দিনযাপন । ০১০১২০১৬

দুইটা কাজ এই বছর করবোই – সারাদিনে ভেবে-চিন্তে একদম কনফার্ম করে ফেলেছি মনে মনে – এক, গতবছর যেমন কাউকেই জন্মদিনে শুভেচ্ছা জানাইনি, এবছর তার উল্টোটা করবো! ফেসবুকে হোক, মোবাইলে হোক আর সাক্ষাতে হোক, পরিচিত মানুষদের জন্মদিনে তাকে শুভেচ্ছ জানাবো। আর দুই, নিতান্তই কোনো কাজ না থাকলে পারতপক্ষে কোথাও জাস্ট টাইম পাস-এর জন্য যাবো না।কাজ থাকুক আর না থাকুক, একমাত্র প্রাচ্যনাটেই নিয়মিত যাওয়া হয়। সেই অভ্যাসটা ভাঙতে চেষ্টা করতে হবে। ভেবে দেখলাম, বাসায় থেকে করার মতো প্রচুর কাজ পেন্ডিং হয়ে আছে। সেগুলোকে প্রায়োরিটি দিতে হবে। অন্তত ২০১৬’র প্রথম ৬ মাস!

আর যাই হোক, মুনির ভাই যে অনুবাদের কাজটা দিয়েছিলেন, সেটা তো ফেব্রুয়ারির মধ্যে শেষ করতেই হবে। উনাকে বলেছিলাম একটা একটা করে চ্যাপ্টার শেষ করে পাঠাবো। এক নাম্বার চ্যাপ্টার শেষ করেছি সেই নভেম্বর মাসেই। কিন্তু উনাকে পাঠানো হয়নি। ভেবেছিলাম ফুটনোটগুলা বসিয়ে তারপর পাঠাবো। কিন্তু ফুটনোটগুলো লিখতে হলে যে পড়াশোনা করে লিখতে হবে, তাতে একেকটা চ্যাপ্টারই অনেকদিন সময় নিয়ে নেবে। সো, এখন ঠিক করেছি যে মূল লেখাটা পাঠাই, সেটা সম্পাদক পড়তে থাকুক, আর আমিও এর মধ্যে নিজের মতো করে ফুটনোটগুলো বসাতে থাকি।

আজকে সারাদিন লালামের বাসাতেই ছিলাম। প্রথমে চিন্তা ছিলো যে বিকালে গ্রুপের দিকে যাবো। কিন্তু পরে ভেবে দেখলাম যে গ্রুপে গিয়ে আজকে তো আর তেমন কোনো কাজ হবে না। কে আসবে না আসবে তারও ঠিক নাই। যাওয়ার একমাত্র উছিলা এই যে ফুয়াদের কাছে আমার কিছু টাকা আছে, সেগুলো নিতে হবে। তো, খালি টাকা নেয়ার জন্য ২০০/২৫০ টাকা খরচ করে কাঁটাবন পর্যন্ত যাবো, আবার সমপরিমাণ টাকা খরচ করে ফিরে আসবো – কি দরকার!কালকে-পরশু তো এমনিতেই যাবো ধানমন্ডির দিকে, আজমাইনকে পড়াতে। তখন গ্রুপে গেলে বরং পোষাবে। সেই চিন্তা করে আজকে গ্রুপে যাওয়ার প্ল্যান বাদ দিলাম। যখন সেন্ট্রাল রোড থাকতাম, তখন প্রতিদিন গ্রুপে যাওয়া পোষাতো, এখন মিরপুর থেকে এভাবে ‘যাই, দেখি কেউ আসে কি না!’ বা ‘ যাই, দেখি কি হয় গ্রুপে’ চিন্তা করে গ্রুপে যাওয়াটা আসলে বিলাসিতা! আনলেস আমি অন্য কোনো কাজে ধানমণ্ডি যাই …

