দিনযাপন | ২৭১২২০১৫

আজকে বাসায় ফিরতে না ফিরতেই বেহুদা কিছু ঘটনায় খুব মেজাজ খারাপ হয়ে গেলো, আর সে কারণে দিনযাপন লিখতে বসারও মুড আসছে না। কিন্তু তারপরও লিখতে বসলাম। কি নিয়ে যে লিখবো, সেটাও জানি না। কারণ আজকে সারাদিনে খুব হাইলাইট করার মতো কোনোকিছু তো ঘটে নাই। তাও লিখি কিছুটা! … অভ্যাস তো!

সকালে ঘুম থেকেই উঠেছি সাড়ে ১০টায়। সকালের দিকে ঘুমের মধ্যে কি কি সব স্বপ্নও দেখছিলাম, সেগুলোও মনে নাই! ঘুম থেকে উঠে নাস্তা করছি এমন সময় স্টুডেন্ট -এর মা ফোন করে জানতে চাইলেন আসবো কি না আজকে। আসলে উনি ধরে রেখেছিলেন যে আমি সকালে যাবো, আর আমি ভেবেছি বিকালে যাবো। গতকালকে তো যেতে পারলাম না, কারণ স্কুলের পরে সারাদিন প্রেসেই ছিলাম। মাঝখানে যে ঘণ্টা দুয়েকের জন্য গিয়ে পড়িয়ে আসবো, সেই সময়টা বের করতে পারিনি। যাই হোক, এড় মধ্যে রানাও ফোন দিলো যে সন্ধ্যায় সৈয়দ শামসুল হক-এর জন্মোৎসবে ফুলের শুভেচ্ছা জানাবে বলে প্রাচ্যনাট থেকে একটা দল যাবে, আমি যাবো কি না। সাড়ে ৬টার দিকে যেহেতু, বললাম যে টিউশনি শেষ করে যেতে পারি। এদিকে সন্ধ্যায় পাভেল ভাই আসবে, ব্রশিয়ার প্রিন্ট হয়ে আসলে উনাকে দেখাতে হবে, তারপর বিলের কাগজ-পত্র বানাতে হবে এইসব টুকিটাকি কাজও আছে। ফলে আসলেই যাওয়া হবে কি না শিল্পকলায় সেটা নিয়ে একটা দোটানা থাকলো। ৩টার দিকে টিউশনি-তে গেলাম, আর সন্ধ্যায় যখন বের হলাম তখন আর শিল্পকলায় গেলাম না। ব্রশিয়ার আজকে প্রিন্ট শেষ হয়নি ঠিকই, কিন্তু পাভেল ভাই তো আসবেন, উনার সাথে পোস্ট-প্রিন্ট কাজগুলো নিয়ে কথা বলতে হবে, তাই গ্রুপেই গেলাম। এদিকে পাভেল ভাই সাধারণত সাড়ে ৮টার পরে আসেন। আজকেও তাই হবে চিন্তা করে আমি আবার মাঝখানে কিছু সময়ের জন্য জেমের সাথে বের হলাম। কিন্তু কপাল খারাপ হলে যা হয়! আজকেই উনি শিল্পকলায় যাবেন দেখে গ্রুপে তাড়াতাড়ি চলে আসলেন ! চলেও গেলেন তাড়াতাড়ি! আমার আর সরাসরি উনার সাথে কথা বলার সুযোগ হলো না! কালকে সন্ধ্যায় আবার আমি থাকবো না! কালকে দুপুর নাগাদ ব্রশিয়ার প্রিন্ট হয়ে আসবে। সন্ধ্যায় যখন উনি ব্রশিয়ার দেখবেন, তখন আবার আমি নাই! কি যে হবে!

