দিনযাপন । ৩১১২২০১৫

আলসেমি, ক্লান্তি ইত্যাদি বিবিধ মিলিয়ে দুই দিন দিনযাপন লিখতে বসা হলো না। এদিকে, গতকালকে দিনযাপন লিখতে গিয়ে দেখি যে কিউবি’র নেটোয়ার্কের আবারো মাথা খারাপ, এবং ফেসবুকই চলছে ঢিমা তালে, ওয়ার্ডপ্রেস তো খুলছেই না! সো কাল্কেও লেখা হলো না। আজকেও কিউবি’র নেটোয়ার্কের মাথা খারাপ। এই লেখার পোস্ট দেবো মোবাইলের হটস্পট অন করে।

যাই হোক, আজকে ৩১ ডিসেম্বর! ২০১৫ সালের শেষ দিন। অলরেডি রাত ১১টা বাজে, আর এই লেখা শেষ করে পোস্ট করতে করতে নিশ্চয়ই ১২টা পার হয়ে যাবে। কিন্তু, ভাবতে অবাকই লাগছে যে ২০১৫ সালটা মনে হয় একটু বেশিই দ্রুত শেষ হয়ে গেলো! গত বছরের ৩১ ডিসেম্বরের স্মৃতিই তো এখনো টাটকা, আবার বছর ঘুরে আরেকটা ৩১ ডিসেম্বর চলে এলো! কি আজিব! গত বছর শেষের দিকে এসে মনে হচ্ছিলো যে বছরটা যেন শেষই হচ্ছে না! আর এবার না চাইতেই চোখের পলকে বছর শেষ!

এমনিতে এইসব ৩১ ডিসেম্বর, ১ জানুয়ারি নিয়ে আমার যে খুব আহ্লাদিপনা আছে তা না। বছরের শেষ দিন হিসেবে যতটুকু ‘কি ছিঁড়লাম’ আর ‘কি ফেললাম’ ভাবনা আসে সেটুকু নিয়েই ভাবি। স্কুলে পড়ার বয়সটায় অবশ্য ২৯/৩০ তারিখের দিকেই ‘ আগামী বছর কি করবো’ বিষয়ক বিশাল লম্বা লিস্ট বানিয়ে ফেলতাম, আর বছর শেষে দেখা যেতো আসলে ওগুলার কোনোটাই করা হয় নাই। সেজন্য পরে ওইসব নিউ ইয়ার্স রেজুলেশন হাবিজাবি বানানোও বাদ দিয়েছি।এখন ওই ৩১ ডিসেম্বর দিনের শেষে এসেই আসলে সারা বছরের ভাবনা-চিন্তা শুরু হয়! অ্যাপার্ট ফ্রম দ্যাট, নিউ ইয়ার সেলিব্রেশন নিয়ে আমার তেমন উচ্ছ্বাস নাই। এমনিতে বন্ধু-স্থানীয় সার্কেলগুলার কোনো প্ল্যান – প্রোগ্রাম হলে জয়েন করা হয়। অবশ্য সেগুলাও তো এখন মদ-টদ খাওয়ার পার্টি-ই হয়। মদ খাওয়া নিয়ে আমার সমস্যা নাই। এমন তো না যে আমাকেও সবার সাথে তাল মিলিয়ে মদ খাওয়াই লাগবে। ইচ্ছা হলে খাবো, নইলে না। কিন্তু ৩১ ডিসেম্বর রাতে কেবল ঘরে বসে আড্ডাবাজি করবো আর মদ-টদ খাবো এইটা আমার কাছে অতটা ইনটেরেস্টিং না, যতটা না ৩১ ডিসেম্বর সারারাত স্ট্রিট-পার্টি হবে, রাস্তায় রাস্তায় ঘুরবো, ফিরবো, রাত ১২টা বাজলেই ধুন্ধুমার আতশবাজি ফুটবে এইরকম ফেস্টিভিটি আমার কাছে ইন্টেরেস্টিং! ছোটোবেলায় যখন বিবিসি-সিএনএন এইসব চ্যানেলে আমেরিকা-ইংল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়া এসব দেশের নিউ ইয়ার সেলিব্রেশনের ছবি/ভিডিও এসব দেখতাম, তখন কি মজা লাগতো! মনে হতো, জীবনে একবার হলেও এরকম একটা দেশে গিয়ে থার্টি ফার্স্ট নাইট –এ থাকতে চাই যেখানে হাঁ করে তাকিয়ে থেকে আতশবাজি দেখবো! এই যে একটু আগেও অস্ট্রেলিয়ার সিডনি-তে ১২টা বাজবার সাথে সাথে কি অসাম টাইপের আতশবাজির ভিডিও দেখছিলাম। আমাদের দেশে তো ওরকম হয় না। ঐ কালচারটাও নাই। সেরকম যদি হয়ও সেটা শেষ পর্যন্ত ওই পহেলা বৈশাখের ঘটনার মতোই হতো! আজকেই তো যেমন সরকারিভাবে নোটিশ জারি করে দিয়েছে যে সন্ধ্যার পরে মানুষজন রাস্তায় থাকতে পারবে না ইত্যাদি ইত্যাদি!

