দিনযাপন । ০২০১২০১৬

১৯৮৬ থেকে ২০১৬ … ৩০টা বছর পার করে ফেললাম! … ৩০ বছর হয়ে গেছে মানে তো একরকম বুড়াদের দলেই পড়ে গেছি! … আগে তো এরকমই ভাবতাম! … কারো বয়স ৩০ বছর এর ওপরে মানে না জানি সে কত বয়স্ক! … আর এখন ভাবি, জীবন তো শুরুই হলো ২৫ বছরের পর! ৩০ বছর আর এমন কি!

২ জানুয়ারিতে জন্মদিন হয়ে আমার একদিক থেকে খুব সুবিধা হয়েছে। বছর শুরু হতে না হতেই বয়সের হিসেবটাও হয়ে যায়! একেকটা বছর শুরু হয়, আর সেই সাথে আমার বয়সটাও এক দাগ করে বেড়ে যায়। ১ জানুয়ারিতে জন্ম হলে হিসেবটা আরও সহজ হতো!একটা এক্সট্রা দিনের হিসাব আর রাখতে হতো না!

ছোটোবেলায় এই ২ জানুয়রিতে জন্মদিন নিয়ে আমার বেশ খারাপ লাগা ছিলো। সবসময়ই এই সময়টা স্কুল বন্ধ থাকতো, আর যখন স্কুল খুলতো ততদিনে ক্লাসমেট-দেরকে নিজের জন্মদিনের কথা বলা, কিংবা জন্মদিন-এর জন্য সবাইকে চকোলেট খাওয়ানোর আর আমেজ থাকতো না। ক্লাস এইট/নাইন-এ উঠবার পর থেকে আস্তে আস্তে কিছু ক্লাসমেট ভালো বন্ধু হয়েছে, তারা তখন মনে রেখেছে জন্মদিনের কথা, স্কুল খুলতে না খুলতেই না কার্ড দিয়েছে, গিফট দিয়েছে। ওই বয়সটায় তো ঐটাই জন্মদিনের মজা ছিলো। যাদের জন্মদিন স্কুল ডে-তে পড়তো তাদেরকে তখন আমার অনেক হিংসা হতো! জন্মদিনের দিন স্কুলে এসেছে, ক্লাস করছে, সবাই জানছে আজকে তার জন্মদিন, সবাই ‘হ্যাপি বার্থ ডে’ গান গেয়ে উইশ করছে – মনে হতো কি স্পেশাল একটা দিন কাটাচ্ছে মেয়েটা, আর আমার জন্মদিনে আমি ঘোড়ার ডিমের উইন্টার ভ্যাকেশনে বাসায় বসে থাকি, আর বাসাতেও ছাই কোনো কেক-টেক কেটে, লোকজন দাওয়াত দিয়ে পার্টিও তো হয় না!

একটা সময় জন্মদিন নিয়ে আমার এরকম একটা ফ্যান্টাসি ছিলো যে  “আহারে! কখনো যদি জন্মদিনের প্রথম প্রহরে ঠিক রাত বারোটায় কোনো একটা বন্ধু-বান্ধব সার্কেল কেক-টেক নিয়ে বাসায় সারপ্রাইজ ভিজিট দিতো!”… ঐ চিন্তা পর্যন্তই! কখনো এক্সপেক্ট করিনি যে এরকমটা হোক কিংবা হবে। কারণ, সামহাও, আমি কখনো খুব ‘জানি দোস্ত’ টাইপের ফ্রেন্ডশিপ কারো সাথে মেইন্টেইন করতে পারিনি। বলা উচিৎ যে কখনো করি নাই বা করা হয়ে ওঠে নাই …