যাই হোক, লালামের বাসায় গিয়ে সেই কালকের মতোই পুতুলের চোখ-মুখ আঁকলাম। আমার আঁকাআঁকির হাত চালু বলেই আমি এক ঘন্টায় প্রায় ৩০/৩৫টা পুতুলের চোখ-মুখ এঁকে ফেলতে পারছি। তাতে করে লালামের কাজ অনেকটাই আগাচ্ছে। এখনো প্রায় ১৫০টার বেশি পুতুলের চোখ-মুখ আঁকা বাকি। শেষ করতে হবে ৪ তারিখের মধ্যে। এদিকে ৪ তারিখে জাহাঙ্গীরনগর ইউনিভার্সিটিতে শো আছে প্রাচ্যনাটের। আমার যদিও এই শো-তে কোনো কাজ নাই, তারপরও দলের সাথে ঘুরতে যাওয়ার ইচ্ছা আছে। যদি সেখানে যাই, তাহলে তো আর ওইদিন পুতুলের কাজ করা হবে না। সো, কাজ শেষ করতে হবে কালকে আর পরশু’র মধ্যে। ভাবছি যে কাল্কেও সারাদিন লালামের বাসাতেই থেকে কাজ যতটুকু এগিয়ে দেয়া যায়, সেটাই করবো। গ্রুপে কালকে যদিও কিনু কাহারের থেটারের রিহার্সাল আছে, তবুও কালকের দিনটা নিজে গরজ করে কোনো সার্কেলের সাথে কাটাতে চাই না। যদি কেউ নিজে হ্যাং-আউট করার জন্য ইনভাইট করে তো সেটা একরকম, কিংবা কেউ যদি বাসায় আসতে চায়, তাও সই। কিন্তু কালকে যেহেতু এমনিতে আমার উপস্থিত থাকতেই হবে এমন কোনো কাজ প্রাচ্যনাটে নাই, তাই ওইদিকে যাবো না। এমনকি কালকে হয়তো টিউশনি-তেও যেতে হবে না। আজমাইনরা ঢাকার বাইরে যাবে বলেছিলো।ওদের আগামীকাল দুপুরবেলা রওনাই দেয়ার কথা ঢাকার বাইরে থেকে। সেক্ষেত্রে তো আর কালকে পড়ানো হবে না। সো, ধানমন্ডি যাবারও কোনো উছিলা নাই কালকে!

আজকে একটা জিনিস দেখে খুব অবাক হলাম। লালামের বাসায় যখন গেলাম, প্রমা তখন ল্যাপটপে কার্টুন দেখছে। তাও সেটা হচ্ছে বারবি গেম টাইপের কোনো একটা ভিডিও। সেখানে ‘ফ্রোজেন’ নামের অ্যানিমেশন মুভিটার যে দুই ক্যারেকটার, এলসা আর আনা, তাদের বিভিন্ন টাইপের মেক-আপ দিয়ে ‘বিউটিফুল’ বানানো হয়, এই ভিডিও!তো সেই ভিডিও-তে একমাত্র মেক-আপ শেখা ছাড়া শিক্ষনীয় আর কি আছে বুঝবার চেষ্টা করছি, এমন সময় দেখা গেলো যে একটা ভিডিও শুরু হয়েছে যেখানে এলসা’র চুল পড়ে গেছে, মাথায় ময়লার কারণে বিশ্রী দেখতে একটা ফোঁড়া হয়েছে। এখন সেই ফোঁড়ায় অয়েনমেন্ট দিয়ে, চুলের জন্য হেয়ার গ্রোথ ক্রিম দিয়ে মাথায় চুল গজানো হচ্ছে! বাচ্চাদের জন্য তৈরি করা একটা ভিডিও’র ভিজু্য্যাল কিভাবে এরকম হতে পারে সেটা আমার মাথার ওপর দিয়ে গেলো!আবার এরমধ্যেই শুরু হলো এলসা’র পায়ের লোম তুলবার জন্য ওয়াক্সিং, ময়লা পরিষ্কার করার জন্য পেডিকিওর এসব করা হচ্ছে সেই ভিডিও! আবার এলসা প্রেগ্নেন্ট, আর তখন তার আউটফিট, রূপচর্চা কেমন হবে সেই ভিডিও-ও আছে! আমি তাজ্জব হয়ে গেলাম! খালু নাকি প্রমাকে এইসব ভিডিও বের করে দিয়েছে। প্রমা রিসেন্টলি একটা বড়সড় বারবি ডল গিফট পেয়েছে। স্কুলের ফাইনাল পরীক্ষায় থার্ড হয়েছে বলে খালা-খালু কিনে দিয়েছে। সে কারণেই নিশ্চয়ই ওর বয়সসুলভ আগ্রহের জায়গা থেকে ও বারবি’র ভিডিও দেখতে চেয়েছে, আর খালুও বারবি দিয়ে সার্চ দিয়ে যেই লিঙ্ক পেয়েছে সেটাই ছেড়ে দিয়েছে! আমি শিওর, ওই ভিডিও’র ভেতরে যে এইসব ভিজ্যুয়াল থাকতে পারে সেইটা খালু নিজেও বুঝে নাই! …কারণ বাচ্চা-কাচ্চা কি দেখবে, কি পড়বে সেগুলার ব্যাপারে খালুর খুঁতখুঁতানি আরো বেশি!  কি আজব! বাচ্চাদের জন্য শিক্ষণীয় ভিডিও নাকি এইরকম হয়! এগুলা থেকে বাচ্চারা আদৌ কি শেখে? আমি পরে খালার সাথে চিল্লাপাল্লা করে ওই ভিডিও’র এই অবস্থার কথা বললাম। খালাও তাজ্জব! পরে প্রমাকে খুঁজে খুঁজে একটা অ্যানিমেশন কার্টুন বের করে দিয়ে শান্তি হলো আমার! …

