দিনযাপন | ২৬১২২০১৫

বহুদিন পর এমন একটা রাত গেলো যেখানে বাসায় ফিরে কাপড়-চোপড় না পাল্টেই ঘুম দিয়েছি আর উঠেছি একেবারে সেই সকালবেলা! অ্যাজ আ রেজাল্ট, দিনযাপন লেখা হলো না গতকালকে। অবশ্য লিখতে গেলেও তেমন কিছুই লেখার থাকতো না! সারাদিন ঝিমিয়েছি, বাসা থেকে বের হয়ে তেজগাঁও চার্চ আর হলিক্রসের সিস্টারদের কোয়ার্টারে ঢুঁ মেরে আসবো কি না ভাবতে না ভাবতেই রুবেল ভাইয়ের ফোন পেয়ে জেনেছি উনি সাড়ে ৪-টার মধ্যে চলে যাবে গ্রুপ থেকে, আর তখন সব প্ল্যান শেলফে তুলে রেখে এক ঘণ্টার মধ্যে কোনোরকমে গ্রুপে গিয়ে হাজির হয়েছি । উদ্দেশ্য – ট্র্যাজেডি পলাশবাড়ির ব্রশিয়ারের ডামি প্রিন্ট দেখানো। তারপর সন্ধ্যায় গ্রুপে কতক্ষণ থেকে, ইমন ভাইয়ের বাসায় গিয়ে উনাকে ব্রশিয়ারের ডামি প্রিন্ট দেখিয়ে বাসায় ফিরতে ফিরতে রাত সোয়া বারোটা। এসেই আর কোনোদিকে না তাকিয়ে ঘুম! এমনকি ড্রেস-টা চেঞ্জ করবো সেই এনার্জিটুকুও পাচ্ছিলাম না। এদিকে আবার সকাল সকাল উঠতে হতো আজকে, কারণ রিপোর্ট কার্ড ডে ছিলো স্কুলে। …

তো, যাই হোক, আজকের দিনটাও বেশ দৌড়াদৌড়িই মধ্যে দিয়েই গেলো। সেই সাতসকালে উঠে শীতের মধ্যে শাড়ি-টাড়ি পরে স্কুলে গেলাম। হাফ-ইয়ারলি পরীক্ষার রিপোর্ট কার্ড ডে ছিলো আজকে। আজকে স্কুল হয়ে শীতের ছুটি হয়ে গেলো। খুলবে ১৯ তারিখ। এমনিতে ক্লাস শুরু হবে ২০ তারিখ, কিন্তু ১৯ তারিখে গিয়ে টিচারদের সাইন ইন করতে হবে। এদিকে ১৯ তারিখেই বরিশালে ট্র্যাজেডি পলাশবাড়ির শো! আবার ১৯ তারিখ যদি স্কুলে গিয়ে সাইন ইন না করি, তাহলে পুরো জানুয়ারি মাসের বেতন কাটা পড়বে! এখনো আমার কিছু মাথায় ঢুকছে না যে কিভাবে কি করবো! যদি ভিডিও প্রজেকশনের জন্য আরেকজন তৈরি থাকতো, তাহলে নিশ্চিন্তে সিদ্ধান্ত নিয়ে নিতে পারতাম যে বরিশালে যাচ্ছি না। এটাও সম্ভব না যে ১৯ তারিখ সকালে স্কুলে সাইন ইন করে বরিশালে রওনা দেবো, তারপর সন্ধ্যার মধ্যে পৌঁছে শো-তে অ্যাটেন্ড করবো। বরিশাল তো আর বাড়ির কাছে না! কাঊকে এর মধ্যে সবকিছু বুঝিয়ে দিতে হবে আর কি! আগে তো বিপ্লব এক্টা-দুইটা শো-তে আমার সাথে বসেছে। কিন্তু এখন তো ও গ্রুপে সময় দিতে পারে না, নতুন কাউকে পাইও নাই যে এই দায়িত্ব নিতে ইন্টেরেস্টেড। ফলে, এখন আমি একাই ভিডিও প্রজেকশনে বসি। বরিশালের শো-এর উছিলায় যদি নতুন কেউ তৈরি হয় তো ভালোই ! আমারও ঘাড়ের ওপর থেকে কিছুটা হলেও প্রেশার কমবে।

স্কুল ছুটির মধ্যে অবশ্য টিঊশনি চলবে। বিবিসি’রও কাজ থাকবে এক-দুইটা। ফলে একদম ‘আকাইম্যা’ ছুটি আসলে হবে না। গ্রুপে তো এটা-সেটা কাজ থাকবেই। এমনিতেই কারেন্ট স্কুলিং ব্যাচের ফাইনাল প্রডাকশনের রিহার্সাল চলছে। সো, যতই ভাবি যে পারতপক্ষে এই কয়টা দিন গ্রুপে যাবো না, তাড়াতাড়ি বাসায় চলে এসে লেখালেখির কয়েকটা কাজ করবো, দেখা যাবে ‘যদি কারো কোনো হেল্প লাগে’ চিন্তা করে প্রতিদিনই গ্রুপে গিয়ে বসে আছি! …