[সেটার পেছনে একটা বড় কারণ আমার ‘পিছুটান না রেখে চলা’র জীবনদর্শন। বন্ধুত্বের সম্পর্কের ক্ষেত্রে যতটা সম্ভব পিছুটান না রেখে চলার চেষ্টা করি বলেই হয়তো তথাকথিত ‘ফ্রেন্ড সার্কেল’ বা ‘বেস্ট ফ্রেন্ড’ কেউ কখনো হয় নাই। এই কাজটা আমি খুব সচেতনভাবেই করেছি বলে আমার এটা নিয়ে কোনো প্রকার হা-হুতাশও নাই। যাদের সাথেই আমার বন্ধুসুলভ সম্পর্ক হয়, তারা তাদের যতটুকু সময় পর্যন্ত স্বার্থে আঘাত না লাগে, ততটুকু সময় পর্যন্ত আমাকে তাদের দলে রাখে, আর আমিও আমার স্বভাবসুলভতায় তাদের যে কোনো প্রয়োজনে যেভাবে সাহায্য করতে পারি, বিনা বাক্য ব্যয়ে সাহায্য করে যাই। তারপর তারাই একসময় চিন্তা করে যে আমাকে দলে রাখলে তাদেরই ক্ষতি, তখন তারা আমাকে বুঝিয়ে দেয় যে ‘দূরে গিয়ে মরো’, আর আমিও কোনোরকম ঝামেলায় না গিয়ে ‘ওক্কে, ফাইন’ বলে হাসি দিয়ে চলে আসি। কারণ এইটুকু আত্মবিশ্বাস আমার আছে যে এই আমি ‘প্রজ্ঞা’ ইনডিড একজন ‘ফ্রেন্ড ইন নিড’ ! সো, পৃথিবীর যে কোনো প্রান্তে যে-ই আমাকে একবার হলেও বন্ধু বলেছে, তার সাথে বছরের পর বছর যোগাযোগ না থাকলেও একদিন এসে যদি হেল্প চায়, আমার সাধ্য অনুযায়ী যতটুকু সম্ভব হয়, ততটুকু হেল্প সে পাবেই!]

যাই হোক, কোন প্রসঙ্গ থেকে কোথায় চলে গেলাম! জন্মদিনের ফ্যান্টাসির কথা বলছিলাম … এই যে জন্মদিনের দিন সারপ্রাইজ ভিজিটের ফ্যান্টাসি, এইটা অনেকদিন পর্যন্ত ছিলো … তারপর আস্তে আস্তে চলে গেছে। এখন জন্মদিন আসে, চলে যায় …১ তারিখ শেষ হয়ে রাত বারোটা বাজলেই মা এসে হাসি হাসি মুখ নিয়ে ‘শুভ জন্মদিন’ বলে, আব্বু ৫০০/১০০০ টাকা ধরিয়ে দেয় হাতে … আর আমি মনে মনে বলি, ‘ও ! জন্মদিন! কত জানি হলো বয়স? ও আচ্ছা! এত!’ … আগে যেমন জন্মদিনে কারো সাথে দেখা হয় না, জন্মদিনের সেলিব্রেশন হয় না বলে মন খারাপ করতাম, এখন উলটা জন্মদিনে ঘরে বসে থাকতেই ভালো লাগে! ‘ইয়েঈঈঈঈ আজকে আমার জন্মদিন’ টাইপ ফিলিংস এখন আর হয় না! বুড়া হয়ে যাচ্ছি বলেই হয়তো জন্মদিন নিয়ে এখন আর কোনো এক্সাইটমেন্ট নাই!