আজকে সকালবেলা পুরানো ডাইরিগুলো সব বের করেছি। একটা-দুইটা এন্ট্রি পড়ছিলাম। কলেজের সময়কার একটা ডাইরি হাতে নিলাম। ওইটার লেখাগুলো পড়তে যেয়ে বেশ মজা লাগলো। যেসব টুকরা ঘটনার কথা লিখেছি, সেগুলো বেমালুম ভুলে গিয়েছি। কিন্তু ওইসময় যেভাবে এক্সপ্রেস করেছি আমার ফিলিংস-এর জায়গাটা, এখনো আমি সিমিলার ঘটনায় সেরকমই ফিল করি! … কালকে থেকে একটু একটু করে ডাইরির লেখাগুলো নিয়ে ‘ডাইরির পাতা থেকে’ সিরিজের কাজ শুরু করবো। এই সিরিজটা আমি পাব্লিশ করবো না। অন্তত এখনই না। একদমই নিজের জন্য লিখবো সিরিজটা। একেকটা ডাইরি এন্ট্রি, আর তার সাথে বর্তমাম সময়ের প্রেক্ষিতে অ্যানালাইসিস। … নিজের ব্যাপারেই আমার যে পরিমাণ গবেষণা করার এলিমেন্ট আছে, তাতে নিজেকে নিয়েই একটা থিসিস করে ফেলা যায়! … ইনফ্যাক্ট সেরকম আসলে প্রত্যেকেরই তার নিজের জন্য সত্য! সেলফ অ্যানালাইসিস ইজ দ্য বেস্ট অ্যানালাইসিস অল দ্য ওয়ে! … আর সেই অ্যানালাইসিস যদি এই দিনযাপনের মতো পাব্লিক হয়, তখন আর যাই হোক, মুখোশ পড়ে চলা যায় না! তখন একটা মানুষের ভেতর আর বাহির এক হতে হয়, না হলে আমার মতো অ্যানালিটিক কেউ যদি সেই মানুষের দিনযাপন পড়ে, তাহলে গোঁজামিলগুলো ধরে ফেলতে পারে।

দিনযাপন লিখতে শুরু করার পর আমি কখনোই মিথ্যা কিছু বলে পার পেয়ে যাবার চেষ্টা করতে পারিনি কোথাও। যা বলেছি, সত্যই বলেছি। অনুভূতি প্রকাশের ক্ষেত্রেও সত্য-ই থেকেছি। হ্যাঁ, হয়তো বা অনেক ক্ষেত্রে জাজমেন্টাল হয়েছি, অনেকক্ষেত্রে নিজের মতো করে বুঝতে গিয়ে ভুল বুঝেছি, কিন্তু তাও অন্তত ‘মুখে একরকম আর মনে আরেকরকম’ হবার সাহস করি নাই! ইদানীং পথ চলতে গিয়ে চারপাশে এরকম মানুষই বেশি দেখি, যারা সামনে হেসে কথা বলে, আর পেছনে গালি দেয়; কিংবা সামনে সমর্থন করে আর পেছনে গিয়ে নালিশ করে … আমি অন্তত সেরকম কখনো ছিলাম না, এখন আরো বেশি সচেতন থাকতে চেষ্টা করি যে কেউ যেন কোনো কথায় বা কাজে আমাকে সেরকম ভেবে না বসে! …

যাই হোক, ২০১৬’র প্রথম দিনযাপন এখানেই শেষ করছি! … রাত বারোটা বাজার আগেই আজকের দিনযাপন পাব্লিশ করতে পারছি, এতেই আমি আনন্দিত! …

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s