি পলাশবাড়ির কাজ নিয়ে বসেছি, তাতে আমার নিজের কাছেই খুব খারাপ লাগছিলো। এই ব্রশিয়ারের কাজটা আমার ব্যক্তিগত কাজ না, গ্রুপের কাজ, তারপরও আমার অপরাধীবোধ করার জায়গাটা এতই বেশি যে মনে হবে যেন আমার নিজের কোনো কাজ নিয়ে আমি গিয়ে হাজির হয়েছি! এদিকে ব্রশিয়ারটাও ছাপতে হবে ২৭ তারিখের মধ্যেই। যেভাবেই হোক! প্রেস পাওয়া যাবে কি না সেটাও একটা ক্রাইসিস! কারণ সব প্রেসেই এখন প্রচুর প্রিন্টিং চলছে। হুট করে আজকে সকালে বললাম যে সন্ধ্যায় একটা জিনিস প্রিন্টে যাবে, আর কোনো প্রেস সেটা সাগ্রহে করে দিলো, সেটা হওয়াটা খূব কঠিন। দেখা যাক, কি হয়! এদিকে পাভেল ভাই ঢাকায় নাই। ডিরেক্টরের ফাইনাল ফিডব্যাক ছাড়াই ব্রশিয়ার ছাপানো হয়ে যাচ্ছে, এটা নিয়েই আমার ভয়ের শেষ নাই! যদি সবকিছু প্রিন্ট হয়ে যাবার পর দেখা যায় যে কিছু একটা উনার কাছে ঠিক মনে হয় নাই, বা পছন্দ হয় নাই, তখন কি হবে? … পাভেল ভাই তো তাও অনেক ভালো, আমাদের ওপর দায়িত্ব দিয়ে দিয়েছেন। যতুটুকু পারছি আমি রুবেল ভাই, নোবেল ভাই-এর সাথে বারবার কথা বলে নিচ্ছি। কোনো কনফিউশন হলেই পাভেল ভাইয়ের সাথে ফোনে যোগাযোগ করা হচ্ছে। কিন্তু তারপরও আমার টেনশন যায় না। আমার খালি মনে হচ্ছে আমি পারলে পাভেল ভাই যেখানে আছে সেখানে গিয়েই উনাকে ডামি প্রিন্ট-টা দেখিয়ে আসতাম যে সব ঠিক আছে কি না! তাহলে একটা সন্তুষ্টি থাকতো যে আর যাই হোক, ডিরেক্টর তো দেখে দিয়েছে! আমি যদি কোনো নাটকের ডিরেক্টর হতাম, আমি তো মনে হয় খুঁতখুঁতানির চোটে নিজেই প্রেসে গিয়ে বসে থাকতাম আর বারবার দেখতাম যে সবকিছু ঠিকঠাক আছে কি না! পাভেল ভাই তো সেই হিসেবে অনেক বেশিই ভালোমানুষ!আর তার নাটকের এই ব্রশিয়ারের প্রিন্টিং-এর জন্য যাবতীয় দৌড়াদৌড়ি করছি আমার মতো খুঁতখুঁতানি স্বভাবের মানুষ, আর দিন-রাত টেনশন করছি যে ‘কোনো ভূল হয়ে গেলো না তো?’ …

আগামিকাল ক্রিসমাস ডে। আজকে খুব ইচ্ছা করছিলো রাতে তেজগাঁও চার্চে যাই, সেখানে ক্রিসমাসের প্রথম প্রহরে ক্যারল শুনি! ও সাইলেন্ট নাইট, ও হলি নাইট! ২০১০ এর ক্রিসমাস ইভ-এই সম্ভবত আদনান ভাইয়ের সাথে গিয়েছিলাম চার্চে। ছবি তোলার উছিলায় যাওয়া হয়েছিলো আর কি! এই সময়টায় ওখানে গেলে পরিচিত অনেকের সাথেই দেখাও হয়ে যায়। হলিক্রসের টিচার, ক্লাসমেট অনেকেই … অমিত যদি বাসায় ফিরতো, কিংবা সাদি-ও যদি কালকে থাকতো তাহলে চলেই যেতাম। বাসায় ফিরলাম একা, সেজন্য আর রিস্ক নিলাম না। রানার সাথে মুখে মুখে প্ল্যান হয়েই যাচ্ছিলো যে যাবো, কিন্তু পরে বাসায় কীভাবে  ফিরবো চিন্তা করে সেই প্ল্যান বাদ দিলাম। কালকে দিনের বেলা যাবো নাকি ভাবছি। বিশাল চার্চরুমের একটা বেঞ্চে একা একা চুপচাপ বসে থাক্তেও ভালো লাগে! …

ক্রিসমাস-এর এই যে সান্তা ক্লজ, ক্রিসমাস ট্রি এইসব আমার খুব ভালো লাগে। এইবারই ভাবছিলাম আমিও একটা ক্রিসমাস ট্রি কিনবো আর সেটা লাইট দিয়ে, ঘণ্টা দিয়ে সাজাবো! কিন্তু সময়-সুযোগও যেমন হয়নি, তেমনি টাকা নাই এটাও একটা ফ্যাক্টর! তবে, মন মেজাজ ভালো থাকতে হয়তো কালকে লাইট-টাইট দিয়ে এম্নেই ঘর সাজাতাম। সেটাও করা হলো না আর কি! মাঝে মাঝে আগে রাতের বেলা জানালায় মোজা ঝুলিয়ে ঘুমাতে যেতাম। সান্তা ক্লজ যদি সত্যি সত্যি আসে, আর যদি সত্যি সত্যি একটা ক্রিসমাস গিফট পেয়ে যাই! আমার মা’র এসব ব্যাপারে বাচ্চামি কম, না হলে ছোটোবেলায় ক্রিসমাসের গিফট বলে যে বইটা বা শো-পিসটা দিতো, সেটা কিন্তু মোজার ভেতরে কিংবা পাশেই রেখে দিতে পারতো! তাহলে বেশ মজা হতো!

যাই হোক, আজকে আর লিখতে ইচ্ছা করছে না। ইনফ্যাক্ট লিখতে ভালো লাগছে না। … অতএব আজকের দিনযাপন এখানেই শেষ …

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s