এ যাবৎকালে আমার সবচেয়ে অসাম নিউ ইয়ার্স ইভ কেটেছে ২০১৪ সালে! মানে, ২০১৩ শেষ হয়ে ২০১৪ সাল আসলো। তখন ছিলাম নেপালে। নাগরকোটে। বছরের শেষ সূর্যাস্তটা খুব ভালো করে দেখবার সুযোগ হয়নি, কারণ নাগরকোট পৌঁছাতে পৌঁছাতে আমাদের বেশ দেরি হয়ে গিয়েছিলো।কিন্তু পরদিন ভোরবেলা যেই সুন্দর সূর্যাস্ত দেখলাম, জীবনে আর কখনো সেই সুযোগটা আসবে কি না জানি না! সামনে পুরো হিমালয় রেঞ্জ, তার ওপর বছরের প্রথম সূর্যোদয়ের প্রথম আলোকপাত, আস্তে আস্তে সাদা বরফের লাইনগুলো সোনালি আভা ধারণ করা! … কি যে সুন্দর! সেই সৌন্দর্যের অপার্থিবতা আসলে লিখে বা ছবিতে প্রকাশ করা সম্ভব না! নিউ ইয়ারের সেলিব্রেশন এর চেয়ে সুন্দর আর কি হতে পারে? … আমার যদি অনেক টাকা – পয়সা থাকতো তাহলে হয়তো আমি প্রতি বছরেই বছরের শেষ দিন আর প্রথম দিন কাটাতে পাহাড়ে কিংবা সাগরে চলে যেতাম, নয়তো নতুন বছরের প্রথম প্রহরে ঝাঁকে ঝাঁকে আতশবাজি ফুটে এরকম কোনো দেশে!

গত বছরের থার্টি ফার্স্ট কেটেছিলো প্রাচ্যনাট সার্কেলের একাংশের সাথে। ফুয়াদের বাসায়। বারবিকিউ, তারপর অ্যাজ ইউজুয়াল মদ-টদ খেয়ে নতুন বছর শুরু করা। যাবো কি যাবো না করতে করতে শেষে গিয়েছিলাম। অনেকটা জিদ করেই। শারীরিক কিংবা মানসিকভাবে নিউ ইয়ার সেলিব্রেশনের কোনো মুডে আমি তখন ছিলাম না। বাসায় থেকে ‘বছরটা কত বাজে গেলো’ ভেবে দুঃখ করে কিংবা আবেগতাড়িত হয়ে সোহেলের সাথে ঝগড়া করে কাটাতে চাইনি বলেই একেবারে শেষ মুহুর্তের সিদ্ধান্তে ওখানে যাওয়া। অনেকগুলা মানুষের সংস্পর্শে থাকলে অন্তত নিজেকে ভুলে থাকা যাবে, অইটাই ভাবনা ছিলো। তবে, মজাও হয়েছিলো বেশ। আমি কতটুকু মজা নিয়ে এঞ্জয় করতে পেরেছিলাম জানি না, তবে পার্টি-টা ভালোই ছিলো। প্রচণ্ড কষ্টের মধ্যে নিজেকে ভুলে থাকা গেলে যে কোনো জায়গাই ভালো লাগে!