তারপরও আমার বিগত কয়েক বছরের জন্মদিনের গল্পগুলো বেশ ইন্টেরেস্টিং, অন্তত ঘটনার বহুলতায় সিগ্নিফিকেন্ট। এই যেমন গত বছরের জন্মদিন আমার জীবনের সবচেয়ে মেজাজ খারাপ করা জন্মদিন ছিলো! মেজাজ খারাপ করার কারণ যথারীতিই আর কেউ না, দিনযাপনের কুখ্যাত ‘সোহেল’ … কেন মেজাজ খারাপ হয়েছিলো সেই ঘটনা বলবার আগে আমার সরল-সোজা একটা যুক্তির কথা বলি ! ধরা যাক, আমি কারো কাছে আমার জন্মদিনের মোটামুটি ৫/৬ আগেই খুব দামি একটা গিফট চাইলাম! তারপর জন্মদিন আসার আগেই ওই ৫/৬ মাস যাবৎ মোটামুটি ওই ব্যক্তির কাছে নিয়মিত খোঁজখবর নিতে থাকলাম যে গিফট-টা পাওয়া গেছে কি না, কেনা হয়েছে কি না, কবে পাবো ইত্যাদি ইত্যাদি! মোটামুটি গিফট যে দেবে তার কানের ময়লা বের করে ফেলার অবস্থা! তো সেই গিফট আমি পেলাম। আবার আমার জন্মদিনে তার কাছ থেকেই দামী রেস্টুরেন্টে ট্রিট নিলাম! এখন, এই যে এত প্যানা দিয়ে, নিজের গরজে আবদার করে আমি একটা গিফট একজনের কাছ থেকে নিয়েছি, তার কাছ থেকে ট্রিট নিয়েছি,তাকে আমি সমমানের কিছু দিতে পারি বা না পারি, অন্তত এইটা তো জেনে রাখবো যে তার জন্মদিন কবে, আর তারপর তার জন্মদিনে তাকে উইশ করবো, যা-ই পারি একটা কিছু গিফট দেয়ার চেষ্টা করবো! – এইটা আমার সহজ-সরল যুক্তি! এখন, সোহেল ওর জন্মদিনে অত দামী একটা ঘড়ি নিজে চেয়ে-চিন্তে উপহার নিয়েছে, আর ও যদি জন্মদিনের দিন বিকাল ৪টা সময় ফোন করে খুব ক্যাজুয়ালি বলে যে ‘ ফেসবুকে মাত্র বসে দেখলাম তোমার আজকে জন্মদিন, হ্যাপি বার্থ ডে!’ তখন যে অনুভূতিটা হয়, সেটাকে ঠিক রাগ বলা যায় না! সেটা আসলে নিজের গালেই জুতার বাড়ি খাওয়ার মতো একটা অনুভূতি হয়! প্রচণ্ড অপমানিত বোধ করেছিলাম সেদিন। মুখের ওপর বলে দিয়েছিলাম, ‘তোমার ওই বালের উইশ আমার দরকার নাই!’ … ও আমাকে পালটা যুক্তি দিচ্ছিলো যে ওকে ওর মেস-এর রুমমেট কোনো একটা কিছু চুরির জন্য সন্দেহ করছে, ওকে চোর বলেছে দেখে ওর গায়ে লেগেছে, তাই সে সারারাত বাসার নিচে রাস্তায় বসে ছিলো, সারাদিন ধরে সে বাসা খুঁজছে, সন্ধ্যায়ও বাসা খুঁজবে, তার এই অবস্থা নিয়ে আমার কোনো চিন্তা নাই, আমি আছি আমার জন্মদিন ও কেন জানেনা সেটা নিয়ে! ও নাকি কারো জন্মদিন মনে রাখে না ইত্যাদি ইত্যাদি! আমার খুব হাস্যকর লেগেছিলো, কারণ এই সোহেল-ই আমাকে তার বেশ কয়েকমাস আগে অনলাইনে একটা পেনডান্ট দেখিয়ে জিজ্ঞেস করেছিলো যে ‘ একজনের বার্থ ডে-তে দেবো সামনের মাসে, কেমন হবে?’ … সো, ও যদি বলতে চায় যে কারো জন্মদিন মনে রাখার ব্যাপারে ওর গরজ নাই, সেই যুক্তি তো অন্তত আমি মানবো না! যাই হোক, গতবছর আবার ট্র্যাজেডি পলাশবাড়ির রিহার্সাল ছিলো ওইদিন। ফলে, মন-মেজাজ প্রচণ্ড খারাপ থাকার পরেও গিয়েছিলাম গ্রুপে। নোবেল ভাইরা আবার ‘ট্র্যাজেডি পলাশবাড়ি’ টিম-এর পক্ষ থেকে এই মর্মে কেক-টেক এনে বেশ হই-হুল্লোড় করে আমার জন্মদিন পালন করেছিলো!পাভেল মঞ্জুর ভাই আর অভিক ভাই মিলে আবার বেশ গিফট র‍্যাপার দিয়ে মুড়ে-টুরে চকোলেট নিয়ে এসেছিলো। গতবছরের প্রচণ্ড মন খারাপের একটা জন্মদিনের মধ্যে হাসি হাসি মুখে ওইটুকু সময় কেটেছে, ওইটুকুই স্মৃতি …

