দিনযাপন । ০৭০১২০১৬

গত দুইটা দিন টিয়ামের বাসায় আস্তানা গেড়েই ছিলাম বলতে গেলে … পুতুলের চোখ-মুখ আঁকার কাজ শেষ করে, যাবতীয় পুতুল-ফুল-আরো হাবিজাবি সবকিছু প্যাকিং করে পাঠিয়ে দিয়ে অতঃপর গতকালকে দুপুরে মোটামুটি একটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলা গেল। যদিও ‘শেষ হয়েও শেষ হয়নাই’ আসলে… কিছু ফিনিশিং-এর কাজ বাকি ছিলো, ওই প্রডাক্টগুলো আবার ১২ তারিখের দিকে পাঠাবে। তবে ওখানে আমার না থাকলেও চলবে। কয়েকটা পুতুলের জামা-কাপড় পড়ানোর কাজ। ওইগুলা লালাম নিজেই করে নিতে পারবে।

কি যে অবস্থা গেছে শেষ দুই/তিনটা দিন … কালকে দুপুরের দিকে মনে হচ্ছিলো যেন কোমর আর কোমরের জায়গায় নাই! প্রমাকে বললাম কিছুক্ষণ কোমরের ওপর বসে থাকতে। তাতে করে কোমরে একটু চাপ পড়লে ভালো লাগবে। কোমর টিপে দেয়ার শক্তি তো আর ওর নাই। তাই ওর শরীরের ওজন আমার ওপর ভর দিলেই আরাম হয়। কালকে ক্লান্তির চোটে আর বাসায় ফিরিনাই … বাসায় ফিরে আসার জন্য যে টুকটাক প্রিপেরেশান নিতে হবে, সেটারই এনার্জি পাচ্ছিলাম না। দুপুরে ১টার দিকে তো লালামের কাজ শেষ হলো। তারপর বসলাম বিবিসি’র কাজ নিয়ে। অইটা ১২টার মধ্যে দেয়ার কথা। তখন পর্যন্ত তো পুতুলের কাজই শেষ করতে পারি নাই! কি সিচুয়েশনে আছি অত কিছু তো আর বোঝাতে পারতাম না। বাসায় ঝামেলা আছে, কাজ নিয়ে বসতে পারছি না, এই মর্মে একটা মেসেজ পাঠিয়ে কিছুটা সময় নিলাম। তো দুপুরে ২ টার দিকে টিয়াম-দের ল্যাপটপে বসেই কাজ শুরু করলাম। এমনিতেই আগের রাতে মাত্র ২/৩ ঘণ্টা ঘুমিয়েছি, তারমধ্যে ক্লান্তি আর মাথা ব্যথা। কাজ তো আর আগায় না ! কোনোরকমে কাজ শেষ করে ৫টার দিকে সেটা মেইল করেই সোজা টিয়ামের ঘরে গিয়ে ঘুম দিলাম! সন্ধ্যায় উঠে চা-নাস্তা খেয়ে গল্প-গুজব করতে করতে আর বাসায় ফেরার ইচ্ছা হলো না। আজকে সকালে ১০টা পর্যন্ত ঘুমিয়ে তারপর অনেকটা  ক্লান্তি দূর  হলো। আজকে আবার হরতাল ছিলো সারাদিন। তাই সকালে টিউশনি-তে যাওয়ার কথা থাকলেও ফোন করে বিকালে যাওয়ার জন্য প্ল্যান করে নিলাম। ১২টার দিকে বাসায় ফিরে কিছুক্ষণ ঘরের টুকটাক জিনিসপত্র গুছিয়ে, গোসল করে, খেয়ে বের হলাম আবার। বিকালে টিউশনি করিয়ে গ্রুপ হয়ে তারপর বাসায় ফিরলাম এই পৌনে বারোটার দিকে … আজকে বিকালে সোবহানবাগ যাওয়ার সময় ভাব্লাম যে হরতালে হয়তো রাস্তা ফাঁকা থাকবে, তাড়াতাড়ি চলে যেতে পারবো। কিসের কি! প্রচণ্ড জ্যাম -এ পড়ে গেলাম কাজিপাড়া পর্যন্ত! আর ফেরার সময় ভাবলাম যে দেরি হয়ে গেছে, আবার জ্যামেও পড়বো , কতক্ষণ জানি লাগে! উলটা বাসায় পৌছালাম মনে হয় ১৫/২০ মিনিটে!

এখনো আমি ঘূমে প্রায় ঢলে পড়েই যাচ্ছি… গ্রুপ থেকে বের হয়ে ক্ষুধা পেটে বেশ খাওয়াদাওয়া হয়েছে। এখন সেজন্য আর ভাত খেতেও ইচ্ছা করছেনা। এক গ্লাস দুধ আর কয়েকটা কুকি খেয়ে ঘুম দিবো ভাবছি। কালকে একটু সকাল সকাল উঠতে হবে।

বাই দ্য ওয়ে, প্রতিদিন এক গ্লাস দুধ খাওয়ার রুটিনটা আবার ফেরত এনেছি। আগে সকাল বেলা কর্নক্লেক্স দিয়ে খেতাম, যখন সানিডেলে ছিলাম। এখন আবার স্কুল খুললে সেই রুটিনে ফিরে যাবো নাকি ভাবছি। আপাতত রাতের বেলা ঘুমানোর আগে খাচ্ছি… ছোটোবেলায় আমার বদ্ধমূল ধারণা ছিল যে যারা অনেক বুদ্ধিমান, তারা শিওর প্রতিদিন অন্তত এক গ্লাস দুধ খায়! সেই বিশ্বাস থেকে আমিও খুব আগ্রহ নিয়ে দুধ খেতাম। বুদ্ধি হয়েছে কি হয়নাই জানিনা, কিন্তু বেশিরভাগ বাচ্চা-কাচ্চা যেমন দুধ খাওয়ার কথা শুনলে নাক সিটকায়, সেরকম আমার কখনো হয়নাই…

যাই হোক, দিনযাপন আজকে এখানেই শেষ করি । তবে, গতকাল্কের আর আজকের ছবিগুলো দিয়ে দিচ্ছি…

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s