যাই হোক, আজকের দিনের কথা বলি। গতকালকে রাতে একে তো কথা নাই বার্তা নাই কেমন একটা বুকে ব্যথা শুরু হলো, তারওপর প্রচণ্ড মশার যন্ত্রণা! ঘুমাতেই পারলাম না কোনোভাবে। বিভিন্নভাবে চিৎ-কাত হয়ে শুয়ে, ভেতরে ব্রা খুলে ফেলে বুকের ব্যথায় যাও বা একটু আরাম পাওয়া গেলো, ঘুমে চোখ লাগতে না লাগতেই কানের কাছে মশার এমন ভোঁ-সঙ্গীত শুরু হলো যে ঘুমানোই দায় হয়ে পড়লো। এদিকে গতকালকে কি কারণে জানি প্রচণ্ড গরমও ছিলো! অন্যদিন মাথায় টুপি দিয়ে গায়ে দুই লেয়ারের কাথা-কম্বল দিয়ে ঘুমাই। আর কালকে টুপি তো দূরের কথা, কম্বল ফেলে দিয়ে খালি কাথা গায়ে দিয়ে শুতে হলো! গরমের কারণেই মশারা কালকে অমন সুযোগ পেলো কি না কে জানে! তো যাই হোক, রাতে ঘুম না হবার ফলাফল হলো এই যে ভোরবেলা ৬টার দিকে আলো ফুটবার পর যখন মশার দাপট কমলো, তখন যোগ হলো মাথা ব্যথা! বিছানা থেকেই মাথা তুলতে পারছি না টাইপ মাথা ব্যথা। এদিকে ট্র্যাজেডি পলাশবাড়ির ব্রশিয়ার সংক্রান্ত কিছু কাগজপত্র নিয়ে  ১০টার দিকে ধানমণ্ডিতে একটা অফিসে যাওয়ার কথা। মেইনলি টুটুলের যাওয়ার কথা, যেহেতু পাভেল ভাই আমার ওপর দায়িত্বটা দিয়েছিলেন, আর আমার এমনিতেও ১১টার দিকে আজমাইনকে পড়াতে যাবার কথা, তো আমিও সাথে যাবো বলে রেখেছিলাম। কিন্তু এই মাথা ব্যথা নিয়ে ঐ ৯টা সময় উঠে রেডি হয়ে বের হতে তো ইচ্ছাই করলো না। টুটুলকে প্রথমে জানালাম যে আমি যাবো না, তার কিছুক্ষণ পর আজমাইন-কেও পড়াতে যাবো না বলে দিলাম। তারপর হাত-মুখ ধুয়ে অল্প নাস্তা করে আবার কতক্ষণ পর ঘুমিয়ে সেই ১টা সময় উঠলাম। যদি বিবিসি-র অফিসে যাওয়ার তাগিদ না থাকতো, তাহলে তো বোধহয় উঠতামই না! আড়াইটার দিকে বের হয়ে গুলশানে আরলা ফুডের অফিস হয়ে তারপর বিবিসি গিয়ে দুইটা ইনভয়েস সাইন করে কোনদিকে যাবো ভাবতে গিয়ে মনে হলো যে আজকে যদি গ্রুপে যাই, তাহলে ফেরার বিষয়টা ব্যাপক পেইন হয়ে যাবে। এমনিতেও গ্রুপে কোনো কাজ নাই আজকে, আর কেউ আসবে বলেও মনে হয় না। সো, গ্রুপে যাওয়ার চিন্তাই বাদ দিলাম। বিবিসি থেকে বের হয়ে কলাম্বাস কফি-তে গিয়ে এক কাপ ক্যাফে মোকা আর একটা ব্রাউনি খেয়ে ‘একদম নিজের মতো’ করে বছরের এন্ডিং-টাকে সেলিব্রেট করে তারপর লালামের বাসায় চলে গেলাম। লালাম প্রায় সাড়ে সাত শ’ পুতুল বানানোর একটা কি প্রজেক্ট পেয়েছে, দিনরাত এখন খালি পুতুলই বানাচ্ছে। আমাকে গতকালকে ফোন করেছিলো যে পারলে যেন বাসায় গিয়ে পুতুলের চোখ-মুখগুলা এঁকে দেই। আগামীকালকে যাবো বলেছিলাম। ভাবলাম যে সুযোগ আছে যখন আজকেই গিয়ে একটু ঘুরে আসি। প্রমার সাথেও তো একটু সময় কাটবে। তো লালামের বাসায় থেকে কতক্ষণ প্রমার সাথে খেলে, কতক্ষণ আঁকাআঁকি করে তারপর সাড়ে দশটার দিকে বাসায় ফিরলাম।