এর আগের বছর, মানে ২০১৪’র জন্মদিন কেটেছে নেপালে … পোখারাতে … সকালে সাইট সিয়িং করতে করতে কথায় কথায় বলেছিলাম যে ‘আজকে আমার জন্মদিন’ … সন্ধ্যায় আমার অজান্তেই প্ল্যানিং-ট্যানিং হয়ে গেলো, হোটেলে ফেরার পর দেখা গেলো শশাঙ্ক দা কোথা থেকে কেক নিয়ে এসেছে, সেই কেক কাটা হলো … বলাই যায়, মনে রাখার মতো একটা সুন্দর জন্মদিন! …

২০১৩-তে জন্মদিনে রাহুল দা’র বাসায় ছিলাম। তখন কলিন ব্লেকির সাথে জলের গানের কোলাবরেটিভ ওয়ার্কশপ চলছিলো। মজা হয়েছিলো যে সকালে ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে রাহুল দা’দের স্টুডিও-তে গিয়েছি, ওখানে কি কথায় কথায় মনে হয় কেউ জিজ্ঞেস করেছিলো ‘ প্রজ্ঞাকে তো আজকে অন্যরকম লাগছে’ বা এইরকম কিছু … তখন রাহুল দা বলে উঠলো, ‘ আরে আজকে মেয়েটার হ্যাপি বার্থ ডে, এরকম তো লাগবেই’ … কলিন তখন তার ব্যাগ পাইপে ‘হ্যাপি বার্থ ডে’ টিউন বাজিয়ে আমাকে উইশ করেছিলো … জন্মদিনের অভিজ্ঞতা হিসেবে সেটা নতুন ছিলো …

২০১১ –এর জন্মদিনের অভিজ্ঞতা নিয়ে একটু লিখতে চাই । ওই বছর জন্মদিনে স্ট্যাটাস দিয়েছিলাম, ‘বেস্ট বার্থ ডে গিফট এভার!’, কারণ সে বছর ২ জানুয়ারিতেই একটা ফটোগ্রাফি কম্পিটিশনের রেজাল্ট দিয়েছিলো, আর সেখানে আমি ফার্স্ট হয়েছিলাম। ‘মাদার অ্যান্ড চাইল্ড’ … শুক্লা দি আর তোতা’র একটা ছবি … হুট করেই ‘আরে এই থিম এর তো ছবি আছে’ চিন্তা করে ছবি দেয়া। ফলাফল, প্রথম পুরস্কার!

[কিন্তু এই ফার্স্ট হওয়াটা আমার জন্য যতটা না আনন্দের ছিলো, তার চেয়ে অনেক বেশি বিব্রতকর ছিলো। কারণ, ওই একই কম্পিটিশনে সেকন্ড এবং থার্ড যারা হয়েছিলেন, তারা পাঠশালায় আমার সরাসরি শিক্ষক ছিলেন। ওই কম্পিটিশনে পুরস্কার ঘোষণা করার সময় উপস্থাপক এমন একটা কথা বলেছিলেন যে পুরো বিষয়টা আমার জন্য আরো বেশিরকমের বিব্রতকর হয়ে গিয়েছিলো। উপস্থাপক আমার নাম ঘোষণার আগে আমাকে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন এভাবে যে ‘ যিনি ফার্স্ট হয়েছেন, তিনি এমনকি উনার শিক্ষকদেরও বিট ডাউন করেছেন’ … এই কথা শুনে আমার মনে হচ্ছিলো মাটি দুই ভাগ হয়ে যাক, আমি ভেতরে ঢুকে যাই! … পাঠশালায় পরের আড়াইটা বছর আমি আর স্বাভাবিকভাবে উনাদের সাথে কথা বলতে পারিনাই। খালি মনে হতো, এঈ ঘটনাটা উনাদের জন্যও তো কি পরিমাণ বিব্রতকর ছিলো! উনারা একেকজন ফটোগ্রাফি জগতে স্বনামধন্য, আর আমি ছয় মাস হয়েছে পাঠশালায় পড়ছি, এই সেদিন মাত্র ক্যামেরা হাতে নিয়েছি! আমি তো ছবি সাবমিট করার সময় বিন্দুমাত্র ধারণাও করি নাই যে উনাদের মতো মানুষ এই কম্পিটিশনে ছবি দিতে পারেন! আর তার ওপর, জাজ হিসেবে যারা ছিলেন তারাও আবার এই যে দুইজন ফটোগ্রাফার, তাদেরই সরাসরি স্টুডেন্ট! কিসের মধ্যে পড়লাম সেটা অনেকদিন পর্যন্ত আমার মাথার ওপর দিয়ে গিয়েছিলো। তবে, যেটা হয়েছিলো যে আমি এরপরে আর কখনো লোকাল কোনো ফটোগ্রাফি কম্পিটিশনে ছবি দেই নাই। এমনকি ইন্টারন্যাশনাল কম্পিটিশনেও না! একমাত্র ক্যাম্বোডিয়ার সিয়াম রিপ-এর ওয়ার্কশপটার জন্য টানা ২/৩ বছর অ্যাপ্লাই করে গেছি। ওখানে অবশ্য রেফারেন্স ছাড়া কাউকে সিলেক্ট করা হয় না। আর আমিও কখনো কারো মাধ্যমে রেফারড হয়ে ওই ওয়ার্কশপে চান্স পেতে চাইনি, ফলে ওইখানে চান্স পাওয়াও হয়নি। ক্যাম্বোডিয়ার ওই ফটো ফেস্টিভ্যাল-টায় যাওয়ার আমার এক্টাই লোভের জায়গা ছিলো এই যে ওয়ার্কশপের উছিলায় মোটামুটি অর্ধেক খরচে ক্যাম্বোডিয়ার মতো একটা দেশ আমার ঘোরা হয়ে যেতো!]