এই ছুটির মধ্যে আরেকটা গুরুত্বপূর্ণ কাজ যেটা করতে হবে, সেটা হলো আগামী বছরের জন্য  কিছু ওয়ার্কপ্ল্যান বানাতে হবে। নিউ ইয়ার্স রেজুলেশনের মতো করে করা যায় – ‘আগামী বছর থেকে আমি এই করবো … ওই করবো’ টাইপের আর কি! … ভাবছি যে আগামী বছরের ১ তারিখ থেকে ‘ডাইরির পাতা থেকে’ নামে যে সিরিজটা শুরু করবো ভেবেছিলাম, সেটা গোছাতে শুরু করবো। সেটা হয়তো ওয়ার্ডপ্রেস ছাড়া আর কোথাও পাবলিসাইজ করবো না। কিন্তু এধরণের একটা কাজ শুরু করার জন্য বছরের ১ম দিন থেকেই হিসাব করাটা সহজতর। চিন্তাটা তো করলা, এখন দেখা যাক কাজে সেটা কতদূর করা হয়! … আমার মতো একজন ধৈর্য্যহীন মানুষ প্রায় ৮/৯ মাস ধরে টানা দিনযাপন লিখছে, এটাই বা কম কি! হাতে-কলমে ডাইরি লিখতে গেলে তো দেখা যেতো ১/২ মাস পড়েই আর ইচ্ছা করছে না! দিনযাপন লেখার ধৈর্য্যটাও কতদিন থাকে দেখা যাক! দিনযাপন লেখার চাইতে ইন্টেরেস্টিং অন্য আর কোনো মোটিভেশন পেলে হয়তো ওইটা নিয়েই ব্যস্ত হয়ে যাবো! …

এই যে একটা স্বভাব আমার! বেশিদিন একটা জিনিস ভালোই লাগে না! … কতকিছুই তো করে ফেললাম! আর কি-ই বা বাকি আছে? … একসময় হয়তো ‘আর কিছু করার নাই’ টাইপ চিন্তা করেই হতাশ হতে হতে একদিন প্রচন্ড ঝোঁকের মাথায় ‘ এ জীবন আর রাখবো না’ বলে ধুম করে সুইসাইড করে বসবো! … এই জিনিসটা এখন আমাকে খুব ভাবায়। মানে এই যে প্রায়ই কথায় কথায় বলি ‘ কবে জানি সুইসাইড করে ফেলি!’ … ইদানীং কথাটা খুব বলি! … বলতে বলতে একদিন সত্যি সত্যি যদি দেখা যায় ‘সুইসাইডাল’ হয়ে গেছি তখন তো আরেক পেইন হয়ে যাবে! …

২০১১ সালের এই সময়টায় কুষ্টিয়া ছিলাম। একটা আর্ট ক্যাম্পে। বেশ মজার কয়েকটা দিন কেটেছিলো সেখানে। একদল বিভিন্ন জাতের আর্টিস্ট একজায়গায় হয়ে একটা থিম-কে বেস করে কিছু একটা করছি! ওই কয়েকটা দিনের আড্ডাবাজি, অভিজ্ঞতা, খাওয়া-দাওয়া, আশেপাশের জায়গা আর মানুষ সবকিছু নিয়েই একটা উপন্যাস লিখে ফেলা যায়! … ওই আর্ট ক্যাম্পের একটা ছবিও আমার কাছে নাই! … আমার হার্ডড্রাইভে জায়গা ছিলো না বলে রাহুল দা’র আই ম্যাকে রেখেছিলাম। সেখানেই হয়তো আছে এখনো। ছবিগুলা এম্নকি কোথাও পাবলিশও করা হয় নাই! … আমি একটা পোর্ট্রেট সিরিজ করেছিলাম, ‘খাঁচায় বন্দী খাঁচা’ নামে, ওই পোর্ট্রেটগুলা খালি আছে আমার কাছে। ফলে, একরকমভাবে ওই পুরো আর্ট ক্যাম্পের যাবতীয় ভিজুয়্যাল এখন কেবল আমার স্মৃতিতেই আছে!

যাই হোক, আর কি লিখবো আজকে? লিখতে শুরু করলে তো গতবছরের অনেক দৌড়াদৌড়ির কথাই লেখা যায়। যেম্ন, ২৬ ডিসেম্বরে তৃষার আকদ-এর অনুষ্ঠান ছিলো। আবার ওই একই সময়ে ট্র্যাজেডি পলাশবাড়ির টেকনিক্যাল শো আর প্রিমিয়ার শো-এর দৌড়াদৌড়ি। ২৭ তারিখেই তো প্রথম টেকনিক্যাল শো হলো! কি যে অবস্থা গেছে তখন! সেট হয় নাই, ভিডিও হয় নাই … পারফর্মার, ডিরেক্টর সবাই অস্থির! … প্রতিদিন একগাদা টেনশন মাথায় নিয়ে প্রায় না ঘুমানোর মতই ঘূমাতে যাওয়া! … আবার সেই সময়েই সোহেলের সাথে আমার কথায় কথায় ঝগড়া হয়। না আমি ওর কথা মাটিতে পড়তে দেই, না ও আমার কোনো কথা মাটিতে পড়তে দেয়! ওর সাথে কথা হওয়া মানেই ঝগড়া, আর সারাদিন ভেতরে ভেতরে আমার মেজাজ খারাপ থাকে! একেবারে গা কাঁপতে থাকা মেজাজ খারাপ হয়ে যেতো আমার! মাঝে মাঝেই ভাবতাম কোনো একদিন সকালবেলা ঘুম থেকে উঠে হয়তো দেখবো হরমোনাল কোনো প্রকার ক্রিয়া-বিক্রিয়ায় আমি সত্যিকারের ‘হাল্ক’ হয়ে গেছি!

অ্যানিওয়ে! … শেষ করি! …

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s