রাস্তায় পথ চলতে চলতে হুট-হাট কত যে মজার মজার ইন্টারঅ্যাকশন হয়! আজকেই যেমন এক বনানীতেই দুইটা মনে রাখার মতো ইন্টারঅ্যাকশন হলো! বিবিসি থেকে বের হলাম খেয়া আপু, নাওমি আর অ্যাথেনা আপুর সাথে। কিছুদূর সামনে হাঁটার পর ওরা একদিকে চলে গেলো, আর আমি সোজা কলাম্বাস ক্যাফের দিকে আগালাম। তো, কলাম্বাস ক্যাফে যেই মোড়টায়, সেখানকার ফুটপাথ পুরোপুরি সিমেন্ট বাঁধানো না। কোনো একসময় ওই জায়গা খুড়েছিলো, তারপর বড় বড় চারকোণা স্ল্যাব দিয়ে রেখেছে এক্টার পর একটা। কিন্তু সেগুলোর প্রত্যেকটার মাঝে আবার ইঞ্চি দুয়েক ফাঁক! তো, ওইখান দিয়ে হাঁটছি, এমন সময় উলটা দিক থেকে আরেকটা মেয়ে আসছে। তার হাতে অনেক কিছু ছিলো, সেকারণেই কি না জানি না, হাত থেকে মোবাইলটা পড়ে গেলো। আর আমিও তখন যদি আরেকটা স্টেপ বেশি দিতাম, তাহলে আমার লাথিতেই মোবাইলটা ওই স্ল্যাবগুলোর মাঝখানের ফাঁকটায় পড়ে যেতো! টাইমিং-এর এই ব্যাপারটা বেশ ইন্টেরেস্টিং ছিলো। মেয়েটা দেখলাম ঘটনার ঘনঘটায় হতভম্ব হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। আমি মোবাইলটা তুলে হাতে দিয়ে বললাম, আরেকটু হলেই তো আপনার মোবাইলটা গিয়েছিলো! তারপর দু’জনেই হাসি বিনিময় করে আবার যে যার পথে হাঁটা দিলাম। কিন্তু আমি শিওর, যতদিন ওই মেয়েটার কাছে এই মোবাইলটা থাকবে, এই ঘটনা তার মনে থাকবে।আমি যেই পারস্পেক্টিভ থেকে ঘটনাটা বর্ণণা করলাম, তার পারস্পেক্টিভ নিশ্চয়ই তা হবে না। কিন্তু, এটা ঠিক যে আমরা দুইজনেই ভিন্ন পারস্পেক্টিভ থেকে হলেও এই ঘটনা মনে রাখবো বহুদিন! … এই যে আমি দিনযাপনে লিখে ফেললাম, যদি আমি ভুলেও যাই, বহুদিন পর এই দিনযাপনই আমাকে আবার মনে করিয়ে দেবে ‘এমন একটা কিছু ঘটেছিলো!’