যাই হোক, আরেকবার, ২০০৮ সালেই বোধহয়, জন্মদিনে সারাদিন কাটিয়েছিলাম জাহাঙ্গীরনগর ইউনিভার্সিটিতে, অনিক-এর সাথে সময় কাটাবো – এই উছিলায়। সন্ধ্যায় বাসায় ফিরে মা’র সাথে খুব ঝগড়া হয়েছিলো। প্রথমত, আমাকে জিজ্ঞেস না করেই ঘরের কিছু জিনিস এদিক-সেদিক করে গুছিয়েছিলো। এই জিনিসটা নিয়ে আমি প্রচণ্ড সেনসিটিভ, তাই ঘরে ঢুকেই এই অবস্থা দেখে পায়ের রক্ত মাথায় উঠে গিয়েছিলো। দ্বিতীয়ত, ওইদিন আমার পিরিয়ড শুরু হয়েছিলো, কিন্তু দেখা গেলো একটা এক্সট্রা প্যান্টিও শুকনা নাই। সব প্যান্টি কেন একদিনে ধুতে হবে, এই নিয়ে আরো মেজাজ খারাপ হয়ে গেলো। কতক্ষণ পাশের ঘরে বসে নিজের মধ্যেই রাগে গজরাচ্ছিলাম। তারপর হঠাৎ মনে হলো এই বাসায় আর থাকবো না, ব্যস! জামাকাপড় পরে রেডি হয়ে সোজা বাসা থেকে বের হয়ে গেলাম। মা ভেবেছিলো আমি হয়তো দোকানে যাচ্ছি প্যান্টি কিনবো বলে। কিন্তু সেটা তো আমি আসলে যাই নাই। বের হয়ে কোথায় যাবো চিন্তা করে মুহুর্তের সিদ্ধান্তে সাইন্স ল্যাব থেকে সাভারের বাসে উঠে জাহাঙ্গীরনগরে চলে গেলাম আবার! ওখানে কোথায় থাকবো, কি করবো কিছুই কিন্তু মাথায় কাজ করছিলো না! জাহাঙ্গীরনগরে পৌঁছে অনিক-কে ফোন দিলাম। ও প্রথমে ভেবেছে ফাজলামি করছি, তারপর ভেবেছে বন্ধুবান্ধব-এর সাথে গিয়েছি। কিন্তু পরে যখন জানলো একাই গিয়েছি, তখন আর কি বলবে? বললো মেয়েদের হলে কারো সাথে রাখবে সেরকম কেউ নাই। ওখানে আমি থাকতে পারবো না! ততক্ষণে বাসা থেকেও ফোন করে খোঁজাখুঁজি শুরু হয়ে গেছে যে আমি কোথায়! অমিত ফোন করে বলছে ‘মা চিৎকার করে কাঁদতেসে, তুই বাসায় আয়!’ এদিকে আব্বু তখন ঢাকায় নাই, আব্বু তো আর জানে না যে আমি বাসা থেকে বের হয়ে গেছি! আমাকে উইশ করার জন্য ফোন করেছে, আর আমি ভাবছি নিশ্চয়ই মা বলেছে আমি বাসা থেকে রাগ করে বের হয়ে গেছি, আর আব্বু এখন সেজন্য ঝাড়ি-টারি দেবে বলে ফোন দিয়েছে। আমি তখন ভয়ের চোটে ফোনই ধরি না! তারপর গেটের সামনে থেকেই আবার বের হয়ে বাসে করে গাবতলী, তারপর গাবতলী থেকে সিএঞ্জি-তে রাত ১২টার দিকে বাসায় পৌঁছে দিয়ে গিয়েছিলো অনিক! একটা জন্মদিন গিয়েছিলো বটে!