গতবছর এইদিনে ট্র্যাজেডি পলাশবাড়ির প্রথম টেকনিক্যাল ! দেড় বছরের প্রাচ্যনাটের ফ্লোরে কাজ হবার পর প্রথমবারের মতো বড় স্টেজে পুরো কম্পোজিশন নামানো! সেট তখনো তৈরি হচ্ছে, ভিডিও প্রজেকশনের কিছুই তখনো হয় নাই … সেগুলো ছাড়াই টেকনিক্যাল করা … মূলত স্পেসটা বোঝা আর কি! আগের দিন তৃষার বিয়ের প্রোগ্রাম ছিলো। ওখান থেকে রাতের বেলা বাসায় না ফিরে থেকে গিয়েছিলাম টিয়ামের বাসায়। সকাল ৮টায় শিল্পকলায় কল ছিলো। সেই ভোরবেলা শীতের মধ্যে সিএঞ্জি-তে কাঁপতে কাঁপতে শিল্পকলায় গেছি। সেখানে ৩টা না ৪টা পর্যন্ত কাজ হলো … তারপর রাতে ৮টার দিকে টেকনিক্যাল টিমের মিটিং ….. মাঝখানের সময়টায় হিমেলের বাসায় গেছিলাম … ওদের চকোলাইট-এর একটা শ্যুট হচ্ছিলো। সময় আছে যখন, একটা ঢুঁ মেরে আসি চিন্তা করেই যাওয়া। বকুল ভাইয়ের বাসাও হিমেলের বাসার কাছাকাছি, ওই শেখেরটেকেই। বকুল ভাইয়ের বাইকে লিফট নিয়ে গেলাম … বকুল ভাইয়ের অনুরোধেই উনার বাসায় নেমে, খাওয়া-দাওয়া করে তারপর গিয়েছিলাম হিমেলের বাসায়। সন্ধ্যায় আবার বকুল ভাইয়ের সাথেই গ্রুপ পর্যন্ত আসা … মিটিং … ট্র্যাজেডি পলাশবাড়ি নিয়ে … কিভাবে কি হবে সংক্রান্ত আলোচনা … ৩০ তারিখ প্রিমিয়ারের ডেট ফিক্সড, কিন্তু তখনো আমরা জানি না আসলে কি নিয়ে শো-টা হবে! … মনে হচ্ছিলো, সময় যত যাচ্ছে, কাজ যেন ততই একটা একটা করে বাকিই রয়ে যাচ্ছে বেশিরভাগ!

ট্র্যাজেডি পলাশবাড়ি’র প্রায় দেড় বছরের কর্মযজ্ঞ, নাটকটার স্টোরিলাইন, ডিরেক্টরের বুনট প্রক্রিয়া, আমার পাওয়া শিক্ষা আর অভিজ্ঞতা … এরকম অনেককিছু মিলিয়ে একটা রিভিউ লেখার চিন্তা মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে বহুদিন যাবৎ। কিন্তু লেখাই হচ্ছে না। নিতান্তই আলসেমির কারণে সেটা হয়ে ওঠেনা। লেখাটা হয়তো বা ব্লগপোস্ট হিসেবেই থাকবে, কিংবা সময়-সুযোগ মতো কোথাও ছাপা হবে … কিন্তু তার আগে তো লেখাটা হতে হবে! … কবে যে আদৌ লেখা হবে সেটা! … দেখা যাবে, কথাগুলো মনের মধ্যেই গোছানো থাকবে, কিন্তু লেখা আকারে আর প্রকাশ পাবে না! … যেভাবে আমার বাকি অনেক অনেক লেখা হারিয়ে গেছে, সেভাবে এটাও একসময় হারিয়ে যাবে!

আজকে আর লিখবো না … লেখার মতো কিছু পাচ্ছি না … আর তাছাড়া একে তো প্রচণ্ড ঠান্ডা লাগছে, তারওপর ঘুম আসছে … দিনযাপন না লিখে কম্বল মুড়ি দিয়ে ঘুমানোটাই এখন উত্তম কাজ বলে মনে হচ্ছে! …

অতএব, আজকের দিনযাপন এখানেই শেষ …

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s