দ্বিতীয় ঘটনাটা মিরপুরে আসার জন্য সিএঞ্জি খোঁজার সময়। কলাম্বাস ক্যাফে থেকে যখন বের হয়েছি, ততক্ষণে অলরেডি বনানী এলাকায় রেড অ্যালার্ট দিয়ে দিয়েছে যে ৬টা থেকে ৭টার মধ্যে ওই এলাকা ইভাকুয়েট করতে হবে। সেকারণেই বোধহয় সিএনজি’রও কোনো নাম-গন্ধ পেলাম না! কলাম্বাস ক্যাফে থেকে হাঁটতে হাঁটতে যখন প্রায় মোড়ের মাথায় পৌঁছে গেলাম, তখন দেখি এক সিএনজি দাঁড়ানো, কিন্তু ড্রাইভার নাই। ড্রাইভার কোথায় আশেপাশে তাকিয়ে খুঁজছি, তখন শুনি পেছন থেকে এখন মহিলা কন্ঠ বলছে, ‘ লাভ নাই! যাবে না!’ … ঘুরে তাকিয়ে দেখি বেশ বয়স্ক একজন মহিলা। খালি সিএনজি আসে কি না দেখার জন্য উনার পাশেই তখন দাঁড়ালাম। উনি তখন কথা নাই বার্তা নাই বলতে শুরু করলেন যে ‘ এই এলাকা আমার অনেক ভালো চেনা আছে … এই যে পেছনেই আমার নিজের টাকায় কেনা বাড়ী ছিলো … ২০ লাখ টাকা দিয়ে বাড়ি কিনেছিলাম আমি! … এখন কিছুই নাই! … অ্যাম্বেসি-তে চাকরি করতাম … খুব হাই প্রোফাইল চাকরি ছিলো … আমার সবকিছু চক্রান্ত করে নিয়ে গেছে সবাই … ইত্যাদি ইত্যাদি …’ … কথায় কথায় উনার বংশ পরিচয় দিলেন। বাবা খ্যাতনামা কথা সাহিত্যিক ছিলেন। উনি সেই বাবার প্রথম স্ত্রীর মেয়ে, আর দ্বিতীয় স্ত্রীর মেয়েও খ্যাতনামা অভিনেত্রী। কিন্তু সৎ বোন বলে উনাকে কখনো কোথাও সুযোগ দেননি! সঙ্গত কারণেই উনাদের কারোর নামই লিখছি না। কিন্তু মহিলার কথা বলার ভঙ্গিতে আমার বেশ মায়া লাগলো। বেচারী আসলে কি পরিমাণ ডিপ্রেসড যে রাস্তায় চিনেন না, জানেন না আমাকে দেখলেন আর উনার সব দুঃখের কথা আমাকে বলতে শুরু করলেন! তাও একেবারে সবার নাম-ধাম মেনশন করে! কতটা কষ্টে থাকলে, কিংবা ডিপ্রেশনে থাকলে মানুষ এভাবে যাকে সামনে পায় তাকেই নিজের কষ্টের কথা বলতে শুরু করে? তাও আবার কোনো প্রসঙ্গ ছাড়াই? উনার সাথে কথার ফাঁকেই আমি মিরপুরে আসবার জন্য সিএনজি পেয়ে গেলাম আর উঠে পড়লাম। উনি ধানমন্ডি যাবেন, কিন্তু ধানমণ্ডির দিকে যে জ্যাম ছিলো আজকে, কোনো সিএনজি যেতে চাইছিলো না। উনি বেশ ‘টেক কেয়ার’ ‘ভালো থেকো’ বলে বিদায় দিলেন। বেশ মায়াই লাগলো আমার মহিলার জন্য। আমিও যদি ধানমন্ডির দিকে যেতাম আজকে, তাহলে হয়তো উনার সাথে একই সিএনজি শেয়ার করে আসতে হতো, আর তখন হয়তো উনার আরো অনেক অনেক কথা শোনার সুযোগ হতো! …

আর কি লিখবো আজকে? অনেক কিছুই তো লিখে ফেললাম! ২০১৫ সালটা আমার জন্য খুবই হতাশাজনক একটা বছর ছিলো। খুশিতে ডগমগ হবার মতো, কিংবা চিরকাল স্মরণে রাখার মতো স্পেশাল তেমন কোনো ঘটনা ঘটেনি। অন্তত, সেভাবে আমার মনে দাগ কাটেনি। সেটা আমার ব্যক্তিগত হতাশাবোধ আর বিষণ্ণতার জন্যও আমার কাছে মনে হতে পারে!যাও বা কিছুটা ঘুরে দাঁড়িয়েছি, মেরুদন্ড সোজা করে দাঁড়াতে পারছি টাইপ অনুভূতি ফিরে আসতে শুরু করছিলো, সেটাও এক মুহুর্তের মধ্যে ধুলিসাৎ হয়ে গেলো ল্যাপটপ চুরি হবার সাথে সাথে! এখন আমার সামগ্রিক হতাশাবোধ এতই বেশি যে জীবন নিয়ে প্রচণ্ড আনন্দিত বোধ করার জন্য অনেক বড় একটা কিছু ঘটা লাগবে। একেবারে জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়ার মতো একটা কিছু!

২০১৬ সালে সেরকম কিছু ঘটবে কি না জানি না! …

সামনের দিনগুলো ক্যামন যায় দেখা যাক! … ভালো না এখনকার চাইতেও আরো অনেক খারাপ! …

এখন আর কিছু নিয়েই ভাবতে ভালো লাগে না! … খুবই যন্ত্রণাদায়ক মনে হয় ভাবনার ব্যাপারটা! … বরং, দেখি না কি হয় – এভাবেই পথ চলতে ভালো লাগে! … অনুভূতিহীন, আকাঙ্ক্ষাহীন পথ চলা! …

যাই হোক, ২০১৫ সালের শেষ দিনযাপন এখানেই শেষ করছি …

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s