জন্মদিন সমাচার তো অনেক লিখে ফেললাম। গত কয়েক বছরের প্রেক্ষিতে আজকের জন্মদিনটা সেই হিসেবে বেশ সাদামাটাভাবে কাটিয়েছি।সকালে ঘুম থেকে উঠে যথারীতি টিয়ামের বাসায় চলে গেলাম। লালামের পুতুলের চোখ-মুখ আঁকার জন্য। দুপুরে টিয়াম আবার ওদের বাসার কাছেই একটা চাইনিজ রেস্টুরেন্টে নিয়ে খাওয়ালো। প্রমার সাথে মজা করছিলাম যে ‘প্রতি বছর তোমার জন্মদিনে আমি কেক কিনে আনি! আজকে আমার জন্মদিন! কই? আমার কেক কই? আমি কিন্তু এখন আমার জন্য কেক আনলো না বলে কাঁদতে শুরু করবো’ … ও বলার চেষ্টা করলো যে ‘চাইনিজ খেতে যাবো তো! কেকের বদলে চাইনিজ!’ … আমি আবার পালটা মজা করছিলাম যে ‘কেক ছাড়া আবার জন্মদিন হয় নাকি?’ … ও তখন ঘরে একটা প্লেন কেকের প্যাকেট ছিলো, ঐটা নিয়ে এসে হাতে ধরিয়ে দিলো! বিকালে চা খাওয়ার সময় আবার ওইটাই ছুড়ি দিয়ে কাটিয়ে ‘হ্যাপি বার্থ ডে’ গান শুনিয়ে সে আমার জন্মদিনের কেক সংক্রান্ত দায়িত্ব পালন করলো! তারপরেই তার দাবি, ‘কেক খাওয়াইসি, এখন কার্টুন এঁকে দাও!’ … এদিকে লালামের পুতুলের কাজ-ই তো শেষ হয় না। আমিও একটানা ঘন্টাখানেকের বেশি কাজ করতে পারি না। পিঠ-কোমর ব্যথা হয়ে যায় উবু হয়ে ছবি আঁকতে আঁকতে। কালকের মধ্যে যতগুলো পারা যায় পুতুল এঁকে শেষ করতে হবে সকালবেলা। দুপুরে তো আবার টিউশনি আছে। সন্ধ্যায় গ্রুপের দিকেও যাবো।… আজকে ইচ্ছা করেই যাইনি … জন্মদিনে কাজ নাই, কাম নাই এমনি এমনি গ্রুপে গিয়ে পরে নিজেরই অস্বস্তি হতো যে কই এসে পড়লাম!

যাই হোক, অনেক বড় একটা লেখা লিখে ফেলেছি আজকে। টায়ার্ড লাগছে এখন। পড়তে পড়তে পাঠকও নিশ্চয়ই টায়ার্ড হয়ে যাবে!সো, আজকে আর না লিখি … কালকে থেকে আবারো কর্মব্যস্ত, মিরপুর-ঢাকা-মিরপুর দিনযাপন শুরু হতে যাচ্ছে … সেই দুঃখে আজকে তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পড়বো …

Advertisements

One response to “দিনযাপন । ০২০১২০১৬

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s